কানাডায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণে ইচ্ছুক এমন শিক্ষার্থীদের কাছে সর্বাধিক জনপ্রিয় একটি বৃত্তি হচ্ছে ভেনিয়ার কানাডা গ্রাজুয়েট স্কলারশিপ। পিএইচডি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের কানাডাতে পড়ালেখা করার সুযোগ করে দিতেই কানাডার সরকার এ বৃত্তি দিয়ে থাকে। আর প্রতি বছর দেওয়া হয়ে থাকে ১৬৭টি বৃত্তি। সাধারণত পিএইচডি গবেষণার জন্য এ বৃত্তি দেয়া হয়। বৃত্তির মেয়াদ তিন বছর।
এই স্কলারশিপের আওতায় পিএইচডি প্রোগ্রাম করানো হয়। হেলথ রিসার্চ, ন্যাচারাল সাইন্স রিসার্চ, ইঞ্জিনিয়ারিং সাইন্স রিসার্চ, সোশ্যাল সাইন্স রিসার্চ ও হিউমানিটি রিসার্চ করা যাবে এই প্রোগ্রামে।
এই স্কলারশিপের আওতায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বছরে ৫০,০০০ কানাডিয়ান ডলার দেওয়া হবে, ৩ বছরের জন্য।
আবেদনের যোগ্যতা
স্কলারশিপের জন্য আপনার থাকতে হবে নিম্নোক্ত যোগ্যতাঃ
১. একাডেমিক এক্সিলেন্স (৮০% মার্কস) থাকতে হবে। ২. রিসার্চ এবিলিটি (জার্নাল পাবলিকেশন) থাকতে হবে। ৩. ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ প্রফিসিয়েন্সি (স্কোর ৭.৫) থাকতে হবে। ৪. কমিউনিকেশন ও লিডারশিপ দক্ষতা থাকতে হবে।
এই স্কলারশিপটি সকলের জন্য উন্মুক্ত। বিশ্বের সকল দেশের শিক্ষার্থীরা এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
আবেদন প্রক্রিয়া
প্রার্থীরা যে কানাডিয়ান ইন্সটিটিউশনে পড়তে চান, তাদের দ্বারা অবশ্যই মনোনীত হতে হবে। আপনাকে প্রথমে কানাডিয়ান কোন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে হবে। কানাডার বিখ্যাত কিছু বিশ্ববিদ্যালয় -টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়, আলবার্টা বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি।
জাপান উচ্চশিক্ষার এক অন্যতম জনপ্রিয় স্থান। আর এই দেশে উচ্চশিক্ষায় প্রণোদনা দেওয়ার জন্য দেওয়া হয় অনেক স্কলারশিপ। জাপানের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রথিতযশা স্কলারশিপ প্রোগ্রাম হল মনবুকাগাকুশো বা মেক্সট বৃত্তি। এটি মনবুশো, মেক্সট নামেও পরিচিত। এই স্কলারশিপ প্রোগ্রামে যাত্রা শুরু করে ১৯৫৪ সাল থেকে। জাপান সরকারের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জাপানী বিশ্বিদ্যালয়ে অধ্য্যনের জন্য এই স্কলারশিপের ব্যবস্থা করেছে। বাংলাদেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদন করা যায়। অথবা, সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমেও আবেদন করা যায়।
স্কলারশিপ এর নাম
মনবুকাগাকুশো বা মেক্সট বৃত্তি (জাপান)
যে যে বিষয়ে অধ্যয়ন করা যাবে
এই স্কলারশিপে ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি কোর্সের জন্য শিক্ষা সহায়তা পাওয়া যায়। এই স্কলারশিপ প্রোগ্রাম সাতটি ক্যাটেগরীতে দেওয়া হয়, যেমনঃ রিসার্চ স্টুডেন্ট, টিচার্স ট্রেনিং স্টুডেন্ট, আন্ডারগ্রাজুয়েট স্টুডেন্ট, জাপানীজ স্টাডিস স্টুডেন্ট, কলেজ অফ টেকনোলোজী স্টুডেন্ট, প্রোফেশন্যাল ট্রেনিং কলেজ স্টুডেন্ট এবং ইয়াং লিডার প্রোগ্রাম স্টুডেন্ট।
দেশ এবং কর্তৃপক্ষ
জাপান। Ministry of Education, Culture, Sports, Science and Technology (MECSST)
বৃত্তির সুযোগ সুবিধাসমূহ
মনবুকাগাকুশো বা মেক্সট বৃত্তি-এর আওতায় আপনি যা যা পাবেনঃ
১। টিউশন ফি ও পরীক্ষার ফি
২। জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য মাসিক ভাতা
৩। যাতায়ত এর বিমান ভাড়া
আবেদনের যোগ্যতা
মনবুকাগাকুশো বা মেক্সট বৃত্তির জন্য আপনার থাকতে হবে নিম্নোক্ত যোগ্যতাঃ
১। PhD. বা Masters এ আবেদনের জন্য আপনার বয়স সীমা ৩৫ বছরের নীচে থাকতে হবে। আর অন্য প্রোগ্রামে আবেদন করতে ১৭/১৮ থেকে ২৫/৩০ বছরের মধ্যে থাকতে হবে।
২। মাস্টার্স বা পিএইচডি তে আবেদনের জন্য মেক্সটের নিজস্ব সিজিপিএ মানদন্ডে মোট ৩ এর মধ্যে ২.৩০ থাকতে হবে। তাও সেই ফল আবার সর্বেশেষ দুই একাডেমিক বছরের গড় হতে হবে।
আবেদনের সময়সীমা
মনবুকাগাকুশো বা মেক্সট বৃত্তি আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয় মার্চের শেষে বা এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়। আবেদনের হালনাগাদ সময়সীমা জানতে নিম্মোক্ত ওয়েবসাইট এর সাহায্য নিতে পারেন-
১৯৫৪ সাল থেকে শুরু করে এখন সারা বিশ্বের প্রায় ১৬০টির মতন দেশ থেকে আসা ছাত্রদের জন্য এই বৃত্তির ব্যবস্থা করেছে জাপানি সরকার। জাপান সরকার প্রদত্ত বৃত্তিগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে খ্যাতনামা আর সবচেয়ে সম্মানিত।
আবেদন প্রক্রিয়া
আবেদনের প্রথম পদ্ধতিঃ প্রথমে অনলাইনে ফর্ম পূরণ করে তারপর সকল কাগজপত্র দিয়ে বাংলাদেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। মনে রাখবেন, ডকুমেন্টস খামে প্রেরক ও প্রাপকের নাম/ ঠিকানা, আইডি ও ট্রাকিং নাম্বার ও প্রোগ্রামের নাম বাংলায় নিম্নোক্ত ঠিকানায় পাঠাতে হবেঃ
Joint Secretary (Scholarship) Ministry of Education, Room No-1706, Building No-06 Bangladesh Secretariat, Dhaka- 1000
এই বৃত্তির সার্কুলার বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
বিস্তারিত জানতে জাপান দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করুনঃ eojbd@dc.mofa.go.jp
আবেদনের দ্বিতীয় পদ্ধতিঃ প্রথমে জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও ল্যাব প্রধানকে ই-মেইল করে নিজের গবেষণা সমন্ধে জানাতে হবে। যদি প্রফেসর রাজী হন, তাহলে আপনি মনবুকাগাকুশো বা মেক্সট বৃত্তির মাধ্যমে জাপানে পড়তে আসতে চান, এ ব্যাপারে কনভিন্স করুন। তখন তারা আপনআকে ইন্টারভ্যু নিবে এবং আপনি তাদের কনভিন্স করতে পারলে প্রফেসর বিশ্ববিদ্যালয়কে জানাবে আর তারাই পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করে আপনাকে স্কলারশিপ পাওয়ার ব্যাপারে সহযোগিতা করবে।
ই-মেইলের আপনার Academic Transcript ও Curriculum Vitae অবশ্যই যুক্ত করবে। আর ই-মেইলে Self- Introduction, Academic Degree, Result, Research Interest and Why you interest to him (Professor) সম্পর্কে ২০০-২২০ শব্দের মধ্যে লিখলেই ভাল।
মনবুকাগাকুশো বা মেক্সট বৃত্তি প্রোগ্রামের জন্য আপনাকে জমা দিতে হবেঃ
১। আবেদন ফর্ম
২। সকল একাডেমিক সার্টিফিকেট ও মার্কশীট
২। রিকমেন্ডেশন লেটার (২ টি) – সাইন করে সীলড অবস্থায় দিতে হবে।
৭। NID
৮। পাসপোর্টের কপি
প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নাম শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করবে। এরপর জাপান দূতাবাস লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষা নেবে এবং চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করবে।
মালেয়েশিয়া এশিয়ার অন্যতম একটি দেশ- আর এই দেশ পরিচিত এর উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য। যদি আপনি উচ্চ শিক্ষার জন্য পাড়ি জমাতে চান বিদেশে, আর যদি বেছে নেন মালয়েশিয়া- জ্বী হ্যাঁ, আপনি কোন ভুল করেন নি- বরং সবচেয়ে যথার্থ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চলুন যাই, আজ আলোচনায় বসি কিভাবে মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা যায় আর করে ফেলি নিজেই নিজের আবেদন।
কেন মালয়েশিয়া পড়তে যাবেন?
