তুর্কি বুর্সলারি স্কলারশিপ তুরস্ক সরকারের প্রদত্ত বৃত্তি যা সকল দেশের জন্যই প্রযোজ্য। গত দুই দশক ধরে শিক্ষা খাতে ব্যাপক আধুনিকায়নের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবছর উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের প্রায় ১৭২টি দেশ থেকে ৫০০০ শিক্ষার্থীদের এই স্কলারশিপ দেওয়া হয়ে থাকে। আর এই বিষয়ে বলে রাখা ভালো, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী এই স্কলারশিপ পেয়ে থাকে। এই স্কলারশিপ শুধু মাত্র ব্যক্তির রেজাল্ট দেখে দেওয়া হয় না। আবেদনকারীর এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটি থাকাটাও জরুরী। আর এই স্কলারশিপে আপনাকে প্রথমে ১ বছর তুরস্কের ভাষা শিখতে হবে।
তুরস্কে বর্তমানে ১৮৬ টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, যার মধ্যে ৫০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় ওয়ার্ল্ড র্যংকিং এ উপরের সারিতে। এরমধ্যে কয়েকটি সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে- মিডল ইস্ট টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি, আঙ্কারা, বোয়াজিসি ইউনিভার্সিটি, ইস্তাম্বুল, ইস্তাম্বুল টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি, ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা ইউনিভার্সিটি, আঙ্কারা-ইস্তাম্বুল ইউনিভার্সিটি, হাজেতেপে ইউনিভার্সিটি, আঙ্কারা, এগে ইউনিভার্সিটি, ইজমির, ডকুজ এইলুল ইউনিভার্সিটি, ইজমির।
স্কলারশিপ এর নাম
তুর্কি বুর্সলারি স্কলারশিপ (Türkiye Burslari)
যে যে বিষয়ে অধ্যয়ন করা যাবে
তুর্কি বুর্সলারি স্কলারশিপের আওতায় আপনি ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি সকল প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। আর সুযোগ থাকবে সকল বিষয়ে পড়াশুনা করার।
দেশ এবং কর্তৃপক্ষ
তুরস্ক সরকার।
বৃত্তির সুযোগ সুবিধাসমূহ
তুর্কি বুর্সলারি স্কলারশিপের আওতায় আপনি যা যা পাবেনঃ
১। সম্পূর্ণ টিউশন ফি।
২। মাসিক ভাতা (অনার্সের জন্য ৮০০ লিরা, মাস্টার্সের জন্য ১১০০ লিরা ও পিএইচডির জন্য ১৬০০ লিরা)
৪। এক বছরের ফ্রি তুর্কি ভাষা শিক্ষা কোর্স
৫। সরকারি/বেসরকারি ডর্মিটরিতে বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা।
৬। আসা – যাওয়ার বিমান ভাড়া
৭। স্বাস্থ্য ভাতা
আবেদনের যোগ্যতা
তুর্কি বুর্সলারি স্কলারশিপের জন্য আপনার থাকতে হবে নিম্নোক্ত যোগ্যতাঃ
১। তুরস্কের কোন নাগরিক এই স্কলারশিপে আবেদন করতে পারবেন না এবং কেউ যদি আগে তুরস্কে স্কলারশিপ গ্রহণ করে থাকেন তিনিও এই প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন না।
২। আবেদন করতে ব্যাচেলর কোর্সের জন্য প্রয়োজন পড়বে ৭০% আর মাস্টার্স ও পিএইচডি এর জন্য ৭৫% নম্বর আর মেডিকেলের জন্য ৯০% নম্বর প্রয়োজন পড়বে।
৩। ব্যাচেলর কোর্সে আবেদনের জন্য সর্বোচ্চ বয়স ২১ বছর, মাস্টার্স কোর্সে ৩০ বছর আর পিএইচডি কোর্সে সর্বোচ্চ ৩৫ বছর আর রিসার্চ প্রোগ্রামের জন্য বয়স সর্বোচ্চ ৪৫ বছর হতে পারবে।
৪। ইংরেজি মাধ্যমে পড়তে চাইলে (IELTS, TOFEL, GRE, GMAT) লাগবে। সাধারণত তুরস্কের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে তুর্কি ভাষায় শিক্ষা দেওয়া হয়।
তুর্কি বুর্সলারি স্কলারশিপ এ প্রাথমিকভাবে দুটি যোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হয়।
প্রথমত, একাডেমিক রেজাল্ট। অর্থাৎ অনার্সের জন্য এসএসসি/সমমান এবং এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় ৭০% নম্বর (তবে মেডিকেলের জন্য ৯০% নম্বর) এবং মাস্টার্স-পিএইচডির জন্য অনার্স ও মাস্টার্সে ৭৫% নম্বর থাকতে হবে।
দ্বিতীয়ত, এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিস। অর্থাৎ কোনো সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, একাডেমিকসহ বিভিন্ন জাতীয়-আন্তর্জাতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা, অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া বিভিন্ন জাতীয়-আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়াম-সেমিনারে ওয়ার্কশপ বা অংশগ্রহণ করে থাকলে তা আবেদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
Image Source: Internet
আবেদনের সময়সীমা
প্রতিবছর জানুয়ারি মাসে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত এই আবেদন করার সুযোগ থাকে। এই বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিতে হবে ওয়েব সাইটের মাধ্যমে।
পুরো বিশ্বের যে কোন নাগরিক এই প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারেন।
আবেদন প্রক্রিয়া
প্রথমেই অনলাইনে আবেদন করতে এই স্কলারশিপের জন্য। নীচে লিঙ্ক দেওয়া হলঃ
এরপর সর্বোচ্চটি ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় চয়েস করতে পারবেন।
সাধারণত আবেদন করার ১-৩ মাসের মধ্যে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য রাজধানীর তুর্কি দূতাবাসে ডাকা হয়। তবে ইন্টারভিউ নিলেই স্কলারশিপ পাবেন, এমনটি ভাবার কারণ নেই। আপনি চাইলে ইন্টারভিউ বাংলায় বা ইংরেজীতে দিতে পারবেন। কারণ এখানে একজন দো-ভাষী থাকবেন। মৌখিক পরীক্ষার ২/৩ মাস পর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ই-মেইল করা হয়। নির্বাচন প্রক্রিয়াটি বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মাধ্যমে পুরোপুরি স্বাধীনভাবে তুরস্কের সরকারি বৃত্তি প্রদান কর্তৃপক্ষ তুর্কি বুর্সলারি পরিচালনা করে।
স্কলারশিপ প্রোগ্রামের জন্য আপনাকে জমা দিতে হবেঃ
১। Online আবেদন ফর্ম
২। সকল একাডেমিক সার্টিফিকেট ও মার্কশীট
৩। রিকমেন্ডেশন লেটার (২/৩ টি) – সাইন করে সীলড অবস্থায় দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং যারা এই মুহূর্তে চাকরি করছেন তারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছ থেকে একটি হলে ভালো হয়।
৪। অনার্স এর জন্য লেটার অফ ইনটেণ্ট (Letter of Intent)।মাস্টার্স ও পিএইচডির এর জন্য একটি রিসার্চ প্রপোজাল।
নিশীথ সূর্যের দেশ নামে পরিচিত স্কান্ডিনেভিয়ান একটি দেশ নরওয়ে। ইউরোপের ৪ টি নর্ডিক দেশের মধ্য অন্যতম নরওয়ে বিশ্বের শান্তির সূচকে আছে এক নম্বরে। এদেশের জীবন যাত্রার খরচ একটু বেশি হলেও অপরূপ সৌন্দর্যমন্ডিত নরওয়েতে রয়েছে ভবিষ্যত গড়ার অপার সম্ভবনা। কারণ, বিজ্ঞান- প্রযুক্তি-শিক্ষার দিক দিয়ে বিশ্বে এ দেশের জুড়ি মেলা ভার। এই দেশের রাজধানী অসলো, ভাষা নরওয়েজিয়ান আর মুদ্রা নরওয়েজিয়ান ক্রোনা। আপনিও যদি উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চান এই দেশে তাহলে এই পুরো লেখাটি আপনার জন্য।
Image Source: Internet
নরওয়েতে পড়ার ন্যূনতম যোগ্যতা
নরওয়েতে পড়ার জন্য অবশ্যই আপনার কিছু নূন্যতম যোগ্যতা থাকতে হবে। একাডেমিক পরীক্ষায় কমপক্ষে আপনাকে ৬০% নম্বর পেতে হবে। আপনি যদি যেতে চান ব্যাচেলর ডিগ্রীর জন্য তাহলে আপনাকে HSC + ১ বছর বাংলাদেশি যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতে হবে। অন্যদিকে মাস্টার্স করতে আগ্রহী প্রার্থীদের অব্যশই ৩ বছরের ব্যাচেলর কোর্স কমপ্লিট থাকতে হবে। পক্ষান্তরে ২ বছরের মাস্টার্স কোর্স ম্যান্ডাটরি যদি আপনি PhD কোর্সে পড়তে যেতে চান।
নরওয়েতে আপনি পেয়ে যাবেন বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে মোট ৯ টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও এর অধীনে রয়েছে ১৫০টির মত কলেজ এবং ২ টি পাবলিক আর্টস ইন্সটিটিউট। নিচে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের লিঙ্ক দেওয়া হলঃ
এদেশে চাইলেও আপনি নরওয়েজিয়ান বা ইংরেজ- যে কোন ভাষায় পড়াশুনা করতে পারেন। কিন্তু নরওয়েজিয়ান ভাষায় পড়তে গেলে এ ভাষায় ভালো দখল থাকতে হবে।
IELTS স্কোর
সাধারণত এ দেশে পড়তে আপনাকে IELTS এ তুলতে হবে কমপক্ষে ৬.০ স্কোর। আর মাস্টার্স প্রোগ্রামে যেতে তুলতে হবে ৬.৫ – তবেই আপনি Safe Zone এ থাকবেন।
আবেদনের সময়সীমা
সাধারণত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে আবেদন পর্ব। যদিও এটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ভিন্নতা আনে, তাই আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে গিয়ে সঠিক ভাবে তথ্য উপাত্ত ঘেটে দেখতে হবে।
কোর্স বাছাই
নরওয়েতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক ইংরেজী কোর্স অফার করা হয়। তাই, আপনি আগে থেকে দেশের জব মার্কেট, আর যদি নরওয়েতেই থাকতে চান তাহলে সে দেশের জব মার্কেট বুঝে সাবজেক্ট বাছাই করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
ক্রেডিট ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে কিছু নিয়মাবলী আছে। যেমনঃ অবশ্যই আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন তা গ্রেড- বি (Grade B) এর আওতায় থাকতে হবে। আপনি যদি উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০% এর অধিক কোর্স সম্পন্ন করে থাকেন, তাহলে ক্রেডিট ট্রান্সফার আর সম্ভব নয়। আর অবশ্যই আপনাকে শেষ করা সকল কোর্সের কাগজপত্র প্রমাণ হিসেবে পেশ করতে হবে।
সেমিস্টার ফি / টিউশন ফি
নরওয়েতে সাধারণত কোন টিউশন ফি লাগে না। তবে আপনাকে সেমিস্টার ফি দিতে হবে এবং তা হল প্রায় ৩০০ থেকে ৬০০ নরওয়েজিয়ান ক্রোনা। তবে, কিছু প্রোগ্রাম বা কোর্সের ক্ষেত্রে এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে টিউশন ফি নেওয়া হয়। এসব ক্ষেত্রে প্রতি সেমিস্টারে ৫১-১০১ মার্কিন ডলার ফি খরচ হয়।
স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ
বর্তমানে নরওয়েতে বাংলাদেশিদের জন্য কোন কোটা ভিত্তিক স্কলারশিপ নেই। তবে চিন্তিত হবার কোন কারণ নেই- এছাড়াও এখানে রয়েছে অনেক ধরণের স্কলারশিপ। আপনার সুবিদার্থে লিঙ্কটি দেওয়া হলঃ
প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা আলাদা স্কলারশিপ রয়েছে। যদি আপনি স্কলারশিপ পেয়ে যান, তাহলে থাকা-খাওয়া থেকে শুরু করে সব ধরণের খরচের জন্য থাকবে অর্থ বরাদ্দ।
বিশ্ববিদ্যালয় এ ভর্ত্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে কাগজপত্রের ধরণও ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই অবশ্যই আপনাকে ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট খুঁজে তথ্য উপাত্ত ঘেটে আবেদন করতে হবে।
আপনার বোঝা ও জানার সুবিধার্থে নিচে কি কি ডকুমান্টেস জমা দিতে হবে তার একটি লিস্ট দেওয়া হলঃ
১। প্রথমে নির্দিষত বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে- সেটা অনলাইন বা অফলাইন দুটোই হতে পারে। এটা পুরোপুরি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর নির্ভরশীল।
২। সকল একাডেমিক সার্টিফিকেট ও মার্কশীট,
৩। IELTS সনদ
৪। পাসপোর্টের কপি (পাসপোর্টে কমপক্ষে ১ বছর মেয়াদ থাকতে হবে)
৫। মোটিভেশন লেটার (Motivation Letter)
৬। রিকমেন্ডেশন লেটার (Recommendation Letter)
৭। চাকুরীর অভিজ্ঞতার সনদ (যদি থাকে)
Image Source: Internet
ব্যাংক সলভেন্সির সনদ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উল্লেখ্য যে, অফার লেটার পাওয়ার পর আপনাকে ১,০৩,৯৫০ নরওয়েজিয়ান ক্রোনা নরওয়ের ব্যাংকে পাঠাতে হবে। অবশ্য, ব্যাংক ও কোন একাউন্টসে পাঠাতে হবে সেটা আপনাকে আপনার বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়ে দিবে। চিন্তার কারণ নেই- নরওয়ে যাবার পর পরই আপনি চাইলে পুরো টাকা একবারে তুলে দেশে পাঠিয়ে দিতে পারবেন। আর যদি আপনি ভিসা না পান, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে পুরো টাকাটাই ফেরত পাঠিয়ে দেবে। এক্ষেত্রে হয়ত ডলারের দাম বাড়া বা কমার কারণে হয়ত কিছু ক্ষতি হতে পারে। কাগজপত্র হার্ড কপি নাকি সফট কপি পাঠাতে হবে সেটাও নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর। তাই, আগে ভাগেই বিশ্ববিদ্যালয়ে মেইল করে জেনে নিন সঠিক তথ্য। সকল ডকুমেন্টস সত্যায়িত হতে হবে। আর কোনটি যদি ইংরেজীতে না হয়, তাহলে ইংরেজীতে অনুবাদ করার পর নোটারী করে পাঠাতে হবে।
ভিসা আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
যদি আপনি এডমিশন পেয়ে যান, তাহলে টাকা জমা করা ও কাগজপত্র নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর পর কাজ হবে এম্বেসীতে ভিসার জন্য আবেদন করা। এজন্য যা যা প্রয়োজনঃ
১। স্টুডেন্ট রেসিডেন্স পারমিট এপ্লিকেশন
২। পাসপোর্টের কপি
৩। ভিসা ফি
৪। অফার লেটার
৫। মোটিভিশন লেটার
৬। IELTS সনদ
৭। Housing ডকুমেন্ট
৮। ব্যাংক স্টেটমেন্ট
Image Source: Internet
উল্লেখ্য, নরওয়েতে ভিসা এপ্লিকেশনের জন্য যে ইন্সুরেন্স লাগে, তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দিয়ে দেয়। সঠিক তথ্যের জন্য চেকলিস্ট এম্বেসী ওয়েবসাইটে দেখে নিতে হবে- সে জন্য নিচে একটি লিঙ্ক দেওয়ায় হলঃ
এক্ষেত্রে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না, কারণ প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেল সুবিধা রয়েছে। এই সুবিধা নিতে আপনাকে আবেদন করতে হবে কর্তৃপক্ষ বরাবর।
পার্ট টাইম জব এবং লিভিং এক্সপেন্স
