Author: admin

  • কানাডায় উচ্চশিক্ষাঃ নিজেই করুণ নিজের আবেদন

    কানাডায় উচ্চশিক্ষাঃ নিজেই করুণ নিজের আবেদন

    উচ্চশিক্ষার স্বর্গরাজ্য কানাডায় অনেকেই যাবার স্বপ্ন দেখেন,দেখেছেন হয়তবা দেখছেন। কিন্তু সঠিক দিক নির্দেশনা ও বিষয়গুলো সমন্ধে ভালোমত না জানার কারণে স্বপ্ন হয়ত রয়ে যাচ্ছে অধরা। কিন্তু আর চিন্তা নেই? আমরা প্রস্তুত আপনার স্বপ্নকে বাস্তবতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে। চলুন, শুরু করি স্বপ্নরাজ্য কানাডার দিকে পথ বাড়ানোর জন্য আমাদের আজকের আয়োজন। 

    কেন কানাডায় পড়তে যাবেন?

    নর্থ আমেরিকার দেশ কানাডা  দ্বিতীয় পৃথিবীর সর্ববৃহৎ দেশ। এই দেশের আয়োতন ৯.৯৮ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার আর জনসংখ্যা ৩,৭৯,৭১,০২০ জন। এই দেশের অফিসিয়াল ভাষা ফ্রেঞ্চ ও ইংরেজী এবং মুদ্রা কানাডিয়ান ডলার। এই দেশের জিডিপি $১.৮১২ ট্রিলিয়ন আর পার কাপিটা জিডিপি হল ৪৯,৯৩১ ডলার। এই দেশের রাজধানী অটোয়া আর সর্ববৃহৎ শহর টরেন্টো। এই দেশ মূলত শীত প্রধান।

    Niagra Waterfall Canada
    Image Source: pixabay.com

    কানাডায় পড়তে যাবার জন্য নূন্যতম যোগ্যতা

    কানাডায় পরাশুনা করতে কমপক্ষে ৭০% নম্বরের প্রয়োজন পড়বে। কানাডায় ব্যাচেলর করতে আপনার HSC এ ভালো মার্ক্স ও IELTS এ ৬.০ কিন্তু কোন সাব-সেকশনে ৫.৫ এর নিচে পেলে চলবে না। আবার আপনি যদি মাস্টার্স প্রোগ্রামে যেতে চান, তাহলে ব্যাচেলরে আপনার ৭০% নম্বরের বেশি থাকতে হবে, IELTS এ থাকতে হবে ৬.৫, কিন্ত কোন সাব-সেকশনে ৬.০ এর নিচে নয়। ব্যাচেলরে অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ GRE / GMAT চাইতে পারে। কিন্তু স্কলারশিপ পেতে গেলে আপনার GRE/ GMAT থাকাটা আবশ্যকীয়। পিএইচডি প্রোগ্রামে অংশ নিতে মাস্টার্স থাকতে হবে এবং অন্যান্য যোগ্যতা মাস্টার্স করতে গেলে যেসব যোগ্যতা লাগে তার সমতুল্য।

    কোর্স সার্চ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন

    বিশ্বে অনেক নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় এই কানাডায় অবস্থিত। তাইতো, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে, প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ লোক বিদ্যার্জনের আশায় পাড়ি জমায় কানাডায়। কিছু নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নিচে দেওয়া হলঃ

    সেরা ৬ টি বিশ্ববিদ্যালয়

    ১) University of Toronto

    ২) Mcgill University

    ৩) University of British Columbia

    ৪) Mcmaster University

    ৫) University of Alberta

    ৬) University of Waterloo

    মধ্যম সারির বিশ্ববিদ্যালয়

    ৭) Ottawa University

    ৮) University of Western Ontario

    ৯) York University

    ১০) University of Montreal

    ১১) Dalhousie University

    ১২) Carleton University

    ১৩) Queens University

    ১৪) Simon Fraser University

    ১৫) University of Manitoba

    ১৬) University of Victoria

    ১৭) Memorial University

    ১৮) University of Saskatchewan

    আবেদন করার সময় অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ভালো করে দেখে নেওয়া উচিত। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ও র‍্যাঙ্কিং বিষয়ে সম্পূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটের উপর নির্ভর করা উচিত নয়। অনেক সময় ওয়েবসাইটে কিছু Misleading তথ্য দেওয়া থাকে- যা শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে। অনেকেই প্রতারণার শিকার হয়ে অনেক টাকা খুইয়ে ফেলেন। তাই, সবসময় বিভিন্ন সোর্স থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সমন্ধে জানার চেষ্টা করা উচিত। আর গুগল সার্চতো আছেই।

    এই দেশে পড়াশুনার মাধ্যম ইংরেজী ও ফ্রেঞ্চ। তবে আবেদনের সময় অবশ্যই আপনাকে কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিতে হবে আপনি কোন মাধ্যমে পড়তে চান।

    University in Canada
    Image Source: Internet

    কানাডায় আপনি আপনার পছন্দের সকল কোর্সই পেয়ে যাবেন। কম্পিউটার সায়েন্স, বায়োলজি, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ফুড সায়েন্স, কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড রিসোর্সেস, ইলেকট্রনিক্স, মেডিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড সার্ভিসেস, মেরিন অ্যাফেয়ার্স, এগ্রিকালচার, ইকোনোমিক্স, অ্যাপ্লায়েড কম্পিউটার সায়েন্স, ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট, অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাসট্রোনমি, অ্যাপ্লায়েড জিওগ্রাফি, আর্কিটেকচারাল সায়েন্স, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল হেলথ, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, এডুকেশন, হোম ইকোনোমিক্স, মিউজিক, ফিলোসফি, হিস্ট্রি অ্যান্ড রিলিজিওন, ইংলিশ, ল, থিয়েটারসহ আন্ডার র্গ্যাজুয়েট পর্যায়ে প্রায় দশ হাজার বিষয় এবং পোস্ট র্গ্যাজুয়েট পর্যায়ে প্রায় তিন হাজার বিষয় পড়তে পারবেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সময়সীমা ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

    কানাডায় ভর্তির জন্য প্রথমেই আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে এবং আবেদন ফি জমা দিতে হবে। আবেদন ফি জমা না দেওয়া পর্যন্ত আবেদন প্রসেস শুরু হবে না। কান্ডায় আপনি ব্যাচেলর, মাস্টার্স, পিএইচডি সকল ধরণের প্রোগ্রামে যাবার সুযোগ আছে। কানাডায় মাস্টার্স কোর্স দুই ধরণেরঃ কোর্স-বেজড ও থিসিস-বেজড। কোর্স বেজড মাস্টার্স প্রোগ্রামে সাধারণত স্কলারশিপ পাওয়া যায় না। তবে থিসিস-বেজড মাস্টার্স প্রোগ্রামে গেলে আপনার ফান্ড বা স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ আছে। থিসিস-বেজড মাস্টার্স প্রোগ্রামে গেলে অবশ্যই প্রফেসরের সাথে যোগাযোগ করে কথা বলে নিতে হবে। এই প্রফেসর খোঁজা বেশ জটিল ও কষ্টসাধ্য প্রক্রিয়া। কারণ আপনাকে প্রফেসরদের খুঁজে তাদের রিসার্চ এরিয়া-ভিত্তিক নিজের পোর্ট-ফোলিও সাজিয়ে তাকে ইমেইল করতে হবে এবং তাকে কনভিন্স করতে হবে। প্রফেসররা সাধারণত স্কাইপি, অথবা অন্য মিডিয়ামে আপনার ইন্টারভিউ নিয়ে থাকে। কানাডায় প্রফেসর অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি আপনাকে রিকমেন্ডেশন করলে, বিশ্ববিদ্যালয় অথরিটি আপনাকে ভর্তির বিষয়ে অনেক সহায়তা করে থাকে আর স্কলারশিপ পেতে আর কোন বাধা থাকে না। অনেক সময় প্রফেসর তার কাছে বরাদ্দ রিসার্চ ফান্ড থেকে আপনাকে RA (Research Assistant) পোস্ট অফার করে থাকে অথবা আপনাকে TA (Teacher’s Assistant) অফার করে কোর্স ফি দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।

    কানাডায় বছরে তিনটি সেমিস্টার থাকে, যথাঃ Winter সেমিস্টার, Summer সেমিস্টার ও Fall সেমিস্টার। Winter সেমিস্টার জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত আর Summer সেমিস্টার মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত হয়ে থাকে। মূলত Fall Semester এ International Student ভর্তি কয়া হয়ে থাকে এবং এই সময়েই বেশি স্কলারশিপ অফার করা হয়ে থাকে। Fall Semester এর ব্যাপ্তি সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর- আর ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয় মার্চ-এপ্রিল থেকে আর ডেডলাইন থাকে জুন মাসে। মনে রাখবেন প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সময়সীমা আলাদা। তাই আবেদনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে দেখে নেওয়া উচিত আর কোন বিভ্রান্তি থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এডমিশন আফিসে যোগাযোগ করা উচিত।

    নিচে আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিয়া দেওয়া হলঃ

    ১। সকলএকাডেমিক সার্টফিকেট এবং মার্কশীট

    ২। CV, মোটিভিশন লেটার ও রিকমেন্ডেশন লেটার

    ৩। Statement of Purpose (SOP)

    ৪। পাসপোর্টের কপি ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি

    ৫। রেফারেন্স লেটার- এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আপনার সম্পর্কে ভালো রিমার্ক্স থাকতে হবে।

    ৬। IELTS এবং প্রয়োজনে GRE/GMAT

    ৭। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র

    সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৬ থেকে ৮ মাসের মধ্যে আপনার ভর্তি কার্যক্রম নিশ্চিত করে। তাই হাতে ১ বছর সময় নিয়ে আবেদন করা উচিত। মনে রাখবেন, আপনার পড়াশুনার মাঝে গ্যাপ ২ বছরের বেশি হলে আপনি বিপদে পড়তে পারেন। তাই এই বিষয়ে সতর্ক থাকুন।

    Students in Canada
    Image Source: Internet

    পড়াশোনার খরচ ( টিউশন ফি) ও স্কলারশিপ

    কানাডায় ব্যাচেলর প্রোগ্রামে আপনার খরচ হবে প্রতি বছর ১৪,০০০ থেকে ২৭,০০০ কানাডিয়ান ডলার। মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য প্রতি বছর ১৬,০০০ থেকে ২০,০০০ কানাডিয়ান ডলার খরচ হবে।

    কানাডায় ব্যাচেলর লেভেলে স্কলারশিপের সুযোগ ক্ষীণ। কিন্তু মাস্টার্স প্রোগ্রামে স্কলারশিপের সু্যোগ তুলনামূলক বেশি। কানাডায় ন্যাশনাল স্কলারশিপ প্রোগ্রামের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও স্কলারশিপ পাওয়া যায়।

    ভেনিয়ার কানাডা গ্রাজুয়েট স্কলারশিপ: কানাডায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণে ইচ্ছুক এমন শিক্ষার্থীদের কাছে সর্বাধিক জনপ্রিয় বৃত্তি এটি। কানাডার সরকার এই বৃত্তি দিয়ে থাকে।বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে বছরে ৫০ হাজার কানাডীয় ডলার দেওয়া হয়। মেয়াদ তিন বছর।

    আইডিআরসি ডক্টরাল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড: এই বৃত্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পায়। প্রতিবছরই এই বৃত্তি প্রদান করা হয়।

    আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ

    কানাডায় পড়ালেখার জন্য শক্ত পৃষ্ঠপোষক দেখাতে হয়। শিক্ষার্থীকে তাঁর পৃষ্ঠপোষকের ন্যূনতম ৩০ লাখ টাকা ব্যাংক হিসাব দেখাতে হবে এবং এই টাকা ন্যূনতম ৬ মাস থেকে এক বছর ব্যাংকে থাকতে হবে।

    যদি স্পন্সর (মা অথবা বাবা) থাকে, তাহলে তার ট্যাক্সের কাগজ-পত্র ও ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে হবে।

    ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

    ভিসা পেতে আপনাকে দ্বারস্থ হতে হবে ঢাকায় অবস্থিত কানাডিয়ান এম্বেসী-এর। আপনার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত অফার লেটার ও প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সমেত আবেদন করতে হবে ভিসার জন্য।

    নিচে কাগজপত্রের জন্য প্রয়োজনীয় তালিকা দেওয়া হলঃ

    ১। পূরণকৃত ভিসা আবেদন ফর্ম

    ২। পাসপোর্ট ও  ফটোগ্রাফ

    ৩। CV, Statement of Purpose (SOP)  ও রেফারেন্স

    ৪।সকল মার্কশিট ও সনদ, IELTS-GRE সনদ 

    ৫। No Objection  Certificate [শেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে]

    ৬।  অফার লেটার

    ৭। ব্যাংক সলভেন্সি পেপ্যার

    ৮। ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট

    ৯। পুলিশ ক্লিয়ারান্স

    ১১। হেলথ ইন্স্যুরেন্স ও মেডিক্যাল রিপোর্ট

    সব কিছু ঠিকমত রুল অনুযায়ী জমা দিতে হবে। ছোট খাট ভুলের জন্যই ভিসা রিজেক্ট হয়।

    Student Visa - Canada
    Image Source: Internet

    কানাডিয়ান হাই কমিশনের ঠিকানা:

    High Commission of Canada

    United Nations Road, Baridhara, Dhaka-1212, Bangladesh

    Telephone: +880 2 988 7091 to 988 7097

    Fax: +880 2 882 3043  +880 2 882 6585

    Email: dhaka@international.gc.ca | www.vfs-canada.com.bd

    ℹ️ ইমিগ্রেশন এ্যাণ্ড সেটেলমেন্ট টিমের ভলান্টিয়ারগণ বিনামূল্যে তাদের ওয়েবসাইট এবং ফোরামের মাধ্যমে কানাডার স্টুডেন্ট ভিসা এবং ইমিগ্রেশনের সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। আপনিও চাইলে তাদের ওয়েবসাইট এবং ফোরাম থেকে ঘুরে আসতে পারেন:

    ওয়েবসাইট:  http://immigrationandsettlement.org/Home/Index

    ফোরাম: http://forum.immigrationandsettlement.org/

    কানাডায় আবাসন ব্যবস্থা ও জীবন-যাপন খরচ

    কানাডায় ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থীদের ৬ মাস হোস্টেলে থাকা বাধ্যতামূলক। এখানে থাকা বাবদ প্রতি ৪ মাসের জন্য দিতে হয় ৪,০০০ থেকে ৭,০০০ কানাডিয়ান ডলার। কিন্তু বাইরে আপনি খুব কম খরচে রুম পেয়ে যাবেন। বাইরে থাকা- খাওয়া আপনি প্রতি মাসে ৬০০ – ৮০০ কানাডিয়ান ডলারে মিটিয়ে ফেলতে পারবেন। তবে এই খরচ নির্ভর করবে আপনি কোন শহরে আছেন আর কিভাবে জীবন যাপন করছেন।

    পার্ট টাইম জব এর সুযোগ

    কানাডায় পার্ট টাইম জবের সুযোগ রয়েছে সপ্তাহে ২০ ঘন্টা। ব্যাচেলর স্টুডেন্টদের প্রথম ১ বছর জব করার সুযোগ থাকে। না তবে ব্যাচেলরের স্টুডেন্টগণ চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে TA, RA, Office Assistance- হিসেবে জব করতে পারে। কিন্তু মূলত এই জবগুলো মাস্টার্স বা পিএইচডি-এর শিক্ষার্থীদের অফার করা হয়।

    এ ছাড়াও অফ ক্যাম্পাস ওয়ার্ক পারমিট-এর সুবিধা আছে। এই সুবিধা পেতে অবশ্য প্রায় এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। ৬ মাস ফুল টাইম পড়া শুনার পরে আপনি এপ্লাই করতে পারবেন, কিন্তু কাগজ যোগাড় করতে সময় লাগায় মোট ৭-৮ মাস লেগে যায়। সম্প্রতি বাংলাদেশ-কে সন্দেহজনক দেশ-এর তালিকায় যুক্ত করায় প্রসেসিং সময় ১৫ দিনের বদলে কমপক্ষে ৩ মাস লাগে। সব মিলিয়ে প্রায় এক বছর অপেক্ষা করতে হবে কাজ করার পারমিশন এর জন্য।এর আগে ক্যাম্পাসের বাইরে কাজ করা অবৈধ। তার আগে এবং পরে অন ক্যাম্পাসে ২০ ঘন্টা কাজ করতে পারেন যা পাওয়ার সম্ভাবনা শুরুর দিকে খুবই ক্ষীণ। অফ/অন ক্যাম্পাস কাজ করে থাকা খাওয়ার খরচ তোলা সম্ভব হলেও টিউশন ফী দেওয়া সম্ভব না।

    Life in Canada
    Image Source: pixabay.com

    স্থায়ী বসবাসের সুযোগ

    পড়াশুনা শেষ করে শিক্ষার্থীরা ১-৩ বছরের ওয়ার্কপারমিট পান এবং পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্যে আবেদন করতে পারেন। কানাডার প্রভিন্সগুলোর মধ্যে সাসকাচুয়ান, ম্যানিটোবা, নিউ ফাউণ্ডল্যান্ড এ্যাণ্ড ল্যাব্রাডরে শিক্ষার্থীদের স্থায়ীভাবে আবাসনের সুযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে অন্টারিও প্রভিন্সের মাস্টার্স প্রোগ্রাম কমপ্লিট করার পরেও একজন শিক্ষার্থী স্থায়ীভাবে থেকে যাবার জন্যে আবেদন করতে পারেন। সম্প্রতি রুরাল এ্যাণ্ড নর্দার্ন পাইলট প্রোগ্রামটিও শিক্ষার্থীদেরকে আশার আলো দেখাচ্ছে।