আধুনিক মালয়েশিয়ার জনক মাহাতির বিন মোহাম্মদ অতি সুনিপুণ পারদর্শিতা ও দক্ষ শাসকের ন্যায় গড়ে তুলেছেন আজকের এই উন্নত মালয়েশিয়া। এই দেশ আজ বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশের কাতারে নাম লিখিয়েছে- আর বিশ্বের দরবারে কড়িয়েছে নিজের সুনাম। মালয়েশিয়া দক্ষিন এশিয়ার গর্ব আর রাজধানী কুয়ালালামপুর। এদেশের অফিশিয়াল ভাষা মালায় ও মুদ্রা রিঙ্গিত। এই দেশের আয়তন ৩,৩০,৮০৩ বর্গ কিলোমিটার আর সার্বিক জিডিপি ৩৮১.৫২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই দেশের মোট ১৩টি প্রদেশ রয়েছে। এই দেশে প্রতিটি স্তরে যেমনঃ শিক্ষা, যোগাযোগ, স্থাপত্য, শিল্প ইত্যাদিতে রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। তাইতো, প্রতি বছর ভ্রমণ পিপাসু থেকে জ্ঞান পিপাসুরা ভিড় জমায় এই দেশে- আর প্রতি বছর এই ভিড় যেন বেড়েই চলেছে। বর্তমানে ইউরোপ, আমেরিকার সাথে টেক্কা দেওয়ার মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে মালয়েশিয়া। আর তাই আপনিও যদি পড়তে চান উন্নত কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাহলে মালয়েশিয়া হতে পারে আপনার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য।
Image Source: pixabay.com
মালয়েশিয়া পড়তে যাবার জন্য নূন্যতম যোগ্যতা
ডিপ্লোমা কোর্স: ডিপ্লোমা কোর্সের জন্য নূনতম উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়। আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কোর্স: আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কোর্সের জন্য ন্যূনতম ১২ বৎসরের পূর্বতন শিক্ষা অর্থাৎ উচ্চ মাধ্যমিক সমমানের শিক্ষা পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী: পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের জন্য ন্যূনতম ১৬ বৎসরের পূর্বতন শিক্ষা অর্থাৎ ব্যাচেলর ডিগ্রীধারী। ডক্টরাল (PhD) ডিগ্রী:ডক্টরাল (PhD) কোর্সের জন্য পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী এবং ব্যাপক গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতা দরকার হয়।
এছাড়া ব্যচেলর পাশ করেও মালয়েশিয়াতে ডিপ্লোমা অথবা পূনরায় ব্যচেলরে যাওয়া যায়। কারণ মালয়েশিয়াতে স্টাডি গ্যাপ গ্রহনযোগ্য।
ভাষাগত যোগ্যতা
মালয়েশিয়ায় IELTS ছাড়া পড়তে যাওয়া যায়- তবে বর্তমানে IELTS স্কোরের চাহিদা বাড়ছে। সাধারনত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ৬.০ IELTS স্কোর চায়, কিন্তু নাম-করা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ৬.৫ IELTS স্কোর চায়।
কোর্স সার্চ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন
মালয়েশিয়ায় রয়েছে ওয়াল্ড র্যাঙ্কিং-এর উপররের দিকে থাকা বেশ কিছু সরকারি ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের বেশ কিছু নাম করা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা খুলেছে এই দেশে। এই দেশের লেখা পড়ার সকল কারিকুলাম USA, UK, Australia- কে মাথায় রেখে করা হয়েছে। স্টুডেন্টদের উচ্চ শিক্ষার সকল সুযোগ সুবিধা রয়েছে এই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। যেমনঃ উন্নত রিসার্চ ল্যাব, লাইব্রেরী, ক্যাম্পাস, আধুনিক শিক্ষা সরঞ্জাম, দক্ষ শিক্ষক ইত্যাদি। মোট কথা, ইউরোপ-আমেরিকায় না গিয়ে সেই দেশের মানের ও গুণের শিক্ষা পেতে পারেন মালয়েশিয়ায়। আবার ইউরোপ ও আমেরিকার তুলনায় এইদেশে শিক্ষার জন্য আপনাকে ওই পরিমাণ অর্থও খরচ করতে হবে না।
মালয়েশিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থা ৪টি পর্যায়ে ভাগ করা হয়: ১. ডিপ্লোমা কোর্স: এটি ২ থেকে ৩ বৎসর সময় লাগে। ২. আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কোর্স: এটি ৩ থেকে ৫ বৎসর মেয়াদী। ৩. পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী: ১.৫ থেকে ২ বৎসর মেয়াদী। ৪. ডক্টরাল (PhD) ডিগ্রী: ৩-৫ বৎসর মেয়াদী।
Image Source: Internet
এই দেশে আপনি ইংরেজী ভাষায় পড়াশুনা করতে পারবেন প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়েই। মালয়েশিয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে অসংখ্য বিষয়ে পাঠদান করা হয় যেমন,বিজনেস ম্যানেজমেন্ট,ইনফরমেশন সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি,ইঞ্জিনিয়ারিং,মেডিসিন (এম বি বি এস),বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন,মর্ডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড কমিউনিকেশন,ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্স,হেলথ সায়েন্সেস,চার্টার্ড একাউন্টেন্সি,এগ্রিকালচার,ফরেস্ট্রি,ইসলামিক ষ্টাডিজ,এনভায়রোনমেন্টাল সায়েন্স,ডিজাইন এন্ড আর্কিটেকচার, ইত্যাদি।
এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আপনাকে ব্রাউজ করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট।
নিচে কিছু নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দেওয়া হলঃ
১। Universiti Malaya (UM)
২। Universiti Kebangsaan Malaysia (UKM)
৩। Universiti Putra Malaysia
৪। Universiti Sains Malaysia (USM)
৫। Universiti Teknologi Malaysia
বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সময়সীমা, প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস
মালয়েশিয়ায় বছরে তিনটি সেমিস্টার পড়ানো হয়। প্রথম সেমিস্টারটি চলে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত। দ্বিতীয় সেমিস্টারটি চলে মে থেকে আগস্ট। আর বছরের তৃতীয়টি বা বছরের শেষটি হল সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর।