নরওয়েতে থাকা খাওয়ার খরচ তুলনামূলক ভাবে বেশি। এখানে প্রায় ৪০০-৮০০ ইউরো গুনতে হবে এই খাতে। এখানে, ক্যাফে, বার, সামার জব, সিজোনাল জব, ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টর, হেলথ সেক্টর, ফিশিং সেক্টর, সোপ, ক্লিনার, ম্যানেজমেন্ট, কম্পিউটিং, এনজিও, সেলস, কল সেন্টার, ট্রাভেল, রেস্টুরেন্ট ইত্যাদিতে কাজ করে ঘণ্টায় ৭-২২ মার্কিন ডলার আয় করা যায়।
হ্যা- আপনি নরওয়েতে গিয়ে পার্ট টাইম জবের সুযোগ পাবেন- তবে সেটা সপ্তাহে ২০ ঘন্টার বেশি নয়। তবে সামার ভ্যাকেশনে আপনি চাইলে ফুল টাইম জব করতে পারবেন। নরওয়েজিয়ান ভাষা জানা না থাকলে জব পেতে খুব কষ্ট হবে। তাই দেশ ছাড়ার আগে নরওয়েজিয়ান ভাষা শিখে যাওয়াই উত্তম।
Image Source: Internet
পারমানেন্ট রেসিডেন্স পারমিট
একটানা ৩ বছরের বেশি সময় বৈধভাবে এ দেশে থাকলে আপনি পি,আর – এর জন্য আবেদন করতে পারবেন।
মাস্টার্স শেষে ১ বছর আপনার সাবজেক্ট রিলেটেড জব করার পর আপনি পি,আর- এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। তাছাড়া, মাস্টার্সের পর আপনি পিএইচডি-তে এপ্লাই করেন তাহলেও আপনি পি,আর-এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। এদেশে পিএইচডি-কে জব হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।
যদি প্রথম থেকে আপনার ইচ্ছা থাকে নরওয়েতে খুটি গাড়ার, তাহলে উচিত হবে প্রথম সপ্তাহ থেকেই নরওয়েজিয়ান ভাষা রপ্ত করা। এ দেশে আপনি চাইলে পরিবার নিয়েও আসতে পারেন- সে জন্য আপনাকে লিভিং কস্টের জন্য অতিরিক্ত টাকা ব্যাংক সলভেন্সি দেখাতে হবে।
নিজেই করুণ নিজের আবেদন সিরিজের এই পর্বে আমরা নিয়ে এসেছি এমন একটি দেশ যার পূর্বের নাম হল্যান্ড – আর বর্তমানে তাকে চেনা যায় নেদারল্যান্ডস নামে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ডাচ শিক্ষা ব্যবস্থা বেশ প্রশংসার দাবী রাখে। দেশটি জীবন ধারণ ও শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য বিশ্বে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। তাই আপনিও বেছে নিতে পারেন নেদ্যারল্যান্ডস আপনার উচ্চ শিক্ষার ডেস্টিনেশন হিসেবে।
নেদারল্যান্ডস সম্পর্কে কিছু সাধারন তথ্য
উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের ৪১,৫৪৩ বর্গ কিলোমিটারের এই দেশ প্রায় ২ কোটি লোকের বসবাস। যদিও এই দেশের জাতীয় ভাষা ডাচ, তবুও ৯৫% লোকে ইংরেজী ভাষায় কথা বলে। আর এ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয় ইংরেজী ভাষা। এই দেশ বেশি পরিচিত এর গবেষণাধর্মী শিক্ষা ব্যবস্থা ও কম অপরাধপ্রবণ দেশ হিসেবে। নেদারল্যান্ডসে মাস্টার্স প্রোগ্রাম মূলত ১-২ বছরের, পিএইচডি/ ডক্টোরাল প্রোগ্রাম মূলত ৩-৫ বছর মেয়াদী এবং ব্যাচেলর প্রোগ্রাম মূলত ৩-৪ বছর মেয়াদী। ব্যাচেলর প্রোগ্রামের অধিকাংশ কোর্স ডাচ ভাষায় করানো হলেও ইংরেজী ভাষায়ও কোর্স অফার করা হয়। এছাড়া সকল প্রোগ্রাম মূলত ইংরেজীতে অফার করা হয়।
Image Source: pixabay.com
নেদারল্যান্ডস এ পড়ার মাপকাঠি
প্রচুর বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এবং এসব বিশ্ববিদ্যালয় অফার করে নানা রকম কোর্স। বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স ভেদে এসব কোর্সের চাহিদা ভিন্ন ভিন্ন হয়। তাই, আপনি কোন বিষয়ে ও কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাবেন সেই অনুযায়ী আপনাকে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে হবে। নেদারল্যান্ডসের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন করার তেমন কিছু নেই- কারণ জাতীয় ভাবে একটি সেন্ট্রাল সিস্টেমের আওতায় নেদ্যারল্যান্ডসের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
স্নাতক প্রোগ্রামে সংযুক্ত হতে আপনার থাকতে হবে উচ্চ মাধ্যমিক বা স্কুল ডিপ্লোমা পাসের সনদ। ডাচ ভাষায় ডিপ্লোমা করার জন্য আপনাকে পাশ করতে হবে Dutch NT2 Course। আবার স্নাতোকত্তর প্রোগ্রামে অংশ গ্রহণ করতে নূন্যতম ব্যাচেলর ডিগ্রী থাকতে হবে। এছাড়া আপনার প্রয়োজন পরবে ইংরেজী ভাষায় দক্ষতার সনদ। এজন্য IELTS-এ আপনাকে নূন্যতম ৬.৫ স্কোর থাকতে হবে। আর যদি TOEFL দিতে চান, তাহলে আপনাকে পেতে হবে ৫৫০ (Paper Based TOEFL) বা ২১৩ (Computer Based TOEFL)।
কোর্স সার্চ ও কোর্স বাছাই
নেদারল্যান্ডসে কোর্স বাছাই এর জন্য আপনি সাহায্য নিতে পারেন নিচের ওয়েবসাইটেরঃ
নেদারল্যান্ডসের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বছরে মূখতঃ ২ বার অর্থাৎ ২ টি সেশনে আবেদন করার সুযোগ থাকে। একটি Winter Session, যার আবেদনের সময় সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর/জানুয়ারী আর অপরটি, Summer Session যার আবেদনের সময় ফেব্রুয়ারী-জুলাই/আগস্ট পর্যন্ত।
ডাচ কয়েকটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা নিচে তুলে ধরা হলঃ
বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই করে দেখে নিন- আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়টি আচরণবিধিতে স্বাক্ষর করেছে কিনা? আচরণবিধি এমন এক ব্যবস্থা যার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিশ্চিত করে প্রোগ্রামের মান, শিক্ষার্থী নিয়োগ, নির্বাচন এবং কাউন্সেলিং পদ্ধতির সার্বিক মান। এ জন্য আচরণবিধি স্বাক্ষরিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুঁজে দেখতে ঘুরে আসুনঃ
আপনি যদি আপনার পছন্দের কোর্স পেয়ে যান, তাহলে তাদের ওয়েবসাইট ঘুরে দেখুন সেখানেই পেয়ে যাবেন সব তথ্য। ভর্ত্তির যোগ্যতা ও অন্যান্য সকল বিষয় ভালো করে পড়ে দেখুন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়েবসাইটগুলো এ জন্য সবচেয়ে নির্ভরশীল সোর্স। তাই, এই ব্যাপারে মনোযোগী হওয়া অত্যন্ত জরুরী।
ডকুমেন্ট’স সত্যায়ন (Documents Attestation)
ইউরোপীয় অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মত নেদারল্যান্ডসে আবেদন করতে ডকুমেন্টস সত্যায়নের প্রয়োজন। আর সত্যায়নের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব পোর্টালে বলা থাকে। আপনার ডকুমেন্টসটি কার দ্বারা সত্যায়ন প্রয়োজন- শিক্ষা বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাকি ডাচ এমব্যাসি/কনস্যুলেট দ্বারা সত্যায়ত প্রয়োজন সেটা সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিশন।
ভর্তি আবেদন, অফার লেটার ও টিউশন ফী
নেদারল্যান্ডসের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইন আবেদন পোর্টাল ব্যবহার করে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যাচেলর ফলাফল, সিভি, IELTS স্কোর (সর্বনিম্ন ৬.৫), GRE/GMAT স্কোর (বিষয়ের উপর নির্ভর করে), প্রেরণা পত্র (Motivation Letter), সুপারিশপত্র (Recommendation Letter), ব্যাচেলর থিসিস বা ইন্টার্নশীপ রিপোর্ট ইত্যাদির ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে থাকে। এর ভিত্তিতে তারা ডাইরেক্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্সে ভর্ত্তি হবার সুযোগ দেয় – অথবা ৬ মাসের বা ১ বছরের প্রি-মাস্টার্স কোর্স অফার করে থাকে। প্রি- মাস্টার্স কোর্স সফলতার সাথে অতিক্রম করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্ত্তির সুযোগ মিলবে।
এছাড়া আপনি রিসার্চ ভিত্তিক মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারেন। এই প্রোগ্রামের সুবিধা হল আপনার পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করার পথ অনেকটা প্রশস্ত হয়ে যাওয়া। আর নেদারল্যান্ডসে রিসার্চ ভিত্তিক মাস্টার্স প্রোগ্রামে প্রচুর R/A (Research Assistant)- পদে আবেদনের সুযোগ আছে আর এছাড়া রিসার্চ ভিত্তিক মাস্টার্স প্রোগ্রামে ফুল স্কলারশিপও পাওয়া যায়।
নেদারল্যান্ডসে পড়তে আপনাকে গুন্তে হবে প্রায় ৮০০০ – ২০,০০০ ইউরো। এছাড়া জীবন যাত্রার জন্য প্রয়োজন হবে আরো অর্থের। তাই স্কলারশিপ প্রোগ্রামে এখানে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্কলারশিপ প্রোগ্রামের জন্য দেখে নিন এই ওয়েব পোর্টালঃ
আর পোস্ট ডক্ট্ররাল প্রোগ্রামে তো প্রায় ১৫০০-২০০০ ইউরো বেতন হিসেবে পাওয়া যায় এবং পোস্ট ডক্টরাল প্রোগ্রামে টিউশন ফি প্রদান করতে হয় না- তাই জীবন যাত্রার খরচ বহন করা সহজ হয়ে যায়।
থাকার জায়গা -ছাত্র হোস্টেল বা বাসা খোঁজা
নেদারল্যান্ডসে বসবাসের খরচ বছরে বেশি না। একজন শিক্ষার্থী শেয়ার ফ্ল্যাটে প্রতি মাসে ভাড়া ২৬০ – ৩৫০ ইউরো দিলে অনায়াসে থাকতে পারবেন। আপনি যদি কেনা বা ফাস্ট ফুডের উপর নির্ভরশীল না হন, তাহলে আপনার ৩০০ ইউরোর মধ্যে খাওয়া দাওয়া সেরে নিতে পারবেন। আর থাকার জন্য হোস্টেল কিম্বা বাসা আপনি ভার্সিটির মাধ্যমে পেয়ে যাবেন।
Image Source: pixabay.com
আর্থিক সামর্থ্য – স্বচ্ছলতার প্রমাণ
আপনার আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ স্বরূপ আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাঙ্ক একাউন্টে ১০,০০০ ইউরো Transfer করাতে হবে অথবা খরচ করার ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হতে পারে। তবে চিন্তার কিছু নেই- নেদারল্যান্ডসে বসবাসের জন্য আপনার খরচ এই অঙ্কের অনেক কম। আর চাইলে এই অর্থ আপনি পরে তুলে নিতে পারবেন।
ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া ও ডকুমেন্ট চেক লিষ্ট
নেদারল্যান্ডসে ভিসা আবেদনের সময় খেয়াল আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ থাকতে হবে এবং পাসপোর্ট ১০ বছরের পুরনো হলে চলবে না। এছাড়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট থাকতে হবে। আপনার জন্ম সনদ, ভোটার আইডি থেকে শুরু করে অন্যান্য সকল ডকুমেন্টেসের সমন্বয়ে আপনাকে আবেদন করতে হবে।
এ দেশে জীবন যাত্রার ব্যয়ভার বহন করতে বেশ বেগ পোহাতে হয়- আপনাকে প্রতি মাসে ১০০০-১২০০ ইউরো প্রয়োজন পড়বে জীবন নির্বাহ করতে।
পার্ট টাইম জব ও জীবনযাত্রার ব্যয়
নেদারল্যান্ডসের পার্ট টাইম জবের সুযোগ খুব কম- এবং বেশির ভাগ কাজ রেস্টুরেন্টেই সীমাবদ্ধ। তবে কর্তৃপক্ষ আপনাকে সপ্তাহে ১৬ ঘন্টা কাজ করার সুযোগ দিবে। কাজ করে পড়াশুনার ব্যয় চালানো কষ্টকর হবে। তবে পড়াশুনা শেষ করার পর জব খোঁজার জন্য নেদারল্যান্ডস কর্তৃপক্ষ আপনাকে এক বছরের ভিসা দিবে। আপনি যদি প্রযুক্তিগত শিক্ষা লাভ করেন কিংবা IT বিষয়ক দক্ষতা থাকে তবে নেদারল্যান্ডসে আপনার অপার সুযোগ।
Image Source: Internet
কোর্স শেষে চাকুরির সুযোগ ও স্থায়ী বসবাস (পিআর) এর সম্ভাবনা
নেদারল্যান্ডসে ৫ বছর বসবাসের পর আপনি স্থায়ী ভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবার, এই ৫ বছরের মধ্যে একটানা ৬ মাস বা তার বেশি সময় যদি নেদারল্যান্ডসের বাইরে থাকেন তাহলে আপনি আবেদনের অযোগ্য বলে গণ্য হবে। আপনি যদি একাধারে ৮ বছর এই দেশে থাকেন, তাহলে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবার মজার বিষয় হল, আপনার নেদারল্যান্ডসসে শিক্ষার্থী হিসেবে সময়কালের অর্ধেক সময় ধরা হবে। অর্থাৎ, আপনি যদি ৫ বছর নেদারল্যান্ডসে পড়েন তাহলে ২.৫ বছর ধরা হবে নাগরিকত্ব আবেদনের সময়।
ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর ফুটবলের জাদুগরী দেখতে ভালো লাগে না এমন কথা বলা খুব কঠিন। এমনকি যারা পর্তুগালের খেলা পছন্দ করেন না, তারাও তাকে ভালোবাসেন। আপনাদের সামনে আজ নিয়ে আসবো- ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর দেশ পর্তুগাল নিয়ে। কথা হবে আজ আটলান্টিক সাগরের তীরবর্তী ইউরোপের দেশ পর্তুগালে উচ্চশিক্ষাকে কেন্দ্র করে। পর্তুগাল ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ এবং এই দেশ সেনজেন চুক্তির আওতায় রয়েছে। তাই পড়ুন, জানুন এবং দেখে নিন পর্তুগালে উচ্চশিক্ষার সার্বিক দিক।
কেন পর্তুগালে পড়তে যাবেন?
দক্ষিণ- পশ্চিম উপকূলে আটলান্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশ পর্তুগালের রাজধানী লিসবন- এদেশের সবচেয়ে বড় শহর। পর্তুগালের ভাষা পর্তুগীজ ও মুদ্রা ইউরো। প্রাচীনকালে এই দেশ শক্তি ও বৃত্তিতে অনেক সমৃদ্ধ ছিল। ১৬শ শতকের দিকে এই সমৃদ্ধিতে ভাটা পড়ে। এদেশের আয়তন ৯২, ২১২ বর্গ কিলমিটার আর জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩ লাখ।
Image Source: pixabay.com
কোর্স সার্চ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন
পর্তুগালে অনেক উন্নত্মানের বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এইসকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিপ্লোমা, ব্যাচেলর, মাস্টার্স, পিএইচডি- সকল ধরণের কোর্সই করতে পারবেন। এছাড়া এই সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে হরেক রকমের সাবজেক্ট যেমনঃ সাইন্স, ইকোনমিকস, বাণিজ্য, আইন, ইঞ্জিনিয়ারিং, একাউন্টিং, মেডিকেলসহ বহু ধরণের কোর্স। কিন্তু মনে রাখবেন, বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্তুগীজ ভাষায় কোর্স অফার করা হয়ে থাকে। তাই, কোর্স ও বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই করার আগে দেখে নেবেন, সেখানে ইংরেজী মাধ্যমে কোর্স অফার করা হয় কি না?