    কিছু প্রয়োজনীয় সাইট-এর এড্রেস

    ১। http://www.ouac.on.ca – এটি অন্টারিওর বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ভর্তির অনলাইন সাইট। এটার মাধ্যমে এপ্লাই করতে পারেন অথবা সরাসরি এপ্লাই করতে পারেন। এটা নির্ভরযোগ্য। খরচ একটু বেশী- কিন্তু টাকা কোথায় ঢাললেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হবেনা এবং অনলাইনে আপনার ভর্তির স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন। এপ্লাই করার পর এই সাইট নিয়মিত চেক করা উচিত। গুরুত্বপূর্ণ: সঠিক ফরম পূরণ করবেন।

    ২। http://www.aucc.ca/index_e.html – কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাইট। এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাবেন। কিন্তু সব সঠিক নয় (কিছুটা এদিক সেদিক)।

    ৩। http://oraweb.aucc.ca/dcu_e.html – প্রোগ্রাম অনুসারে সার্চ করে, বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর একটি লিস্ট বানাতে পারেন।

    ৪। http://cic.gc.ca/english/study/index.asp  – সরকারী সাইট- এখানে স্টাডি পারমিট এবোং পড়াশুনা বিষয়ক সব ধরণের ফর্ম এবং সরকারী সিদ্ধান্ত জানতে পারবেন।

    ৫। http://www.studyincanada.com/english/index.asp – আরেকটি উপকারী সাইট।

    Life in Australia
    Image Source: pexels.com

    অপার সম্ভবনার দেশ কানাডা। আপনার নিজের সম্ভবনা তৈরীর জন্য কানাডায় পাড়ি জমাতে পারেন। শুভ কামনা রইলো আমাদের পক্ষ থেকে।

    তথ্যসুত্রঃ

    ১। http://www.eduicon.com/Feature/Details/690.html

    ২। https://www.somewhereinblog.net/blog/itanjir/28831816

    ৩। https://blog.saavisa.com/কানাডা-উচ্চশিক্ষায়-বারবা/

    ৪। https://bangladeshistudentassociationintheworlds.wordpress.com/2016/04/03/39/

    ৫। https://www.facebook.com/ExclusiveServicesLtd/posts/1388868091224589/  

  • কোন ব্যাংকে এবং কিভাবেন স্টুডেন্ট ফাইল ওপেন করবেন

    কোন ব্যাংকে এবং কিভাবেন স্টুডেন্ট ফাইল ওপেন করবেন

    বিদেশে পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের মনে অনেক প্রশ্নের উদয় হয়। অজানায় পাড়ি জমাতে হয় আমাদের। আর এই ভয়কে জয় করে অর্জন করতে হয় জীবনের সাফল্য। বিদেশ বিভুয়ে কিভাবে যাবো, কিভাবে টাকা পাঠাবো – আমাদের চিন্তার তো অন্ত নেই। তাই আজ আপনাদের চিন্তা লাঘব করতে আলোচনা করছি ব্যাংকে স্টুডেন্ট ফাইল ওপেনিং নিয়ে।

    কোন নির্দিষ্ট ইউনিভার্সিটিতে অ্যাপ্লিকেশান ফি/টিউশন ফি দেওয়া, হোস্টেল/বাসা ভাড়া পাঠানোর জন্য বৈধ ও নিরাপদ উপায় হল ব্যাংক চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থের লেন দেন করা- আর এজন্য ব্যাংকে স্টুডেন্টের নামে খোলা হয় বিশেষ এই একাউন্টস যার নাম স্টুডেন্ট ফাইল।

    ব্যাংক স্টুডেন্ট ফাইল খোলার সময় আপনার অপশন অনেক। তবে যে সকল ব্যাংকের অনলাইন লেনদেনের ব্যবস্থা আছে তাদের এই ক্ষেত্রে বেশি পছন্দ করা হয়। আর ব্যাংকে স্টুডেন্ট ফাইল খোলার সময় সেই ব্যাংকের এই ব্যাপারে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে কি না সেটা দেখে নেওয়া উচিত। আর তারা দ্রুত ও নিরাপদে টাকা ট্রানজ্যাক্ট করতে পারছে কি না সে বিষয়েও খোঁজ নিয়ে নিতে হবে।

    আপনাদের সুবিধার্থে কিছু প্রচলিত ব্যাংকের তালিকা দেওয়া হল, তবে এই বিষয়ে বর্তমানে অনেক ব্যাংক অনেক ভালো কাজ করছে-

    • Brac Bank
    • City Bank
    • Eastern Bank
    • Commercial Bank of Ceylon
    • Standard Charterd Bank

    বেশ কয়েকটি সরকারি ব্যাংকেও আপনি স্টুডেন্ট ফাইল খুলতে পারবেন। তাই এই লিস্ট এর বাহিরেও আপনি অন্যান্য ব্যাংকগুলোতে গিয়ে ও অন্যান্য অপশন বিবেচনা করে আপনার পছন্দের ব্যাংক নির্বাচন করতে পারেন।

    স্টুডেন্ট একাউন্টস খোলার সময় আপনি আপনার প্রয়োজনীয় সকল ডকুমেন্টস নিয়ে ব্যাংকে যাবেন। তারা আপনার বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য সকল প্রয়োজনীয় তথ্য দেখে শুনে স্টুডেন্ট ফাইল খোলার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আপনি একটি ফর্ম পূরণের মাধ্যমে বিদেশে টাকা প্রেরণের আবেদন করবেন।

    Bank Student File
    Image Source: Internet

    প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

    সাধরণত এই স্টুডেন্ট ফাইল খোলার সাপোর্টিং ডকুমেন্টসের লিস্ট ব্যাংক থেকে ব্যাংক ভিন্ন হয়। নিচে প্রচলিত ডকুমেন্টসের একটি তালিকা দেওয়া হলঃ

    ১। এডমিশন লেটার

    ২। ২ কপি ছবি

    ৩। সকল সনদপত্র

    ৪। যেই ব্যাংক এ টাকা পাঠাবেন তার রিফান্ড পলিসি

    ৫। যেই বিষয় এ পড়বেন তার ব্যাপারে তথ্য, যেমন কত  Semester, কত দিন লাগবে পড়তে

    ৬। এমব্যাসি’র ভিসা Requirement পেজ, যেখানে টাকার পরিমান দেয়া আছে

    ৭। নতুন এবং পুরান পাসপোর্ট এবং তার ফটোকপি

    ৮। জাতীয় পরিচয় পত্র

    ৯।  একজন নমিনির জাতিয় পরিচয় পত্র এর ফটোকপি

    ১০।নমিনির নামে বিলের (বিদ্যুৎ, গাস) কপি, ব্যাবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্স, চাকুরীজীবী হলে সেলারি সার্টিফিকেট এর ফটোকপি

    ১১।নমিনির ১ কপি ছবি

    ফি ও চার্জ

    ফি ও চার্জ ব্যাংক ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়। নমুনাস্বরুপ ইস্টার্ন ব্যাংক লিঃ (ইবিএল) এর ফি ও চার্জ

    নিম্মে দেওয়া হল।

    • শিক্ষার্থী ফাইল খোলা ফি: সার্কভূক্ত দেশগুলোর জন্য ৪,৫০০ টাকা; নন সার্কভূক্ত দেশগুলোর জন্য ৫,৫০০ টাকা।
    • স্টুডেন্ট ফাইল নবায়ন ফি: সার্কভূক্ত দেশগুলোর জন্য ৩,৫০০ টাকা; নন সার্কভূক্ত দেশগুলোর জন্য ৪,৫০০ টাকা।
    • রেমিট্যান্স চার্জ: ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী।

    এভাবে আপনি স্টুডেন্ট ফাইল খুলতে পারবেন। একেক ব্যাংকে একেক ডকুমেন্টস চায়, তাই যে ব্যাংকে স্টুডেন্ট ফাইল ওপেন করবেন সে ব্যাংকের ওয়েবসাইট অথবা সরাসরি যোগাযোগ করে বিস্তারিত জেনে নিবেন।

  • কোরিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ প্রোগ্রাম (কেজিএসপি স্কলারশিপ )

    কোরিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ প্রোগ্রাম (কেজিএসপি স্কলারশিপ )

    কোরিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ প্রোগ্রাম যা কেজিএসপি স্কলারশিপ নামেও পরিচিত। এটি কোরিয়ান সরকার প্রদত্ত একটি স্কলারশিপ যেটা বিদেশী শিক্ষার্থীদের কোরিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার জন্য দেওয়া হয়ে থাকে। মাস্টার্স, ডক্টরাল, পোস্ট-ডক্টরাল এবং প্রফেসর এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের আওতায় বাংলাদেশী নাগরিককে এই বৃত্তি দেয়া হয়।

    প্রতিবছর এই স্কলারশিপের আওতায় বিভিন্ন দেশের শীক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদন চাওয়া হয়। বাংলাদেশ থেকে সীমিত সংখক শিক্ষার্থীকে এই স্কলারশিপ দেওয়া হয়ে থাকে। তাই এই স্কলারশিপ পেতে হলে নিজেকে আলাদাভাবে যোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করাটা জরুরী। যেমন একাডেমিক রেজাল্ট, আইইএলটিএস, কোরিয়ান ল্যাঙ্গগুয়েজ সার্টিফিকেট (যদি থাকে), এক্সট্রা কারিকুলাম সার্টিফিকেট। যদি উল্লেখিত সার্টিফিকেটগুলা নাও থাকে নিজেকে প্রমাণ করতে এই সার্টিফিকেটগুলা কাজে দেবে।

    এই স্কলারশিপের আওতায় শিক্ষার্থীকে প্রথম বছর কোরিয়ান ভাষা শেখানো হয়।

    স্কলারশিপ এর নাম

    কোরিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ প্রোগ্রাম (কেজিএসপি স্কলারশিপ)

    যে যে বিষয়ে অধ্যয়ন করা যাবে

    ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি সব প্রোগ্রামের সকল কোর্সেই প্রায় আবেদন করা যাবে এই স্কলারশিপের আওতায়। আবেদনের বিষয়গুলো বিস্তারিত জানা যাবে জিকেএসে নোটিশ বোর্ডে –

    https://www.studyinkorea.go.kr/en/sub/gks/selectBoardList.do?bbsId=BBSMSTR_000000000461

    https://shed.portal.gov.bd/site/view/scholarship/ শিক্ষাবৃত্তি-বিজ্ঞপ্তি

    কেউ আবেদন করলেই অবশ্যই যে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসকল বিষয় পড়ানো হয়, সেই বিষয়েই আবেদন করতে পারবে।

    দেশ এবং কর্তৃপক্ষ

    কোরিয়া। কোরিয়ান সরকার এর Ministry of Education এর একটি শাখা National Institute for International Education (NIIED)।

    বৃত্তির সুযোগ সুবিধাসমূহ

    কেজিএসপি স্কলারশিপের আওতায় আপনি যা যা পাবেনঃ

    ১. আসা যাওয়ার বিমান ভাড়া

    ২. রিসেল্টমেন্ট এলাউন্স

    ৩. মাসিক এলাউন্স

    ৪. এক বছর ফ্রি কোরিয়ান ভাষা শেখার সুযোগ

    ৫. মেডিকেল ইনস্যুরেন্স

    ৬. প্রোগ্রাম শেষ করার পর এলাউন্স (এক কালীন)

    আবেদনের যোগ্যতা

    কেজিএসপি স্কলারশিপের জন্য আপনার থাকতে হবে নিম্নোক্ত যোগ্যতাঃ

    ১. আবেদনকারী এবং তার বাবা-মা কেউই কোরিয়ান নাগরিক হতে পারবে না।

    ২. কোরিয়ান নাগরিক এবং কোরিয়ান নাগরিকত্ব আছে কিন্তু অন্যদেশেরও নাগরিক, তারাও আবেদন করতে পারবে না।

    ৩.  বয়স অবশ্যই ৪০ বছরের নিচে হতে হবে।

    ৪. একাডেমিক অধ্যাপক যারা ৪৫ বছরের নিচে এবং ওডিএ (ODA) দেশভুক্ত তারাও আবেদন করতে পারবে।

    ৫. ভাষাগত দক্ষতা থাকতে হবে কোরিয়ান অথিবা ইংরেজীতে (আইইএলটিএস, টফেল ইত্যাদি)।

    ৬. পিএইচডির জন্য মাস্টার্স ডিগ্রী থাকতে হবে ( ১/৪ বছর)।

    ৭. মাস্টার্সের জন্য গ্রাজুয়েশন শেষ করতে হবে (৩ বছর) ।

    ৮. রিসার্চ প্রোগ্রামের জন্য মাস্টার্সের থেকে উচ্চ একটি ডিগ্রী থাকতে হবে।

    এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাড়তি কোনো রিকোয়ারমেন্ট থেকে থাকলে তা পূরণ করতে হবে।

    বিস্তারিত জানতে – https://overseas.mofa.go.kr/bd-en/brd/m_2124/list.do

    আবেদনের সময়সীমা

    সাধারণত ফেব্রুয়ারি/ মার্চে আবেদন শুরু হলেও আগস্ট পর্যন্ত সিলেকশন প্রসেস চলে। সেপ্টেম্বর থেকে কোরিয়ায় প্রোগ্রাম শুরু হয়। তবে ভিন্ন ভিন্ন প্রোগ্রামের জন্য ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

    নজর রাখতে হবে এই ওয়েবসাইট এ –

    https://shed.portal.gov.bd/site/view/scholarship/ শিক্ষাবৃত্তি-বিজ্ঞপ্তি

    Korean Government Scholarship
    Image Source: Internet

    যেসকল দেশের প্রার্থীদের জন্য প্রযোজ্য

    বিশ্বের ১৪৫ দেশের সাথে বাংলাদেশও এই স্কলারশিপে আবেদন করতে পারবে।

    আবেদন প্রক্রিয়া

    প্রথম পদ্ধতিঃ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে

    বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে কেজিএসপি স্কলারশিপের সার্কুলার পাওয়া যাবে। এরপর করতে হবে অনলাইনে আবেদন। এরপর আবেদন ফর্ম একটি খামে, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস দ্বিতীয় খামে এবং প্রথম ও দ্বিতীয় খামটি তৃতীয় একটি খামে ভরে বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। এবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় সকল ডকুমেন্টস প্রাথমিক বাছাই-এর পর কোরিয়ান এম্বেসীতে পাঠাবে। কোরিয়ান এম্বেসী মৌখিক ও লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের পর ফলাফল জানিয়ে দিবে। এই পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ ৩ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা যাবে।


    দ্বিতীয় পদ্ধতিঃ সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে

    কোরিয়ান যেসকল বিশ্ববিদ্যালয় কেজিএসপি স্কলারশিপের আওতায়, তার মধ্য থেকে যেকোন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে হবে। প্রথমে কোর্স বাছাই করে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন এবং স্কলারশিপ ফর্ম পূরণ করতে হবে। এই পদ্ধতিতে সকল কাগজ ডাক যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে হবে। এরপর আপনাকে রেজাল্ট জানিয়ে দেওয়া হবে।
     

    কেজিএসপি স্কলারশিপ প্রোগ্রামের জন্য আপনাকে জমা দিতে হবেঃ

    ১. আবেদন ফর্ম

    ২. ব্যক্তিগত পরিচয়পত্র ( পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয় পত্র)

    ৩. রিসার্চ প্রপোজাল/ এসওপি

    ৪. ২ টা রিকমেন্ডেশন লেটার

    ৫. গবেষকদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনভাইটেশন লেটার

    ৬. কেজিএসপি এগ্রিমেন্ট ফর্ম

    ৭. ব্যক্তিগত মেডিকেল রিপোর্ট

    ৮. সর্বশেষ ডিগ্রীর সার্টিফিকেট

    ৯. কোরিয়ান নাগরিক নয় এমন প্রমান পত্র। নিজ দেশের জাতীয় পরিচয় পত্র এক্ষেত্রে জমা দিতে হবে।

    কেজিএসপি সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন-

    www.studyinkorea.co.kr

    শিক্ষা মন্ত্রনালয় বাংলাদেশ –    

    https://shed.portal.gov.bd/site/view/scholarship/শিক্ষাবৃত্তি-বিজ্ঞপ্তি

    মিনিস্ট্রি অফ ফরেন এফেয়ার্স (কোরিয়া)-

    https://overseas.mofa.go.kr/bd-en/brd/m_2124/list.do

    তথ্যসুত্রঃ

    1. https://roar.media/bangla/main/education/how-to-come-to-korea-with-korean-government-scholarship
    2. https://www.kholabakso.com/latestupdate/kgsp_2018
    3. https://bongolekhok.com/2020/07/12/কোরিয়াতে-সরকারি-স্কলারশি/
    4. https://youthcarnival.org/bn/study_in_south_korea/
  • চাইনিজ গভঃ স্কলারশিপ – সি এস সি স্কলারশিপ

    চাইনিজ গভঃ স্কলারশিপ – সি এস সি স্কলারশিপ

    আমেরিকা, ইউকে, অস্ট্র্রেলিয়া ও কানাডার পাশাপাশি এশিয়ার দেশ চীনও এখন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দিয়ে আকর্ষণ করতে শুরু করেছে।চাইনিজ গভঃ স্কলারশিপ (সিজিএস) হলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য চীন সরকারের দেয়া স্কলারশিপ। এই স্কলারশিপ এর যাবতিয় বিষয় দেখভাল করে চাইনিজ স্কলারশিপ কাউন্সিল (সিএসসি)। সিজিএস/সিএসসি (CGS/CSC) নামে অধিক পরিচিত এই স্কলারশিপের বিস্তারিত নিয়েই আজকের আয়োজন। 