অন্যান্য অনেক দেশের মত এই দেশে বসতে হবে না আপনাকে কোন ভর্তি পরীক্ষায়। কোন স্কাইপি বা অনলাইন ইন্টারভ্যুয়ের বালাই এই দেশে নেই। আবেদনের শুরুতেই আপনার কাজ হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করা। যদি আপনি সরকারী বা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন তাহলে অনেকগুলো ধাপ পার হতে হবে আর অনেক সময় লাগবে। অন্যদিকে আপনি যদি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন, তাহলে অনেক কম সময়ে আর অত্যন্ত দ্রুত গতিতে পেয়ে যাবেন এডমিশন। সকল কাগজপত্র ঠিক থাকলে, বিশ্ববিদ্যালয় একটি অফার লেটার ইস্যু করে আর সেটা পাঠিয়ে দেয় EMGS-এ আর সেখান থেকে ইস্যু করা হয় আপনার Approval Letter. এই EMGS এর পূর্ণ রূপ হল Education Malaysia Global Service. এই প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়, ইমিগ্রেশন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে সমন্বয় সাধন করে। মালায়েশিয়ার কোন বিশ্ববিদ্যালয় ইমিগ্রেশনের সাথে সরাসরি কাজ করতে পারে না। তাই তারা শিক্ষার্থীদের সকল কাগজ পাঠিয়ে দেয় EMGS-এ আর এই EMGS সকল ডকুমেন্টস ভেরিফাই করে সত্যতা যাচাই করে পাঠিয়ে দেয় ইমিগ্রেশনে। ইমিগ্রেশন একটি Approval Letter প্রদান করে- এবং বিশ্ববিদ্যালয় সেই Approval Letter সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠিয়ে দেয়।
নিচে আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিয়া দেওয়া হলঃ
১। সকল একাডেমিক সার্টফিকেট এবং মার্কশীট
২। CV, মোটিভিশন লেটার ও রিকমেন্ডেশন লেটার
৩। বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনপত্র ও আবেদন ফি-প্রদানের ডকুমেন্টস
৪। পাসপোর্টের কপি ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি
৫। রেফারেন্স লেটার
৬। IELTS
৭। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র
Image Source: Internet
পড়াশোনার খরচ ( টিউশন ফি) ও স্কলারশিপ
মালয়েশিয়ায় টিউশন ফি ৪৫০০ থেকে ২৫,০০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত হয়ে থাকে। কিছু লো র্যাঙ্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫০০ থেকে ৭০০০ রিঙ্গিত হয়ে থাকে। তবে মান সম্পন্ন শিক্ষার জন্য আপনাকে বেশি অর্থ গুনতে হবে। EMGS এর ফি দিতে হবে ১০০০ রিঙ্গিত। মনে রাখবেন এই ফি অফেরতযোগ্য। এছাড়া ইনস্যুরেন্স ফি ৫০০ থেকে ৮৫০ রিঙ্গিত, মেডিকেল ফি ২৫০ রিঙ্গিত দিতে হবে।
এই দেশে কিছু সরকারি ও বেসরকারি স্কলারশিপ আছে। এই সব স্কলারশিপের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ঘেটে দেখতে হবে।
স্কলারশিপ লাভের সূযোগ:
মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য নানা ধরনের স্কলারশিপের ব্যবস্থা আছে। তবে স্কলারশিপ লাভের জন্য খুব ভালো একাডেমিক রেজাল্ট থাকতে হয়। এবং ইংরেজিতে ভালো দক্ষতার প্রমাণ দিতে হয়। খারাপ রেজাল্ট নিয়ে স্কলারশিপের জন্য শুধু শুধু প্রচেষ্টা করে লাভ নেই। তবে ফুল স্কলারশিপ না পেলেও আংশিক স্কলারশিপের সুযোগ আছে। নিচে মালয়েশিয়ায় পড়ালেখার জন্য যে সকল প্রতিষ্ঠান বৃত্তি দিয়ে থাকে তার একটি তালিকা দেওয়া হল-
মালয়েশিয়ান ইন্টারন্যাশনাল বৃত্তি: (Malaysian International Scholarship (MIS) ওয়েব সাইট: biasiswa.mohe.gov.my/INT/
কমোনওয়েল্থ শিক্ষা বৃত্তি: (COMMONWEALTH Scholarship and Fellowship plan (CSFP)।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ফান্ড: Example: Nilai University Offering 50% scholarship
UCSI University offering 45% scholarship, Xiamen University70%, Manipal university, Mahsa University, KDU offering 30% এছাড়াও গবেষণা সহযোগী (Research Assistance ship) লাভ করা যায়।
আর্থিক স্বচ্ছলতা
আপনাকে ভিসা আবেদনের সময় আপনাকে ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিতে হবে। আর মালয়েশিয়ায় এক বছরের থাকা খাওয়া ও টিউশন ফি-এর বাবদ যত অর্থ প্রয়োজন সেটা ব্যাংকে গচ্ছিত দেখাতে হবে।
ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া ও ডকুমেন্টস চেকলিস্ট
মালয়েশিয়ায় ভিসা আবেদনের জন্য আপনাকে ঢাকায় অবস্থিত মালয়েশিয়ার এম্বেসীতে যোগাযোগ করতে হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস প্রদান করে ভিসার আবেদন করতে হবে। ভিসা আবেদনের জন্য মূখ্যত প্রয়োজন পরবে EMGS থেকে প্রাপ্ত Approval Letter. এই Approval Letter ও অন্যান্য ডকুমেন্টস জমা দেওয়ার পর যাচাই বাছাই শেষ হলে আপনাকে ৩ মাসের ভিসা দেওয়া হবে। এরপর মালয়েশিয়ায় যাবার পর রেজিস্ট্রেশন ও মেডিক্যাল চেক-আপ ও কার্যক্রম শেষ করার পর ১ বছরের ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
Image Source: Internet
নিচে কাগজপত্রের জন্য প্রয়োজনীয় তালিকা দেওয়া হলঃ
১। পূরণকৃত ভিসা আবেদন ফর্ম
২। পাসপোর্ট ও ফটোগ্রাফ
৩। CV, Statement of Purpose (SOP) ও রেফারেন্স
৪।সকল মার্কশিট ও সনদ, IELTS (যদি প্রয়োজন হয়)
৫। No Objection Certificate [শেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে]
৬। Approval Letter
৭। ব্যাংক সলভেন্সি পেপ্যার
৮। ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট
৯। পুলিশ ক্লিয়ারান্স
১০। হেলথ ইন্স্যুরেন্স
ভিসা পেতে ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগে। আরা ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ফি ৩০ মার্কিন ডলার।
Working Days: Sunday – Thursday Working Hours: 8.30 a.m – 4.30 p.m (Lunch Break: 12.30 pm – 1.30 pm) Public Holidays: Friday & Saturday
মালয়েশিয়ায় আবাসন ব্যবস্থা
মালয়েশিয়ায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে নিজস্ব আবাসন ব্যবস্থা। এজন্য আপনাকে যোগাযোগ করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে। তারা আপনার হোস্টেলের ব্যবস্থা করে দিবে।
মোটামুটি ৮-১০ হাজার টাকার ভেতরেই থাকার বিষয়টি সেরে ফেলা যাবে। ভাড়া কেমন হবে তা নির্ভর করছে এলাকা, বাসস্থানের ধরন (স্টুডেন্ট হল, ক্যাম্পাসের বাইরের কোনো এপার্টমেন্ট, একতলা বাড়ি, দোতলা বাড়ি প্রভৃতি), বাসায় থাকা সুবিধাদি, এবং অবশ্যই কতজন মিলে একসাথে থাকছে তার উপর।
Image Source: Internet
পার্ট টাইম জব এর সুযোগ ও জীবনযাত্রার ব্যয়
পড়াশুনা চলাকালীন সময়ে ৭ দিনের অধিক ছুটিতে পার্ট টাইম জবের সুযোগ রয়েছে, যা সপ্তাহে ২০ ঘন্টা। এছাড়া পার্ট টাইম কাজের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবশ্যই আবেদন করতে হবে। আর কাজ করার জন্য আপনার কাছে থাকতে হবে স্টুডেন্ট পাস। মিনি মার্কেট, রেস্টুরেন্ট, হোটেল, ক্যাফে এবং পেট্রোল পাম্পগুলোতে কাজ করার সুযোগ আছে।
তবে কাজ করে খুব কম আয় করা যায় এখানে। এই অর্থ দিয়ে টিউশন ফি প্রদান করা সম্ভব হয়ে উঠবে না।
বিশ্বের আধুনিক দেশগুলোর তুলনায় মালয়েশিয়ায় থাকা-খাওয়ার খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু এখন মালয়েশিয়া।