পর্তুগীজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা পেতে নিম্মোক্ত ওয়েবসাইট গুলোর সাহায্য নিতে পারেনঃ
পর্তুগালে পড়াশুনার জন্য অনেকেরই পছন্দ- কারণ, এদেশে পড়তে যাবার জন্য ইংরেজীতে পারদর্শিতার কোন সার্টিফিকেট দিতে হয় না। তাই যারা IELTS দিতে ভয় পাচ্ছেন, তাদের জন্য এই দেশ হবে উচ্চশিক্ষার অন্যতম ডেস্টিনেশন। কিন্তু, ইংরেজীতে কথা বলার দক্ষতা ও সার্টিফিকেট থাকলে আপনি ভিসা পাওয়ার জন্য বেশী যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। এদেশে ব্যাচেলর প্রোগ্রামে অংশ গ্রহণ করতে উচ্চ মাধ্যমিক, মাস্টার্সে আবেদনের জন্য ৪ বছরের ব্যাচেলর এবং পিএইচডি পড়তে আপনাকে ২ বছরের মাস্টার্স থাকতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সময়সীমা ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস
এই দেশে বছরে দুইটি সেশন থাকে। প্রথমটির আবেদনকাল নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি আর দ্বিতীয়টির আবেদনকাল এপ্রিল থেকে জুলাই।
প্রথমেই আপনাকে অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদন করতে হবে। এবং অনলাইনেই সকল ডকুমেন্টস পাঠাতে হবে। তারপর যদি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কনফার্মেশন পাঠায়, তাহলে আংশিক টিউশন ফি জমা দিতে হবে। কত টিউশন ফি ও কোথায় জমা দিতে হবে সেটা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপনাকে জানিয়ে দিবে।
নিচে একটি প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসের লিস্ট দেওয়া হলঃ
১। সকল একাডেমিক সার্টিফিকেট এবং মার্কশীট
২। মোটিভেশন লেটার ও রিকমেন্ডেশন লেটার
৩। ইউরোপাস ফরম্যাটে CV
৪। পাসপোর্টের কপি ও ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
৫। আপ্লিকেশন ফি পরিশোধের রশিদ [ সাধারণত ৫০-৬০ ইউরো হয়ে থাকে এবং এই অর্থ ফেরৎযোগ্য নয় ]
সকল ডকুমেন্টস ঠিক ঠাক মত জমা দিতে হবে। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইমেইল করে জেনে নিতে হবে।
Image Source: Internet
পড়াশোনার খরচ ( টিউশন ফি)
ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলোনায় এই দেশে টিউশন ফি অনেক কম। এই খানে সাধারণত টিউশন ফি ৯০০-৬,০০০ ইউরো পর্যন্ত হয়ে থাকে। সাবজেক্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে এই টিউশোন ফি ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই আবেদন করার পূর্বে অবশ্যই টিউশন ফি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে দেখে নিতে হবে।
ব্যাচেলর, মাস্টার্স এইক্ষেত্রে ৯৫০ – ১২৫০ ইউরো প্রতি একাডেমিক ইয়ার।
পি এইচ ডির ক্ষেত্রে ২৫০০-৩৫০০ ইউরো প্রতি একাডেমিক ইয়ার।
পর্তুগালে আবাসন ব্যবস্থা
এই দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে কম খরচে থাকার জন্য হোস্টেলের ব্যবস্থা রয়েছে। তাই, আগে ভাগে হোস্টেলে আবেদন করে দেওয়াই উত্তম।
ইউরোপের অন্যান্য দেশের চেয়ে পর্তুগাল উন্নয়নে একটু পিছিয়ে আছে। তাই এই দেশে জীবন যাত্রার ব্যয় একটু কম। মাসে আপনি ৩০০-৩৫০ ইউরোতে খাওয়া থাকা মিটিয়ে ফেলতে পারেন।
Image Source: pixabay.com
আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ
ব্যাংক সলভেন্সি খুব ভালো হতে হবে । পর্তুগালে পড়তে গেলে আপনাকে ৬/৭ লক্ষ টাকা ব্যাংকে দেখাতে হবে। যে আপনার স্পনসর হবে তার সাথে আপনার সম্পর্ক কি কিংবা তার ইনকাম সোর্স কি সেগুলোর বেপারে যেন আপনি এমবাসির কাছে স্পষ্ট জবাবদিহি করতে পারেন সেটার জন্য তৈরি থাকতে হবে ।
স্পন্সরের একাউন্টে অস্বাভাবিক বড় মাপের লেনদেন হলে সেটার সঠিক ব্যাখ্যা দিতে হবে।
স্কলারশিপের সুযোগ আছে কি না?
পর্তুগালে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপ। যা বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারে। যেমনঃ Erasmus mundus Scholarship, এটা ইউরোপিয়ান উনিয়ন কর্তৃক প্রদত্ত উচ্চশিক্ষা বৃত্তি । সবচেয়ে প্রেস্টিজিয়াস স্কলারশিপ হিসাবে গণ্য করা হয়। FCT Scholarship – Fellowships & Grants এটা পর্তুগালের খুব সম্মানজনক একটা বৃত্তি, পি এইচ ডি এবং পোস্ট ডক্টরেট এর জন্য এটা প্রদান করা হয় .প্রতি বছর ২৫০-৩০০ ফাইনাল আবেদন তারা নিয়ে থাকেন। বিস্তারিত জানতে তাদের ওয়েবসাইট কয়েক করুন – https://www.fct.pt/apoios/bolsas/concursos/ । তাছাড়া প্রতিটা ইউনিভার্সিটি তাদের Internal Scholarship এর ব্যাবস্থা করে থাকে। ভালো রেজাল্টের ভিত্তিতে আপনি সর্বোচ্চ ৫০%-৭৫% টিউশন ফি ছাড় পেতে পারেন।
Image Source: Internet
ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া
বাংলাদেশে পর্তুগালের কোন এম্বেসী নেই- শুধু আছে কনস্যুলেট অফিস। তাই অবশ্যই আপনাকে ইন্ডিয়ার দিল্লীতে ভিসার জন্য যেতে হবে। আপনার সুবিধার্থে এম্বেসীর ঠিকানা ও ওয়েবসাইট নিচে দেওয়া হল।
মনে রাখবেন, ভিসা জমা দেওয়ার পূর্বে আপনাকে একটি এপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। এই ভিসা প্রাপ্তির জন্য ৩০ দিন সময় লাগে, তাই হাতে সময় রেখে কাজ শুরু করবেন। পড়াশুনা ও রিসার্চের জন্য আপনাকে লং টার্ম ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। এই লং টার্ম ভিসার মধ্যে আবার দুইটি প্রকারভেদ রয়েছে। একটি হলঃ টেম্পোরারী স্টে ও দ্বিতীয়টি হল রেসিডেন্স ভিসা। আপনাকে অবশ্যই লং টার্ম রেসিডেন্স ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
হেলথ ইনস্যুরেন্সের জন্য বাংলাদেশে অবস্থিত জার্মান এম্বেসী দ্বারা অনুমোদিত যে কোন ইনস্যুরেন্স কোম্পানী থেকে আপনাকে এটি সংগ্রহ করতে হবে। মনে রাখবেন কমপক্ষে ১২০ দিনের ইনস্যুরেন্স করতে হবে। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, এই ইনস্যুরেন্স শুরু হবার তারিখ ক্লাস শুরু হবার ৫ দিন আগে থেকেই চালু হতে হবে। অন্যদিকে আপনাকে অন-ওয়ে ফ্লাইট টিকিট এর ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে। ডকুমেন্টে আবশ্যই ফ্লাইট কনফার্মড থাকতে হবে। এই ফ্লাইট বুকিং দিতে কোন টাকার প্রয়োজন হয় না। অবশ্যই মনে রাখবেন, এই ফ্লাইটের তারিখ ও ইনস্যুরেন্সের তারিখ একই হয়।
এবার জেনে নিন ভিসা আবেদনর জন্য কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন পড়বেঃ
১। পূরণকৃত আবেদন ফর্ম ও ভিসা ফি প্রদানের রশিদ ৯০ ইউরো [স্কলারশিপধারীদের জন্য মওকুফ করা হয়]
২। পাসপোর্ট ও ফটোগ্রাফ (৩৫ মি.মি.x৪০ মি.মি. )
৩। CV, মোটিভেশন ও রেফারেন্স
৪।সকল মার্কশিট ও সনদ [অরিজিন্যাল ও সাথে ২ কপি ফটোকপি]
৫। No Objection Certificate [শেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে]
৬। অফার লেটার ও টিউশন ফি প্রদানের রশিদ
৭।অ্যাকোমোডেশন পেপ্যার
৮।ব্যাংক সলভেন্সি পেপ্যার
৯।৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট [ স্টেটমেন্টে ব্যাংক ম্যানেজারের স্বাক্ষর থাকতে হবে]
১০।পুলিশ ক্লিয়ারান্স
১১।হেলথ ইন্স্যুরেন্স
১২।One – way Flight Booking Copy
সব কিছু ঠিক থাকলে ভিসা পাওয়ার সম্ভবনা আনেক বেশি। বর্তমানে পর্তুগাল সরকার প্রচুর পরিমানে স্টুডেন্ট ভিসা প্রদানের অনুমতি দিয়েছে। তাই বর্তমানে পর্তুগালে বিদেশী স্টুডেন্টের ঢলও নেমেছে।
ℹ️ এখানে উল্লেখ্য যে, পড়াশুনার মধ্যের গ্যাপ ৪ বছরের বেশি হলে ভিসা পেতে সমস্যা হবে। এবং সবচেয়ে ভালো হয় যদি এই গ্যাপ ১-২ বছরের মধ্যে হয়ে থাকে।
Image Source: pixabay.com
মাসিক খরচ এবং পার্ট টাইম জব এর সুযোগ
ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় পর্তুগালে জীবন যাপন খরচ একটু কম। আপনি অনায়াসে এই দেশে ৩০০-৩৫০ ইউরোর মধ্যে খাওয়া- থাকা মিটিয়ে ফেলতে পারবেন। ৪০ ইউরো ট্রান্সপোর্ট খরচ প্রতি মাসে যা আপনার পুরো লিসবন জোন কভার করবে, ছাত্র হিসাবে আপনি গেলে আপনার জন্য ট্রান্সপোর্ট খরচ ৩০ ইউরো অনলি ।
আপনি এই দেশে পার্ট টাইম জবের সুযোগ পাবেন ২০ ঘন্টা/ সপ্তাহ। আর ছুটিতে পাবেন ফুল টাইম জব করার সুবিধা।পর্তুগীজ ভাষা জানা থাকলে জব পেতে বেগ পোহাতে হবে না। মনে রাখবেন, পর্ট টাইম জব করে থাকা খাওয়ার খরচ মেটাতে পারলেও টিউশন ফি জোগাড় করা সত্যিই কষ্টসাধ্য।
কোর্স শেষে চাকুরীর সুযোগ ও স্থায়ী বসবাস
পর্তুগালে বৈধভাবে ৫ বছরের বেশি বসবাস করলে আর ট্যাক্স, জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষদ ও আঞ্চলিক স্বাস্থ্য পরিষদে নিবন্ধন ও ভাষা জানা থাকলে আপনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। একে Golden Residence Permit Program বলে।
আপনি পর্তুগালে স্টুডেন্টস ভিসায় আসলে রেসিডেন্স পার্মিট ইস্যুর তারিখ থেকে ৫ বছর থাকতে পারলে যে কোনো ক্যাটাগরিতে আপনি পি আর বা পর্তুগালের নাগরিকত্ব আবেদনের জন্য এলিজিবল হবেন।
উচ্চ শিক্ষায় পাড়ি জমাতে আমাদের সামনে আসে অনেক উদাহণ ও বিশ্বে অনেক দেশেই যাবার সুযোগ। আমদের অধিকাংশের চিন্তা ঘোরে আমেরিকা কিম্বা আরও কয়েকটি দেশ ঘিরে। আজ আপনাদের সামনে নিয়ে আসছি ইউরোপের একটি সুন্দর দেশের বর্ণনা নিয়ে এবং সে দেশে আবেদন থেকে যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে। আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরবো পোল্যান্ডের কথা। তাহলে আর কি? দেরি না করে আসুন এখনি শুরু করে দেই পোল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার হাল হকিকত- যাতে করে আপনি নিজেই করতে পারেন নিজের আবেদন।
Image Source: pixabay.