    ব্যাচেলরে সিজিএস/সিএসসি স্কলারশিপ মানেই চাইনিজ মাধ্যম, ইংরেজিতে পড়ার কোনো সুযোগ নেই।

    আর মাস্টার্সে ইংলিশ এবং চাইনিজ দুই মাধ্যমেই পড়ার সুযোগ আছে। তবে মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা ইংরেজি মাধ্যমকেই বেশি প্রাধান্য দেয়।

    আপনি এই স্কলারশিপের আওতায় করতে পারবেন ব্যাচেলর, মাস্টার্স, কিংবা পিএইচডি।

    স্কলারশিপ এর নাম

    চাইনিজ গভঃ স্কলারশিপ ( সি জি এস )

    যে যে বিষয়ে অধ্যয়ন করা যাবে

    চাইনিজ গভঃ স্কলারশিপ (সিজিএস) আওতায় আপনি পড়তে পারবেন ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি কোর্স। এখান থেকে প্রথমে আপনার পছন্দের বিষয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজে নিন। সিএসসি বি-টাইপের জন্য  – http://www.campuschina.org/universities/categories.html

    ℹ️ আমাদের দেশ থেকে যারা পড়ালেখার জন্য চীনে আসে তাদের শতকরা ৫০ ভাগই ইঞ্জিনিয়ারিং, ৩০ ভাগ মেডিকেল, ১৫ ভাগ কলা (ভাষা-সাহিত্য বা অন্যান্য), এবং সর্বশেষ ৫ ভাগ ব্যাবসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পড়তে আসে।

    দেশ এবং কর্তৃপক্ষ

    চাইনিজ সরকার। চাইনিজ স্কলারশিপ কাউন্সিল (সিএসসি)

    বৃত্তির সুযোগ সুবিধাসমূহ

    স্কলারশিপের আওতায় আপনি যা যা পাবেনঃ

    ১। টিউশন ফি

    ২। মাসিক ভাতা

    ৩। বিমান ভাড়া

    ৪। স্বাস্থ্য বীমা

    ৫। ফ্রি আবাসন

    আবেদনের যোগ্যতা

    ১) বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। অবশ্যই সু-স্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে।
    ২) অন্য কোনো স্কলারশিপ বা ফান্ডিং এর জন্য মনোনীত হওয়া যাবে না।

    ৩) স্নাতক প্রোগ্রামে আবেদনের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক পাশ এবং বয়স অবশ্যই ২৫ এর চেয়ে কম হতে হবে।

    ৪) মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদনের জন্য স্নাতক ডিগ্রিধারী এবং বয়স অবশ্যই ৩৫ এর চেয়ে কম হতে হবে।

    ৫) ডক্টরেল প্রোগ্রামে আবেদনের জন্য উচ্চ মাস্টার্স ডিগ্রিধারী এবং বয়স অবশ্যই ৪০ এর চেয়ে কম হতে হবে।

    আবেদনের সময়সীমা

    আবেদন শুরু হয় সাধারণত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আর শেষ হয় জুন-জুলাইয়ের দিকে। তবে বিস্তারিত জানতে ও পিন পয়েন্ট তথ্যের জন্য আপনাকে সাহায্য নিতে হবে অফিসিয়াল ওয়েব সাইটের।

    https://studyinchina.csc.edu.cn

    বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদন করতে হলে নিচের ওয়েবসাইট থেকে করতে হবে।

    http://www.shed.gov.bd/site/view/scholarship 

    আবেদনের বিজ্ঞপ্তি প্রতি বছরই প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

    Chinese government scholarship
    Image Source: Internet

    যেসকল দেশের প্রার্থীদের জন্য প্রযোজ্য

    চাইনিজ গভঃ স্কলারশিপ (সিজিএস) এ বিশ্বের যে কোন দেশের সুস্থ নাগরিক আবেদন করতে পারবে।

    আবেদন প্রক্রিয়া

    এই স্কলারশিপে আবেদন করার উপায় হচ্ছে,

    (১) বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে (টাইপ – এঃ সবোর্চ্চ ২টি বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারণ)

    (২) চাইনিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে (টাইপ – বিঃ সবোর্চ্চ ৩ টি বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারণ)

    Type A তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদন করতে হয় এবং Type B তে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে হয়।


    প্রথম পদ্ধতিঃ বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট – http://www.shed.gov.bd/site/view/scholarship

    সকল ডকুমেন্টস ও আবেদন পত্র জমা দিতে হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। এরপর প্রাথমিক বাছাই-এর সকল কাগজপত্র পাঠিয়ে দেওয়া হবে চাইনিজ এম্বেসীতে এবং সেখানে আপনাকে ভাইভা দিতে হবে। পরবর্তীতে রেজাল্ট জানিয়ে দেওয়া হবে। আর আপনি এই প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ ২ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ টি সাবজেক্টে আবেদন করতে পারবনে। আর এডমিশন কার্য শেষ হলে আপনি ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

    এখানে স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনার এইস,এস,সি এর ফলাফল অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ এছাড়া ভাল কোনো শিক্ষকের প্রসংসা পত্র, কো-কারিকুলার এক্টিভিটিজ এবং চাইনিজ জানা থাকলে আপনি সেটাতে বেনিফিট পেতে পারেন। এখানে ভাইবা ও একটা মূখ্য ভূমিকা পালন করে। কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফল হতে একটু দেরী হয় ,সাধারনত জুলাই এর শেষ সপ্তাহ বা আগস্ট এর প্রথম সপ্তাহে ফলাফল প্রকাশ হয়ে থাকে।

    দ্বিতীয় পদ্ধতিঃ চাইনিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে

    প্রথমেই আপনাকে চাইনীজ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নিতে হবে এবং দেখে নিতে হবে এই সকল বিশ্ববিদ্যালয় চাইনিজ গভঃ স্কলারশিপ (সিজিএস) প্রদান করে কি না। তো আপনারা যারা এই মাধ্যমে আবেদন করতে চান তারা নভেম্বর- ডিসেম্বর থেকেই বিভিন্ন ভার্সিটির ওয়েব সাইটে তথ্য খোজা শুরু করুন। বিভিন্ন ভার্সিটির ওয়েব সাইট,সেখানে আবেদনের প্রক্রিয়া,তাদের রিকোয়ারমেন্ট দেখলে আপনি নিজেই সব কিছু বুঝে যাবেন। চীনের অধিকাংশ ভালমানের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে চাইনিজ গভঃ স্কলারশিপ (সিজিএস) বৃত্তির জন্য আবেদন করা যায়।  এরপর সকল কাগজপত্র ও আবেদন ফর্মসহ আবেদন করতে হবে স্কলারশিপের জন্য। এবার সকল কাগজপত্র কুরিয়ার করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানায় আর যদি এপ্লিকেশন ফি দেবার প্রয়োজন হয় তবে সেটাও দিতে হবে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রেজাল্ট দিলে আপনি ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

    বিশ্ববিদ্যালয় খোজার ক্ষেত্রে https://www.topuniversities.com/universities/region/asia/country/china অথবা http://www.campuschina.org/ এই ওয়েব সাইটের সহায়তা নিতে পারেন।

    স্কলারশিপ প্রোগ্রামের জন্য আপনাকে জমা দিতে হবেঃ

    ১. অ্যাপ্লিকেশন ফরম।
    ২. পাসপোর্ট।
    ৩. পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
    ৪. সকল একাডেমিক সার্টিফিকেট ও ট্রান্সক্রিপ্টের নোটারাইজ কপি।
    ৫. স্টাডি প্ল্যান।
    ৬. রিকোমেন্ডেশন লেটার। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ জন প্রফেসরের কাছ থেকে রিকোমেন্ডেশন লেটার বা সুপারিশপত্র নিতে হবে।
    ৭. মেডিকেল রিপোর্ট।
    ৮. IELTS বা TOFFEL সার্টিফিকেট (যদি থাকে)।

    আবেদন করতে ভিজিট করুণঃ

    http://www.campuschina.org/

    সিএসসি স্কলারশিপ এর আবেদনের জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এজেন্সি নাম্বার কোড জানার জন্য ভিজিট করুনঃ

    https://scholarshipfellow.com/agency-numbers-of-all-universities-for-csc-scholarship-china/

    অন্যান্য তথ্যের জন্য

    https://www.chinesescholarshipcouncil.com

    তথ্যসুত্রঃ

    1. https://www.kholabakso.com/latestupdate/csc2019
    2. https://rhriyadhasan.blogspot.com/p/blog-page_28.html
    3. https://www.educationbangla.com/স্কলারশীপ-নিয়ে-পড়ার-সুযোগ-চীনে/8413
    4. https://bcysa.org/news_item/38
    5. https://www.facebook.com/notes/m-shahanul-islam/চীনের-লাখ-টাকার-csc-স্কলারশিপটি/1748274948541615/
    6. https://www.prothomalo.com/life/durporobash/চীনে-বাংলাদেশি-শিক্ষার্থীদের-জন্য-বিরাট-সুযোগ
    7. https://www.pikdigg.com/chinese-government-scholarship/
  • চীনে উচ্চশিক্ষাঃ নিজেই করুণ নিজের আবেদন

    চীনে উচ্চশিক্ষাঃ নিজেই করুণ নিজের আবেদন

    জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজন হলে সুদূর চীনে যাওয়া উচিত- এই প্রবাদ আমরা সবাই জানি। এই প্রবাদ শুনে সবাই বুঝতেই পারছেন পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বৃহৎ দেশ চীন জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চায় বেশ এগিয়ে, সেই অতীত থেকেই। পাহাড়, পর্বত, নদী, সমউদ্র, তৃণভূমি, মরুভূমি- কি নেই এই বৃহদাকার দেশের থলের মধ্যে। মহা প্রাচীরের দেশ চীনে, আমেরিকা ও ইংল্যান্ডের পর সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পাড়ি জমাই প্রাচ্যের এই দেশে। হিসাব অনুযায়ী দেখা গেছে, এক ২০১৬ সালেই তাবদ দুনিয়া থেকে ৪,৪০,০০০ শিক্ষার্থী পড়তে এসেছে চীনে। চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বেশ সুনাল অর্জন করেছে এবং চীন সরকারের উদার নীতির কারণে এ দেশে দিনে দিনে অন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

    কেন চীনে পড়তে যাবেন?

    “পিপলস রিপাবলিক অব চায়না” – আয়তন ও জনসংখ্যার নিরিখে বিশ্বের বৃহত্তম দেশটির রাজধানী বেইজিং, ভাষা মান্দারিন আর মুদ্রা ইউয়েন। উৎপাদন, শিল্প, কৃষি থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই যেন এক নম্বর এই দেশ। আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, খেলাধূলা ও গবেষণা থেকে শুরু করে কি নেই এই সব সম্ভবের দেশে। প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে চীন উৎকর্ষতার শিখরে- ফলে এই দেশে পড়াশুনা করলে বিশ্বের প্রযুক্তি বিষয়ে নিজের দৃষ্টিসীমা প্রসারিত হবে। কিন্তু, চীনের চাকুরির বাজার ক্রমে সংকুচিত হচ্ছে- আবার, অপর দিকে, এই দেশে ব্যবসা করার পথ দিন দিন আরো খুলে যাচ্ছে। তাই অবারিত দ্বার এই দেশে নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য হয়ত আপনারও দৃষ্টিসীমা প্রসারিত হবে।    

    Great wall - China
    Image Source: pixabay.com

    চীনে পড়তে যাবার জন্য নূন্যতম যোগ্যতা

    ইউরোপ বা আমেরিকার মত চীনে পড়াশুনা করতে GRE/ GMAT/ SAT/ ACT কিম্বা নিদেন পক্ষে IELTS/ TOEFL জাতীয় কোন পরীক্ষায় বসতে হবে না।

    চীনে যেহেতু পাশ মার্ক ৬০%। তাই আপনার একাডেমিক পরীক্ষায় ৬০% এর অধিক মার্ক থাকলে আপনি চীনে যেকোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারবেন। তবে আপনি ৮০% মার্ক পেলে স্কলারশিপ পেতে আপনার সুবিধা হবে। আর ডিপ্লোমা কোর্সে আবেদন করতে আপনার থাকতে হবে HSC- তে ৪.৪৩ পয়েন্ট। ব্যাচেলরে আবেদন করতে আপনাকে SSC ও HSC তে আপনার সব মিলিয়ে থাকতে হবে ৮.০ পয়েন্ট। মাস্টার্সে আবেদন করতে থাকতে হবে ৩.২০ আর পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করতে হবে ৩.৪০ পয়েন্ট সাথে থাকতে হবে পাবলিশড রিসার্চ পেপার। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতা ফি বছর পরিবর্তন হয়। তাই দেখে নিন, বুঝে নিন – বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আদতে কি চাচ্ছে।  

    কোর্স সার্চ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন

    চীন বছরে দুইটি সেমিস্টারের মাধ্যমে অফার করে বিভিন্ন ধরণের কোর্স। আপনি গ্রাজুয়েশন, পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা, মাস্টার্স, সিনিয়র স্কলার, জেনারেল স্কলার অথবা পিএইচডি সহ যে কোন প্রোগ্রামে যেতে পারেন ।

    চীনে অবস্থিত বিশ্বমানের প্রায় ১১০০ এর অধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন প্রোগ্রামের আওতায় বিভিন্ন কোর্স অফার করে থাকে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, সব বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থীদের পড়ার সুযোগ দেয় না। আবার অনেক নামী- দামী বিশ্ববিদ্যালয় আছে যেখানে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের পড়ার সুযোগ দেওয়া হয় না। তাই আবেদনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সমন্ধে একটু জেনে নিতে হবে। আর এই দেশে প্রকৌশল, কৃষি, মেডিকেল ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞান, বিজনেস ও ম্যানেজমেন্টসহ অনেক ধরণের বিষয়ে পড়ানো হয়। তবে, প্রকৌশল বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় চীনে উন্নত শিক্ষা প্রদান করা হয়ে থাকে।

    বর্তমানে চীনে মেডিকেল ও স্বাস্থ্যবিষয়ে পড়াশোনার জন্য বেশি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। চীনের যেকোন রেজিস্টার্ড মেডিকেল স্কুল থেকে পড়াশুন শেষ করে এসে আপনি বাংলাদেশে প্রকটিস করতে পারবেন। শুধু আপনাকে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) থেকে সম্মতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে।

    চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ও এখন বেশ উন্নত ও তারা বিশ্বায়নের সাথে তাল মিলিয়ে উন্নত শিক্ষা প্রদান করে আসছে। নিম্নে চীনের কিছু নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা দেওয়া হলঃ

    ১। Tsinghua University 

    ২। Peking University

    ৩। University of Science and Technology of China

    ৪। Zhejiang University

    ৫। Fudan University 

    Students in China
    Image Source: Internet

    চাইনিজ ইউনিভার্সিটির র‍্যাংকিং নিয়ে  আরও ভালো ভাবে জানতে চাইলে তুমি এই লিঙ্কটিতে ঘুরে আসতে পারো। আশা করি র‍্যাংকিং নিয়ে তোমার আর কোনো প্রশ্ন থাকবে না।

    লিঙ্কঃ https://www.mastersportal.com/ranking-country/105/china.html  

    কোন ভাষায় পড়বেন?