জীবন ধারণ বাবদ আপনাকে খরচ করতে হবে মাসিক ৫০০-৬০০ রিঙ্গিত। এই অর্থে আপনি মাসিক থাকা-খাওয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত মিটিয়ে ফেলতে পারবেন। তবে মাসিক খরচ নির্ভর করে ব্যক্তি বিশেষের উপর। আপনার জীবন ধারণের ব্যয় অনুযায়ী এই খরচ বাড়তে বা কমতে পারে।
মালয়েশিয়ায় স্থায়ী বসবাস
পড়াশুনা শেষে মালয়েশিয়ায় জব করতে গেলে প্রয়োজন পড়বে Employment Pass। এই পাস পেতে আপনার দুই বছরের কন্ট্রাক্ট পেপার লাগবে আর বার্ষিক স্যালারি হতে হবে ১২০৫ মার্কিন ডলার। আর স্থায়ী PR এর জন্য আপনাকে থাকতে হবে একটানা ৫ বছর।
তবে দেরী কেন? আজই প্রস্তুতি নিন আর করে ফেলুন নিজেই নিজের আবেদন।
তুলনামূলক কম খরচে উন্নত শিক্ষার সুব্যবস্থা রয়েছে রাশিয়ায়। এদেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন ওয়ার্ল্ড রাঙ্কিং এর শীর্ষ সারিতে অবস্থান করছে। প্রতি বছর রাশিয়ান সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে বিপুল পরিমাণ বৃত্তি দিয়ে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘রাশিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ’। এ বৃত্তির অধীনে শতভাগ ফান্ডিং পেতে হলে আপনাকে পড়তে হবে রাশিয়ান ভাষায়। চিন্তা নেই, বৃত্তি পেয়ে গেলে ওদের খরচেই মূল কোর্সের পূর্বে ৭ মাস রাশিয়ান (রুশ) ভাষা ও ২ মাস রাশিয়ান সংস্কৃতির ওপর কোর্স করেতে হবে।
স্কলারশিপ এর নাম
রাশিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ / রাশিয়ান সরকারি বৃত্তি
যে যে বিষয়ে অধ্যয়ন করা যাবে
এই স্কলারশিপএর আওতায় আপনি পিএইচডি, মাস্টার্স, কিম্বা ব্যাচেলর কোর্স করতে পারবেন।
স্নাতক বা আন্ডারগ্রাজুয়েট লেভেলে বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায়ের ১৫ এর অধিক বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। বিষয় তালিকায় প্রকৌশলবিদ্যার সাথে আছে চিকিৎসাবিদ্যাও। তবে সেখানে ৬ বছর মেয়াদী ডিগ্রিটি এমবিবিএস নয়, ডক্টর অব মেডিসিন (এমডি), যেটি বাংলাদেশের মেডিকেল ও ডেন্টাল এসোসিয়েশন কর্তৃক স্বীকৃত। ডিগ্রিটির বিশেষত্ব হচ্ছে, এটি শেষ করে আপনি চাইলে প্রাইভেট প্র্যাক্টিসও করতে পারবেন, আবার সরাসরি বিজ্ঞানী হিসেবে ওষুধ ও স্বাস্থ্যে গবেষণা করতে পারবেন। সার্কুলার প্রকাশিত হলে বিষয় তালিকা থেকে বিষয় পছন্দ করতে পারেন।
দেশ এবং কর্তৃপক্ষ
রাশিয়া। রাশিয়ান সরকারি বৃত্তি Minitry of Education and Science of the Russian Federation থেকে প্রদান করা হয়।
বৃত্তির সুযোগ সুবিধাসমূহ
স্কলারশিপের আওতায় আপনি যা যা পাবেনঃ
১। টিউশন ফি
২। পরীক্ষার ফী
৩। বিনামুল্যে বই ( ফেরতযোগ্য )
৪। আংশিক মাসিক ভাতা ও একোমোডেশন ভাতা
কিন্তু জীবনযাপন, হেলথ-ইনস্যুরেন্স ও অন্যান্য খরচ শিক্ষার্থীকেই বহন করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নামমাত্র মূল্যে আবাসন দেওয়া হয়। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাত খরচ বাবদ কিছু বৃত্তি দেওয়া হয়। তাতে টুকিটাকি খরচ চলে যায়।
আবেদনের যোগ্যতা
এই স্কলারশিপের জন্য আপনার থাকতে হবে নিম্নোক্ত যোগ্যতাঃ
১। ব্যাচেলর বা স্পেশালিস্ট কোর্সের বৃত্তির জন্য আবেদন প্রার্থীকে অবশ্যই এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় ন্যূনতম প্রথম শ্রেণি পেতে হবে।
২। মাস্টার্স কোর্সের জন্য এসএসসি, এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণি ও অনার্স বা সমমানে ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ থাকা অত্যাবশ্যক।
আবেদনের সময়সীমা
আবেদনের প্রক্রিয়ার শুরু হয় মার্চ থেকে মে- এর মধ্যে। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ওয়েব সাইট ঘেটে দেখতে পারেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশও এই স্কলারশিপ প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারে।
Image Source: Internet
আবেদন প্রক্রিয়া
প্রার্থীকে প্রথমেই সকল কাগজপত্র (একাডেমিক সার্টিফিকেট ও মার্কশীট, পাসপোর্ট ও জন্মসনদ) শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত করতে হবে। এরপর সকল কাগজ রাশিয়ান ভাষায় অনুবাদ করে সেটা রাশিয়ান দূতাবাস থেকে সত্যায়িত করতে হবে। এরপর কাগজপত্র গুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে।
শেষ ধাপে সমস্ত কাগজের ন্যূনতম চার কপি নোটারি করতে হবে। এছাড়া মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রয়োজন—যাতে আপনার এইচআইভি ও অন্যান্য জটিল কিছু রোগব্যাধি নেই প্রমাণ করা হবে।
এরপর সর্বোচ্চ জিপিএ ও সিজিপিএ’র ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মৌখিক ও ক্ষেত্রবিশেষে প্রয়োজনে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত নির্বাচিত করা হয়।
এই নির্বাচন প্রক্রিয়াটি করে থাকে ঢাকাস্থ রাশিয়ান দূতাবাস।
ℹ️ সম্পূর্ণ তদারকি, প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা, তথ্য ও সার্বিক সহযোগিতা এবং ভিসার অন্যান্য সকল কার্য সম্পাদনের জন্য রয়েছে ঢাকাস্থ রাশিয়ান বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। কেন্দ্রটি রোড নম্বর ১০ (ভাষা সৈনিক আবদুল মতিন সড়ক) ধানমন্ডিতে অবস্থিত। রাশিয়ান সরকারের বিজ্ঞান ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে থাকে এটি।
স্কলারশিপ প্রোগ্রামের জন্য আপনাকে জমা দিতে হবেঃ
১। Online আবেদন ফর্ম
২। সকল একাডেমিক সার্টিফিকেট ও মার্কশীট
৩। রিকমেন্ডেশন লেটার (২ টি) – সাইন করে সীলড অবস্থায় দিতে হবে।
ইউরোপ-আমেরিকার ব্যয়বহুল শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশীদের জন্য হয়ে ওঠে দূরের স্বপ্ন। কিন্তু, যদি কম খরচে আপনি বিদ্যার্জন করতে চান অথবা পড়াশুনা করতে চান নির্বিঘ্ন পরিবেশে আর অর্জন করতে চান বৈশ্বিক জ্ঞান তাহলে আপনার জন্য শ্রেষ্ঠ ডেস্টিনেশন হল রাশিয়া। রাশিয়া বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম দেশ এবং এই দেশে বাংলাদেশের বহু শিক্ষার্থী জ্ঞান অর্জন করতে পাড়ি জমাচ্ছে। তাই আজ আমরা আলোচনা করবো রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষা নিয়ে। আপনাদের সামনে তুলে ধরবো রাশিয়ায় জ্ঞান অর্জনের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত, যেন আপনারা নিজেরাই করতে পারেন নিজের আবেদন।
কেন রাশিয়ায় পড়তে যাবেন?