পোল্যান্ড পরিচিতিঃ
পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ার্শ, ভাষা পোলিস আর মুদ্রা পোলিশ জোল্টি। মধ্য ইউরোপের ৩, ১২, ৬৯৬ বর্গ কিলোমিটারের এই দেশে বসবাস করে ৩ কোটি ৮৫ লক্ষ লোক। অর্থনৈতিক বিচারের নিক্তিতে দেখলে এই দেশের জিডিপি হল ৬০৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। পোল্যান্ডের তাপমাত্রা গ্রীষ্মকালে ২৫ থেকে ৩৫ ডিগ্রী থাকে আর শীতে শূন্য ডিগ্রীর নীচে নেমে যায়।
কোর্স ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন
বর্তমান পোল্যান্ড সরকার International Student-দের জন্য খুলে দিয়েছে উচ্চশিক্ষা সহ নিজেকে বিকশিত করার এক অপার সুযোগ। এই দেশে রয়েছে শত বছর পুরনো বিশ্বমানের ১০০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়- আর এই সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বিভিন্ন ফিল্ডে পড়াশুনা করার বহু কোর্স। হ্যাঁ, অবশ্যই এই সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে পোলিশ সহ ইংরেজী মিডিয়ামের কোর্স অফার করা হয়ে থাকে। এই দেশে ইঞ্জিনিয়ারিং, এগ্রিকালচার, মিউজিক, ফরেস্ট্রি, থিওলোজী, অর্থনীতি, ব্যবসায় শিক্ষা, আর্ট ও এডুকেশন, আরকিওলোজী, ফিল্ম ইত্যাদিসহ বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট ঘেটে তা দেখে নিবেন আর আপনার পছন্দের বিষয় বেছে নেবেন। এই দেশে নার্সিং কোর্সের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং নার্সিং পড়াশুনা খুবই জনপ্রিয় আর চাকুরীর বাজারে অপার সুযোগ থাকায় বহু ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট এখন এই দেশে নার্সিং নিয়ে পড়াশুনা করে থাকে।
এই দেশে পড়াশুনা করার জন্য কিছু জনপ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নিচে দেওয়া হলঃ
১। Academy of Business in Dąbrowa Górnicza
২। Adam Mickiewicz University in Poznań
৩। AGH University of Science and Technology
৪। Cardinal Stefan Wyszyński University in Warsaw
৫। Collegium Civitas
৬। Cracow University of Economics
৭। Cracow University of Technology
৮। Czestochowa University of Technology
৯। Gdansk University of Technology
১০। Graduate School for Social Research (GSSR)
১১। Jagiellonian University in Kraków
১২। Kielce University of Technology
১৩। Koszalin University of Technology
১৪। Kozminski University
১৫। Lazarski University
Image Source: Internet
ভাষাগত যোগ্যতা
এই দেশে প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী ভাশার কোর্স রয়েছে। তাই ভিসা ও এডমিশনের জন্য অবশ্যই আপনাকে IELTS এ ৬.৫ (Reading and Writing এ ন্যূনতম ৬.০) পেতে হবে।
ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া ও সেমিস্টার
পোল্যান্ডে সাধারণত দুইটি সেমিস্টার হয়ে থাকে। উন্টার সেমিস্টার হয়ে থাকে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি আর সামার সেমিস্টার হয়ে থাকে ফেব্রুয়ারি থেকে জুন।
ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে ভিন্ন হভিন্ন হয়ে থাকে। প্রথমেই আপনাকে নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে গিয়ে আবেদনের শেষ তারিখ ও ক্লাশ শুরু হবার তারিখ দেখে নেওয়া ভালো। এই দেশে ব্যাচেলর, মাস্টার্স কিম্বা পিএইহডি সবকিছু পড়ার সুযোগ রয়েছে। ব্যাচেলর পড়তে কমপক্ষে এইচ, এস, সি ; মাস্টার্স পড়তে কমপক্ষে ব্যাচেলর আর পিএইচডি কোর্সে আবেদনের জন্য আপনার মাস্টার্স ডিগ্রী থাকতে হবে। আবেদন করার কাগজপত্রের তালিকা নিচে দেওয়া হলঃ
১। সকল সার্টিফিকেট ও মার্কশীট
২। এপ্লিকেশন ফি
৩। আইইএলটিএস স্কোর কপি (কমপক্ষে ৬.৫)
৪। আই ডি প্রুফ (এন,আই,ডি / জন্ম সনদ)
৫। এপ্লিকেশন ফর্ম ও ফটোগ্রাফ
৬। মাস্টার্সে আবেদনের জন্য, ব্যাচেলরের থিসিস
কখনো কখনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নোটারীকৃত ডকুমেন্ট চাওয়া হয় অথবা প্রাক্তন শিক্ষা প্রতষ্ঠান থেকে অফিসিয়ালি জারীকৃত সার্টিফিকেট প্রয়োজন পরে। তাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট পড়ে জেনে নেওয়া উচিত হবে। আবার কখনো কখনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Aptitude Test নেওয়া হয় কিছু কিছু সাবজেক্টের জন্য। যেমনঃ মাস্টার্স অব আর্টস, ফিজিক্যাল এডুকেশন, মেডিকাল ইত্যাদি।
Image Source: Internet
টিউশন ফি
এই দেশের টিউশন ফি অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম হয়ে থাকে। ব্যাচেলরের জন্য বছরে ২,০০০ ইউরো আর মাস্টার্সের জন্য প্রয়োজন পড়বে ৩,০০০ ইউরো।
আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ
ব্যাংক সলভেন্সির জন্য আপনাকে নিজের বা পিতা-মাতা-ভাই-বোনের একাউন্টসে ১৫-২০ লক্ষ টাকা দেখাতে হবে।
ভিসা আবেদন
পোল্যান্ডে ভিসার জন্য আপনাকে দিল্লী যেতে হবে কারণ বাংলাদেশে পোল্যান্ডের কোন এম্বেসী নেই। নিচে দিল্লী এম্বেসীর ঠিকানা বিস্তারিত দেওয়া হলঃ
এম্বেসীতে সাধারণত ১৪ দিন সময় নেয়। তবে এই সময় বাড়তে পারে। এটা পুরোটাই আপনার কেসের জটিলতার উপর নির্ভর করছে।
ভিসা আবেদনের ডকুমেন্ট চেকলিস্টঃ
১। পূরণকৃত আবেদন ফর্ম ও সাথে সংযুক্ত পাসপোর্ট সাইজের ছবি
২। পাসপোর্ট (৩ মাসের ভ্যালিডিটি থাকতে হবে)
৩। অফার লেটার
৪। সিভি বা জীবন বৃত্তান্ত
৫। সকল সার্টিফিকেট ও মার্কশীট
৬। আইইএলটিএস কপি
৭। ব্যাংক সলভেন্সি ডকুমেন্টস
৮। ভিসা এপ্লিকেশন পেমেন্ট ফি-এর কপি
৮। আবাসন ব্যবস্থার প্রমান কপি
৯। স্বাস্থ্য বীমার কপি
Image Source: Internet
পার্ট টাইম জব এবং জীবন-যাপনের ব্যয়
পোল্যান্ডে ছাত্রদের পার্ট টাইম জব করার সুযোগ রয়েছে মাত্র ১০ ঘন্টা। সাধারণত স্টুডেন্টরা শপিং মল আর রেস্টুরেন্টে জব করে থাকে। তাই এই দেশে পোলিশ ভাষা জানা থাকলে আপনি চাকুরি পাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুযোগ পাবেন। সামার ভ্যাকেশনে স্টুডেন্টদের ফুল টাইম চাকুরী করার সুযোগ রয়েছে।
পোল্যান্ডে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে পেয়ে যাবেন আপনি হোস্টেলের সুবিধা। এই দেশে হোস্টেল ফি বাবদ আপনার খরচ হবে কমপক্ষে ১০০ ইউরো প্রতি মাসে। এছাড়া, থাকা খাওয়া থেকে অন্যান্য খরচ আপনি চাইলে ৫০০-৬০০ ইউরোর মধ্যে মিটিইয়ে ফেলতে পারবেন।
স্থায়ী বসবাসের সুযোগ (পি,আর )
আপনি যদি পোল্যান্ডে পি,আর পান তাহলে ইউরোপের ২৭টি দেশে ভ্রমণের অনুমতি পাবেন। এছাড়া, পোল্যান্ডে পি,আর পাবার ৫ বছর পর আপনি এদেশের নাগরিকত্ব পেয়ে যাবেন। পোল্যান্ডের পাসপোর্ট পেলে আপনি ইউরোপ সহ কানাডা ও আমেরিকায় বসবাসের সুযোগ পাবেন।
বিদেশে পাড়ি জমাতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে জমা দিতে হয় বিভিন্ন একাডেমিক ডকুমেন্টস – আর এই সকল ডকুমেন্টস হতে হবে অবশ্যই সত্যায়িত। অনেকেরই প্রশ্ন কি কি ডকুমেন্টস,কোথায় এবং কীভাবে সত্যায়িত করতে হবে। তাই এই বিষয়ে আজ একটু আলোকপাত করব – যাতে আপনাদের কাজ সহজ হয়; হয় আরামদায়ক।
একাডেমিক ডকুমেন্টস ছাড়াও ভিসা আবেদনের জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ও জন্ম নিবন্ধন সত্যায়িত করতে হয়।
একাডেমিক ডকুমেন্টসগুলো সাধারণত শিক্ষা বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সবশেষে উক্ত দেশের (যেমনঃ জার্মানি) এমব্যাসি/কনস্যুলেট থেকে সত্যায়ন করতে হয়।
সাধারণত আপনি যে দেশে এবং যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাবেন, তার উপরে নির্ভর করবে আপনার ডকুমেন্টস সত্যায়নের প্রক্রিয়া এবং সত্যায়ন কীভাবে করবেন বা করতে হবে এই ব্যাপারে প্রতিটা ইউনিভার্সিটি এর ওয়েবসাইটে বিস্তারিত বলা থাকে। ।
ℹ️ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে Higher education entrance qualification / School living certificate / High School living certificate শব্দগুলো লেখা থাকে, যেটা নিয়ে প্রায় সবাই চিন্তিত থাকি বা বুঝিনা। আসলে সবগুলোর অর্থ মূলত একই। এইটার মানে হচ্ছে আমাদের দেশের HSC Certificate and Transcript।
একটা কথা মনে রাখবেন, কখনো অরিজিন্যাল ডকুমেন্ট কোথাও পাঠাবেন না। এটা কোথাও চায় না।বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই ফটোকপি করে সত্যায়িত করতে হয় সেই ফটোকপিকে।
স্ব-স্ব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সত্যায়ন
আপনি ব্যাচেলর/মাস্টার্স এর সনদপত্র ও নম্বরপত্র আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার থেকে সত্যায়ন করবেন। উল্লেখ্যঃ কোন কোন বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সেটা সহকারি রেজিস্ট্রার/কন্ট্রোলার/সহকারি কন্ট্রোলার দিয়ে করালেও গ্রহণ করে। তাই, অবশ্যই আগে আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও এডমিশন অফিসে মেইল করে জেনে নিবেন।
এডুকেশন বোর্ড থেকে সত্যায়ন
প্রথমেই আসি এডুকেশন বোর্ড থেকে সার্টিফিকেট সত্যায়ন। বোর্ড শুধু আপনার SSC এবং HSC এর সার্টিফিকেট সত্যায়ন করে দিবে। সার্টিফিকেট ও মার্কশীট শিক্ষা বোর্ড থেকে সত্যায়িত করাতে কমপক্ষে ৩-৫ দিন সময় লাগবে। এই সময়ে অরিজিনাল সহ ৪ সেট ফটোকপি সাথে রাখবেন। এখানে ফি বাবদ ৫০০-৬০০ টাকা খরচ হবে। ফি বাবদ টাকা ব্যাংক ড্রাফট করবেন শিক্ষা বোর্ডের সোনালী ব্যাংক থেকে। তারপর বোর্ড থেকে একটি ফর্ম পূরণ করে টাকা জমার রিসিপ্ট সহ আপনার সকল ডকুমেন্টস জমা দিবেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়ন
এরপর আসি কিভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ডকুমেন্টস সত্যায়ন করাবেন।
প্রথমে নিজ নিজ ইউনির্ভারসিটি থেকে সার্টিফিকেট এবং ট্রান্সক্রিপ্ট এর কপি ভেরিফাই করা। উল্লেখ্য যে, প্রাইভেট এবং সরকারী এর নিয়ম ভিন্ন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর ক্ষেত্রে এটা জানা জরুরী যে কোন কোন সিগ্নেটরির নাম এবং সিগ্নেচার Ministry of Education (MoEd) এ এনলিস্টেড। শুধুমাত্র এনলিস্টেড সিগ্নেটরি দিয়েই ভেরিফাই করাবেন, অন্যথায় MoEd এ ঝামেলা করে।
ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ সচিবালয়ে যেতে হবে। সচিবালয়ের গেট নং ০২, কাউন্টার নং ১০ ( যদি পল্টন মোড় থেকে আসতে থাকেন, তাহলে জিরো পয়েন্ট মোড় থেকে ডানে যেতে হবে )। অরিজিনাল সহ ৩/৪ কপি ডকুমেন্টস সাথে নিয়ে যাবেন। এখানে কাগজ-পত্র সকাল ১১ টা থেকে জমা পড়া শুরু হয় আর বিশেষ কোন সমস্যা না থাকলে ঐ দিনই বেলা ৩টা বা ৪টার মধ্যে ডকুমেন্টস ফেরত দেয়া শুরু হয়।
ℹ️ বিঃদ্রঃ কারিগরি বোর্ডের ও মাদ্রাসা বোর্ডের ডকুমেন্টস সত্যায়িত করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা নিবে না। কারিগরি বোর্ডের এবং মাদ্রাসা বোর্ডের ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন ভবনের আট তলায় যেতে হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়ন
কাগজপত্র আপনাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও জমা দিতে হতে পারে সত্যায়নের জন্য। পল্টন মোড় থেকে প্রেসক্লাব মোড় চলে গেলে, প্রেসক্লাবের ঠিক বিপরীতে রাস্তার সাথেই পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়। অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র / পাসর্পোট এর ফটোকপি নিয়ে যাবেন।
তবে মনে রাখবেন, অনেক শিক্ষার্থী এই কাজের জন্য লাইনে দাঁড়ায়- তাই সকাল সকাল এসে লাইনে দাড়ানোই ভালো। ঐ দিনই দুপুর ৩.৩০ এর দিকে ফেরত দেয়া হয় সত্যায়িত কপি। বের হবার আগে অবশ্যই দেখে নিবেন সিল, সিরিয়াল নং ও সাক্ষর ঠিকমতো আছে কিনা
Image Source: Internet
এম্বেসী থেকে ডকুমেন্টস সত্যায়নের
এম্বেসী থেকে ডকুমেন্টস সত্যায়নের জন্য অবশ্যই আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সেই ডকুমেন্টস সত্যায়ন করিয়ে আনতে হবে। এরপর এম্বেসীতে জমা দিতে হবে- নোটারাইজড করে অনেক সময় জমা দিতে হতে পারে- কিন্তু সেটা নির্ভর করছে কর্তৃপক্ষের উপর। আর এই সময় ডকুমেন্টস এর অরিজিনাল কপি নিয়ে যেতে ভুলবেন না।
বাইরের দেশের এম্বেসী থেকে সত্যায়ন করতে আপনার সেই দেশে অবস্থিত বন্ধু বা আত্মীয়ের সাহাজ্য প্রয়োজন হতে পারে। সেক্ষেত্রে সাধারণত ফি দিতে হয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও দেশের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে আপনি সহজেই কাজ করতে পারবেন।
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সত্যায়ন
আপনি আপনার নিজ থানা থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট এর আবেদন করবেন। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সাধারণত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত হয়েই আসে। তারপরও যদি আপনার পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সত্যায়িত না থাকে তবে তা করে নিতে হবে।উল্লেখ্য, বর্তমানে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট এর জন্য অনলাইনেই আবেদন করা যায় এবং বাসায় বসেই সার্টিফিকেট পাওয়া যায়।