    চাইনিজ কিংবা ইংলিশ দুই ভাষাতেই পড়তে পারবেন । ডিপ্লোমাতে সারাধরণ চাইনিজে পড়ানো হয়। ইংলিশ কোর্স খুব একটা পাওয়া যায়না। অনার্স , মাস্টার্স, পিএইচডি চাইনিজ কিংবা ইংলিশে করতে পারেন । বেশির ভাগ ইউনিভার্সিটি এখন IELTS চাচ্ছে। সর্বনিম্ন ৬.০ ব্যান্ড। তবে, আপনার প্রোফাইল সমৃদ্ধ হলে সেই সব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও IELTS ছাড়াই আবেদন গ্রহণ করছে। চীনা ভাষায় দক্ষতা প্রমাণের জন্য HSK 4 পরীক্ষার স্কোর প্রয়োজন পড়ে আর যদি খোদ চাইনিজ ভাষায় পড়তে চান তাহলে প্রয়োজন পড়বে HSK 5 । তবে, এই স্কোরও বাধ্যতামূলক নয়। চীনে সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপনাকে দিয়ে এই সংক্রান্ত কোর্স করিয়ে নেবে। তাই, এই বিষয়েও কোন চিন্তা নেই।

    ডকুমেন্টস সত্যায়ন

    চীনে আবেদনের জন্য সকল ডকুমেন্টস নোটারাইজড করে দিতে হবে। কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় আবার আপনার সার্টিফিকেট চাইনীজ ভাষা/ মান্দারিন ভাষায় চেয়ে থাকে। তাদের জন্য আপনাকে অনুবাদক দিয়ে আপনার ডকুমেন্টস অনুবাদ করিয়ে নিতে হবে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এখন ইংরেজীতে প্রদত্ত সকল সার্টিফিকেট এই দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গ্রহণ করে থাকে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সময়সীমা ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

    আগেই বলেছি চীনে দুইটি সেমিস্টার পড়ানো হয় প্রতি বছরঃ যার একটি মার্চে শুরু হয় আর অপরটি সেপ্টেম্বরে শুরু হয়।

    চীনে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা বেশ কষ্টকর- তাই, আবেদন করার জন্য যদি চীনে অবস্থিত কোন পরিচিত বন্ধু বা আত্মীয়ের সাহয্য নেন তাহলে অনেকটাই সুবিধা হবে। যেহেতু, আবেদন করতে টাকা-পয়সা খরচ হবে, তাই বিশ্বস্ত না হলে এই বিষয়ে না এগোনোই ভালো।

    Students in China
    Image Source: Internet

    বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের জন্য যেসকল প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস দরকার পরবে তার তালিকা নিচে দেওয়া হলঃ

    ১। সকলএকাডেমিক সার্টফিকেট এবং মার্কশীট (অবশ্যই নোটারাইজড) 

    ২। Study Plan ও ২ টি রিকমেন্ডেশন লেটার (সহযোগী অধ্যাপক বা অধ্যাপকের কাছ থেকে নিতে হবে)

    ৩। পাসপোর্টের কপি ও সাদা ব্যাক-গ্রাউন্ডের ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি (নোটারাইজড)

    ৪। স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট

    ৫। জন্ম সনদ, জাতীয় পরিচয় পত্র, বায়ো-ডাটা

    পড়াশোনার খরচ ( টিউশন ফি) ও স্কলারশিপ

    সাধারণত চীনে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশুনা করতে বছরে খরচ হবে ২-৩ লাখ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে এই ফি-এর তারতম্য হয়। আর মেডিকেল বিষয়ে পড়তে খরচ হবে ৩-৬ লাখ টাকা। চীনে মেডিকেল কোর্স ৫ বছরের আর সাথে ১ বছরের ইন্টার্নশীপ।  

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে চীনা সরকার প্রচুর পরিমাণে স্কলারশিপের ব্যবস্থা করেছে, যেগুলো আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট লেভেলে টিউশন ফি’র জন্য ফুল ও পার্শিয়াল ফান্ডিংয়ে দেয়া হয়ে থাকে। এর মাঝে রয়েছে-

    ১। Chinese Government Scholarship

    ২। University/ Presidential Scholarship

    ৩। Confucius Institute Scholarship

    ৪। Local Government Scholarship / Provincial Scholarship

    ৫। Enterprise Scholarship

    তাই, যোগ্যতা থাকলে এই দেশে স্কলারশিপের সুযোগ অনেক বেশি।

    ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া ও ডকুমেন্টস চেকলিস্ট

    চীনের বিশ্ববিদ্যালয় আপনার আবেদন গ্রহণ করলে তারা আপনাকে প্রদান করবে JW202 (চীনা শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সীলযুক্ত) । আর এই JW 202 ভিসা আবেদনের জন্য একান্ত প্রয়োজন। সকল ডকুমেন্ট নিয়ে বাংলাদেশে অবস্থিত চীন এম্বেসীতে করতে হবে ভিসার জন্য আবেদন।

    ভিসা আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের লিস্ট নীচে তুলে ধরা হলঃ

    ১। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো Admission Letter এবং JW 202

    ২। সকল নোটারাইজড ডকুমেন্টস, মার্কশিট ও সকল সনদ

    ৩। পাসপোর্ট ও ফটোগ্রাফ

    ৪। রিকমেন্ডেশন বা রেফারেন্স লেটার

    ৫। ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও আর্থিক স্বচ্ছলতার ডকুমেন্টস

    ৬। মেডিকেল রিপোর্ট

    ৭। IELTS এর সনদ (যদি থাকে)

    ৮।স্কলারশিপের পেপার (যদি থাকে)

    City life in China
    Image Source: Internet

    চীনের আবাসন ব্যবস্থা ও জীবনযাত্রার ব্যয়

    চীনে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে হোস্টেল। হোস্টেলে থাকতে আপনাকে দিতে হবে ভার্সিটিভেদে বাৎসরিক ৩০,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকা।

    সকল দেশের মত এই দেশেও খরচ নির্ভর করে ব্যক্তি বিশেষের মত। তবে নিজে রান্না করে খেলে আপনি প্রভিন্সভেদে মাসিক ৪০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকায় সেরে নিতে পারবেন। আর যদি বাইরে খান তাহলে এই খরচ মাসিক ২৫,০০০ টাকার মত লেগে যাবে।

    চীনের যাতায়াত ব্যবস্থা যেমন বেশ ভালো, তেমনই বেশ সাশ্রয়ী। এখন চলুন বিভিন্ন যানবাহনে খরচ কেমন হতে পারে সেই সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক:

    মেট্রো: ৪০ টাকা (প্রায়)

    ট্যাক্সি/কি.মি: ৩০ টাকা (প্রায়)

    সিটি বাস: ২৫ টাকা (প্রায়)

    পাবলিক ট্রান্সপোর্টে স্টুডেন্ট পাস থাকলে মাসে তাতে খরচ হবে মাত্র ১৩০০ টাকা

    পার্ট টাইম জব ও স্থায়ী বসবাস এর সুযোগ

    চীনে পড়াশুনার পাশাপাশি জব করা সকল প্রদেশে বৈধ নয়। তাই, আপনি জব করতে পারবেন কি না সেটা আপনার বিশ্ববিদ্যালয় যে প্রদেশে সেটার উপর নির্ভর করবে। আর চীনে চাকুরীর বাজারে বিদেশী হিসেবে চাকুরী পাওয়া কঠিন। তাই, আপনি স্থায়ী বসবাসের কথা ভাবলে এই দেশ খুব একটা ভালো ডেস্টিনেশন হবে না। কিন্তু, জ্ঞান অর্জনের জন্য এই দেশ সমৃদ্ধ।

    City life in china
    Image Source: Internet

    আপনারা চীনে উচ্চশিক্ষা নিয়ে অনেক কিছুই জেনে গেলেন। বাকিটা আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ঘেটে জানতে হবে। তাহলে আর দেরী কেন? এখনি করুন- নিজেই নিজের আবেদন।

    তথ্যসুত্রঃ

    ১। https://www.facebook.com/notes/shihab-a-mamun/চীনে-উচ্চশিক্ষার-অ-আ-ক-খঃ/1958352227516060/

    ২। https://blog.ysibangla.com/study-in-china-all-necessary-information/

    ৩। https://samakal.com/todays-print-edition/tp-pathshala/article/19024169/চীনে-উচ্চশিক্ষা

    ৪। https://www.prothomalo.com/durporobash/article/1053395

    ৫।  https://www.10minuteschool.com/blog/study-in-china/

    ৬। https://www.somewhereinblog.net/blog/belal_tamjeed/30262688

  • চেক প্রজাতন্ত্রে উচ্চশিক্ষাঃ নিজেই করুন নিজের আবেদন

    চেক প্রজাতন্ত্রে উচ্চশিক্ষাঃ নিজেই করুন নিজের আবেদন

    বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ আপনাদের অনেকেরই চয়েসের প্রথম দিকে থাকে। ইউরোপের দেশ ও সংস্কৃতি অনেক উন্নত ও জ্ঞান অর্জনের জন্যও অনেক আকাঙ্ক্ষিত। ইউরোপের দেশে পড়তে যাবার ডেস্টিনেশনের এই পর্বে আপনাদের সামনে তুলে ধরতে যাচ্ছি চেক প্রজাতন্ত্র। তাই, কথা কম কাজ বেশি আদর্শে বিশ্বাসী আমরা চলে যাচ্ছি সরাসরি আলোচনায়।

    কেন চেক প্রজাতন্ত্রে পড়তে যাবেন?

    মধ্য ইউরোপের এই দেশের রাজধানী প্রাগ, ভাষা চেক ও মুদ্রা করুনা। চেক প্রজাতন্ত্রের ৭৮,৮৬৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনে বসবাস করে প্রায় ১ কোটির কিছু বেশি লোক। এই দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ৩২, ৬২২ ডলার। আর ইউরোপের অনেক দেশের চেয়ে এই দেশে থাকা-খাওয়া বাবদ খরচ অনেক কম। এছাড়া এদেশে শিক্ষার পরিবেশ খুব ভাল। ইউরোপের অন্যতম পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয়- চার্লস বিশ্ববিদ্যালয় প্রাগ শহরে অবস্থিত। চেক প্রজাতন্ত্রে ২৭ টি সরকারি ও ৪০ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। কিউএস ইইচিএ ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০১৮ অনুযায়ী, বিশ্বের সেরা ৩০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয় চেক প্রজাতন্ত্রের। 

    এছাড়াও এই দেশের অন্যান্য কিছু নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় হলঃ

    Higher Study Abroad -Czech Republic
    Image Source: pexels.com

    চেক প্রজাতন্ত্রে পড়তে যাবার জন্য নূন্যতম যোগ্যতা

    অন্যান্য সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মত এই দেশেও আবেদনের জন্য আপনাকে পূর্ব ধাপ শেষ করে আসতে হবে। অর্থাৎ, ব্যাচেলরের জন্য HSC, মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য ব্যাচেলর আর PhD প্রোগ্রামে ভর্ত হতে মাস্টার্স শেষ করতে হবে। অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপনার আবেদনের উপরে ভিত্তি করে এন্ট্রান্স এক্সাম (Entrance Exam) নিতে পারে। আসলে আপনাকে কি কি যোগ্যতা প্রয়োজন সবটাই নির্ভর করবে আপনি যেখানে পড়তে যাবেন সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর।

    আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানিয়ে রাখি, এদেশে কোন আবেদন করতে সাধারণত IELTS স্কোর প্রয়োজন পড়ে না । কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে IELTS স্কোর (5.5 -6.5) চাইতে পারে।

    আবার, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের জন্য আবেদন ফি বা ট্যাক্স বাবদ ২০ থেকে ৮০ ইউরো পর্যন্ত অর্থের প্রয়োজন পড়তে পারে।  

    কোর্স সার্চ ও কোর্স নির্বাচন

    অনলাইন মার্কেটিং কোর্স, এনার্জি সায়েন্স, অ্যাভিয়েশন,  ইঞ্জিনিয়ারিং, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালটি, ফ্যাশন, আর্ট,  বিজনেস স্টাডিজ, ডিজাইন স্টাডিজ, জার্নালিজম, ম্যানেজমেন্ট কোর্স, ল্যাংগুয়েজ কোর্স, মার্কেটিং, সোশ্যাল সায়েন্স, ইকোনমিক্স, ফুড এন্ড বেভারেজ স্টাডিজ, ফিল্ম মেকিং, ফাউন্ডেশন প্রোগ্রাম, প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, গ্রাফিক্স কোর্স, ইত্যাদিসহ আরো নানা বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। 

    কোর্স সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে এই ওয়েবসাইটের সাহায্য নিতে পারেনঃ  http://www.studyin.cz

    বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন প্রক্রিয়া

    এই দেশে বছরে সাধারণত ২ টা সেশানে অফার করে থাকে। একটি সেশনে আবেদনের সময় নভেম্বর/ডিসেম্বর এবং পরবর্তী সেশনে আবেদনের সময় এপ্রিল/মে হয়ে থাকে।

    অবশ্যই কোর্স শুরু হবার ২/৩ মাস আগেই ভিসার জন্য আবেদন করবেন। কারণ ভিসা পেতে আপনাকে ২ থেকে ২.৫ মাস সময় লাগবে।

    Image Source: Internet

    চেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর বা মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদনের জন্য নিম্নোক্ত ডকুমেন্টস প্রয়োজন পড়বেঃ

    ১। অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন ও অ্যাপ্লিকেশন ফি ২০-৮০ ইউরো

    ২। পাসপোর্ট ও ২ কপি ছবি [ছবির সাইজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জেনে নিতে হবে]

    ৩। সকল সার্টিফিকেট ও মার্কশীট [ বিশ্ববিদ্যালয়ের Requirement ডকুমেন্টসগুলো নোটারি কপি কিংবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত করতে হতে পারে]

    ৪। IELTS স্কোর ৬.০ – ৬.৫ বা Medium of Instruction সার্টিফিকেট [বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বা কন্ট্রোলার অফ এক্সাম থেকে Medium of Instruction সার্টিফিকেট পেলে IELTS Score প্রয়োজন পরবে না]

    ৫। ইউরোপিয়ান ফরম্যাটে সিভি, মোটিভিশন লেটার ও ২ টি রেকমেন্ডেশন লেটার

    ৬। জব এক্সপেরিয়েন্স সার্টিফিকেট [যদি প্রয়োজন হয়]


    সকল ডকুমেন্টস বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন শেষ হবার আগেই পৌছাতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানায়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপনার ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের Entrance Exam বা Interview নিবে skype এর মাধ্যমে। তারপর ৭- ১০ দিনের মধ্যে আপনাকে জানিয়ে দিবে আপনার ফলাফল।

    যদি আপনি তাদের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, তাহলে আপনাকে  ইমেইল করে Offer Letter দিয়ে দাওয়া হবে। এরপর আপনাকে ১ বছরের অথবা ১ সেমিস্টারের টিউশন ফি দিতে বলা হবে। এই ফি প্রদান করলে আপনাকে এম্বেসী ফেস করার জন্য অফার লেটারের হার্ডকপি পাঠানো হবে। যদি আপনি কোন দৈব কারণে ভিসা না পান, তাহলে আপনার টিউশন ফি আপনাকে রিফান্ড করা হবে।

    এই ক্ষেত্রে একটা কথা মনে রাখবেন, যদি ২-৩ মাস আগেই ভিসা প্রসেস শুরু না করেন, তবে হয়ত কাজ শেষ করতে আপনাকে বেগ পোহাতে হবে। কারণ, চেক প্রজাতন্ত্রে আবেদন প্রসেস করতে ৩ মাসের মত সময় লাগবে।

    টিউশন ফি

    আপনাকে কম টিউশন ফী সম্পন্ন চেক বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজতে হবে। যেটা প্রতি বছরে ২০০০-২৫০০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে।

    চেক রিপাবলিকে এডমিশেনর  ক্ষেত্রে প্রথম বছরের টিউশন ফী আপনাকে অগ্রিম পাঠাতে হবে। মাস্টার্স স্টাডি প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে যদি আপনার টোটাল টিউশন ফী ৪৫০০ হয়, তাহলে প্রথম বছর  আপনাকে পাঠাতে হবে ২২৫০ ইউরো। চেকে গিয়ে আপনাকে বাকি ২২৫০ ইউরো মেনেইজ করতে হবে। আপনার অবশিষ্ট টিউসান ফী ৪-৬ কিস্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়কে দিতে পারবেন।

    যদি ভিসা না পান তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেই টাকা আপনাকে ফেরত দিবে। তবে এই বিষয়ে সব কিছুই নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট, আর প্রয়োজনে এডমিশন অফিসে ভালো করে কথা বলে নিবেন।

    International Student in Czech Republic
    Image Source: Internet

    ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া ও ডকুমেন্টস চেকলিস্ট

    চেক প্রজাতন্ত্রের এম্বেসী বাংলাদেশে নেই- তাই আপনাকে ইন্ডিয়া গিয়ে কাজ করতে হবে। এজন্য সময় বেশী লাগবে তাই হময় হাতে নিয়েই ভিসার আবেদন করতে হবে। ভিসা আবেদনের জন্য আপনাকে চেক এমব্যাসি ভারত  হতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।

    অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার পর নিচের ডকুমেন্টস জোগাড় করে যেতে হবে ভিসা ইন্টারভিউয়ের জন্যঃ

    ১। পাসপোর্ট ও ২ কপি ছবি

    ২। লংটার্ম ভিসা ফর্ম

    ( ফর্মটি পাবেনঃ https://www.mzv.cz/jnp/en/information_for_aliens/visa_form/index.html )

    ৩। Accommodation (কমপক্ষে ৬ মাসের জন্য)

    ৪। ব্যাংক ডিটেইলস (আবেদনকারীর নামেই ৬২০০ ইউরো থাকতে হবে, পিতা-মাতা-ভাই-বোন হলে চলবে না)

    ৫। আবেদনকারীর নিজের নামে International Credit Card (ব্যাংক ডিলেইলস যে ব্যাংক থেকে নিতে হবে ক্রেডিট কার্ডও একি ব্যাংকের হতে হবে।)

    ৬। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (নোটারাইজড)

    ৭। অফার লেটার

    ৮। হেলথ ইনস্যুরেন্স

    এখানে উল্লেখ্য যে, ব্যাংক ডিটেইলস ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স চেক ভাষায় অনুদিত হতে হবে। আপনি বাংলাদেশ থেকেও করাতে পারেন। তবে ইন্ডিয়া থেকে করালে আপনি ২ ঘন্টায় আপনাকে করে দিবে।

    Visa Application - Czech Republic
    Image Source: Internet

    চেক এমব্যাসি ভারত, http://www.mzv.cz/newdelhi

    চেক কনস্যুলেট বাংলাদেশ, http://www.czechrepublicbd.com/home

    আবাসন ব্যবস্থাঃ

    চেক প্রজাতন্ত্রে ভিসার জন্য আপনাকে ৬ মাসের আবাসন ব্যবস্থা বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় করে যেতে হবে। আবাসনের জন্য আপনাকে মাসে ব্যয় করতে হবে ১১০- ১৫০ ইউরো।

    আবাসনের জন্য কিছু প্রাইভেট অর্গানাইজেশনের খোঁজ দেওয়া হলঃ

    Spolubydlici.cz |Forstudents.cz | Expats.cz | Sreality.cz

    মাসিক খরচ এবং পার্ট টাইম জব এর সুযোগ

    চেক প্রজাতন্ত্রে অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের তুলনায় অনেক কম খরচে থাকা খাওয়া হয়ে যাবে। আপনি ২৫০ থেকে ৪০০ ইউরোর মধ্যে আপনার থাকা খাওয়া সহ যাবতীয় খরচ মেটাতে পারবেন।

    এখান থেকে একটু ধারনা নিতে পারেন – https://www.studyin.cz/live-work/living-costs/

    এই দেশে আপনি পড়াশুনার পাশাপাশি পার্ট টাইম জব করতে পারবেন সপ্তাহে ২০ ঘন্টা। ছুটিতে করতে পারবেন ফুল টাইম জব। কাজ পাবার জন্য চেক ভাষা জানলে সুবিধা পাবেন।   

    Life in Czech Republic
    Image Source: Internet

    ℹ️ আবেদনের আগে সবার মনেই একটি কমন প্রশ্ন উঁকি দেয় – চেক রিপাবলিকে খণ্ডকালীন চাকুরী করে টিউশন ফী এবং লিভিং কস্ট  ম্যানেজ করা সম্ভব কি না?