রাশিয়া একটি আন্তঃমহাদেশীয় বিশালাকার দেশ। এই দেশের আয়তন ১৭,০৭৫,৪০০ বর্গকিলোমিটার (৬,৫৯২,৮০০ বর্গমাইল) আর জনসংখ্যা ২০১৮ হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১৪৭ মিলিয়ন। এই দেশের মুদ্রা রুবেল। রাশিয়ার রাজধানী মস্কো আর অফিসিয়াল ভাষা রুশ। বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর দেশ ১৯৯১ সালে ভেঙ্গে যাবার পর বেশ দুর্বল হয়ে যায়। তবে এখন অর্থনৈতিক ভাবে এখনো রাশিয়া অনেক সমৃদ্ধ দেশ। এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় রুশ ভাষায়ই সচরাচর শিক্ষা প্রদান করা হয়ে থাকে। রাশিয়া মূলত শীতপ্রধান- এদেশে শীতের সময় তাপমাত্রা শূন্যের নীচে নেমে যায়।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে ‘মৈত্রী ও সহযোগিতা’ চুক্তি সম্পাদিত হয় আর এই চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা অনার্স, মাস্টার্স ও পিএইচডি কোর্সে রাশিয়ায় পড়াশোনার সুযোগ পায়। রাশিয়াও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা প্রদান করে থাকে। তাই বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের অন্যতম বিদ্যার্জনের গন্তব্য হতে পারে রাশিয়ান ফেডারেশন।
Image Source: Internet
কোর্স সার্চ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন
রাশিয়ায় বিভিন্ন মানের ও World Ranking এর বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। রাশিয়ার উচ্চশিক্ষার ইতিহাস অনেক বছরের পুরাতন। এই দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে বহু যুগের সম্ভ্রান্ত ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট।
আপনার যদি নির্দিষ্ট একটি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধে হয়, তবে নিচের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্পর্কে জেনে নিন।
রাশিয়ায় বেশির ভাগ কোর্স রুশ ভাষায় হলেও আপনি ইংরেজী ভাষার কোর্সও খুঁজে পাবেন। কিন্তু এজন্য আপনি অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কনফর্ম হয়ে নেবেন, যেন এই দেশে এসে বিপদে না পড়তে হয়।
রাশিয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়, একাডেমি, ইনস্টিটিউট, টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, টেকনিক্যাল কলেজ ও স্পেশালাইড ইনস্টিটিউশন এই কয়েকটি স্তরে বিন্যস্ত। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিজ্ঞান, কলা, বাণিজ্য শাখার সব বিষয়ে পড়া সম্ভব। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাচেলর ডিগ্রি, মাস্টার্স ডিগ্রি ও পিএইচডিসহ বিভিন্ন ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
Image Source: Internet
রাশিয়ায় অনেকে মেডিকাল সাইনস পড়তে উৎসাহী হয়ে থাকে। আর এই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেক ডাইভারসিফাইড কোর্স অফার করে থাকে। তাই, কোর্স নির্বাচনে আপনি একতা বিশাল ক্ষেত্র পাবেন।
রাশিয়ায় পড়তে যাবার জন্য নূন্যতম যোগ্যতা
রাশিয়ায় আবেদন করতে আপনাকে একাডেমিক ক্যারিয়ারে পেয়ে আসতে হবে কমপক্ষে ৫০% নম্বর। এদেশে পড়তে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় IELTS/ TOEFL চেয়ে থাকে। কিন্তু অধিকাংশ কোর্স এদেশে রুশ ভাষায় অফার করা হয়। তাই রুশ ভাষা জানা থাকলে এই সব কোর্সে আবেদন করতে সুবিধা হবে। রুশ ভাষা জানা না থাকলেও সমস্যা নেই, কারণ অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষার্থীদের রাশিয়ায় ১ বছরের রুশ ভাষার কোর্স করতে বলে থাকে। এদেশে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিশেষ করে স্কলারশিপে পড়তেও আপনাকে এই দেশে এসে ১ বছরের রুশ ভাষার কোর্স করে আপনি পরবর্তীতে মেইন কোর্সে এনরোল করার সুযোগ পাবেন।
ডকুমেন্টস সত্যায়ন
রাশিয়ায় অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই সত্যায়িত ডকুমেন্টস চাওয়া হয়। এজন্য প্রার্থীকে প্রথমেই সকল কাগজপত্র শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত করাতে হবে। এরপর সকল কাগজ রাশিয়ান ভাষায় অনুবাদ করতে হবে। এবার এই অনুদিত ডকুমেন্টস রাশিয়ান দূতাবাস থেকে সত্যায়িত করতে হবে। কিন্তু অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার সত্যায়নের ঝামেলা বা ধাপসমূহ ভিন্ন। তাই আপনি আগেই এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এডমিশন অফিসের সাথে কথা বলে নিবেন এবং জেনে নিবেন আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করছেন তাদের Requirements কি?
Image Source: Internet
বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সময়সীমা ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস
রাশিয়ায় বছরে দুইটি সেমিস্টার অফার করা হয়ে থাকে- যথাক্রমে সামার সেমিস্টার ও উইন্টার সেমিস্টার। সামার বা গ্রীষ্মকালীন সেমিস্টার শুরু হয় ফেব্রুয়ারি থেকে আর এই সেমিস্টারে আবেদন করতে হয় জানুয়ারি মাসে। উইন্টার সেমিস্টার শুরু হয় সেপ্টেম্বরে। আর এই সেমিস্টারের আবেদন শুরু জুলাই- আগস্ট মাসে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদনের সবচেয়ে ভালো সময় হল উইন্টার সেমিস্টার। কারণ মূল কোর্সগুলো এই সেমিস্টারে অফার করা হয়। অন্যদিকে সামার সেমিস্টারে অফার করা হয় ল্যাংগুয়েজ কোর্স।
এই দেশে আবেদন করতে প্রথমেই আপুনাকে আপনার পছন্দের কোর্স ও বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নিতে হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেবার পর আপনি অনলাইনে আবেদন করবেন। পরবর্তীতে আপনাকে আপনার আবেদনের সাথে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জমা দিতে হবে।