আপনি আপনার জন্ম নিবন্ধন পত্র টি প্রথমে ইংরেজিতে অনুবাদ করে নিবেন ( যদি করা না থাকে )। তারপর সেটা নোটারি পাব্লিক করে আইন মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়ন করবেন।
নোটারি পাব্লিক
নোটারি করতে চাইলে একজন আইনজীবী লাগবে যিনি নোটারি করানোর যোগ্যতা রাখেন। এরপর তিনি প্রথমে আপনার মূল বা আসল সনদপত্র যাচাই করে দেখবেন। মূল সনদপত্র বলতে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, ট্রান্সক্রিপ্ট, জন্ম সনদ, চারিত্রিক সনদ ইত্যাদি বোঝায়।
সতর্ক থাকতে হবে, রাজধানীতে নোটারি পাবলিকের নামে চলছে অবৈধ বাণিজ্য। আদালতপাড়াসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘিরে গড়ে উঠেছে এ অবৈধ নোটারী বাণিজ্যের বিশাল বাজার। তাই খোঁজ খবর নিয়ে অথোরাইজড আইনজীবী দ্বারা নোটারি করতে হবে।
বিশেষ ক্ষেত্রে পাসপোর্টের ফটোকপি নোটারাইজড করে আইন মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়ন করতে হতে পারে।
সব কথার শেষ কথা আপনি কোন দেশ ও কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন তার উপর নির্ভর করবে আপনার ডকুমেন্টস সত্যায়নের যাবতীয় বিষয়াদি।যে কোন প্রক্রিয়া শুরুর আগে আপনি আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও এডমিশন অফিসে মেইল করে কোন কোন ডকুমেন্টস কোথায় সত্যায়ন করবেন সেটা বিস্তারিত জেনে নিবেন।
ℹ️ আপনার একাডেমিক সার্টিফিকেট সমুহ লেমিনেটেড করা যাবে না । অরিজিনাল ডকুমেন্টস এর সাথে ফটোকপি জমা দিতে হয়। সাধারণত অরিজিনাল কপির পেছনে ও ফটোকপির সামনে সত্যায়ন করে থাকে।
তাহলে, আশা করি ডকুমেন্টস সত্যায়ন নিয়ে আর কোন প্রশ্ন রইলো না। সত্যায়নের জন্য সময় লাগতে পারে, তাই হাতে নিয়ে সত্যায়ন করুন। শুভ কামনা রইলো আমাদের পক্ষ থেকে।
হাজার হৃদের দেস নামে পরিচিত সবুজ অরণ্যে ঘেরা ইউরোপের সবচেয়ে উত্তরের দেশ ফিনল্যান্ড। হেলসিংকি এ দেশের সর্ববৃহৎ শহর ও রাজধানী। ফিনল্যান্ড বর্তমানে উচ্চশিক্ষা আকাঙ্ক্ষীদের জন্য স্বর্গে পরিণত হয়েছে যার একমাত্র কারণ উচ্চমানের শিক্ষাব্যবস্থা। আর আপনাদের সুবিধার্থে আজ আমরা আলোচনা করতে যাচ্ছি ফিনল্যান্ড নিয়ে যেন আপনারা নিজেরাই করতে পারেন নিজেদের আবেদন- আর সহজেই পৌছে যেতে পারেন ফিনল্যান্ড।
Image Source: pixabay.com
ফিনল্যান্ডের যত বিশ্ববিদ্যালয়
ফিনল্যান্ডে ১৬টি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় ও ২৭টি এপ্লাইড সাইন্স বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয় ফিনল্যান্ড ও ইউরোপীয় আধিবাসীদের জন্য ফ্রী হলেও ২০১৭ সালের পর থেকে নন-ইউরোপীয়দের জন্য টিউশন ফি পরিশোধ করতে হয়। ফিনল্যান্ডের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম তুলে দেওয়া হল।
এদেশে ৩ ভাষায় শিক্ষা প্রদআন করা হয়, যথাঃ ইংরেজী, সুইডিশ আর ফিনিশ। তবে মজার ব্যাপার হল, এদেশে প্রায় সবাই ইংরেজী ভাষায় কথা বলতে পারে। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী ভাষায় সীমিত সংখ্যক কোর্স রয়েছে- তবে আশার কথা, Applied Science বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী ভাষায় বিস্তর সংখ্যক কোর্স রয়েছে। তাই যারা Applied Science এর উপর কোর্স করবেন, তাদের জন্য এদেশে সুযোগ একটু বেশি। ফিনল্যান্ডে মাস্টার্স কোর্সে ভর্ত্তির জন্য বয়সের কোন বাধা নেই।
ফিনল্যান্ডে আপনি চারটি বিশ্ববিদ্যালয় বা চারটি বিষয়ে পড়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ দেশের মাস্টার্স প্রোগ্রাম টেকনিক্যাল ভিত্তিক- আর ব্যাচেলর প্রোগ্রামে ভর্ত্তি হতে গেলে আপনাকে বসতে হবে পরীক্ষায়। এই ভর্ত্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন করা হবে সাধারণ গণিত, আই,কিউ বিষয়ক এবং বিশ্লেষণাত্মক বিষয় নিয়ে। তাই আপনাকে আবার নিজেকে একটু ঝালিয়ে নিতে হবে। মাস্টার্সে প্রোগ্রামে সাধারণত ভর্ত্তি পরীক্ষায় বসতে হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বর্ণিত যোগ্যতা থাকলেই চলবে।
Image Source: Internet
পছন্দের কোর্স নির্বাচন
প্রথম কাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের Website ঘেটে, নিজের পছন্দ মত কোর্স বেছে নিতে হবে। ফিনল্যান্ডে Engineering সেকশনের কোর্সগুলোর চাহিদা বেশি। তাই, ফিনল্যান্ডে ভবিষ্যৎ খুঁজতে চাইলে অবশ্যই Engineering Stream -এ আবেদন করা শ্রেয়।
অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের মত এখানে দুই টি সেশন আছে। যথাঃ এটাম সেশন (Autumn Session) এবং স্প্রিং সেশন (Spring Session) । এটাম সেশন চলে আগস্ট থেকে ডিসেম্বর আর স্প্রিং সেশন চলে জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত।
ফিনল্যান্ডে মাস্টার্স প্রোগ্রাম ১.৫ থেকে ২ বছরের হয়ে থাকে আর এই প্রোগ্রামে আপনাকে সম্পন্ন করতে হবে ১২০ ক্রেডিট। আপনাকে অবশ্যই ৪ বছরের মধ্য মাস্টার্স কোর্স শেষ করতে হবে। আর ডক্টোরাল কোর্সে সময় দেওয়া হয়ে থাকে ৩ থেকে ৬ বছর। ডক্টোরাল সকল কোর্সের জন্য ইংরেজী ভাষাগত দক্ষতা বাধ্যতামূলক। মাস্টার্স বা ডক্টোরাল কোর্সে আবেদন করতে আপনার নূন্যতম IELTS Score 6.5 বা TOEFL- এ 550 Score থাকতে হবে।
ফিনল্যান্ডে ভর্তি আবেদন
সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবার তারিখের হের ফের হয়ে থাকে। তবে বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয় ডিসেম্বরে আর সেটা শেষ করতে হয় ফেব্রুয়ারির মধ্যে। তবে কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে মার্চ পর্যন্ত সম্য দিয়ে থাকে। আবেদন করার জন্য আপনাকে শরণাপন্ন হতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটের। প্রতিটি ফিনিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন প্রক্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর নির্ভর করে। আর আপনার প্রয়োজনীয় যোগ্যতাও বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়। আপনি চাইলে আবেদন করতে পারবেন অন-লাইনে (On Line). আবার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ডাক যোগে ফর্ম পাঠিয়ে দেয়। সেই নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে আবেদন করতে হয়। আপনার আবেদনের উপর ভিত্তি করে আপনাকে দেওয়া হবে অফার লেটার (Offer Letter)। আবেদন প্রক্রিয়ায় অনেক সময় বছর খানেক সময় লাগে। তাই, হাতে সময় নিয়ে আবেদন করা উচিত। ফিনল্যান্ডে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি জমা দিতে হতে পারে। তাই আগেই ওয়েব সাইট ঘেটে জেনে নিন আপনার নির্বাচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় সবকিছু।
আবেদন করতে মূলত প্রয়োজন পরবেঃ
১। সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র ও মার্কসীটের ইংরেজি ভার্সন
২। সর্বশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র
৩। ভাষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র
৪। রিকমেন্ডেশন লেটার
৫। মোটিভেশন লেটার
৬। পাসপোর্টের ফটোকপি
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে অন্যান্য ডকুমেন্টস লাগতে পারে।
Image Source: Internet
টিউশন ফি
ফিনল্যান্ডে কোর্স থেকে ভেদে পড়তে আপনাকে খরচ করতে হবে ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ ইউরো। এদেশে সাধারণত স্কলারশিপ প্রোগ্রাম বেশি নেই। এদেশে পড়ার জন্য সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ইরাসমাস মুন্ডাস।
ফিনল্যান্ডে আবাসন ও জীবনযাত্রা
ফিনল্যান্ডে থাকার জন্য স্টুডেন্ট এপার্টমেন্ট আছে। সাধারণত এসব এপার্টমেন্টেই শিক্ষার্থীরা থাকে। শেয়ারড এপার্টমেন্টও পাওয়া যায় এদেশে।
এদেশে জীবনযাত্রার একটি ব্যয়ের প্রাক্কলণ দেওয়া হলঃ
আবাসন বাবদ খরচঃ ২২০ – ২৪০ ইউরো
খাওয়া বাবদ খরচঃ ৮০ – ৯০ ইউরো
আনুষঙ্গিক ব্যয়ঃ ২০-৫০ ইউরো
স্বাস্থ্য বীমাঃ ২৫- ৭৫ ইউরো
Image Source: Internet
ভিসা নিয়ে যত কথা
ফিনিশ ভিসার জন্য আপনাকে যেতে হবে ইন্ডিয়া, কারণ ফিনল্যান্ডের এম্বেসী বাংলাদেশে নেই। এই দেশের ভিসা পেতে আপনার নিম্নোক্ত ডকুমেন্টস দরকার পড়বেঃ
১। পাসপোর্ট
২। ভিসা আবেদনের ফর্ম
৩। ভার্সিটির অফার লেটার
৪। পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি
৫। ব্যাংক স্ট্যাটমেন্ট
৬। ইনকাম এর উৎস
৭। টিউশন ফি পরিশোধের প্রমাণ
৮। ইন্স্যুরেন্স ও চাকুরির অভিজ্ঞতা (যদি থাকে)
আপনাকে ২ বছরের পারমিট এর জন্য আপনার নিজের একাউন্টসে ১৩,৪৪০ ইউরো দেখাতে হবে আর ১ বছরের পারমিট এর জন্য ৬৭২০ ইউরো দেখাতে হবে। আপনার থাকার ব্যয় যদি বিশ্ববিদ্যালয় বহন করে তাহলে ২৮০ ইউরো প্রতি মাসে, আর যদি আপনাকে নিজেকেই থাকা ও খাওয়ার খরচ বহন করে তাহলে প্রতি মাসে ১৯৫ ইউরো করে যত বছরের পারমিটের জন্য আবেদন করবেন তত দিনের দেখাতে হবে।
আপনার স্পন্সর যদি পিতা-মাতা হয়, তাহলে অতিরিক্ত কাগজপত্র দেখাতে হতে পারে। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, পিতা-মাতা ছাড়া অন্য কেউ স্পন্সর হবার সুযোগ নেই।
Image Source: Internet
ফিনল্যান্ডে পার্টটাইম জব
ফিনল্যান্ডে আপনি সপ্তাহে ২০ ঘন্টা কাজ করার সু্যোগ পাবেন। আবার সামারে আর উন্টারে পাবেন ফুল টাইম টাইম কাজ করার সুযোগ। অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী এই দেশে কাজ করার রয়েছে বিপুল সুযোগ। আবার ২০-৫০ ক্রেডিট সম্পন্ন করার পর আপনি Teachers’ Assistant হিসেবে আবেদন করতে পারবেন। তবে পার্ট টাইম চাকুরী করতে আপনাকে সুইডিশ ভাষা জানা থাকলে পাবেন অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা।
ফিনল্যান্ডে কোর্স শেষে চাকুরির সুযোগ ও স্থায়ী বসবাস এর সম্ভাবনা
ফিনল্যান্ডে ছাত্র হিসাবে থাকাকালে আপনাকে B Status-এ গণ্য করা হবে। এরপর চাকুরী শুরু করলে আপনাকে দেওয়া হবে A Status। আপনি যদি ৪ বছর A Status নিয়ে ফিনল্যান্ডে থাকেন তাহলেই আপনি বৈধ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এজন্য আপনার ভাষাগত প্রমাণপত্র ও চাকুরীর প্রমাণপত্র দিয়েই স্থায়ী নাগরিক হিসেবে ফিনল্যান্ডে থাকতে পারবেন।
Image Source: Internet
ফিনল্যান্ড ইউরোপের সমৃদ্ধ ও অপার সম্ভবনাময় এক দেশ। আপনি চাইলে নিজের সম্ভবনার খোঁজে আসতে পারেন ফিনল্যান্ডে।
আমেরিকায় পড়াশুনার জন্য প্রদত্ত অন্যতম সম্মানজনক ও খ্যাতমান স্কলারশিপ প্রোগ্রাম হল ফুলব্রাইট স্কলারশিপ প্রোগ্রাম। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সিনেটর জেমস উইলিয়াম ফুলব্রাইট সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫ সালে সিনেটে স্কলারশিপ দেওয়ার জন্য বিল উত্থাপন করেন এবং ১৯৪৬ সাল থেকে উনার নাম অনুসারে এই স্কলারশিপ প্রোগ্রাম চালু হয়।
আমেরিকায় পড়তে আসা প্রতিভাবান গবেষক, ইয়াং প্রোফেশন্যালদের এই স্কলারশিপ প্রদান করা হয়। ফুলব্রাইট স্কলারশিপ হোল্ডারের ৫৪ জন নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন আর ৮২ জন পেয়েছেন পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছেন।
স্কলারশিপ এর নাম
ফুলব্রাইট ফরেন স্টুডেন্ট প্রোগ্রাম।
যে যে বিষয়ে অধ্যয়ন করা যাবে
যুক্তরাষ্ট্রের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাস্টার্স এবং পিএইচডি ডিগ্রি লাভের সুযোগ পান।
বিজনেসের ক্ষেত্রে এমবিএ ইন হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট/ ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস/ অপারেশন্স ম্যানেজমেন্ট/ হেলথ কেয়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। আর বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতে- বায়োলজি/ কেমিস্ট্রি/ ফিজিক্স/ ফার্মাসি। ইকোনমিকসে-ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকস/ট্রেড অ্যান্ড ফিন্যান্স/পলিসি/এনভায়রনমেন্টাল/ন্যাচারাল রিসোর্সেস ইকোনমিকস। অ্যাডুকেশনে-হায়ার অ্যাডুকেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন/ অ্যাডুকেশন পলিসি, প্ল্যানিং এবং ম্যানেজমেন্ট/ কারিকুলাম অ্যান্ড ইনস্ট্রাকশন্স। অ্যানভায়রনমেন্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট, ফ্যাশন অ্যান্ড টেক্সটাইল ডিজাইন পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন/ পাবলিক পলিসি সাইকোলজি : ক্লিনিক্যাল/কাউন্সেলিং সিকিউরিটি স্টাডিজ, সোশ্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ-পলিটিক্যাল সায়েন্স/ সোশিওলজি/ হিস্টোরি/ লিটারেচার আরবান প্ল্যানিং : জেনারেল প্ল্যানিং/ল্যান্ড ইউজ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল প্ল্যানিং/ ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম/ আরবান/ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট।