    এক কথায় বলা যায় বর্তমানে খণ্ডকালীন চাকুরীর সুযোগ ও সহজলভ্যতার দিক থেকে চেক রিপাবলিক অনেক ভাল অবস্থানে আছে। প্রাগ,বেরাউন সেটিতে নতুন পুরাতন বাঙালী কেউই জব ছারা নেই। চেক রিপাবলিকে বাঙালি,ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানি, ভিয়েতনামিজ, ইসরাইলি সহ বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট বা মিনি মার্কেটে কাজ করতে পারবেন। প্রতি ঘণ্টায় ৬৫-৭৫ ক্রাউন করে মুজুরি পাবেন।

    নোটঃ প্রাগ,বেরাউন ব্যাতিত চেক রিপাবলিকের অন্যান্য সিটি গুলিতে খণ্ডকালীন চাকুরীর সুযোগ ও সহজলভ্যতা তেমন নেই।

    কোর্স শেষে চাকুরীর সুযোগ ও স্থায়ী বসবাস

    চেক প্রজাতন্ত্রে কোর্স শেষে আপনি ৯ মাসের জব সার্চ ভিসা পাবেন। আর আপনি যদি টানা ৫ বছর এই দেশে বসবাস করেন, তাহলে পারবেন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে। তবে এই ক্ষেত্রে পড়াশুনার সময়কালকে অর্ধেক ধরা হয়  ( ৩ বছরের কোর্স হলে ১.৫ বছর গণনা করা হবে) আর আপনাকে চেক ভাষায় হতে হবে দক্ষ ।

    Life in Czech Republic
    Image Source: Internet

    তথ্যসুত্রঃ

    ১। http://freevisatips.blogspot.com/2017/09/study-in-czech-republic-from-bangladesh.html

    ২। https://www.bangladeshistudentscommunity.eu/archives/101

    ৩। https://www.mastersportal.com/articles/2556/how-to-apply-to-a-university-in-the-czech-republic-in-2020.html

    ৪। https://www.ekushey-tv.com/চেক-প্রজাতন্ত্রে-উচ্চশিক্ষা /99818

  • চেক রিপাবলিক সরকারি স্কলারশিপ

    চেক রিপাবলিক সরকারি স্কলারশিপ

    ১৯৫০ দশকের শেষ দিকে চেক রিপাবলিক সরকার এই স্কলারশিপ প্রোগ্রাম শুরু করে। চেক রিপাবলিকের মিনিস্ট্রি অব এডুকেশন, ইয়ুথ এন্ড স্পোর্টস এবং মিনিস্ট্রি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স এর যৌথ তদারকিতে প্রদান করা হয়ে থাকে এই স্কলারশিপ। এই স্কলারশিপ প্রোগ্রামে চেক রিপাবলিকের কোন নাগরিক অথবা ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোন নাগরিক এই আবেদন করতে পারবেন না। এই স্কলারশিপে প্রথম ১ বছর শিক্ষার্থীকে শেখানো হবে চেক ভাষা ও সংস্কৃতি।   

    স্কলারশিপ এর নাম

    চেক রিপাবলিক সরকারি স্কলারশিপ

    যে যে বিষয়ে অধ্যয়ন করা যাবে

    এই স্কলারশিপের আওতায় ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করা যাবে।  

    দেশ এবং কর্তৃপক্ষ

    Ministry of Education, Youth & Sports And Ministry of Foreign Affairs of Czech Republic

    বৃত্তির সুযোগ সুবিধাসমূহ

    স্কলারশিপের আওতায় আপনি যা যা পাবেনঃ

    ১। টিউশন ফি

    ২। মাসিক ভাতা

    ৩। আভ্যন্তরীণ যাতায়াত ভাড়া

    আবেদনের যোগ্যতা

    স্কলারশিপের জন্য আপনার থাকতে হবে নিম্নোক্ত যোগ্যতাঃ

         ১। আবেদন করার জন্য অবশ্যই আপনাকে লিস্টেড দেশের যে কোন একটি দেশের নাগরিক হতে হবে।

         ২। বয়স হতে হবে কমপক্ষে ১৮ বছরের বেশি।

    আবেদনের সময়সীমা

    প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিতে হবে ওয়েব সাইটের মাধ্যমে। হালনাগাদ ডেডলাইন জানতে ভিজিট করুন –

    https://www.msmt.cz/eu-and-international-affairs/government-scholarships-developing-countries

    যেসকল দেশের প্রার্থীদের জন্য প্রযোজ্য

    Developing Country and Under Developed Country -এর নাগরিকগণ এই স্কলারশিপে আবেদন করতে পারবেন। আর এই তালিকার বাংলাদেশও আছে। হালনাগাদ দেশের তালিকা জানতে ভিজিট করুন –

    https://www.msmt.cz/eu-and-international-affairs/government-scholarships-developing-countries

    Czech Republic Government Scholarship
    Image Source: Internet

    আবেদন প্রক্রিয়া

    প্রথমেই আপনাকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এরপর আপনাকে বসতে হবে এন্ট্রাস এক্সামে আর পরবর্তীতে রেজাল্ট জানিয়ে দেওয়া হবে।

    স্কলারশিপ প্রোগ্রামের জন্য আপনাকে জমা দিতে হবেঃ

    ১। Online আবেদন ফর্ম

    ২। সকল একাডেমিক সার্টিফিকেট ও মার্কশীট

    ৩। রিকমেন্ডেশন লেটার    

    ৪। Motivation Letter and CV

    ৫। IELTS এর সনদ (যদি থাকে)

    ৬। Work Experience Certificate (যদি থাকে)

    ৭। NID ও পাসপোর্টের কপি 

    আবেদন করতে ভিজিট করুণঃ

    https://www.msmt.cz/eu-and-international-affairs/government-scholarships-developing-countries?lang=2

    তথ্যসুত্রঃ

    1. https://worldscholarshipforum.com/2018-2019-czech-republic-government-scholarships-foreign-students/
    2. https://www.czechuniversities.com/article/scholarships-for-international-students
    3. https://www.msmt.cz/eu-and-international-affairs/government-scholarships-developing-countries?lang=2
  • জাপানে উচ্চশিক্ষাঃ নিজেই করুণ নিজের আবেদন

    জাপানে উচ্চশিক্ষাঃ নিজেই করুণ নিজের আবেদন

    সূর্যোদয়ের দেশ জাপান এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দেশ আর সভ্যতা, জ্ঞান-বিজ্ঞানে ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বিবেচনায় এই দেশের জুড়ি মেলা ভার। বরাবরই দেখা যায়, বিদেশে শিক্ষার্থীরা যেতে ব্যর্থ হয় তার মূল কারণ হল, সঠিক তথ্য না জানা। তাই আমাদের চেষ্টা থাকে আপনাদের কাছে, তথ্যসমৃদ্ধ লেখা তুলে ধরার। এই চেষ্টা থেকেই আমরা আজ সাজিয়েছি, জাপানে উচ্চশিক্ষা। তাহলে আর দেরী কেনো? চলুন, নিজেই করি নিজের আবেদন।

    কেন জাপানে পড়তে যাবেন?

    বিশ্বে জাপানী মানুষের খ্যাতি আছে- কাজ পাগল হিসেবে। জাপান সমৃদ্ধ এক দেশ এবং আছে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, সংস্কৃতি ও শিক্ষার অসাধারণ পরিবেশ। বর্তমানে জাপানের শিক্ষা ব্যবস্থা এতোটাই উন্নত যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা পাড়ি যমাচ্ছে প্রাচ্যের এই সমৃদ্ধ দেশে। বিশাল এই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিড়ে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা কম নয়।

    জাপান মূলত দ্বীপ রাষ্ট্র- অনেকগুলো দ্বীপ নিয়েই জাপান। জাপানের রাজধানী টোকিও আর মুদ্রা ইয়েন। এই দেশের আয়তন ১,৪৫,৯৩৭ বর্গমাইল আর এই আয়তনে বসবসা করে ১২.৫৯ কোটি লোক। বিশ্বে ১১তম ঘন বসতিপূর্ণ দেশ। অর্থনৈতিক বিচারে জ্যায়ান্ট এই দেশের জিডিপি ৫.৪১৩ ট্রিলিয়ন (বিশ্বে চতুর্থ)। জাপানী শিক্ষা ব্যবস্থা পড়াশুনার জন্য অনেক সহায়ক। আপনি চাইলে মনবুশো বা সেন্টার ফর এক্সিলেন্স বৃত্তির জন্যও আবেদন করতে পারবেন।

    বুঝতেই পারছেন, জাপান আসলেই শিক্ষা বান্ধব একটি দেশ। 

    Study in Japan
    Image Source: pexels.com

    জাপানে পড়তে যাবার জন্য নূন্যতম যোগ্যতা

    জাপানের প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়েই ইংরেজীতে কোর্স অফার করা হয়। তবে ইংরেজী ভাষায় কোর্স করলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপনাকে জাপানী ভাষা শিখে যেতে অনুপ্রাণিত করবে। জাপানী ভাষা জানা থাকলে আপনি যেমন সংস্কৃতির সাথে মিশে যেতে পারবেন, সাথে পার্ট টাইম জব পেতেও সুবিধা হবে। জাপানে উচ্চশিক্ষা শুরু হয় সাধারণত ১২ বছর মেয়াদী প্রথাগত শিক্ষা শেষ হবার পর। সমস্যা নেই- কারণ বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে আপনি HSC পাশ করলেই উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত। জাপানে পড়তে যেতে আপনাকে সাধারণত কিছু সাধারণ পরীক্ষার মুখোমুখিও হতে পারে, যেমনঃ Examination for Japanese University Admission for International Students (EJU), Japanese Language Proficiency Test (JLPT), TOEFL, IELTS, TOEIC ইত্যাদি। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান টোফেল সিবিটি স্কোর ১৫০-এর ওপর অথবা টোফেল আইবিটি স্কোর ৫২-এর ওপর চায়- আর এই স্কোরের পরিপূরক স্কোর হিসেবে IELTS 6.5/ 7.0 গ্রহণযোগ্য। যেহেতু, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরাসরি TOEFL (CBT/ iBT) চায়, তাই জাপানের জন্য TOEFL (CBT/ iBT) পরীক্ষায় বসাই উত্তম। তবে সব কোর্সে আর সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব পরীক্ষার প্রয়োজন পড়েনা। তাই আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে ঘুরে দেখে নিন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষা আসলে কি কি যোগ্যতা তাদের শিক্ষার্থীদের থেকে আশা করে।  

    কোর্স সার্চ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন

    জাপানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বেশ কিছু উন্নত মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। জাপানে রয়েছে পেশাদার প্রশিক্ষণ কলেজ, জুনিয়র কলেজ, প্রযুক্তি কলেজ, গ্রাজুয়েট স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়। এসব প্রতিষ্ঠানের সবগুলোতেই বিদেশী শিক্ষার্থী পড়তে পারে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে আপনি গ্রাজুয়েট, মাস্টার্স, এসোসিয়েট ডিগ্রী, পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা এমনকি পিএইচডি ডিগ্রীও পেতে পারেন।

    ℹ️ জাপানের সব ভার্সিটিতেই পড়াশুনার সিস্টেম একই। তবে স্কলারশিপের জন্য পাবলিক ভার্সিটি ও ন্যাশনাল ভার্সিটি সিলেক্ট করাই উত্তম। কারণ এইসব ভার্সিটিতে স্কলারশিপ এর সংখ্যা সাধারণত বেশি থাকে। তাই গুগলে List of Public University / National university in Japan লিখে সার্চ দিলেই সব ভার্সিটি পাওয়া যাবে। সব ভার্সিটির ওয়েব পেইজ জাপান, কোরিয়ান, চাইনিজ ও ইংরেজিতে লিখা।

    লিঙ্ক: http://www.mext.go.jp/en/about/relatedsites/title01/detail01/sdetail01/1375122.htm

    জাপানে আপনি পড়তে পারবেন হিউমান স্টাডিজ, মানববিদ্যা, ভাষাশিক্ষা, ইতিহাস, এডুকেশনাল সায়েন্স, ল অ্যান্ড সোসাইটি, পাবলিক ল অ্যান্ড পলিসি, ট্রান্সন্যাশনাল ল অ্যান্ড পলিসি, অর্থনীতি, ব্যবস্থাপনা, হিসাববিজ্ঞান, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, জোতির্বিদ্যা, ভূ-প্রকৃতিবিদ্যা, রসায়ন, ভূ-বিজ্ঞান, মেকানিক্যাল সিস্টেমস অ্যান্ড ডিজাইন, ন্যানোমেকানিকস, এডুকেশনাল ইনফরমেটিকস, পরিবেশবিদ্যা, এনভায়রনমেন্টাল লাইফ সায়েন্স, ফলিত তথ্যবিজ্ঞান, আন্তসাংস্কৃতিক সম্পর্ক, এরিয়া স্টাডিজ, বায়োসায়েন্স ও বায়োটেকনোলজি, প্রাণবিজ্ঞান, স্থাপত্য ও ভবনবিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োমলিকুলার ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স, হিউম্যান-সোশ্যাল ইনফরমেশন সায়েন্স, বায়োলজি অ্যান্ড নিউরোসাওেয়ন্স, কম্পিউটার অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্যাল সায়েন্সসহ  ইত্যাদি বিষয়ে।

    জাপানে প্রায় ৭০০ এর মতো ইউনিভার্সিটি রয়েছে। সাড়া বিশ্বের সেরা ইউনিভার্সিটির র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রথম ৫০টি ইউনিভার্সিটির মধ্যে আছে জাপানের “দ্যা ইউনিভার্সিটি অফ টোকিও” আর “কিয়োটো ইউনিভার্সিটি”। সেরা ৫০০ ইউনিভার্সিটির মধ্যে কেবল জাপানেই আছে  ১৬টি ( ARWU)।

    এই লিঙ্কে গেলেই  জাপানিজ ইউনিভার্সিটির র‍্যাংকিং সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে পারবে।

    লিঙ্কঃhttp://www.shanghairanking.com/World-University-Rankings-2018/Japan.html 

    নীচে জাপানের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা দেওয়া হলঃ

    ১। Tohoku University

    ২। Kyoto University 

    ৩। University of Tokyo 

    ৪। Tokyo Institute of Technology 

    ৫। Kyushu University

    University in Japan
    Image Source: Internet

    বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সময়সীমা ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

    জাপানে বছরে ২টি সেমিস্টার পড়ানো হয়। যথাঃ এপ্রিল ১ থেকে সেপ্টেম্বর ৩০ এবং ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ। তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বেশি সুযোগ থাকে, Fall Semester অর্থাৎ, ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ সেমিস্টারে।

    জাপানে বিশ্ববিদ্যালয় বা যেকোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবেদন করলে আপনাকে সাধারণত বসতে হবে স্কাইপি বা যেকোন ধরণের অনলাইন বা স্পট ইন্টারভিউতে। আর এই ইন্টারভিউতে পাশ করলেই মিলবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ। পাশ করার পর কর্তৃপক্ষ জাপানী ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে আপনার ডকুমেন্টস গ্রহন করা হবে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের জন্য যেসকল প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস দরকার পরবে তার তালিকা নিচে দেওয়া হলঃ

    ১। একাডেমিক সার্টফিকেট এবং মার্কশীট

    ২। TOEFL/ JLPT 5 এর সনদ

    ৩। CV, মোটিভিশন লেটার ও রিকমেন্ডেশন লেটার

    ৪। শেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ছাড়পত্র

    ৫। পাসপোর্টের কপি

    University in Japan
    Image Source: Internet

    পড়াশোনার খরচ ( টিউশন ফি) ও স্কলারশিপ

    জাপানের টিউশন ফি নির্ভর করে আপনি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করবেন তার উপর। আপনি যদি ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন তাহলে আপনার বছরে খরচ হবে ১০,০০০ মার্কিন ডলারের মত। লোকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনার খরচ ১১,৩৭৭ মার্কিন ডলার। আর যদি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন তাহলে এই টিউশন ফি হবে ৭,৯৫৯ থেকে ৬১,১২৩ মার্কিন ডলার প্রতি বছর। 

    জাপানে আপনি অনেক ধরণের বৃত্তির সুযোগ পাবেন। সরকারী বৃত্তির পাশাপাশি রয়েছে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রদত্ত স্কলারশিপ।