আবেদন করতে আপনার প্রয়োজন পড়বে নিম্নোক্ত ডকুমেন্টসমূহেরঃ
১। সকল একাডেমিক সার্টফিকেট এবং মার্কশীট
২। CV, মোটিভিশন লেটার ও রিকমেন্ডেশন লেটার
৩। পাসপোর্টের কপি ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি
৪। আবেদন ফর্ম
৫। IELTS (যদি প্রয়োজন হয়)
৬। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র (যদি প্রয়োজন হয়)
নোটঃ কিছু ইউনিভার্সিটি আপনার একাডেমিক সার্টিফিকেটগুলোর রাশিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ এ ট্রান্সলেট কপির স্কান কপি চাইতে পারে। যদি আপনি মনোনীত হন, বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে অফার লেটার ইস্যু করবে যার জন্য ৩০-৪৫ দিন সময় লাগবে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় তাদের অ্যাকাউন্টে আপনাকে ১ বছর বা ১ সেমিস্টারের টিউশন ফী প্রদান করতে বলবে। তবে, কথা বলে নেবেন। কারণ, এটি রাশিয়াতে বাধ্যতামূলক নয়।
Image Source: Internet
টিউশন ফি
রাশিয়ায় আপনাকে বিভিন্ন কোর্সে দিতে হবে বিভিন্ন মাত্রায় টিউশন ফিস। তবে আপনি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করছেন, বিষয় ও শহর-নগর ভেদে এই ফি-এর হার বহুলাংশে নির্ভর করে। তবে তা বাৎসরিক ১৬০০$ থেকে ৫৬০০$ এর মধ্যে। কিন্তু অধিকাংশই ২০০০$ বা তার কাছাকাছি কোনো সংখ্যায়। বাংলাদেশি টাকায় এক লাখ ৪০ হাজার ৫০০ থেকে চার লাখ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে। গড়পড়তায় দুই লাখ টাকার কমবেশি। আবার কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে আপনাকে আবেদন ফি বাবদ দিতে হতে পারে ১০০ মার্কিন ডলার।
আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ
রাশিয়ায় ভিসা প্রাপ্তির জন্য আপনাকে ব্যাংকে সেদেশে এক বছর চলার মত পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান দেখাতে হবে। আর যদি আপনার খরচ বহন করে অন্য কোন স্পন্সর, তাহলে তাকে নোটারাইজড অংগীকারনামা দিতে হবে যে তিনি আপনার সকল খরচ বহ করবে। তার জন্য প্রয়োজন পরবে, আপনার স্পন্সরের ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া ও ডকুমেন্টস চেকলিস্ট
রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার পর যদি আপনার আবেদন গৃহীত হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি অফার লেটার ইস্যু করবে।অফার লেটার পেতে ৪০-৬০ দিন সময় লাগতে পারে। ধৈর্য হারাবেন না। অফার লেটার পাওয়ার পর রাশিয়ান দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করবেন নিয়ম অনুসারে। সবকিছু ঠিক থাকলে ভিসা পাওয়া কোনো প্রকার ঝামেলা নয়।
এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভালো, রাশিয়ায় এম্বেসী সপ্তাহে ৩ দিন যথাঃ রবিবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার ৮:৪৫ থেকে ১১:৪৫ পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করে থাকে।
Image Source: Internet
ভিসা আবেদন করতে আপনাকে নিম্নোক্ত ডকুমেন্টস নিতে হবেঃ
১। পূরণকৃত ভিসা আবেদন ফর্ম
২। পাসপোর্ট ও ফটোগ্রাফ
৪।সকল মার্কশিট ও সনদ,
৫। IELTS [ যদি প্রয়োজন থাকে]
৬। অফার লেটার
৭। ব্যাংক সলভেন্সি পেপ্যার
৮। ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট
৯। পুলিশ ক্লিয়ারান্স
১০।মেডিক্যাল রিপোর্ট
সব কিছু ঠিকমত রুল অনুযায়ী জমা দিতে হবে। ছোট খাট ভুলের জন্যই ভিসা রিজেক্ট হয়।
রাশিয়ায় আবাসন ব্যবস্থা ও জীবন-যাপন খরচ
জীবনযাত্রার খরচ বাংলাদেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাকা) পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের চেয়ে কম। বলতে গেলে পাঁচ হাজার টাকায় স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করা যায়। বাকিটুকু নিজের ওপরে।
রাশিয়ায় আপনি পড়তে গেলে নামমাত্র মূল্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব হোস্টেলে থাকতে পারবেন। এসব হোস্টেল নিরাপদ ও অনেক উন্নত। থাকা খাওয়া মিলিয়ে আপনার খরচ হবে ১৫০-২০০ মার্কিন ডলার।
Image Source: Internet
পার্ট টাইম জব এর সুযোগ ও স্থায়ী বসবাস
আপনি রাশিয়ায় সামারে কোন প্রকার অনুমতি ছাড়াই পার্ট টাইম চাকুরী করতে পারবেন। কিন্তু যদি ভাষাগত দক্ষতা না থাকে তবে পার্ট টাইম জব পেতে আপনাকে বেশ খানিকটা বেগ পোহাতে হবে। আর বছরের অন্য সময় এই দেশে পার্ট টাইম জব করতে আপনাকে অনুমতি নিতে হবে Federal Migration থেকে- কিন্তু মজার ব্যাপার হল, এই সংস্থা থেকে পার্ট টাইম জবের অনুমতি আনতে আপনাকে বেশ শ্রম দিতে হবে।
রাশিয়ায় আপনি যদি কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে থাকেন এবং আপনার যদি ১ বছরের ভেরিফাইড বাস্তব কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে থাকে, তাহলেই আপনি রাশিয়ায় স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
রাশিয়ায় আবেদনের যাবতীয় বিষয়াবলী আপনাদের সামনে তুলে ধরা হল বিস্তারিত। তাহলে আর দেরী কেন – আজই করুন নিজের আবেদন নিজেই ।
পূর্ব ইউরোপের অপরূপ সুন্দর ছোট একটি দেশ লাটভিয়া। এই দেশে রয়েছে হাজারো নদী ও হ্রদ। আর এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে হাজার মানুষ প্রতি বছর ভীড় জমায় এই দেশে। শুধু তাই নয়, এখানে উচ্চ শিক্ষার জন্যও অনেক শিক্ষার্থী ভীড় জমাচ্ছে সম্প্রতি কালে। তাই, আমরা আজ লাটভিয়ায় উচ্চশিক্ষা নিয়ে আলোচনা করব।
কেন লাটভিয়াতে পড়তে যাবেন?