দেশ এবং কর্তৃপক্ষ
United States Education Foundation (আমেরিকা)
বৃত্তির সুযোগ সুবিধাসমূহ
ফুলব্রাইট স্কলারশিপের আওতায় আপনি যা যা পাবেনঃ
১। আসা-যাওয়া বিমান ভাড়া ও অতিরিক্ত ব্যাগেজ অ্যালাউন্স
২। টিউশন এবং সংশ্লিষ্ট একাডেমিক ফি ও বুক এ্যালাউন্স
৩। হেলথ ও এক্সিডেন্ট ইনস্যুরেন্স
৪। ট্রাভেল ও বসবাসের জন্য মাসিক স্টাইপেন্ডসহ অন্যান্য
৫। আকস্মিক ব্যয়ের জন্য মাসিক স্টাইপেন্ড
আর এ খরচ বহন করা হয় পুরো কোর্স সময়কালে।
আবেদনের যোগ্যতা
ফুলব্রাইট স্কলারশিপের জন্য আপনার থাকতে হবে নিম্নোক্ত যোগ্যতাঃ
১। এই স্কলারশিপ মাস্টার্স প্রোগ্রামে দেওয়া হয়। তাই আপনার প্রয়োজন পরবে ৪- বছরের ব্যাচেলর ডিগ্রী ও খুব ভালো একাডেমিক প্রোফাইল থাকতে হবে।
২। পূর্বের কোন US ডিগ্রী থাকতে পারবে না। এমনকি তৃতীয় কোন দেশ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রী থাকলে তিনি এই স্কলারশিপ প্রোগ্রামের জন্য বিবেচিত হবেন না।
৩। কমপক্ষে দুই বছরের প্রফেশনাল জব এক্সপেরিয়েন্স থাকতে হবে।
৪। স্কলারশিপে আবেদন করতে কমপক্ষে TOEFL iBT স্কোর ৮০ বা IELTS স্কোর ৭.০ থাকতে হবে।
৫। ফুল ব্রাইটের জন্য আপনাকে বাংলাদেশী, ইংরেজীতে দক্ষ ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে।
৬। আবেদনের সময়ে বাংলাদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশী নাগরিক হতে হবে।
ফুলব্রাইট স্কলারশিপ প্রোগ্রামে আবেদনের জন্য আপনার বয়স হতে হবে ২৪ থেকে ৩০ বছর।
আবেদনের সময়সীমা
সাধারণত এপ্রিল-মে-জুন মাসে এই প্রোগ্রামের জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়। ফুলব্রাইট ফরেন স্টুডেন্ট প্রোগ্রামসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য ঢাকার আমেরিকান সেন্টারে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
Image Source: Internet
যেসকল দেশের প্রার্থীদের জন্য প্রযোজ্য
বাংলাদেশ সহ আরোও ১৬০ টি দেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থী ফুলব্রাইট স্কলারশিপ পেয়ে থাকে।
আবেদন প্রক্রিয়া
অনলাইনের মাধ্যমে আপনাকে আপনার প্রয়োজনীয় সকল ডকুমেন্টস ও ট্রান্সক্রিপ্ট স্ক্যান করে আপলোড করে আবেদন করতে হবে। সাধারণত এপ্রিল – মে মাসে আবেদন কার্যক্রম শুরু করতে হয়। তাই, এই সময়টা একটু ওয়েব সাইটে ঘুরে ঘুরে দেখতে হবে। আর সকল সময়ই আবেদন হাতে সময় রেখে করা উচিত।
ফুলব্রাইট স্কলারশিপ প্রোগ্রামের জন্য আপনাকে জমা দিতে হবেঃ
১। সকল একাডেমিক সার্টিফিকেট ও মার্কশীট
২। রিকমেন্ডেশন লেটার (৩ টি)
৩। একাডেমিক রিপোর্ট ফর্ম (ওয়েব সাইটে পাওয়া যাবে)
৪। সিগনেচার ফর্ম (ওয়েব সাইটে পাওয়া যাবে)
৫। IELTS/ TOEFL স্কোর
৬। GRE/ GMAT স্কোর (এই কম্পিটিটিভ টেস্টের রেজাল্টও জমা দিতে হবে। এই স্কোর আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রয়োজন। আর ভালো GRE/GMAT স্কোর থাকলে আপনি স্কলারশিপ পাওয়ার দৌড়েও এগিয়ে থাকবেন)
ℹ️ আর আবেদনের বিষয়ে বা কোন বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বাংলাদেশে অবস্থিত আমেরিকা সেন্টারের রেহানা সুলতানা’র সাথে মেইলে যোগাযোগ করতে পারেন, তার মেইল এড্রেসঃ sultanar1@state.gov
ফুল ব্রাইট স্কলারশিপ প্রোগ্রাম অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সম্মানজনক স্কলারশিপ। বেশ প্রতিযোগিতা পেড়িয়ে আপনাকে ছিনিয়ে নিতে হবে এই সম্মানজনক স্কলারশিপ প্রোগ্রাম। তাই, নিজেকে তৈরী করুন আর সব কিছু গুছিয়ে আবেদন করুন ফুল ব্রাইট স্কলারশিপের জন্য।
প্যারিসের ঘুরতে, দেখতে যাবার অথবা আইফেল টাওয়ারের সামনে বসে কফিতে চুমুক দেবার স্বপ্ন দেখেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া আসলেই মুসকিল। হ্যাঁ, আজ কথা বলছি ফ্রান্সের। পশ্চিম ইউরোপের সেনজেনভুক্ত দেশ ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস আর মুদ্রা ফ্র্যাঙ্ক, তবে এ দেশে ইউরো প্রচলিত। আর্ট, শিল্প সাহিত্যের আঁতুড় ঘর ফ্রান্সের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় আপনি সাহিত্য, শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রকৌশলসহ নানা বিষয়ে অধ্যয়ন করতে পারবেন। আর সেই পথ বাৎলে দিতে আমাদের আজকের আয়োজন। তাই, দেরী না করে এক বসায় পড়ে ফেলুন আজকের পর্ব।
Image Source: eurocentres.com
ফ্রান্সের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার মাধ্যম
ফ্রানের আন্তর্জানিক মানের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যেখানে আপনি লিটারেচার, হিস্ট্রি, ল’, স্যোশাল সাইন্স, বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন, ফিজিক্স, ম্যাথেমাটিকস, ইঞ্জিনিয়ারিং, ট্যুরিজম, ডিজাইন ক্রাফট, থিয়েটার ও ফিল্ম, ইন্সট্রুমেন্টাল মিউজিক, স্কাপচার, ড্রয়িং, পেইন্টিং, ফ্যাশন ডিজাইনিং, ব্যালেট ড্যান্স সহ নানাবিধ বিষয়ে অর্জন করতে পারবেন জ্ঞান।
বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ানোর মাধ্যম ফ্রেঞ্চ। তাই, এদেশে পড়তে চাইলে আপনাকে অব্যশই জানতে হবে ফেঞ্চ ভাষা। তবে, শুধু ফেঞ্চ নয়, অল্প পরিসরে হলেও ইংরেজীতেও এদেশে কোর্স অফার করা হয়ে থাকে। তাই আবেদনের সময় খেয়াল করবেন কোন ভাষায় পাঠদান করা হয়ে থাকে।
নিচে ফ্রান্সের কয়েকটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা দেওয়া হল। গুগল সার্চেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাড়ি নক্ষত্র জানতে পারবেন।
Université Paris 6 Pierre and Marie Curie
Université Paris Sud (Paris XI)
École Normale Supérieure Paris
Université Claude Bernard Lyon 1
Université de Bordeaux
Université Denis Diderot Paris 7
Université de Strasbourg
ফ্রান্সে অধ্যয়নের যোগ্যতা
আপনি ফ্রান্সে ব্যাচেলর, মাস্টার্স অথবা পিএইচডি- যে কোন প্রোগ্রামের জন্য পাড়ি জমাতে পারবেন। ব্যাচেলর প্রোগ্রামের জন্য অবশ্যই এইচ,এস,সি আর মাস্টার্সের জন্য ব্যাচেলর এবং পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য অবশ্যই আপনার মাস্টার্স ডিগ্রী থাকতে হবে।
আপনার কোর্স যদি ফ্রেঞ্চ ভাষায় হয়ে থাকে তাহলে আপনাকে ফ্রেঞ্চ ভাষায় দক্ষতার প্রমাণপত্র দিতে হবে। আর এজন্য আপনার যোগাযোগ করতে হবে Alliance Francaise আর করে ফেলতে হবে ফ্রেঞ্চ ভাষার উপর কোর্স। আপনাদের সহায়তার জন্য Alliance Francaise de Dhaka এর লিঙ্কটি হলঃ (https://www.afdhaka.org/)।
ইংরেজী ভাষার কোর্সের জন্য আপনাকে IELTS/ TOEFL পরীক্ষার সনদ দিতে হবে। ব্যাচেলরে আবদনের জন্য ন্যূনতম ৫.৫ চাওয়া হলেও ৬.০ থাকলে আপনার আবেদন গৃহীত হবার সম্ভবনা থাকে। আর মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করতে ৬.০ প্রয়োজন পড়বে আর ৬.৫ থাকলে আপনার ভিসা ও অন্যান্য সুবিধা পেতে সুবিধা হবে। আর TOEFL দিয়ে আবেদন করতে আপনাকে ব্যাচেলরে আবেদনের জন্য ৫৫০ আর মাস্টার্সের জন্য ৬০০ স্কোর অর্জন করতে হবে। তবে আপনার স্কোর বেশি থাকলে ভিসা আবেদনে আপনি এগিয়ে থাকবেন।
এখানে একটা কথা না বললেই নয়, অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আপনার ইংরেজী পারদর্শিতা যাচাই করার জন্য অনলাইন টেস্ট বা স্কাইপিতে ইন্টারভিয় নিয়ে থাকে।
Image Source: Internet
বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন প্রক্রিয়া
ফ্রান্সের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদনের সময়সীমা নির্ধারিত থাকে। এখানে বছরে তিনটি সেমিস্টার পড়ানো হয়ে থাকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সমূহঃ
এই সকল ডকুমেন্টস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর নির্ভরশীল। তাই, আবেদনের পূর্বে অবশ্যই সব কিছু বিচার বিশ্লেষণ করে নিতে ভুলবেন না।
টিউশন ফি
২০১৯ সালের তথ্য ও উপাত্ত অনুযায়ী, ফ্রান্সের লাইসেন্সড বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ব্যাচেলর কোর্সে পড়তে আনুমানিক ২৭৭০ ইউরো/ প্রতি বছর আবার, মাস্টার্স কোর্সে পড়তে প্রয়োজন পড়বে ৩৭৭০ ইউরো / প্রতি বছর। ডক্টোরাল কোর্সের জন্য লাগবে ৩৮০ ইউরো/ প্রতি বছর। তবে এই হিসাব নিকাষ বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
আপনার আবেদন গৃহীত হলে আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত টিউশন ফি প্রদান করতে হবে।
স্কলারশিপ বৃত্তান্তঃ
ফ্রান্সে সরকারী ও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক বিভিন্ন স্কলারশিপের সুযোগ রয়েছে। এসব স্কলারশিপে আংশিক বা পুরো টিউশন ফি মওকুফ হতে পারে। কিছু কিছু স্কলারশিপে মাসিক ভাতাও প্রদান করা হয়ে থাকে।
এসব স্কলারশিপ খুঁজতে আবেদন করতে হবে নিচের লিঙ্কের মাধ্যমেঃ
ফ্রান্সে ভিসার ক্ষেত্রে ব্যাংকে আপনাকে ১০ থেকে ১৫ হাজার ইউরো দেখাতে হবে। যে ব্যক্তি আপনাকে ব্যাংক স্পন্সরশিপ বহন করবেন, সে যদি প্রথম রক্তের সম্পর্কের অভিভাবক হন, তাহলে ভিসার ক্ষেত্রে আপনি সুবিধা পাবেন। এছাড়া অন্য যে কোন অভিভাবক আপনাকে স্পন্সর করতে পারবে। কিন্তু সেক্ষেত্রে আপনাকে সঠিক কাগজপত্র ও প্রমাণাদি এম্বাসীতে জমা করতে হবে। আপনি চাইলে নিজের নামেও ব্যাংকে টাকা দেখাতে পারেন। ভিসা পাবার পর আপনি চাইলে এই টাকা যেকোন সময় তুলে নিতে পারবেন। তবে মনে রাখবেন, ফ্রান্সে প্রবেশকালে ইমিগ্রেশনে আপনাকে ব্যাংক সলভেন্সি পেপার দেখানোর জন্য অনুরোধ করতে পারে। সুতরাং, যাত্রার সময় সলভেন্সি পেপার আপনার সাথেই রাখবেন।
ভিসা আবেদন পর্ব
ভিসার জন্য প্রথমে এম্বাসীতে ই-মেইল করে এপন্টমেন্ট নিতে হবে। সকল কাগজপত্র সহকারে এম্বাসীতে উপস্থিত হলে ওই দিনই দ্বিতীয়বারের জন্য আরেকটি এপন্টমেন্ট দেওয়া হবে। ভিসার সকল কাগজপত্র জমা দেবার পর আপনাকে কমপক্ষে তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে ভিসা পাবার জন্য।
Image Source: Internet
সাধারণত যে সকল কাগজপত্র ভিসার জন্য জমা করতে হবে তা নিচে দেওয়া হল। তবে এম্বেসীতে যোগাযোগ করে আপনাকে অবশ্যই চেকলিস্টটা আরেক বার দেখে নিতে হবে, কারণ এম্বেসী অনেক সময় তাদের চেকলিস্ট পরিবর্তন করে থাকে।
১। পাসপোর্ট (অবশ্যই ৬ মাসের অধিক মেয়াদ থাকতে হবে)
৩। ফ্লাইট বুকিং টিকেট (এটা করতে কোন টাকা লাগে না, শুধু বুকিং দিবেন)
৪। ভিসা অ্যাপ্লিকেশান ফি বা স্কলারশিপ লেটার (যদি পেয়ে থাকেন)
(স্কলারশিপ প্রাপ্তদের ফি লাগে না)
৫। হেলথ ইস্যুরেন্স (যতদিন এর কোর্স ততদিনের করতে হবে)
৬। জন্ম নিবন্ধন
৭। সিভি/রিজিউমি
৮। সকল একাডেমিক ডকুমেন্টস
৯। ইউনিভার্সিটির অফার লেটার
১০। ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সল্ভেন্সি (যিনি আপনার সকল খরচ বহন করবেন তার অর্থাৎ স্পন্সরের)
১১। হাউজিং সার্টিফিকেট/ ডকুমেন্ট (যদি ফ্রান্সে কোন আত্মীয়ের বাসাকে হাউজিং এর জন্য দেন তাহলে ঐ শহরের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সত্যায়িত উনার/উনাদের বাসার সকল কন্ট্রাক্ট পেপার দেখাতে হবে)
১২। স্পন্সরের জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট কপি, যা দ্বারা আপনার সাথে উনার সম্পর্ক কি টিউশন ফি পরিশোধের কপি/প্রমাণ
১৩। IELTS/ TOEFL/ফ্রেঞ্চ ভাষা দক্ষতার সার্টিফিকেট (Alliance Française Certificates)
১৪। ট্রেনিং সার্টিফিকেট (যদি লাগে)
১৫। কাজের অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট (যদি লাগে)
আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয়
ফ্রান্সে থাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব হোস্টেল রয়েছে। আপনি চাইলে পেইং গেস্ট অথবা শেয়ারিং এপার্টমেন্ট থাকতে পারবেন। এদেশে থাকা খাওয়ার জন্য আপনাকে মাসে খরচ করতে হবে ৪০০-৬০০ ইউরো। তবে এই খরচ পুরোটাই আপনার উপর নির্ভর করে। মেডিকেল ইনস্যুরেন্স বাবদ আপনার খরচ করতে হবে ৪২ ইউরো/ প্রতি জন/ প্রতি মাস।
Image Source: Internet
পার্ট টাইম জব
ফ্রান্সে বিদেশী শিক্ষার্থী হিসেবে আপনি সপ্তাহে ২০ ঘন্টা কাজ করার সুযোগ পাবেন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ফ্রেঞ্চ সরকার বিদেশী নাগরিকদের বছরে ৯৬৪ ঘন্টা কাজ করার অনুমতি প্রদান করে।
ফ্রান্সে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ
পড়াশুনা শেষ করার পর আপনি ফান্সে ১ বছর জব খোঁজার জন্য সময় পাবেন। আর আপনি যদি হয়ে থাকেন তরুণ গবেষক, কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা বা ইনোভেটিভ ইকোনমিক প্রোজেক্টের ডিজাইনার, ফ্রেঞ্চ টেক প্রোগ্রামের অংশ গ্রহণকারী, আর্টিস্ট, উচ্চ পর্যায়ের অ্যাথলেট তাহলে আপনার জন্য ইস্যু করা হবে Plurennial Residence Card (“Passeport Talent”) – এই কার্ডটির আওতায় আপনি ও আপনার পরিবারকে ৪ বছরের ভিসা দেওয়া হবে, আর এই সময়ে আপনি চাকুরী করতে পারবেন।