    জাপানে মূলত নিম্নোক্ত স্কলারশিপ সমূহ পাওয়া যায়-

    ১. MEXT স্কলারশিপ: MEXT scholarship এর জন্য দুইভাবে আবেদন করা যায়।
    ক) জাপান এম্বাসি বাংলাদেশ এর মাধ্যমে: আবেদনের সময় প্রতি বছরের মে মাসে জাতীয় পত্রিকায় আবেদন ডাকা হয়। সীমিত সংখ্যক স্কলারশিপ।
    লিঙ্ক: https://www.bd.emb-japan.go.jp/en/education/scholarshipNotice.html

    খ) জাপানিজ ভার্সিটির মাধ্যমে: আবেদনের সময় ১ নভেম্বরের থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ভার্সিটি রিকমেন্ডেশনের মাধ্যমে সুযোগ ও স্কলারশিপের সংখ্যাও অনেক বেশী। ২০১৮ সালে ২৬৭ জন বাংলাদেশি MEXT scholarship পায় ।

    ২. ADB স্কলারশিপ: এইখানে জিপিএ এর চাইতে বেশি দরকার ২ বছর অভিজ্ঞতা। যাদের পাশ করার পর দুইবছর জব এক্সপেরিয়েন্স নাই তারা অ্যাপ্লাই করতে পারবেনা। আর আপ্লিকেশনের তারিখ ভার্সিটির উপর নির্ভর করে।
    লিঙ্ক: https://www.adb.org/site/careers/japan-scholarship-program/jsp-institutions

    ৩. World Bank স্কলারশিপ: আপ্লিকেশনের সময় সাধারণত প্রতি বছরের মার্চ মাসে।
    লিঙ্ক: http://www.worldbank.org/en/programs/scholarships#3

    জাপানে অনেক প্রাইভেট স্কলারশিপ আছে যা শুধু ভর্তিকৃত আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের জন্য। লিংক https://www.jasso.go.jp/index.html

    জাপানিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপগুলোর ধরণ সম্পর্কে জানতে চাইলে এই লিঙ্কটি থেকে ঘুরে আসতে পারো।
    লিঙ্কঃ https://www.studyjapan.go.jp/en/toj/toj0302e.html   

    Temple in Japan
    Image Source: pexels.com

    জাপানের আবাসন ব্যবস্থা

    এলাকাভেদে জাপানে জীবনধারণের খরচে ভিন্নতা দেখা যায়। শহরতলি এলাকায় খরচটা গ্রামীণ এলাকা থেকে একটু বেশি। জাপানে একজন শিক্ষার্থীর জীবনধারণের খরচের বেশির ভাগই ব্যয় হয় খাদ্য ও বাড়িভাড়ার পেছনে। এ ছাড়া অন্যান্য খরচের মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা, বীমা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও বিনোদন খরচ।

    জাপানে আবাসিক খাতে আপনাকে খরচ করতে হবে বছরে ৪৫,০০ ইয়েন থেকে ৭৪,২৫০ ইয়েন। আর খাবার থেকে শুরু করে অন্যান্য ব্যয়, যেমনঃ যাতায়াত, টেলিফোন, ওয়াই-ফাই ইত্যাদি বাবদ বছরে খরচ পড়বে ১,৩১,৮৭৮ থেকে ১,৭৮,০৯২ ইয়েন।

    হেলথ ইন্স্যুরেন্স এ বছরে সাধারণত ১৮,০০০ ইয়েন লাগবে।

    ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া ও ডকুমেন্টস চেকলিস্ট

    জাপানে ভিসা আবেদনের প্রথম ধাপে আপনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তি কনফার্ম হওয়ার পর আপনাকে জাপান ইমিগ্রেশন দপ্তরে জমা দিতে হবে আপনার প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র। তারা ডকুমেন্টস গ্রহণ করবে আর Ministry of Justice in Japan- এর মাধ্যমে Pre-Visa (COE) প্রদান করবে। এই Pre-Visa (COE) নিয়ে আপনি ভিসার জন্য বাংলাদেশে অবস্থিত জাপান এম্বেসীতে আবেদন করবেন।

    ভিসা আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের লিস্ট নীচে তুলে ধরা হলঃ

    ১। Pre-Visa (COE)

    ২। সকল ডকুমেন্টস, মার্কশিট ও সকল সনদ

    ৩। পাসপোর্ট ও ফটোগ্রাফ

    ৪। রিকমেন্ডেশন বা রেফারেন্স লেটার

    ৫। ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও আর্থিক স্বচ্ছলতার ডকুমেন্টস

    ৬। মেডিকেল রিপোর্ট

    ৭। TOEFL/ JLPT 5 এর সনদ (যদি থাকে)

    ৮।স্কলারশিপের পেপার (যদি থাকে)

    City life in Japan
    Image Source: Internet

    পার্ট টাইম জব এর সুযোগ ও স্থায়ী বসবাস

    জাপানে আপনি সপ্তাহে ২৮ ঘন্টা আর মাসে আপনি ১২০ ঘন্টা পার্ট টাইম জব করতে পারবেন। আর ছুটির সময় পারবেন ফুল টাইম জব করতে। পার্ট টাইম জবে জাপানে ঘন্টায় ৯০০-১২০০ ইয়েন পাওয়া যায়, বাংলাদেশী টাকায় ৭০০-৯০০ টাকার সমতুল্য।

    পড়াশুনা শেষে আপনি স্টুডেন্ট ভিসাকে পরিবর্তন করতে পারবেন ফুল টাইম জব ভিসায়। এই ভিসা নিয়ে আপনি যত দিন ইচ্ছা, জাপানে থাকতে পারবেন। ৩ বছরের পর স্থায়ী বসবাসের জন্য জাপানের নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়।

    তাহলে, জাপানে আবেদনে রইলো না আর কোন বাঁধা। তাই প্রস্তুতি নেই আর করে ফেলুন নিজেই নিজের আবেদন।

    Sumo - Japan
    Image Source: pexels.com

    তথ্যসুত্রঃ

    ১। https://www.cuetnews24.com/উচ্চশিক্ষার-স্বপ্ন-যদি-হ/ 

    ২। https://www.ntvbd.com/education/50938/জাপানে-উচ্চশিক্ষার-নির্দেশিকা-এবার-বাংলা-ভাষায়

    ৩। http://www.campuslive24.com/public/index.php/exclusive/16055/জাপানে-উচ্চশিক্ষা-রয়েছে-ফ্রি-পড়াশোনার-সুযোগ  

    ৪। https://studyabroadonline.com/জাপান-এ-উচ্চশিক্ষা-নিশ্চ 

    ৫। http://campus.org.bd/online/single.php?ID=1752

    ৬। http://archive.prothom-alo.com/detail/news/54671

    ৭। https://www.10minuteschool.com/blog/study-in-japan/

  • জার্মানীতে উচ্চশিক্ষাঃ নিজেই করুন নিজের আবেদন

    জার্মানীতে উচ্চশিক্ষাঃ নিজেই করুন নিজের আবেদন

    কেন জার্মানিতে পড়তে যাবেন?

    জার্মানীকে বলা হয় “The Land of Ideas” বা “The Land of Engineers”- আর এর পেছনে যথেষ্ঠ কারণও রয়েছে। জার্মানী প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে এগিয়ে গেছে অনেক দূর। তাই নিঃসন্দেহে জার্মানী উচ্চ শিক্ষার জন্য হতে পারে কাঙ্ক্ষিত স্থান। এক্ষেত্রে প্রথমেই যে সুখবর দিতে চাই তা হল, এ দেশের প্রায় ৯০% বিশ্ববিদ্যালয়ে দিতে হয় না কোন টিউশন ফি। শুধু আপনাদের দিতে হবে সেমিস্টার ফি, যার পরিমাণ ১৫০-৪০০ ইউরো- ক্ষেত্র বিশেষে এটা ৫০০-৭০০ ইউরো।

    এই প্রযুক্তির দেশে আপনাকে যে শুধু জার্মান ভাষায় শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে এমনটা নয়। এখানে ইংরেজী ভাষায়ও পড়াশুনার সুযোগ রয়েছে। এজন্য আপনাকে নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয় বেছে নিতে হবে।

    Higher Study in Germany
    Image Source: pexels.com

    জার্মানীতে সাধারণত Summer Session (1st December – 15th  January) এবং Winter Session (May – 15th  July) – এই দুই সেশনে ভর্তি নিয়ে থাকে। যদি আপনি উচ্চ মাধ্যমিক দিয়ে জার্মানীতে স্নাতক পর্যায়ে পড়তে যেতে চান তাহলে আপনাকে StudienKolleg করতে হবে এবং Entrance Exam-এ নির্দিষ্ট পরিমাণ নম্বর পেলেই মিলবে এডমিশন। আর যদি এই পন্থায় যেতে না চান, তাহলে বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২৫%  Credit সম্পন্ন করে যেতে পারবেন স্নাতক ডিগ্রী অর্জনের জন্য। আবার আপনি যদি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা Diploma কোর্সে জয়েন করেন তবে আপনাকে বাংলাদেশেই ১ বছর পড়াশুনা করতে হবে এবং ৫০% এর অধিক নম্বর অর্জন করতে হবে। এই ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিতে হবে এবং সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের Requirement বিবেচনা করতে হবে।

    জার্মানীর Student Visa এর প্রকারভেদ

    1. Student Visa (Fix Term Language Course)

    নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে এই ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ নেই। ৩-৬ মাস মেয়াদী এই ভিসা, ভাষা শিক্ষালাভের জন্য দেওয়া হয়। এ সময় Part Time/ Full Time Job এর কোন সু্যোগ নেই।

    1. Student Application Visa

    এই ভিসার প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল, আপনাকে প্রথমে German Language Course করে জার্মানি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং পরবর্তীতে জার্মান ভাষায় আপনাকে কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। এ জন্য আপনাকে জার্মান ভাষার B2 Course (European Framework Level 2) পরীক্ষায় পাশ করতে হবে। এই ভিসায় আপনি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী মাধ্যমে পড়তে পারবেন না এবং আপনার Part Time/ Full Time Job করার সুযোগ নেই।

    1. Student Visa (Direct Admission to University)

    এটাই সেই ভিসা যেখানে আপনার ইংরেজী মাধ্যমে পড়াশুনা এবং কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন। তাই কষ্ট হলেও আপনার এই ভিসা অর্জনের চেষ্টা করা শ্রেয়।

    জার্মানীতে পড়তে যাবার বিভিন্ন বিষয়াবলী

    (১) যোগ্যতা

    অনেকেই মনে করে জার্মানীতে পড়তে যাবার জন্য আপনার CGPA ৩.০০ এর উপরে লাগে। এটা সম্পূর্ণ ভুল- কারণ ৩.০০ এর চেয়েও কম CGPA নিয়েও অনেক অনেক শিক্ষার্থী পাড়ি জমাচ্ছে জার্মানীতে। তবে, CGPA ৩.০০ এর বেশী থাকলে অবশ্যই আপনি অনেকের চেয়ে এগিয়ে যাবেন। তাই চেষ্টা করুন CGPA ৩.০০ এর বেশি রাখার। আর একেবারেই যদি তা সম্ভব না হয়, অন্যান্য কো-কারিকুলাম এক্টিভিটির মাধ্যমে নিজেকে তৈরী করে নেওয়া উচিত।

    (২) কোর্স বাছাই

    প্রথমে  https://www.daad.de/deutschland/studienangebote/international-programs/en/  – Link এ গিয়ে Course Type (Bachelor’s, Master’s and Phd), Course Language (English or Germany) এবং Field of Study সঠিক মত বাছাই করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, আপনি কোন ভাষায় পড়াশুনা করতে চান সেটা সঠিকভাবে নির্বাচন করেছেন কি না। এবার কোর্স বাছাই ও বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই শেষ হলে আপনাকে দ্বারস্থ হতে হবে Google, Wiki বা বৃহৎ ভাবে Internet সার্চের। আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের Ranking সহ যাবতীয় তথ্য খুঁজে নিতে ভুল করা যাবে না। কারণ এই বিশ্বাবিদ্যালয় আপনার পরবর্তী জীবনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর সঠিক কোর্স না বেছে নিলে, আপনাকে ভুগতে হবে নানা ভাবে। তাই এমন কোর্স নির্বাচন করুন যা আপনার ভালো লাগে আর আপনি যে কোর্সের মাধ্যমে নিজেকে দাঁড় করাতে পারবেন।

    (৩) ভাষাগত যোগ্যতা

    Student Visa Regulation, Update- April, 2015 অনুযায়ী বর্তমানে জার্মানীতে Student Visa এর জন্য IELTS/ TOEFL- এর প্রয়োজন হয়। তবে High Ranking University-তে GRE-ও চাইতে পারে। তবে এই সব দেখে ভেঙ্গে পড়লে চলবে না, ব্যাচেলরের ৪ বছরের Medium of Instruction যদি হয় English, তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই আপনি IELTS ছাড়াই Admission পাবেন। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য Interview-এ ডাকে। এসব Interview-এ খুব জেনারেল বিষয় নিয়েই কথা হয়। তবে Visa Interview-এ আপনাকে অবশ্যই ইংরেজীতে পারদর্শিতা দেখাতে হবে। IELTS এ ৬.৫ স্কোর (কোন সেকশনেই ৬.০ এর নিচে নয়), থাকলে আপনি অনেক অংশে এগিয়ে যাবেন।

    Sprechen Sie Deutsch
    Image Source: Internet

    ℹ️ এখন আসি আপনি আপনার পড়াশুনা কোন ভাষায় করবেন (জার্মান নাকি ইংরেজী) সেটা সম্পূর্ণ আপনার বিষয়। তবে আমার ব্যক্তিগত মতামত হবে,যেহেতু জার্মানির অফিসিয়াল ভাষা জার্মান/ডয়েচ সেহেতু জার্মান ভাষায় কোর্স নেওয়া।  জার্মানিতে বসবাস, চাকুরি অথবা লেখাপড়ার ক্ষেত্রে ইংরেজী ভাষা আপনাকে খুব বেশি একটা সাহায্য করবে না।  তাছাড়া কোর্স সমাপ্তির পর ফুল টাইম জব অথবা পারমানেন্ট রেসিডেন্টশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে জার্মান ভাষা এর বিকল্প নাই।  

    (৪) সেমিস্টার ও আবেদনের ডেডলাইন

     প্রথমতঃ আপনি যে কোর্সটি করবেন বলে ঠিক করেছেন, সেটা কোন সেমিস্টারে (Winter/ Summer/ Both) অফার করা হয়েছে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। এক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল ডেডলাইন ফলো করা। কোর্সটি কবে শুরু হল, কবে শেষ হবে এবং কবে এপ্লাই করতে হবে, কোর্সের বিবরণ, কোর্সের ক্রেডিট সবটার ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে হবে- নতুবা অনেক সময় বড় ভুল হয়ে যেতে পারে। ভিসা ইন্টারভিউ এর সময় এই বিষয়ে জানতে চাইতে পারে।

    (৫) Semester Fee এবং Living Cost

    মজার বিষয় হল, জার্মানীতে টিউশন ফি, এনরোলমেন্ট ফি অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে লাগে না। আবার কোথাও কোথাও সেটা ৫০০-৭০০ ইউরো-ও হয়ে থাকে। আদতে, এই ফি গুলো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, কোর্স থেকে কোর্স- এগুলোর ভিন্নতা দেখা যায়। অফিসিয়ালি যদিও বলা হয় জার্মানিতে থাকা খাওয়া বাবদ ৮০০ ইউরো মত খরচ হবে, কিন্তু আপনি চাইলে অনায়াসে ৫০০ ইউরোর মধ্যে সব খরচ মিটিয়ে ফেলতে পারবেন। আবার, অনেক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষার্থীদের কার্ড দেয়, যার মাধ্যমে তারা অনায়সে যাতায়াত করতে পারে। মূলত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির চুক্তি থাকে- এবং বিশ্ববিদ্যালয় গুলো তাদের টিউশন ফি-এর সাথে এই অর্থ কেটে নেয়। এমনকি অনেক বিশ্ববিদ্যালয় যাদের টিউশন ফি নাই, তারাও এই সুবিধা দিয়ে থাকে।

    এখানে একটি খসড়া এস্টিমেট দেওয়া হল আপনাদের সুবিধার জন্যঃ

    1. Application Fee: Free of Cost/ 68 Euro [Depending on any assistance you take]
    2. Blocked Account: 10236 Euro
    3. Airfare: 600-750 Euro
    4. Hand Cash: 2000 Euro (Approximately)

    So, total Cost: 13,000 Euro (Approx.)