বাল্টিক সাগরের পূর্ব উপকূলবর্তী এই দেশের আয়তন ৬৪,৫৮৯ বর্গকিলমিটার এবং জনসংখ্যা ১৯৫,৭০০। এদেশের সবচেয়ে বৃহৎ শহর, বন্দর ও রাজধানী হল রিগা। এই দেশের অফিসিয়াল ভাষা লাটভিয়ান ও মুদ্রা ইউরো। এর প্রতিবেশি দেশগুলো হল লুথিনিয়া, এস্তোনিয়া, রাশিয়া, বেলারুশ, সুইডেন। এই দেশে কৃষি উপোযোগী জমির পরিমাণ ২৫% আর আয়তন বাংলাদেশের অর্ধেক। তবে উন্নয়নের দিক দিয়ে এটি অনেক এগিয়ে আছে। লাটভিয়া উচ্চশিক্ষার জন্য জনপ্রিয় হয়ে ওঠার অন্যতম কারণ হল এই দেশের কম টিউশন ফি। প্রতি বছর বিদেশী শিক্ষার্থীর হার ১০% করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই বাংলাদেশী শিক্ষার্থী যারা বিদেশে পড়তে যেতে চান, তাদের জন্য লাটভিয়া হয়ে উঠতে পারে একটি আদর্শ ডেস্টিনেশন।
Image Source: pixabay.com
ℹ️ লাটভিয়ার শিক্ষার মান ভাল এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
লাটভিয়া পড়তে যাবার জন্য নূন্যতম যোগ্যতা
যদি আপনি লাটভিয়াতে ব্যাচেলর পড়তে চান তাহলে আপনাকে কমপক্ষে HSC পাশ করতে হবে। এবং সাধারণত ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থীরা ইংরেজী মাধ্যমে পড়াশুনা করে- আর তাই আপনাকে IELTS বা TOEFL লাগবে। আর বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে যোগ্যতা ভিন্ন হয়ে থাকে। যদি আপনি মাস্টার্সে যেতে চান, তাহলে কমপক্ষে ব্যাচেলর ডিগ্রী অর্জন করতে হবে। এই দেশে IELTS-এ কমপক্ষে ৬.০ অথবা TOEFL-এ ৫০০ থাকতে হবে বা ibt তে ৯০ স্কোর থাকতে হবে।
কোর্স সার্চ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন
উচ্চশিক্ষার প্রথম কাজ হল সাবজেক্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করা। কারণ যদি আপনি ভালো কোর্স ও ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচনে ব্যর্থ হন, তাহলে ভবিষ্যতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। তাই এই কাজটি অনেক ধৈর্য্য ও সতর্কতার সাথে করবেন। এই ক্ষেত্রে গুগল হতে পারে আপনার পরম বন্ধু। এই দেশে আপনি মেডিকেল, সাইন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং, বিজনেস সকল বিষয়েই পড়াশুনা করার সুযোগ পাবেন।
কোর্স নির্বাচন করতে আপনি সাহায্য নিতে পারেনে এই ওয়েবসাইট এরঃ
লাটভিয়ার কিছু নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের লিস্ট নিচে দেওয়া হলঃ
University of Latvia (LU), Riga
Riga Technical University
Riga Stradiņš University (formerly Medical Academy of Latvia)
Daugavpils University
University of Liepaja (former Liepaja Pedagogical Higher School)
Latvia University of Agriculture
Riga International School of Economics and Business Administration
Stockholm School of Economics in Riga
Baltic International Academy
Banking Institution of Higher Education
Latvian Academy of Sports Education
Latvian Maritime Academy
National Academy of Defense of the Republic of Latvia
Newport University CED
Police Academy of Latvia
Psychology Higher School
Rezekne Higher School
Riga Graduate School of Law (RGSL)
Riga Teacher Training and Educational Management Academy
School of Business Administration Turiba
Transport and Telecommunication Institute
Ventspils University College
Vidzeme University of Applied Sciences
ভর্তি আবেদনের প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আবেদনের প্রথমেই আমাদের মাথায় আসে আবেদন ডাকযোগে পাঠাবেন নাকি অনলাইনে করবেন সেই বিষয়ে। মজার ব্যাপার হল, এই দেশে এরকম কোন ধরাবাধা নিয়ম নেই। এজন্য প্রথমেই আপনাকে ওয়েব সাইট দেখে ও ভার্সিটিতে মেইল করে আপনাকে জেনে নিতে হবে। আবেদনের জন্য আপনার আবেদন ফি ১০০ থেকে ২০০ ইউরো প্রয়োজন পরবে। এই ক্ষেত্রে উল্লেখ্য, এই আবেদন ফি ফেরৎযোগ্য নহে। অন-লাইন বা অফ-লাইন আবেদন পত্র জমা দেওয়ার পর আপনাকে দেড় মাসের মত অপেক্ষা করতে হবে আপনার ফলাফল জানার জন্য। যদি কর্তৃপক্ষ আপনার আবেদন গ্রহণ করে তাহলে তারা আপনার সাক্ষাৎকার অথবা অনলাইন এক্সাম নিবে এবং তাতে পাশ করলে আপনি পেয়ে যাবেন সেই কাঙ্ক্ষিত অফার লেটার । আর একই সাথে পাঠানো হবে একটি এগ্রিমেন্ট পেপার যাতে আপনাকে নিজ হাতে সাইন করতে হবে। এরপর আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে একাউন্টস নম্বর দেওয়া হবে, সেখানে টিউশন ফি জমা দিতে হবে।
এখন জেনে নিই আবেদনের সময় কি কি কাগজপত্র জমা দিতে হবেঃ
১। একাডেমিক সার্টফিকেট এবং মার্কশীট
২। IELTS এর সনদ
৩। মোটিভিশন লেটার ও রিকমেন্ডেশন লেটার
৪। CV
৫। পাসপোর্টের কপি ও ফটোগ্রাফ
৬। এপ্লিকেশন ফর্ম ও এপ্লিকেশন ফী জমা দেওয়ার রশিদ
ডকুমেন্টস সত্যায়নঃ
লাটভিয়ায় আবেদনের জন্য আপনাকে সকল কাগজপত্র ইংরেজীতে অনুবাদ ও নোটারাইজড করে নিতে হবে। এর পর আপনাকে সকল ডকুমেন্টস লিগ্যালাইজড করতে হবে। এটি কোথা থেকে এবং কিভাবে করবেন এটি বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে বিস্তারিত জানিয়ে দিবে।
Image Source: Internet
পড়াশোনার খরচ (টিউশন ফি)
ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় এই দেশের টিউশন ফি অনেক কম। বিষয়ভেদে টিউশন ফি ও ভিন্ন হয়ে থাকে যেমনঃ
(১) মেডিকেল প্রোগ্রামঃ ৮,০০০- ১৫,০০০ ইউরো
(২)বিজনেস ম্যানেজমেন্টঃ ২,০০০ – ৬,০০০ ইউরো
(৩)ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামঃ ১,৫০০ – ৪,০০০ ইউরো
লাটভিয়া ইউরোপের একটি দেশ হলেও বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় এই দেশ কিছুটা নিচের দিকে।
ℹ️ পূর্বের বছরগুলোতে কিছু বাংলাদেশী শিক্ষার্থী লাটভিয়াতে ভর্তি হলেও তারা সেই দেশে পড়াশুনা শেষ না করে চলে আসার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশীদের জন্য বিশেষ রিকোয়ারমেন্ট, অর্থাৎ, ২ বছরের টিউশন ফি অগ্রীম প্রদানের শর্ত চালু করেছে।
তবে আপনি যদি প্রকৃতপক্ষেই পড়াশুন করতে চান, তাহলে এটি নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। এখানে মাস্টার্স ও পিএইচডিতে স্কলারশিপের সুযোগ রয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে থেকে মেইল করে সব কিছু জেনে নিতে হবে।
আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ
ব্যাংক স্বচ্ছলতার জন্য আপনাকে প্রতি বছরের জন্য ৫,৩০০ ইউরো করে, যত বছরের জন্য আপনি কোর্সে ভর্তি হবেন তত বছরের জন্য অর্থ দেখাতে হবে। এক্ষেত্রে, ২ বছরের জন্য হলে আপনাকে ১০,৬০০ ইউরো ব্যাংকে দেখাতে হবে।
Image Source: Internet
লাটভিয়ায় আবাসন ব্যবস্থা
এই দেশে প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েই রয়েছে হোস্টেলের ব্যবস্থা। এছাড়া বিভিন্ন স্টুডেন্ট এপার্টমেন্টেরও ব্যবস্থা এই দেশে রয়েছে। ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার আগেই বিষয়টি আপনাকে ফাইনালাইজ করতে হবে। ভর্তি আবেদনের সময় হোস্টেলের জন্যও আবেদন করবেন।
আপনি যদি অফার লেটার পেয়ে থাকেন, তাহলে আশা করা যায় আপনি ভিসাও পেয়ে যাবেন। বাংলাদেশে লাটভিয়ার এম্বেসী না থাকায় আপনাকে পাশের রাষ্ট্র ইন্ডিয়াতে ভিসা জমা দিতে জেতে হবে। এই সময় সকল কাগজপত্র অরিজনাল ও ফটোকপি সাথে নিয়ে যেতে হবে। ভিসা আবেদনের জন্য পূর্বেই আপনাকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।
থাকা ও খাওয়া বাবদ এই দেশে আপনাকে গুণতে হবে ৩০০ থেকে ৪০০ ইউরো। তবে ব্যক্তিবিশেষে তা কম -বেশি হতে পারে। এই দেশে আপনি সপ্তাহে ২০ ঘন্টা কাজের সু্যোগ পাবেন। কিন্তু পার্ট টাইম জবের সু্যোগ কম থাকায় অনেক স্টুডেন্ট সমস্যায় পড়েছে। কিন্তু চিন্তার কারণ নেই- ধীরে ধীরে এই সুযোগ আগের থেকে বাড়ছে। এক মাস কাজ করলে আপনি বেতন পাবেন আনুমানিক ৪০০ ইউরোর মত।
কোর্স শেষে চাকুরী ও স্থায়ী বসবাস এর সুযোগ
বর্তমান সময়ে একটা বিষয় লক্ষ করার মত – যে সকল বাংলাদেশী এই মুহর্তে লাটভিয়া আসছেন পড়াশুনা করতে তারা কেউ ই লাটভিয়াতে থাকছেন না । কারণ লাটভিয়াতে জব পাওয়া একটু কঠিন আর বেতন বেশি না বলে তারা কেউ ই ওই দেশে থাকতে চাচ্ছেন না। কিন্তু ওই সকল ছাত্র/ছাত্রীদের অভিবাসন নীতি সম্পর্কে কারো কোন সুস্পষ্ট ধারণা না থাকার ফলে এমন ঘটনা ঘটে চলেছে। যারা মূলত পড়াশোনা করতে আসেন তাদের জন্য পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়া অসম্বভ কিছু না। আর পড়াশুনারত অবস্থায় চাইলে আপনি আপনার রেসিডেন্ট পার্মিট ব্যবসায়িক পার্মিট এ পরিবর্তন করতে পারেন। ব্যবসায়িক পার্মিট এ পরিবর্তন করতে হলে আপনাকে ব্যাঙ্ক এ কিছু টাকা দেখাতে হবে।
ℹ️ একটি তথ্য না বললেই নয়, লাটভিয়াতে সফল ভাবে কোর্স সম্পন্ন করার পর আপনি ইউরোপের যেকোন দেশে চাকুরী করতে পারবেন এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাবেন।
কিছু কিছু ইউনিভার্সিটিতে আপনি বৃত্তি নিয়ে মাস্টার্স ও পি এইচ ডি তে পড়াশুনা করতে পারবেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও সেঞ্জেনভুক্ত দেশের লিস্টে অন্যতম এক নাম লিথুয়ানিয়া। শুধু এর সৌন্দর্য্য বিশ্ববাসীকে এর দিকে আকৃষ্ট করে না বরং এর সাথে উচ্চমানের শিক্ষার ব্যবস্থ এই দেশকে সুপরিচিত করে তুলেছে বিশ্ববাসীর কাছে। তবে আর দেরি কেন? চলুন আজ লিথুয়ানিয়ায় উচ্চশিক্ষার সকল বিষয়ের দিকে দৃষ্টপাত করি।
কেন লিথুয়ানিয়ায় পড়তে যাবেন?