ফান্সে একটানা ৫ বছর বৈধভাবে থাকার পর শর্ত সাপেক্ষে স্থায়ী বসবাসের (পিআর) জন্যে আবেদন করতে পারবেন। সব শর্ত রক্ষিত হলে পেয়ে যাবেন ফ্রান্সের নাগরিকত্ব।
Image Source: Internet
ফ্রান্স একাধারে আধুনিক কিন্তু সম্ভ্রান্ত ও প্রাচীন। ফ্রান্স ইঞ্জিনিয়ার, শিল্পী বা সাহিত্যিকদের জন্য যেন কাঙ্ক্ষিত ও আরাধ্য স্থান। তাই, বসবাস ও পড়াশুনার জন্য ফ্রান্স এত বেশি লোভনীয়।
বিদেশের ব্যয়বহুল শিক্ষাব্যবস্থার সাথে আমাদের মানিয়ে নিতে দ্বারস্থ হতে হয় শিক্ষাবৃত্তি বা স্কলারশিপের। যদি স্কলারশিপ না নিয়ে আপনি যদি শুধু পার্ট- টাইম চাকরি করে পড়াশুনার খরচ নির্বাহ করতে চান- তাহলে ভালো ফলাফল করা সম্ভব হয়ে ওঠে না । তাই, যদি নিজের বা পিতামাতার অর্থে পড়াশুনার পুরো ব্যয় নির্বাহ করা না যায়, তাহলে স্কলারশিপ হবে আপনার জন্য সবচেয়ে উত্তম পাথেয়। আর বর্তমান দ্রুতগতির ইন্টারনেটের যুগে আপনি ঘরের মধ্যে বসেই সব খবরা-খবর পেতে পারেন – চোখের নিমেষে। এবং নিজের মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জন করে নিতে পারেন স্কলারশিপ। চলুন আমরা আজ এক এক করে জেনে নেই শিক্ষাবৃত্তি লাভের যাবতীয় কলা-কৌশল।
Image Source: pixabay.com
স্কলারশিপের প্রকারভেদ
বিদেশে আসলে দুইধরণের স্কলারশিপ পাওয়া যায়, যথাঃ
১। সরকারি কিম্বা রাষ্ট্রীয় স্কলারশিপ
২। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক স্কলারশিপ
ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক স্কলারশিপগুলোর তথ্য জানতে আপনাকে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবপেজ ঘাটতে হবে। এছাড়া সরকারি স্কলারশিপ তো আছেই। জনপ্রিয় সরকারি স্কলারশিপগুলো হলঃ কমনওয়েলথ স্কলারশিপ, ডাড, বিকে-২১, মনবুকাগাকুশো সহ ইত্যাদি।
আপনাদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন দেশের কিছু গুরুত্ব ওয়েবসাইটের URL দেওয়া হলঃ
স্কলারশিপ অর্জনের জন্য প্রথমত আপনাকে যথেষ্ঠ সময় ইন্টারনেটে ব্যয় করতে হবে। বিভিন্ন তথ্য জনাতে আপনাকে গুগলের সহযোগিতা নিতে হবে। আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে প্রোগ্রামে যাচ্ছেন, সে সব তথ্য ওয়েবসাইট ঘেটে বের করে নিতে হবে। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন কোন স্কলারশিপ প্রোগ্রাম আছে সেগুলো দেখতে হবে। সাথে বিশ্ববিদ্যালয়টি যেখানে অবস্থিত সেখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে কি কি স্কলারশিপ দেওয়া হয়, সেগুলোকেও ভুলে গেলে চলবে না। প্রতিদিন আপনাকে ১০-১৫ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ঘুরে স্কলারশিপ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্ত্তি কর্মকর্তাকেও মেইল করে রাখতে পারেন। স্কলারশিপের জন্য কি কি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে- সেটা খুঁজে দেখতে হবে। CGPA কত প্রয়োজন, আর GRE/ GMAT/ SAT/ CAT এ কত স্কোর লাগবে – সবটা খুঁটে খুঁটে দেখতে হবে।
Image Source: pixabay.com
হ্যাঁ, বুঝছি- এই কাজটি রীতিমত বিরক্তিকর, যখন পর্যাপ্ত ও আশানুরূপ তথ্য পাওয়া যাবে না তখন বিরক্তি চরমে উঠবে। কিন্তু মজার ব্যাপার হল, আপনি তথ্য যত জানতে পারবেন ততই আপনি এগিয়ে থাকবেন। আর যখন বিদেশে পাড়ি জমাবেন, দেখবেন আপনি যা যা ঘেটে বের করেছেন সবটাই বাস্তবের সাথে মিলে গেছে। তাই, হাল ছেঁড়ো না বন্ধু, বরং খোঁজ চালাও জোরে – সফলতা আসবেই।
CGPA বিভ্রাটঃ কম/বেশি বিষয় না, চেষ্টা করতে হবে
ভালো CGPA স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য সহায়ক। আপনার আন্ডারগ্রাজুয়েটের CGPA আপনাকে অনেকটা এগিয়ে নিয়ে যাবে। আপনার CGPA ৩.৭৫ এর উপরে থাকলে আপনার আবেদনকে যথেষ্ঠ মূল্যায়ন করা হবে। আপনার পরিশ্রম বৃথা যাবে না। কিন্তু কম CGPA দিয়ে কিছু হবে না- আপনি কোন স্কলারশিপ পাবেন না, এই ধারণার এখন কোন ভিত্তি নেই। এমনকি আপনার CGPA ৩.০ এর কম হলেও আপনার পরিশ্রম ও লেগে থাকার ক্ষমতা এনে দিবে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। একজন শিক্ষার্থী আন্ডারগ্রাজুয়েটের সময় যে পরিশ্রমটা করেছে, স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য আপনাকে এখন সেই পরিশ্রমটা করতে হবে। পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই।
Image Source: pexels.com
আপনি চাইলে Corsera থেকে করে নিতে পারেন সংশ্লিষ্ট কিছু অন-লাইন কোর্স। দক্ষতা অর্জনের জন্য শিখে নিতে পারেন কিছু Software, যেমনঃ SPSS, Matlab, Solid works, CAD সহ ইত্যাদি। শিখে নিতে পারেন প্রোগ্রামিং ভাষা, যেমনঃ Python,php, Java সহ অন্যান্য। চিন্তা কি ? আপনি চাইলে ফ্রী কোর্সও করতে পারেন। এছাড়া পেইড কোর্স তো আছেই। Udemy, Youtube থেকে শুরু করে Standford বিশ্ববিদ্যালয়ও অন-লাইনে কোর্স অফার করে।
এছাড়া ভালো GRE/ GMAT স্কোর ও TOFEL/ IELTS ব্যান্ডস্কোর ক্ষতি পোষাতে অনেক সহায়ক হবে। তাই, CGPA খারাপ মানেই সব শেষ না বরং নতুন করে শুরু।
গবেষণা পত্র বা পাবলিকেশন্স
স্কলারশিপ পেতে গবেষণাপত্র বা Publications খুব কার্যকর ভুমিকা রাখে। যদি ভাল Peer Review Journal এ আপনার কোন Publication থাকে, তবে আপনার পোর্টফলিও আরও ভালো ও কার্যকরী হবে। তাই, Publications এ গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরী।
Image Source: pixabay.com
এই ক্ষেত্রে একটি বিষয়ে উল্লেখ্য, যারা মাস্টার্স প্রোগ্রামে যাচ্ছেন তাদের জন্য গবেষণ পত্র না থাকলেও কিছুটা ছাড় পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু পিএইচডি প্রোগ্রামে আপনার গবেষণা পত্র থাকা একান্তই বাধ্যতামূলক। পিএইচডি প্রোগ্রামে আপনার দেশী বা বেদেশী মাস্টার্স থাকতে হবে এবং থিসিস ও প্রকাশনা থাকতে হবে। যদি দেশীয় কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেন এবং আপনার কোন থিসিস নেই, সে ক্ষেত্রে আপনাকে বিদেশে গিয়ে আবার মাস্টার্স করতে হবে।
ইন্টার্নশিপ বা চাকরির অভিজ্ঞতা
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে যে বিষয়ে পড়তে যেতে চান, সেই ক্ষেত্রে ইন্টার্নশিপ বা চাকরির অভিজ্ঞতা থাকলে তা ভর্তি ও স্কলারশিপ পেতে বেশ কার্যকর। বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষ থেকেই নিজের ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ খুঁজে বের করুন।
প্রফেসর/সুপারভাইজার অনুসন্ধানঃ কিভাবে খুঁজবেন?
বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসরগণ সর্বেসর্বা। তারা রিকমেন্ড করলে ভর্ত্তি থেকে শুরু করে স্কলারশিপ সবই সহজ হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, প্রফসরের হাতে থাকে ফান্ড – থাকে TA/RA প্রদান করার ক্ষমতাও। তাই যদি প্রফেসর সদয় হন, তাহলে সকল মুশকিল আহসান।
প্রফেসরের সাথে যোগাযোগ করার উপায় হল ইমেইল লেখা। তাই আপনাকে ইমেইলের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতা তুলে ধরতে হবে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে আপনি প্রফেসরের ই–মেইল এড্রেস পাবেন কি করে?
সাধরণতঃ বিভিন্ন জার্নালে প্রফেসরের মেইল এড্রেস পাওয়া যাবে। তাই প্রফেসরের নাম লিখে গুগল স্কলারে সার্চ করলে তার জার্নালগুলো পাওয়া যাবে। আর সেখান থেকে তার ই-মেইল এড্রেস পাওয়া যাবে। শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটেও খোঁজ মিলবে প্রফেসরের মেইল এড্রেস।
দেশের বাইরে অধিকাংশ প্রোগ্রাম গবেষণাধর্মী। তাই, আপনি গবেষণাগার বা Lab – এর ওয়েব সাইট ঘেটেও পেতে পারেন প্রফেসরের সন্ধান ও তার বায়োডাটা। Lab এর ওয়েব পেজে Members / Team নামে অপশন থাকে সেখানে আপনি আপনার প্রফেসরকে পেতে পারেন।
Image Source: pixabay.com
প্রফেসর খোঁজার আরো একটি উপায় হলঃ এই লিংকে ব্রাউজ করে [ http://www.4icu.org/ ] আপনি পৃথিবীর সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ধান পাবেন। এবার দেশ, তারপর বিশ্ববিদ্যালয় তারপর সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রফেসর খুঁজে তার রিসার্চ ইন্টারেস্ট, মেইল, মোবাইল থেকে তার সম্পূর্ণ বায়োডাটা পাওয়া যাবে।
পরবর্তী কাজ হল, এই জার্নালগুলো ভালো করে স্টাডি করা। এরপর প্রফেসরের Interest Area এর সাথে মিল রেখে রিসার্চ প্রপোজাল লিখে তাকে মেইল করতে হবে। এভাবেই প্রফেসরকে নিজের ব্যাপারে উৎসাহিত করতে হবে এবং অর্জন করতে হবে শিক্ষাবৃত্তি।
প্রফেসরকে মেইল করার ব্যাপারে আপনার নিম্নোক্ত বিষয় গুল মাথায় রাখতে হবেঃ
১। First Impression is the last impression – এই প্রবাদটা ভুলে গেলে চলবে না। তাই প্রফেসরকে আপনি প্রথম যে মেইলটি পাঠাবেন তা হতে হবে নির্ভুল ও মার্জিত। মেইল অযথা বড় করবেন না। বড় ও অপ্রয়োজনীয় লেখা পড়ার সময় প্রফেসরের থাকে না।
২। শুধু মেইল নয়, তার সাথে সংযুক্ত করুন আপনার সিভি বা জীবন বৃত্তান্ত এবং রিসার্চ প্রপোজাল। এই রিসার্চ প্রপোজাল পাঠানোর আগে আপনার প্রফেসরের রিসার্চ এরিয়া ও রিসার্চ ইন্টারেস্ট ভাল করে জেনে নিতে ভুলে যাবেন না। এই ক্ষেত্রে একটা জিনিস মনে রাখা উচিত, রিসার্চ প্রপোজাল একটি Unpublished লেখা, যা সহজেই নকল হতে পারে। তাই রিসার্চ প্রপোজাল মেইল করার সময় প্রফেসরের অফিসিয়াল মেইলে উক্ত প্রপোজালটি পাঠানো উচিত এবং রিসার্চ প্রপোজালের কপি সংরক্ষণ করা উচিত।
৩। মেইলের প্রথমেই ফান্ড নিয়ে কথা বলা শোভনীয় নয়। অসামঞ্জস্যপূর্ণ রিসার্চ প্রপোজাল দিয়েও কোন কাজ হবে না। আবার, বার বার মেইল করে প্রফেসরকে বিরক্ত করাও বাঞ্ছনীয় নয়। যদি ২/৩ সপ্তাহের মধ্যে প্রফেসর ফিরতি মেইল অর্থাৎ রিপ্লাই না দেয়, তবে “ফলাফল শূন্য” ধরে নিয়ে পরবর্তী প্রফেসর খোঁজায় মন দিতে হবে।
ল্যাংগুয়েজ প্রফিসিয়েন্সি ও অন্যান্য
ভাষাগত দক্ষতা প্রমাণের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় পরীক্ষা IELTS (International English Language Testing System), যেখানে Listening, Reading, Writing and Speaking- এর পরীক্ষা নেওয়া হয়। মোট ব্যান্ড স্কোর থাকে ৯.০ তবে স্কলারশিপ পেতে ৭.০ স্কোর প্রয়োজন হয়। তবে কোন সেকশনেই ৬.৫ স্কোরের নিচে পাওয়া যাবে না । IELTS এর মত TOEFL (Testing of English as a Foreign Language) এ Listening, Reading, Writing and Speaking- এই চার সেকশনে পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং প্রতি সেকশনে ৩০ করে মোট ১২০ পয়েন্টের পরীক্ষা নেওয়া হয়।
Image Source: pixabay.com
আপনার প্রজ্ঞা নিরীক্ষার জন্য সাধারনত বসতে হবে GRE (Graduate Record Examination), GMAT (Graduate Management Admission Test), অথবা, CAT (Common Admission Test) – যেখানে Verbal ও Quant এই দুই সেকশনে পরীক্ষায় বসতে হবে। GRE পরীক্ষার পূর্ণ মান ৩৪০, GMAT এর স্কেল হল ৮০০ এবং CAT নেওয়া হয় ৩০০ মার্কস এর মধ্যে। নর্থ/সাউথ আমেরিকান কান্ট্রিগুলোর জন্য GRE মাস্ট! GRE ছাড়া স্কলারশিপের কথা ভাবতেই পারবেন না।
বিশেষ গুণ (Co-Curricular Activities):
স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য শুধু পড়াশনা নয়,বরং সব ধরণের যোগ্যতা প্রয়োজন। বাইরের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায়ই খেলাধুলা বা অন্যান্য বিশেষ গুণাবলীর জন্যে টিউশন ফি তে খানিকটা ছাড় দেওয়া হয়। অনেক সময় খেলাধুলা বা বিশেষ কোন ভাষার ওপরেও দেওয়া হয় স্কলারশিপ। এছাড়াও কিছু নির্দিষ্ট দেশ রয়েছে, যেমন- জাপান, যারা নিজেদের ভাষাকে খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে আর সেজন্যেই নিজেদের ভাষাতে পারদর্শী শিক্ষার্থীদেরকে স্কলারশিপের জন্যে সুযোগও দেয়। সেক্ষেত্রে CGPA -এর পাশাপাশি নিজেকে দক্ষ করে তুলুন সেই ভাষা, খেলা অথবা অন্যকিছুতে। ভাষা শেখার ক্ষেত্রে কখনোই দেরি করবেননা। প্রথমে বিদেশে গিয়ে তারপর ভাষায় দক্ষ হওয়াটা একেবারে অসম্ভব না হলেও বেশ কষ্টসাধ্য। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্যে তো আরো কষ্টের। আর তাই বাইরে পড়তে যাবার আগেই যে ভাষাটি শিখতে চান, শিখে ফেলুন। এক্ষেত্রে, ইন্সটিটিউট অব মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজ বা আইএমএল তো রয়েছে। এছাড়াও আছে ব্রিটিশ কাউন্সিল, আলিয়স ফ্রেসেজসহ আরো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান যারা আপনাকে বিদেশি ভাষার ওপর দক্ষ হতে সাহায্য করবে।
মোটিভেশন লেটার ও বায়োডাটা
প্রফেসরের সাথে যোগাযোগ করা ও তাকে নিজের ব্যাপারে উৎসাহিত করতে প্রয়োজন মোটিভেশন লেটার। দু’জন দুই ভুবনের মানুষের মাঝে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য মোটিভেশন লেটারের বিকল্প নেই। তাই মোটিভেশন লেটার হতে হবে মার্জিত, সংক্ষিপ্ত ও অনুপ্রেরণামূলক।
আবার অনেক সময় প্রফেসরকে মুগ্ধ করতে জীবন বৃত্তান্ত সংযুক্ত করতে হয়। এক্ষেত্রে জীবন বৃত্তান্তে নিজের সব ধরণের অভিজ্ঞতার বিবরণ তুলে ধরতে হবে।
আবেদন প্রক্রিয়াঃ কোথায় এবং কিভাবে করতে হবে?