    Monthly Expense:

    1. Rent: 300 + Euro
    2. Health Insurance: 80+ Euro
    3. Food: 60+ Euro
    4. Telephone, Internet & Television License: 20- 35 Euro
    5. Leisure Activities: 10 -60 Euro

    Approximately 535 + Euro 

    Study in Germany- Accommodation
    Image Source: pexels.com

    আর জার্মানীতে হোস্টেল বা বাসা খোজার চিন্তা করবেননা- কারণ আপনার সহায়তায় আছে DAAD Accommodation Finder, studenten ইত্যাদি।  এজন্য ব্রাউজ করুনঃ

    ১। https://www2.daad.de/deutschland/nach-deutschland/bewerbung/en/22222-student-residence-hall/

    ২।  https://www.studentenwerke.de/en

    (৬) বিশ্ববিদ্যালয় ও শহর বাছাই পর্ব

    আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের Ranking এর পাশাপাশি সেটা কোন শহরে অবস্থিত সে বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে, কারণ অনেক শহরের ক্ষেত্রে লেখা থাকে “Only a little Chance of Part-time Job”- এসব শহর এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

    (৭) পার্ট টাইম জব, পি-আর ও নাগরিকত্ব

    জার্মানীতে পার্ট টাইম জব করার সুযোগ রয়েছে- তবে সে সুযোগ একজন বিদেশি নাগরিক হিসেবেই পাবেন। আর সেমিস্টার ব্রেকে পাবেন ফুল টাইম জব করার সুযোগ। এ ক্ষেত্রে জার্মান ভাষায় দক্ষতা থাকলে খুবই ভালো হয়।

    জার্মানীতে পড়াশুনার শেষে আপনি ১.৫ বছরের জব সার্চ ভিসা পাবেন। আপনি যদি একটানা ৫ বছরের বেশি জার্মানীতে থাকেন তাহলে পি-আর এর জন্য এবং ৮ বছর পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

    (৮) ব্লকড একাউন্টস (Blocked Account)

    জার্মানীতে একটি ব্লকড একাউন্টসে আপনার থাকা খাওয়া বাবদ ১০,২৩৬ ইউরো ফিক্সড করে রাখতে হবে। এজন্য কমার্শিয়াল ব্যাঙ্ক অব সিলন ব্যাঙ্কের সুখ্যাতি রয়েছে। তবে ব্লকড একাউন্টস করার সময় ব্যাঙ্কের ফি, সুবিধা অসুবিধা ইত্যাদি ভালো করে বিবেচনা করে নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। ভয়ের কারণ নাই, ভিসা পেলে প্রতি মাসে ৮৫৩ ইউরো করে আপনি টাকা তুলে ফেলতে পারবেন। এবং এক বছর পর গোটা টাকাটাই তুলে ফেলতে পারবেন। যেসব শিক্ষার্থী সাধারণত ব্লকড একাউন্টসে টাকা রেখে জার্মানীতে যান, তাদের এই টাকায় সাধারণত হাত দিতে হয় না। পার্ট টাইম জব করেই খরচ মেটাতে পারবেন। এটা মূলত একটা ভিসা ফরমালিটি। এক্ষেত্রে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, ব্লকড একাউন্টের টাকা যেহেতু জার্মানীতে যাবে সেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতির বিষয় আছে- তাই হাতে সময় নিয়ে আবেদন করতে হবে।

    (৯) প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

    লিঙ্কঃ https://dhaka.diplo.de/contentblob/4989256/Daten/7335126/2017ChecklistStudent.pdf

    এখানে আপনি পেয়ে যাবেন কি কি প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস আপনার প্রয়োজন পড়বে। নিম্নে একটি তালিকা দেওয়া হলঃ

    • Valid Passport (with a Validity of at least 12 months)
    • Three Nos. Recent Biometrical Passport Photographs (Not Older than 6 months)
    • Two Completed Visa Forms (including 2 Pictures)
    • Admission Letter (Original+2 Copies)
    • Blocked Account Confirmation (Original+2 Copies)
    • Health Insurance (Original+2 Copies)
    • All Academic Certificates (Original+2 Copies)
    • IELTS Certificate (Original+2 Copies)
    • GRE Certificate, if required (Original+2 Copies)
    • Photocopy of Passport (2 Copies)
    • German language Course Certificate (Original+2 Copies) [ If Applicable]
    • Police Clearance (If required)
    • Birth Certificate (If required)

    ভিসা আবেদনের জন্য আপনাকে Appointment নিতে হবে – আর একটা ফোন কলে আপনি সেটা পেয়েও যাবেন। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, E-mail বা Fax এর মধ্যমে কোন Appointment দেওয়া হয় না।

    বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন পর্ব

    আবেদন করার পূর্বে আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ হবে, University Website – এ গিয়ে Admission Section এর E-mail নিয়ে তাদের কাছ থেকে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যে, তাদের আসলে কি কি ডকুমেন্টস লাগবে। জার্মানীর অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে Hard Copy দিতে হয়, সে জন্য তাদের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে True Cope নাকি Notarized Copy দিতে হবে। আপনি সব কাগজ চাইলে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে পাঠাতে পারেন- সেক্ষেত্রে খরচ অনেক কম লাগবে (আনুমানিক ২০০ টাকা মাত্র)। তবে ডাক বিভাগের মাধ্যমে পাঠাতে সময় লেগে যাবে প্রায় ৭-১৫ দিন। তাই হাতে সময় না থাকলে আপনাকে যেতে হবে DHL বা FedEx এর কাছে। DHL বা FedEx সাধারণত ৪-৫ দিনের মধ্যেই কাগজপত্র জার্মানীতে পাঠিয়ে দিবে। 

    Study in Germany - Admission
    Image Source: pexels.com

    তাহলে এখন বুঝতেই পারছেন জার্মানীতে আবেদন করা কঠিন মোটেও নয়। তাই, অন্যের কাছে না গিয়ে নিজেই করে ফেলুন নিজের আবেদন। শুভ কামনা রইলো আমাদের পক্ষ থেকে।

    তথ্যসুত্রঃ

    ১। https://www.germanprobashe.com/archives/161

    ২। https://www.germanprobashe.com/archives/671

    ৩। https://www.bangladeshistudentscommunity.eu/archives/category/higher-study/germany

    ৪। https://www.bangladeshistudentscommunity.eu/archives/144

    ৫। https://www.bangladeshistudentscommunity.eu/archives/280

    ৬। https://www.bangladeshistudentscommunity.eu/archives/295

  • জার্মানীতে উচ্চশিক্ষাঃ ব্লকড ব্যাংক একাউন্ট কি এবং কিভাবে করবেন

    জার্মানীতে উচ্চশিক্ষাঃ ব্লকড ব্যাংক একাউন্ট কি এবং কিভাবে করবেন

    উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে যারা নিজস্ব ফানডিং (স্কলারশিপ ছাড়া) এ বিদেশে পড়ালেখা করতে যান তাদের অধিকাংশ ক্ষেত্রে বলতে গেলে সকল দেশের ক্ষেত্রে ভিসা আবেদনের সাথে আর্থিক সচ্ছলতার প্রমান স্বরুপ স্পন্সরশীপ / সার্টিফিকেট অফ সলভেন্সি (সচ্ছলতার সনদ) জমা দিতে হয়।

    জার্মানীর ক্ষেত্রে এই আর্থিক সচ্ছলতার প্রমানের বিষয়টি সম্পুর্ন ভিন্ন। জার্মানীতে স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের জন্য আপনাকে খুলতে হবে একটি ব্লক ব্যাংক একাউন্ট। বিস্তারিত জানতে পড়তে থাকুন।

    ব্লক ব্যাংক একাউন্ট কি?

    ব্লকড ব্যাংক একাউন্ট হল এমন একটি ব্যাংক একাউন্ট যা জার্মানির কোন একটি ব্যাংকে আপনার নামে খুলতে হয়। এখানে প্রায় 10236 ইউরো (২০২০ সাল এর নতুন ঘোষনা অনুযায়ী) এর মত টাকা জমা করতে হয়। এই টাকাটা আপনি জার্মানিতে গিয়ে মাসে মাসে তুলতে পারবেন। মাসে সর্বোচ্চ প্রায় 853 ইউরো এর মত তোলা যায়।

    ℹ️ কোন কারনে ভিসা না পাওয়া গেলে। সম্পুর্ন টাকা আবার ফেরৎ পাওয়া যায়।

    কেন ব্লকড ব্যাংক একাউন্ট লাগে?

    এটা স্টুডেন্ট ভিসার জন্য জার্মান এমব্যাসির একটি রেগুলেশন। জার্মানির ক্ষেত্রে এই ব্লক ব্যাংক একাউন্ট কে সার্টিফিকেট অফ সলভেন্সি (সচ্ছলতার সনদ) এর সাথে তুলনা করতে পারেন। ব্লক ব্যাংক একাউন্ট এর 10236 ইউরো আপনার জার্মানিতে প্রথম ১ বছরের থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য খরচ নিশ্চিত করে।

    কোন ব্যাংক এ খুলব ব্লক অ্যাকাউন্ট?

    শিক্ষার্থী-ভিসা প্রার্থী হিসেবে জার্মানির যে কোন ব্যাংকে ব্লক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন এবং ব্লক সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন।বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচিত জার্মান ব্যাংক গুলোর মাঝে Deutsche Bank, Fintiba, Sparkasse, Volksbak অন্যতম।  

    ব্লক সার্টিফিকেট একটি সাধারণ সার্টিফিকেট যাতে আপনি কত ইউরো ব্লক(জমা) করেছেন এবং আপনার জমা দেবার সময় ইউরো এক্সচেঞ্জ রেট (আপনি কত টাকার বিনিময় প্রতি ইউরো কিনিছেন) লিখা থাকে। আপনার ব্লক অ্যাকাউন্টে সম্পূর্ণ অর্থ জমা হ্লে ব্যাংক আপনার ঠিকানায় বা ইমেইলে এই সার্টিফিকেটের একটি অনুলিপি(কপি) এবং ঢাকার জার্মান এমব্যাসিকেও একটি অনুলিপি পাঠায়।

    আমাদের বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা সবাই Deutsche Bank এ তাদের ব্লক অ্যাকাউন্ট করে থাকেন এবং আমাদের স্থানীয় ব্যাংকগুলো Deutsche Bank এর সাথে পরিচিত তাই আপনি চোখ বন্ধ করে Deutsche Bank এই আপনার মূল্যবান ব্লক অ্যাকাউন্টটি করতে পারেন।

    Student blocked bank account in germany
    Image Source: Internet

    কিভাবে জার্মানিতে ব্লক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলব?

    জার্মানিতে কোন ব্যাংক এ ব্লক অ্যাকাউন্ট খুলা খুব বেশি জটিল কিছুনা।আসুন দেখে নেই স্টেপ বাই স্টেপ-

    প্রথমে জার্মানির যে ব্যাংক এ ব্লক অ্যাকাউন্ট খুলতে চাচ্ছেন ইন্টারনেট অথবা সেই ব্যাংক এর ওয়েবসাইট থেকে ব্লক অ্যাকাউন্ট এর ফর্মটি (PDF) সংগ্রহ করুন ।

    Deutsche Bank এর ক্ষেত্রে ফর্মটি পাবেন এখানে – https://www.deutsche-bank.de/dam/deutschebank/de/shared/pdf/pk-kredit_finanzierung-db_international_opening_a_bank_account_for_foreign_students.pdf

    ডাউনলোডকৃত ফর্মটি Adobe Reader /Foxit Reader দিয়ে কম্পিউটারে পূরণ করতে পারেন। বর্তমানে YouTube এ অনেক টিউটোরিয়াল আছে, আপনি চাইলে এসব টিউটোরিয়ালের মাধ্যমে ফর্ম পূরণ করার যাবতীয় তথ্য পেতে পারেন।

    পূরণকৃত ফর্মটি এবার প্রিন্ট (সাদা-কালো/রঙিন) করুন, খেয়াল রাখবেন যে আপনার পূরণকৃত তথ্য যেন পরিষ্কার বুঝা যায় আপনার প্রিন্ট করা ফর্মে।

    পরবর্তি ধাপে প্রিন্টকৃত ফর্মটি ঢাকাস্থ জার্মান এম্বাসি দ্বারা সত্যায়িত করতে হবে। রবিবার থেকে বুধবার যে কোন দিন বেলা ১.৩০ থেকে ২.০০টার মধ্যে ব্লক অ্যাকাউন্ট ফর্ম সত্যায়িত করতে জমা দেয়া যায়। জমা দিবেন আপনার পূরণকৃত প্রিন্ট করা ফর্ম, পাসপোর্ট এর ফটোকপি, অফার লেটার আর আপনার সকল সার্টিফিকেট। সাথে নিবেন অরিজিনাল পাসপোর্ট।। সত্যায়িত হতে সময় লাগবে ৭ দিন।

    এবার আপনার সত্যায়িত ফর্মটি একটা খামে ভরে ব্যাংক এর ঠিকানায় পাঠিয়ে দিবেন।

    Deutsche Bank এর ক্ষেত্রে ঠীকানাঃ
    Deutsche Bank
    Privat- und Geschäftskunden AG
    Ausländische Studenten
    04024 Leipzig
    Germany

    আপাতত আপনার কাজ শেষ। এবার ব্যাংক এর পালা। আপনার ব্লক একাউন্ট ওপেন হয়ে গেলে ৭-১৫ দিনের মধ্যে ব্যাংক আপনাকে ইমেইল করবে আপনার একাউন্ট এর সকল বিবরনি দিয়ে। ব্যাংক থেকে কোন প্রকার রেসপন্স পেতে খুব বেশি দেরি হলে কুরিয়ার এর ট্রেকিং নাম্বার দিয়ে ট্রেক করে দেখতে হবে আপনার প্রেরিত ফর্মটি পৌঁছেছে কিনা।

    জার্মানির ব্যাংক থেকে আপনার একাউন্ট এর ডিটেইলস পাওয়ার পর আপনাকে যেতে হবে বাংলাদেশ এর কোন ব্যাংক এ। এখন বাংলাদেশ থেকে আপনার জার্মান ব্যাংক এর ব্লক একাউন্ট এ টাকা পাঠাতে হবে।

    জার্মান ব্যাংক এর ব্লক একাউন্ট এ টাকা পাঠাতে  পারেন –

    ১। আপনার পারসোনাল একাউন্ট থেকে

    ২। আপনার পরিবারের সদস্য অথবা কোন আত্নীয়ের একাউন্ট থেকে

    ৩। ক্ষেত্র বিশেষে আপনাকে ব্যাংক এ স্টুডেন্ট ফাইল ওপেন করা লাগতে পারে

    Student blocked bank account in germany
    Image Source: Internet

    সবার তথ্য অনুযায়ী নিচের ব্যাংকগুলো বর্তমানে ব্লক অ্যাকাউন্টের টাকা পাঠাতে সম্মত হয়েছে/পাঠিয়েছেঃ

    • AB Bank
    • City Bank
    • Dhaka Bank
    • MTB
    • NCC Bank
    • Trust Bank
    • UCBL(বেশ পূরানো অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে)

    এগুলোর AD ব্রাঞ্ছে যেতে হবে, যেকোন ব্রাঞ্ছে গেলে হবে না। আপনারা একটু কষ্ট করে এদের AD ব্রাঞ্ছের ঠিকানা যোগার করে নিবেন।

    টাকা পাঠানর পর আপনার জার্মান ব্যাংক যদি সম্পূর্ণ টাকা পেয়ে যায়, তাহলে তারা আপনার টাকা প্রাপ্তি স্বীকার করে আপনাকে ইমেইল করবে এবং একটি ব্লক সার্টিফিকেট আপনার ও জার্মান এমব্যাসির কাছে পাঠিয়ে দিবে।

    ℹ️ আপনি যদি ভিসা না পান তাহলে জার্মান এমব্যাসি গিয়ে আপনাকে একটা ‘Consular Certificate’ নিতে হবে যে আপনি ভিসা পান নাই, তাই আপনার ব্লক অ্যাকাউন্ট এর টাকা ফেরত পাঠান হোক। আপনি এই সার্টিফিকেট এবং পুরনকৃত অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার ফর্ম আপনার জার্মান ব্যাংক এর ঠিকানায় পাঠিয়ে দিতে হবে, বাকিটা আপনার বাংলাদেশের ব্যাংক এবং জার্মান ব্যাংক দেখবে।

    তবে ব্লকড একাউন্টস করার সময় ব্যাঙ্কের ফি, সুবিধা অসুবিধা ইত্যাদি ভালো করে বিবেচনা করে নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। ভয়ের কারণ নাই, ভিসা পেলে প্রতি মাসে ৮৫৩ ইউরো করে আপনি টাকা তুলে ফেলতে পারবেন। এবং এক বছর পর গোটা টাকাটাই তুলে ফেলতে পারবেন।এক্ষেত্রে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, ব্লকড একাউন্টের টাকা যেহেতু জার্মানীতে যাবে সেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতির বিষয় আছে- তাই হাতে সময় নিয়ে আবেদন করতে হবে।

  • ডাড (DAAD ) স্কলারশিপ – জার্মানী

    ডাড (DAAD ) স্কলারশিপ – জার্মানী

    The Germany Academic Exchange Service যাকে সংক্ষেপে বলা হয় ডাড স্কলারশিপ- যা একটি জার্মানভিত্তিক স্কলারশিপ। জার্মানীর অন্যতম প্রেস্টিজিয়াস স্কলারশিপ হল ডাড স্কলারশিপ। যারা উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চান জার্মানী, তাদের জন্য ডাড একটি লোভনীয় স্কলারশিপ। মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য এই স্কলারশিপ প্রদান করা হয়ে থাকে। এই স্কলারশিপে আপনি ১০ থকে ১৪ মাস মেয়াদী মাস্টার্স বা পিএইচডি করতে পারবেন বা এই সময়ের জন্য সার্বিক সহযোগিতা পাবেন। এটি প্রথম চালু হয় ১৯২৫ সালে আর বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এই স্কলারশিপে আবেদন করতে পারে। 

    স্কলারশিপ এর নাম

    ডাড (DAAD ) স্কলারশিপ

    যে যে বিষয়ে অধ্যয়ন করা যাবে

    এই স্কলারশিপে মাস্টার্স ও পিএইচডি কোর্সের জন্য শিক্ষা সহায়তা পাওয়া যায়। নিচের লিস্টের ফিল্ডসগুলর বিভিন্ন সাবজেক্টের জন্য আপনি স্কলারশিপ আবেদন করতে পারবেনঃ

    Economic Sciences/Business Administration/Political Economics, Development Cooperation, Engineering and Related Sciences, Mathematics, Regional and Urban Planning, Agricultural and Forest Sciences, Natural and Environmental Sciences, Medicine and Public Health, Social Sciences, Education and Law, Media Studies