SOP (Statement of Purpose) থেকে Motivation Letter সব যোগাড়-জন্ত হলে পরের কাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব পোর্টালে আবেদন করা। International Scholarships গুলোকে গুগলে সার্চ করলে মিলবে আবেদন করার লিংক। এছাড়া বাংলাদেশ সরকারের ওয়েব পোর্টালেও সকল স্কলারশিপের যাবতীয় তথ্য থাকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাইটে সার্কুলার আসে মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে। তাই তখনি ওয়েব সাইটগুলোত শ্যেন দৃষ্টি রাখতে হবে।
স্কলারশিপ পাওয়া কোন জটিল প্রক্রিয়া নয়। যদি ধৈর্য্য সহকারে সব কাজ করে গেলে আপনিও অর্জন করতে পারবেন স্কলারশিপ বা শিক্ষাবৃত্তি। তাই এখনি শুরু করেন আপনার প্রস্তুতি।
ইউরোপ- পাশ্চাত্যের জ্ঞানের সাগর, পাশ্চাত্যের কেন্দ্রস্থল। ইউরোপ ভ্রমণের স্বপ্ন দেখেননি, এমন মানুষ কি আদৌ আছে? অনেকে আবার রীতিমত ইউরোপের জ্ঞানের সাগরে ডুব দেবার স্বপ্ন দেখেন। ইউরোপের পাড়ি জমানোর রাস্তা সহজ করতে তাই আজ আমরা আলোচনা করবো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তর যেদেশে অবস্থিত সেই দেশ- বেলজিয়াম নিয়ে। বেলজিয়াম মূলত পশ্চিম ইউরোপের দেশ। সুন্দর এই দেশে আবেদনের বিস্তারিত এখন জেনে নেওয়া যাক- তাহলে চলুন শুরু করি।
Image Source: pixabay.com
দেশ পরিচিতি – বেলজিয়াম
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বেলজিয়াম ইউরোপের ছোট ও ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। ৩০,৬৮৯ বর্গ কিলোমিটারের এই দেশে বসবাস করে ১ কোটি ১৪ লক্ষ লোকের বসবাস (২০১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী)। ১৮৩০ সালে স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস, মুদ্রা ইউরো ও এই দেশের অফিসিয়াল ভাষা তিনটি- ফ্রেঞ্চ, ডাচ ও জার্মান। অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এই দেশের ৩৯০.২ বিলিয়ন ইউরো। শীতকালের গড় তাপমাত্রা ৩.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস আর গ্রীষ্মকালের গড় তাপমাত্রা ১৮.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। মূলত বেলজিয়াম শীত প্রধান দেশ ও আটলান্টিক সাগরের কারণে এই দেশে বাতাসের আদ্রতা বেশি।
বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স নির্বাচন
বেলজিয়ামে বিশ্বমানের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এখানে পড়াশুনার মাধ্যম হল ডাচ। এদেশে ব্যাচেওর প্রোগ্রাম সাধারণত ডাচ ভাষাতেই পরিচালিত হয়। কিন্তু মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রাম ইংরেজী মাধ্যমে অফার করা হয়ে থাকে। এই সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল, পরিবেশ বিজ্ঞান, মেডিকেল সাইন্স সহ ব্যবসায় প্রশাসনের বিভিন্ন কোর্স অফার করা হয়ে থাকে। এজন্য আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়েবসাইট খুঁজতে হবে- আর বাছাই করে নিতে হবে আপনার পছন্দের কোর্স।
আপনাদের সুবিধার্থে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নিচে দেওয়া হলঃ
ইংরেজী মাধ্যমে পড়তে আপনাকে IELTS পরীক্ষা দেবার প্রয়োজন পড়বে। আপনাকে IELTS-এ অর্জন করতে হবে ন্যূনতম ৬.০ থেকে ৬.৫ । যদি আপনি ৬.৫ পান তাহলে আপনার আবেদন সহজেই গৃহীত হবে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে আপনার পূর্ব ডিগ্রী (যেমনঃ ব্যাচেলর)-এ আপনার Medium of Instruction যদি ইংরেজী হয় তাহলে আপনি IELTS ছাড়াই আবেদন করতে পারবেন।
ডকুমেন্ট সত্যায়ন
সকল একাডেমিক কাগজপত্র সত্যায়িত করতে হবে যথাক্রমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বেলজিয়াম এম্বেসী কনস্যুলেট দ্বারা।
ঢাকা বেলজিয়াম কনস্যুলেটরের ঠিকানা নিচে দেওয়া হলঃ
Honorary Consulate Dhaka
ACI Centre – 245 Tejgaon Industrial Area, 1208 Dhaka Bangladesh
ভর্তির জন্য প্রথমেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট থেকে Admission Office এ যোগাযোগ করে মেইল এর মাধ্যমে সকল বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করুন। সেই অনুযায়ী কাগজপত্র গুছিয়ে ফেলতে হবে আর আবেদন করতে হবে। আর প্রয়োজনীয় সকল ডকুমেন্টস বেলজিয়ামের কনস্যুলেটর মহোদয়ের কাছ থেকে সত্যায়িত করে আনতে হবে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে হয় ডাকযোগে- সেক্ষেত্রে হাতে সময় নিয়েই আবেদন করতে হবে। আবার যদি বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইন আবেদন গ্রহণ করে, তাহলে তো কথাই নেই স্ক্যান করে ডকুমেন্টস দিয়ে আবেদন করে ফেলুন।
আপনার কাগজপত্র সব ঠিক ঠাক থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে পাঠিয়ে দিবে Acceptance Letter. এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের Dutch Language Centre-এ আবেদন করতে হবে (যদি ডাচ মাধ্যমে পড়তে চান)। ডাচ ভাষা শেখার জন্য আপনাকে ২৫০০ থেকে ৪০০০ ইউরো খরচ করতে হবে। Dutch Language Centre থেকেও আপনাকে একটি Acceptance Letter পাঠাবে। যদি ইংরেজী মাধ্যমে পড়াশুনা করতে চান তাহলে IELTS এর কপি দিলেই চলবে।
এবার এই দুইটি Acceptance Letter পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে ব্যাংক একাউন্টস নাম্বার প্রদান করবে টিউশন ফি প্রদান করার জন্য। তারপরেই আপনাকে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
Image Source: pixabay.com
এডমিশনের জন্য যেসকল কাগজপত্র আপনাকে প্রেরণ করতে হবে তার একটি লিস্ট নিচে দেওয়া হল।
১। পূরণকৃত আবেদন ফর্ম
২। পরিচিতি ডকুমেন্ট
৩। সকল সার্টিফিকেট ও মার্কশীট
৪। মোটিভেশন লেটার/ সিভি/ রেফারেন্স লেটার
৫। আইইএলটিএস / মিডিয়াম অফ ইন্সট্রাকশন সার্তফিকেট
টিউশন ফি
বেলজিয়ামে বার্ষিক টিউশন ফি ৮৩৫ ইউরো থেকে ৯০০০ ইউরো পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই ফি বিষয় ও বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে তৃতীয় বিশ্বে দেশের জন্য বিশেষ কিছু ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এই সকল তথ্যাদি আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে পেয়ে যাবেন।
এই দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন স্কলারশিপের সুযোগ রয়েছে- আর এই সকল স্কলারশিপগুলো আংশিক বা পুরো টিউশন ফি সহ মাসিক ভাতা দিয়ে থাকে। এই সকল তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে স্কলারশিপ সেকশনে পেয়ে যাবেন।
আর্থিক সচ্ছলতার প্রমান/ব্যাংক সলভেন্সি
ব্যাংক সলভেন্সির জন্য আপনাকে নিজে একাউন্টসে (৬৭০ ইউরো x ১২) = ৮০৪০ ইউরো রাখতে হবে। যাতে ঐ দেশে দিয়ে থাকা খাওয়া হেলথ কেয়ার নিয়ে কোন সমস্যায় পড়তে না হয়।
ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া
বাংলাদেশে ভিসা কনস্যুলেট থাকলেও ভিসা অফিস নেই। তাই ভিসার জন্য আপনাকে যেতে হবে ইন্ডিয়ার দিল্লীতে। ইন্ডিয়ায় অবস্থিত ভিসা অফিসের ঠিকানা নিচে দেওয়া হলঃ
Embassy New Delhi
50-N Shantipath, Chanakyapuri, 110021 New Delhi, India.
T: +91 11 424 280 00 – Embassy
T: +91 11 424 280 40 – Visa matters every working day between 11.30am and 1pm (check status of applications in process)
Mail: newdelhi.visa@diplobel.fed.be
newdelhi@diplobel.fed.be
newdelhi.visa@diplobel.fed.be (visa)
F: +91 11 424 280 02
Opening hours:
The embassy is open to the public from Monday to Friday between 9am and 1pm and between 1.30 and 5pm.
ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের চেকলিস্ট নিচে দেওয়া হলঃ
১। পূরণকৃত আবেদন ফর্ম ও সাথে সংযুক্ত পাসপোর্ট সাইজের ছবি
২। পাসপোর্ট (১ বছরের ভ্যালিডিটি থাকতে হবে)
৩। অফার লেটার
৪। সিভি বা জীবন বৃত্তান্ত/ মোটিভিশন লেটার
৫। সকল সার্টিফিকেট ও মার্কশীট
৬। আইইএলটিএস কপি
৭। ব্যাংক সলভেন্সি ডকুমেন্টস (ইনকাম ট্যাক্স ও আয়ের উৎস)
৮। টিউশন ফি পেমেন্ট-এর কপি
৮। মেডিকেল সার্টফিকেট
৯। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (আপনার বয়স ২১ বছরের বেশি হলে)
Image Source: pixabay.com
আবাসন ব্যবস্থা এবং জীবন যাত্রার ব্যয়
বেলজিয়ামে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রায় হোস্টেল সুবিধা রয়েছে। তবে আপনি বাইরে থাকতে চাইলে তাও পাবেন। শেয়ারড কিম্বা সিঙ্গেল ফ্লাট সব সুবিধাই রয়েছে এই দেশে।
বেলজিয়ামে থাকা খাওয়ার বাবদ ৪০০-৮০০ ইউরো খরচ হবে। তবে এই খরব ব্যক্তি বিশেষের উপর নির্ভর করে। আপনার রুচি ও জীবনযাত্রা ও কোথায় কিভাবে আছেন তার উপরে এই খরচ ১০০০ ইউরোর উপরেও যেতে পারে।
পার্ট টাইম জব
ইউরোপের এই দেশে আপনি সপ্তাহে ২০ ঘন্টা পার্ট টাইম চাকুরী করার সুযোগ পাবেন। আর সামারে চাইলে পুরো দস্তুর কাজ করার সুযোগ পাবেন। বেলজিয়ামে যদিও অফিসিয়ালি ৩ টি ভাষা আছে, তবে ডাচ ভাষার প্রাধান্য বেশি। আর এই ডাচ ভাষা জানা না থাকলে আপনার পার্ট টাইম চাকুরীর আশা অনেকটাই গুড়ে বালি।
কোর্স শেষে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ
বেলজিয়ামে একটানা ৫ বছরের বেশি সময় থাকলে আপনি এই দেশে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
বেলজিয়াম নিয়ে আলোচনা আমার আজ এখানেই শেষ করছি। এই সুন্দর দেশে আবেদন করতে চাইলে দেরি না করে নিজেকে তৈরী করে আবেদন করুন- এখনি। শুভ কামনা রইলো।
ব্রেক্সিট–পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে যুক্তরাজ্যের সরকার বিদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ অনেক শিথিল করেছে। ব্রিটেনের বাইরে থেকে স্টুডেন্ট ভিসায় কেউ যেতে চাইলে সে ক্ষেত্রে বেশ নমনীয় হয়েছে দেশটি। প্রতিবছর ছয় লাখ শিক্ষার্থী সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এ মুহূর্তে কোনো সংখ্যা নির্ধারণ করেনি সরকার। সে জন্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যের দরজা আপাতত অবারিত।
সাম্প্রতিক হোম অফিসের ঘোষনায় বলা হয়েছে যে, ২০২০ সালের ‘টিয়ার ফোর স্টুডেন্ট’ ভিসায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের ৪০ পয়েন্ট থেকে এখন তা ৭০ পয়েন্ট করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কনফার্মেশন অব অ্যাকসেপট্যান্স স্টাডিজ (সিএএস) প্রাপ্ত পেপারে ৫০ পয়েন্ট, ল্যাংগুয়েজে ১০ পয়েন্ট এবং ১০ পয়েন্ট মেইনটেন্যান্স ফান্ড এর জন্য ।
অন্য ভিসা ক্যাটাগরি থেকে স্টুডেন্ট ভিসায় আসার সুযোগ রেখে নতুন বিধিতে বলা হয়েছে, এক বছর যাবত অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের মেইনটেন্যান্স ফান্ড দেখাতে হবে না। একই সাথে স্টুডেন্ট ভিসার ৮ বছরের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেওয়া হচ্ছে পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য।
নতুন ভিসার নিয়মে মাস্টার্সের পর দুই বছর এবং পিএইচডির পর তিন বছর শিক্ষার্থীরা ইংল্যান্ডে থাকতে পারবেন।
ইউরোপীয় এবং ইউরোপের বাইরের দেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের একই নিয়মে ভিসার আবেদন করার বিধি ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।হোম অফিস বলছে, ৫ অক্টোবর থেকে নন-ইউরোপিয়ান ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হলেও ১লা জানুয়ারী থেকে কার্যকর হবে ইউরোপীয় ছাত্র-ছাত্রীদের ইমিগ্রেশনের নতুন নিয়ম।
ইংলিশ টেস্টের বাধ্যবাধকতার বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কলেজের ওপর ছেড়ে দিয়েছে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
Image Source: Internet
কী আছে নতুন নিয়মে:
১. নতুন ভিসা পদ্ধতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও সেনজেনভুক্ত দেশ এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীরা একই নিয়মে আবেদন করবেন এবং সমানভাবে বিবেচিত হবেন। শিক্ষার্থী ভিসা দেয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা বা ‘ভিসা ক্যাপ’ তুলে দেয়া হয়েছে।
২. যুক্তরাজ্যের বাইরের শিক্ষার্থীরা কোর্স শুরুর ছয় মাস আগে ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন, এবং যুক্তরাজ্যে অবস্থানরতদের জন্য তিন মাসে আগে আবেদনের সুযোগ থাকছে। আগের নিয়মে তিন মাসে আগে আবেদন করা যেত।
৩. নতুন ভিসায় শিক্ষার্থীরা বেশি সময় যুক্তরাজ্যে অবস্থানের সুযোগ পাবেন। যারা সম্পূর্ণ ডিগ্রি অর্জনে পড়ালেখা করতে যাবেন তারা পাঁচ বছর অবস্থানের সুযোগ পাবেন আর যারা নন-ডিগ্রি কোর্সে পড়তে যাবেন তাদের জন্য এ সুযোগ দুই বছর।
৪. নতুন স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাজ্যে থাকার সুযোগ বাড়ছে- আপনি যদি আরও পড়তে চান সেক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে পারবেন। আর যদি সেখানে চাকরি পেয়ে যান, সেক্ষেত্রে ভিসা পরিবর্তন করার সুযোগও থাকছে। আগের নিয়মে শিক্ষার্থী ভিসায় সর্বোচ্চ আট বছর থাকার সুযোগ ছিল, এখন আর এই সীমা থাকছে না।
৫. শিক্ষার্থী ভিসায় আপনার ক্লাস শুরুর এক মাস আগে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবেন যদি কোর্সের মেয়াদ ছয় মাসের বেশি হয়। আর ছয় মাসের কম কোর্সের ক্ষেত্রে এক সপ্তাহ আগে সে দেশে প্রবেশের অনুমতি মিলবে।
৬. শিক্ষার্থী ভিসায় কাজ করার সুযোগও থাকছে, তবে কত ঘণ্টা কাজের অনুমতি থাকবে, শিক্ষার্থী কী ধরনের কাজ করতে পারবেন- এসব বিষয় ভিসায় উল্লেখ করা থাকবে।
যোগাযোগপ্রযুক্তির উৎকর্ষতার সাহায্য নিয়ে একজন শিক্ষার্থী সরাসরি আবেদন করতে পারেন যুক্তরাজ্যের যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আলাদা বিভাগ আছে। তারা একজন শিক্ষার্থীর আবেদনপত্র প্রস্তুতের জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করে। তাই আগ্রহীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সরাসরি ফোনে বা ই–মেইলে যোগাযোগ করতে পারেন।