    দেশ এবং কর্তৃপক্ষ

    জার্মানী। জার্মান সরকার (Deutscher Akademischer Austauschdienst (DAAD))

    বৃত্তির সুযোগ সুবিধাসমূহ

    ডাড স্কলারশিপের আওতায় আপনি যা যা পাবেনঃ

         ১। টিউশন ফি ও পরীক্ষার ফি

         ২। মাসিক ভাতা (মাস্টার্স প্রোগ্রামে ৮৫০ ইউরো, পিএইচডি-র জন্য ১২০০ ইউরো)

         ৩। বিমান ভাড়া

         ৪। স্বাস্থ্যবীমা

         ৫। বিশেষ ক্ষেত্রে বাড়ি ভাড়া এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা

    আবেদনের যোগ্যতা

    ডাড স্কলারশিপের জন্য আপনার থাকতে হবে নিম্নোক্ত যোগ্যতাঃ

    ১। ন্যূনতম বি,এসসি ডিগ্রী থাকতে হবে।

    ২। কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে ২ বছর।

    ৩। IELTS Score প্রয়োজন পড়বে ৬.৫। তবে বেশ কিছু প্রোগ্রামে আবেদন করতে Medium Instruction English থাকলেই চলবে। তাই অবশ্যই আবেদনের সময় জেনে নিতে হবে আসলে আপনার কি কি লাগছে।

    ৪। প্রার্থীকে উন্নয়নশীল দেশের হতে হবে।

    চেষ্টা করবেন, আপনার স্টাডি গ্যাপ যেন ৬ বছরের বেশি না হয়। ৬ বছরের যত কম হবে, তত ভালো।    

    DAAD Scholar
    Image Source: Internet

    আবেদনের সময়সীমা

    ডাড (DAAD) স্কলারশিপের বিভিন্ন ফিল্ডের বিভিন্ন সাবজেক্টের আবেদনের সময়সীমা বিভিন্ন। তাই আপনাকে সহযোগিতা নিতে হবে নিচের লিংকের, যার সাহায্যে জেনে নিতে পারবেন আপনাকে কখন আবেদন করতে হবে।

    https://www.daad.de/en

    যেসকল দেশের প্রার্থীদের জন্য প্রযোজ্য

    বিশ্বের অনেক দেশ সহ বাংলাদেশের জন্য এই স্কলারশিপ ওপেন আছে।

    আবেদন প্রক্রিয়া

    প্রথমেই ডাডের অনুমোদিত কোর্সগুলো থেকে কোর্স নির্বাচন করে আপনাকে বেছে নিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়। তারপর করে ফেলুন আপনার আবেদন। মনে রাখবেন আপনি সর্বোচ্চ তিনটি কোর্সে আবেদন করতে পারবেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করবে। আর তারাই আপনাকে ডাড স্কলারশিপে আবেদন করতে বলবেন। এরপর আপনি নিচের লিঙ্কে গিয়ে আবেদন করে ফেলুনঃ

    https://www.mydaad.de/en

    ডাড স্কলারশিপের প্রোগ্রামের জন্য আপনাকে জমা দিতে হবেঃ

    ১। Online আবেদন ফর্ম

    ২। সকল একাডেমিক সার্টিফিকেট ও মার্কশীট

    ৩। Euro Pas Formatted CV

    ৪। SOP

    ৫। বিশ্ববিদ্যালয়ের offer Letter (যদি থাকেন, তাহলে আবেদনের সাথেই দিতে হবে)

    ৬। রিকমেন্ডেশন লেটার (২ টি) – সাইন ও সীল দিয়ে সীলড অবস্থায় দিতে হবে। 

    ৭। Work Experience Certificate

    ৮। IELTS Certificate (যদি প্রয়োজন হয়)

    ৭। NID  

    ৮। পাসপোর্টের কপি 

    তথ্যসুত্রঃ

    1. https://youthcarnival.org/bn/১০টি-স্টেপে-daad-স্কলারশিপ-আব/
    2. https://www.kholabakso.com/latestupdate/daad
    3. https://www.kholabakso.com/haatekhori/scholarship-in-germany
    4. https://www.pikdigg.com/daad-scholarship-germany/
    5. https://www.bangladeshistudentscommunity.eu/archives/132
    6. https://en.wikipedia.org/wiki/German_Academic_Exchange_Service
  • ডেনমার্কে উচ্চশিক্ষাঃ নিজেই করুণ, নিজের আবেদন

    ডেনমার্কে উচ্চশিক্ষাঃ নিজেই করুণ, নিজের আবেদন

    ডেনমার্ক বর্তমানে শিক্ষার্থীদের কাছে এক আকর্ষণীয় বিদ্যালাভের পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত। এ দেশের রাজধানি কোপেনহেগেন আর মুদ্রা হল ডেনিস ক্রোনা এবং ভাষা ডেনিস।

    অতি সুন্দর মনোমুগ্ধকর এই দেশে আপনিও যদি পড়তে যেতে চান তাহলে এখনি পড়ে ফেলুন গোটা লেখাটা, কারণ এটা আপনার জন্যই লেখা।

    কেন ডেনমার্কে পড়তে যাবেন?

    উচ্চ শিক্ষার জন্য অনেক মানুষই দুঃশ্চিন্তায় ভোগেন আর বুঝে উঠতেই পারেন না- কোন দেশ হবে তাদের গন্তব্য? অধিকাংশ মানুষই মনে করেন আমেরিকা, কানাডা অথবা অস্ট্রেলিয়া হবে তাদের জন্য বিদ্যার্জনের গন্তব্য। কিন্তু, এই দেশগুলোতে ভালো CGPA, IELTS, GRE/ GMAT থাকা সত্ত্বেও আপনি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারবেন না- আপনি এদেশে ভিসা পেয়ে পড়তে যেতে পারবেন। বরং ইউরোপের এই দেশে আপনার ভালো CGPA ও IELTS স্কোর থাকলেই পেয়ে যাবেন আপনার ডেনমার্কে পড়ার টিকিট। তাই বলে এটা ভাবার কারণ নেই যে, এদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ভালো নয় বা এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো World Ranking-এর মধ্যে নেই। বরং এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক উন্নতদেশের চেয়ে ভালো।

    Higher Study in Denmark
    Image Source: Internet

    আপনাদের জন্য World Ranking-এ কিছু ডেনিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নিচে দেওয়া হলঃ

    1. University of Copenhagen
    2. Roskilde University
    3. University of Southern Denmark
    4. IT University of Copenhagen
    5. Copenhagen Business School
    6. Copenhagen Business Academy
    7. VIA International College
    8. University College Zealand
    9. Aarhus University
    10. Technical University of Denmark
    11. Aalborg University
    12. Copenhagen University
    13. Odense University
    14. Danish University of Education
    15. Royal Academy of Music

    ডেনমার্কে পড়তে যাবার জন্য নূন্যতম যোগ্যতা

    ডেনিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনি ডেনিশ কিংবা ইংরেজী ভাষায় পড়াশুনা করতে পারবেন। ডেনিশ ভাষায় পড়তে গেলে অবশ্যই আপনাকে “Denisake Foreign Language” বা “Denish Test 2” পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হতে হবে। আর যদি ইংরেজী ভাষায় পড়তে চান, তাহলে IELTS স্কোর 5.5 – 6.5 থাকতে হবে, একাডেমিক পরীক্ষায় অবশ্যই ৫০% মার্ক থাকতে হবে। যদি আপনি ব্যাচেলর ডিগ্রী অর্জনের জন্য যান, তাহলে HSC + ১ বছর বাংলাদেশে পড়াশুনা করতে হবে। আবার মাস্টার্সে আবেদনের জন্য ৪ বছরের ব্যাচেলর এবং পিএইচডি পড়তে যেতে আপনাকে ২ বছরের মাস্টার্স থাকতে হবে।

    কোর্স সার্চ ও কোর্স নির্বাচন

    কোর্স সার্চের জন্য আপনি বিভিন্ন ডেনিস বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ঘেটে দেখতে পারেন অথবা, ডেনিস বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের জন্য একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট আছে ( https://www.optagelse.dk), সেখানে গিয়েও দেখতে পারেন। কোর্স বাছাই-এর ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার ইন্টারেস্ট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মাথায় রেখে কাজ করবেন। মনে রাখবেন, ডেনিশ ও বাংলাদেশের চাকুরীর বাজার ভিন্ন। তাই ডেনমার্কে থাকবেন নাকি বাংলাদেশে ফিরে আসবেন এইসব ভালো করে চিন্তা করেই আপনি আপনার কোর্স নির্বাচন করবেন।

    ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি পিএইচডি সহ ৬শয়েরও বেশি বিষয়ে অধ্যয়নের সুযোগ রয়েছে ডেনমার্কে। বিষয়গুলোর মধ্যে আছে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিকস এন্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স, আর্কিটেকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, এস্ট্রোনমি, অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োকেমিস্ট্রি, বায়োটেকনোলজি, ডিজিটাল মিডিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং, এপ্লায়েড ম্যাথমেটিকস, আইসিটি ইঞ্জিনিয়ারিং, ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজিস, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, রোবোটিকস, একাউন্টিং এন্ড ফিন্যান্স, ফ্যাশন এন্ড টেক্সটাইলস ডিজাইন, ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ ইত্যাদি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সময়সীমা

    ডেনিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে মূলত সাবজেক্ট ও ইন্সটিটিউটভেদে আবেদনের সময়সীমা পরিবর্তিত হয়। কিন্তু, সাধারণত EEU এর বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদনের শেষ সীমা ১৫ই জানুয়ারি পর্যন্ত হয়ে থাকে আর সব ধরণের ফরমালিটি শেষে ক্লাশ শুরু হয় সেপ্টেম্বর মাস থেকে। কিন্তু, অবশ্যই ওয়েবসাইট ঘেটে আবেদনের সীমা ও এবং ক্লাশ শুরু হবার তারিখ ভাল করে দেখে নেবেন। 

    Study in Denmark - Aalborg University
    Image Source: Internet

    আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

    ডেনমার্কে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের জন্য একটি নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে- যার লিঙ্কটি হলঃ

    https://www.optagelse.dk

    এই লিঙ্কে গিয়ে আপনাকে আবেদন করতে হবে। এছাড়া অন্য কোন উপায়ে আবেদন করা যায় না।

    আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হলঃ

    ১। একাডেমিক সার্টফিকেট এবং মার্কশীট

    ২। IELTS এর সনদ

    ৩। মোটিভিশন লেটার ও রিকমেন্ডেশন লেটার

    ৪। CV

    ৫। পাসপোর্টের কপি

    অফার লেটার (Offer Letter) /এডমিশন লেটার(Admission Letter)

    যদি ডেনমার্কের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনার এডমিশন হয়, তাহলে আপনাকে একটি কনডিশনাল এডমিশন লেটার দেওয়া হবে। এর পর আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টসে টিউশন ফি জমা করতে হবে। তাহলেই আপনি পাবেন এডমিশন লেটার। চিন্তার কোন কারণ নেই- ভিসা না পেলে টিউশন ফি ফেরত পাঠানো হবে। উল্লেখ্য, এডমিশন লেটারের সাথে ST-1 নামক একটি ফর্ম পাঠানো হয়। সেখানে আপনার বিশ্ববিদ্যালয় ও নিজের তথ্য থাকে।

    টিউশন ফি

    সাধারণতঃ ডেনমার্কে পড়তে গেলে আপনাকে টিউশন ফি গুনতে হবে ৬০০০-১৬,০০০ ইউরো পর্যন্ত। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স ভেদে এই টিউশন ফি কম ও বেশি হতে পারে।

    Students in Denmark
    Image Source: Internet

    স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ

    ডেনমার্কে বিভিন্ন ধরণের স্কলারশিপ রয়েছে। আপনি যদি সেখানে সরকারি স্কলারশিপ পেয়ে যান, তাহলে আপনি শুধু পড়াশুনার নয়, মাসিক খরচও বহন করে থাকে। কিছু স্কলাশিপের নাম নিচে দেওয়া হলঃ

    ১। NORDPLUS

    ২। ERASMUS

    ৩। ERASMUS MUNDUS

    ৪। Full Bright Commission

    স্কলারশিপ খুঁজে পেতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুনঃ

    https://studyindenmark.dk/study-options/tuition-fees-scholarships

    আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ

    ডেনমার্কে আপনাকে কোন ব্যাংক সলভেন্সি দেখাতে হবে না। যদি আপনি আপনার স্পাউস নিয়ে যেতে চান, তাহলেই আপনার একাউন্টসে ৭১২৯২ ডেনিস ক্রোনা দেখাতে হবে।

    ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া ও ডকুমেন্টস চেকলিস্ট

    ভিসা প্রক্রিয়া চাইলে আপনি অনলাইনে সেরে নিতে পারেন। অথবা, VFS Global Service Pvt. Ltd. তে গিয়েও সরাসরি ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। এই ভিসা প্রক্রিয়া একটু সময় সাপেক্ষ- ডেনমার্কের ভিসার জন্য আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে প্রায় ২ থেকে ৩ মাস। তাই, এই সময় সাপেক্ষ কাজ সারার জন্য হাতে থাকতে হবে পর্যাপ্ত সময়। না হলে, আপনার ভিসা পেতে গিয়ে সেমিস্টার লসও হতে পারে।

    Visa Denmark
    Image Source: Internet

    ভিসার জন্য আপনাকে জমা দিতে হবে নিম্নোক্ত কাগজপত্রঃ

    ১। পাসপোর্ট ও রিসেন্ট ছবি

    ২। মার্কশিট ও সকল সনদ

    ৩। IELTS স্কোরের কপি

    ৪। এডমিশন লেটার

    ৫। সকল তথ্য দিয়ে সঠিকভাবে পূরণকৃত ST-1 ফর্ম

    যোগাযোগের জন্য ঢাকা অফিসের লিঙ্ক দেওয়া হলঃ

    https://bangladesh.um.dk

    ডেনমার্কে আবাসিক ব্যবস্থা

    চিন্তার কোন কারণ নেই- এই দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়েই আছে আবাসিক হল। বিশেষত আন্তর্জাতিক ছাত্রদের জন্য ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে অন্তর্জাতিক মানের সু্যোগ সুবিধাসহ হলের। যদি হোস্টেলে সিট না পেয়ে থাকেন কিম্বা হোস্টেলে থাকতে না চান, তাহলে আপনি বাসা ভাড়া করেও থাকতে পারেন।

    এজন্য নিচে একটি খরচের এস্টিমেট দেওয়া হলঃ

         হোস্টেল – ২৪০ – ৪০০ ইউরো

         ফ্যামিলি বাসা- ২০০- ৫০০ ইউরো

    শেয়ারড ফ্লাট- এটি আর কম হয়ে থাকে, সাধারণত আপনার ফ্লাটমেটের সংখ্যার উপর নির্ভর করবে।নিচের লিঙ্কে ঘাটলে আরো বিস্তারিত জানতে পারবেনঃ

    https://studyindenmark.dk/live-in-denmark/housing-1/how-to-find-housing

    মাসিক খরচ এবং পার্ট টাইম জব এর সুযোগ

    ডেনমার্কে থাকা খাওয়া বাবদ ৭৫০-৯০০ ইউরোর মত খরচ করতে হবে। যদিও এই খরচের পুরোটাই ব্যক্তি বিশেষের উপর নির্ভরশীল। অনেকের অনেক কমও লাগতে পারে, আবার অনেক সুময় অনেক বেশিও খরচ হয়ে যায়।

    ডেনমার্কে আপনি সাধারণত ২০ ঘন্টা পার্ট টাইম জব করার অনুমতি পাবেন। তবে যে কোন ছুটি বা সামার ভ্যাকেশনে ফুল টাইম জব করার অনুমতি পাবেন।

    Life in Denmark
    Image Source: Internet

    কোর্স শেষে চাকুরীর সুযোগ ও স্থায়ী বসবাস

    এই দেশে Establish Card নামক এক ধরণের কার্ডের প্রচলন রয়েছে। আপনার মাস্টার্স বা পিএইচডি শেষ হবার পর আপনি এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আর এই কার্ড থাকলে আপনি দুই বছর চাকুরী খোঁজার বা করার সুযোগ পাবেন।

    আর যদি স্থায়ী বসবাস করতে চান, তাহলে আপনাকে টানা ৮ বছর থাকতে হবে। এই ৮ বছর সময়ের শেষের ৪ বছরের মধ্য ৩.৫ বছর আপনাকে ফুল টাইম চাকুরীর সাথে সম্পর্কযুক্ত থাকতে হবে। তাহলেই মিলেবে ডেনমার্কে স্থায়ী নাগরিক হবার সুযোগ।

    ডেনমার্ক ইউরোপের একটি সুখী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র। এদেশে বসবাস করতে এখন অনেকেই আগ্রহী। তাই, আর দেরী কেন? চলুন আবেদন করি এখনি।

    তথ্যসুত্রঃ

    ১। https://worldscholarshipforum.com/bn/study-denmark-tuition-fees-cost-living-admission-requirements/

    ২। http://www.online-dhaka.com/105_511_28084_0-higher-education-in-denmark.html

    ৩। http://www.amiopari.com/5047/

    ৪। https://www.bangladeshistudentscommunity.eu/archives/200

    ৫। http://studyindenmarkfrombangladesh6.blogspot.com/2019/12/study-in-denmark-with-scholarship.html

    ৬। http://studyindenmarkfrombangladesh6.blogspot.com/2018/11/blog-post_91.html

    ৭। http://studyindenmarkfrombangladesh6.blogspot.com/2019/12/study-in-denmark-from-bangladesh.html