বাল্টিক সাগরের পূর্ব উপকূলবর্তী দেশ- যা ঠিক সুইডেনের বিপরীতে অবস্থিত তার নাম লিথুয়ানিয়া। এই দেশের আয়তন ৬৫,৩০০ বর্গকিলোমিটার এবং এর জনসংখ্যা ২.৭৯৪ মিলিয়ন। এই দেশের জিডিপি পার ক্যাপিটা ১,৯১৫৩.৪১ ইউএসডি। লিথুয়ানিয়ার সর্ববৃহৎ শহর ও রাজধানী হল ভিলনিয়াস। অফিসিয়াল ভাষা লিথুয়ানিয়ান এবং মুদ্রা ইউরো। এর প্রতিবেশি দেশগুলো হল লাটভিয়া, পোল্যান্ড, বেলারুশ ও রাশিয়া।
Image Source: pixabay.com
কোর্স সার্চ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কাছে দিন দিন লিথুয়ানিয়া বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর যাত্রা শুরু হয় ২০০৪ সাল থেকে। যদিও সে বছর খুব কম সংখ্যক শিক্ষার্থী গেলেও বর্তমানে কিন্তু অনেক বেড়ে গেছে। যাই হোক, মূল প্রসঙ্গে আসি। লিথুয়ানিয়ায় বিশ্বমানের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এবং ইউরোপের বেশির ভাগ দেশেই যেখানে ব্যাচেলর পড়ানো হয় তাদের নিজ অফিসিয়াল ভাষায় সেখানে লিথুয়ানিয়ায় সিংহভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েই রয়েছে ইংরেজীতে ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি করার সুযোগ। এখানে আপনি মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং, সাইন্সসহ বিভিন্ন ধরণের কোর্স করার সুযোগ রয়েছে। এজন্য আপনাকে কষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটগুলো ঘেটে দেখতে হবে।
আপনাদের সুবিধার্থে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নিচে দেওয়া হলঃ
Aleksandras Stulginskis University
Kaunas University of Technology
Vytautas Magnus University
Vilnius University
Klaipėda University
Vilnius Gediminas Technical University
Vilnius Academy of Fine Arts
Šiauliai University
Mykolas Romeris University
Lithuanian University of Health Sciences
Lithuanian University of Educational Sciences
Kaunas University of Technology
লিথুয়ানিয়ায় পড়তে যাবার জন্য নূন্যতম যোগ্যতা
এদেশে ব্যাচেলর পড়তে HSC, মাস্টার্স করতে ব্যাচেলর আর পিএইচডি করতে প্রয়োজন পড়বে মাস্টার্স ডিগ্রীর। IELTS ছাড়া এদেশে যাওয়া গেলেও ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে IELTS-এ স্কোর থাকতে হবে ৬.০।
Image Source: Internet
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময়সীমা/ সেশন
অন্যান্য সব দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মতো এখানেও বছরে ২টি সেশনে ভর্তি প্রক্রিয়া চলে। প্রতিবছর- সেপ্টেম্বর ও জানুয়ারি। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেপ্টেম্বর এ বেশি সাবজেক্টে ভর্তির সুযোগ থাকে।
ডকুমেন্টস সত্যায়ন
লিথুয়ানিয়ায় পড়াশুনা করতে অবশ্যই আপনাকে ডকুমেন্টস সত্যায়িত করতে হবে।
(১) প্রথমে সকল সার্টিফিকেট ও মার্কশীট শিক্ষা বোর্ড থেকে সত্যায়িত করতে হবে। এজন্য কমপক্ষে ৩-৫ দিন সময় লাগবে। এই সময়ে ৩/৪ সেট সাথে রাখবেন। এখানে ফি বাবদ ৫০০-৬০০ টাকা খরচ হবে।
(২) এরপর যেতে হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। এখানেও ৩/৪ কপি ডকুমেন্টস নিয়ে যাবেন। এখানে কাগজ-পত্র সকাল ১১ টা থেকে জমা পড়া শুরু হয় আর বিশেষ কোন সমস্যা না থাকলে ঐ দিন বেলা ৩টা বা ৪টার মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবেন।
(৩) এরপর পাসপোর্টের ফটোকপি নোটারাইজড ৩ কপি আইন মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়ন করতে হবে। এজন্য সময় লেগে যাবে সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ৪টা পর্যন্ত।
(৪) এই সকল কাগজপত্র আপনাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে সত্যায়নের জন্য। আর এইগুলো সত্যায়ন করতে সময় লাগবে ২ দিন। কাগজ জমা নেওয়া শুরু হয় সকাল ১১ টায় আর ফেরৎ দেওয়া হয় বেলা ৩ টায়। তবে মনে রাখবেন, অনেক শিক্ষার্থী এই কাজের জন্য লাইনে দাঁড়ায়- তাই সকাল সকাল এসে লাইনে দাড়ানোই ভালো।
ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
প্রথমে আপনাকে আবেদনের জন্য সকল কাগজপত্র ডাক যোগে বা অনলাইনে পাঠাতে হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে, তারা আপনাকে ৫-৭ দিনের মধ্যে অফার লেটার পাঠাবে। আর এরপর আপনাকে ১ বছরের টিউশন ফি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রদত্ত একাউন্টে জমা করতে হবে। চিন্তা করার কোন কারণ নেই- ভিসা না পেলে আপনি অবশ্যই এই টাকা ফেরৎ পাবেন। তবে এখানে এপ্লিকেশন ফি ১০০-২০০ ইউরো প্রদান করতে হবে, যা অফেরৎযোগ্য। এরপর টিউশন ফি জমা দেওয়ার পর তারা আপনাকে ৩/৪ দিনের মধ্যে অফার লেটার এবং ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ডকুমেন্টস পাঠাবে।
লিথুয়ানিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য সকল কাগজপত্র লিথুয়ানিয়ার সেন্টার ফর কোয়ালিটি এসেসমেন্ট ইন হাইয়ার এডুকেশন (SKVC) থেকে রেকগনাইজ করাতে হবে। পূর্বে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের পূর্বেই করা হত কিন্তু ২০১৭ সাল থেকে প্রথমে আপনাকে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এপ্লাই করতে হবে এবং সেখান থেকে পাওয়া কনডিশনাল অফার লেটার প্রুফ অফ পারপাস হিসেবে জমা দিতে হবে। এরপরই আপনি ডকুমেন্টস রিকগনাইজ করানোর সু্যোগ পাবেন। আপনি সকল ডকুমেন্টস রিকগনাইজের জন্য নিজ দেশ থেকে পাঠাতে পারেন। অথবা বিশ্ববিদ্যালয়কে জানালে তারা তাদের অফিশিয়াল ই-মেইল থেকে সকল ডকুমেন্টস SKVC-এ পাঠিয়ে দিবে। SKVC-এ এপ্লিকেশন ফর্মের লিঙ্ক ও সকল কাগজপত্র পাঠাবার ঠিকানা নিচে দেওয়া হলঃ
The Centre for Quality Assessment in Higher Education, SKVC
মনে রাখবেন সকল কাগজপত্র নোটারাইজড হতে হবে। SKVC-এ রিকগনাইজের জন্য কোন ফি লাগে না আর পুরো কাজটি করতে ২০-২৫ দিন সময় লাগে।
এবার আসি ভর্তির জন্য যেসকল কাগজপত্র লাগে তা নিয়েঃ
১। একাডেমিক সার্টফিকেট এবং মার্কশীট
২। IELTS এর সনদ
৩। মোটিভিশন লেটার ও রিকমেন্ডেশন লেটার
৪। CV
৫। পাসপোর্টের কপি ও ফটোগ্রাফ (৩৫/৪৫)
৬। এপ্লিকেশন ফর্ম ও এপ্লিকেশন ফর্ম জমা দেওয়ার রশিদ
৭। হাউজিং ফর্ম
অনেক ক্ষেত্রে আপনাকে অনলাইনে সাক্ষাতকার দিতে হতে পারে।
টিউশন ফি
লিথুয়ানিয়ায় পড়াশুনার খরচ অনেক কম। বছরে সাধারণত ২৫০০ থেকে ৪৫০০ ইউরো দিতে হয় মাস্টার্স প্রোগ্রামে আর ব্যাচেলরে দিতে হয় ১৩০০-৪৫০০ ইউরো।
আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ
লিথুয়ানিয়ায় পড়াশুনা করতে চাইলে ব্যাংকে ৬-৭ লক্ষ টাকা জমা দেখাতে হবে। যে স্পন্সর করবেন তার আয়ের উৎস দেখাতে হবে আর ব্যবসায়ী হলে ট্রেডিং লাইসেন্স দেখাতে হবে।
Image Source: Internet
ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া ও ডকুমেন্টস চেকলিস্ট
লিথুয়ানিয়ার এম্বেসী বাংলাদেশে না থাকায় অবশ্যই আপনাকে ভারতের দিল্লীতে যেতে হবে। এজন্য আপনাকে আগে ভাগেই নিতে হবে এপয়েন্টমেন্ট। ভিসা আবেদন জমা নেওয়ার সময় আপনার একটি সাক্ষাতকার নেওয়া হবে আপনার ইংরেজী দক্ষতা দেখার জন্য। এই ভিসা পেতে সময় লাগে প্রায় ১৪ দিন। আপনাকে সাধারণত ১ বছর বা ৬ মাসের ভিসা প্রদান করা হবে। এবং পরবর্তীতে লিথুয়ানিয়া গিয়ে ভিসা শেষ হবার ৪ মাস আগে টেম্পোরারী রেসিডেন্স পারমিট (TRP) -এর জন্য এপ্লাই করতে হবে। এই TRP এর জন্য পোল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সত্যায়িত করতে হবে। TRP নেওয়ার সময় আপনাকে ব্যাংক স্টেটমেন্টও দেখাতে হবে আর এসময় আপনার একাউন্টসে কমপক্ষে ২৩০০ ইউরো ২/৩ সপ্তাহের জন্য থাকতে হবে।
এবার আসি মূল প্রসঙ্গে, ভিসার জন্য আপনাকে নিম্নোক্ত কাগজপত্র জমা দিতে হবেঃ
১। এপ্লিকেশন ফর্ম
২। পাসপোর্ট ও ফটোগ্রাফ (৩৫/৪৫)
৩। জন্ম নিবন্ধন ও NID কার্ড
৪।সকল সত্যায়িত ডকুমেন্টস, মার্কশিট ও সকল সনদ
৫। অফার লেটার ও ভার্সিটি থেকে প্রাপ্ত অন্যান্য ডকুমেন্টস
ℹ️ ভিসা পাবার পর আপনি অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়কে ইমেইল করবেন। তারা আপনাকে এয়ারপোর্ট থেকে রিসিভ করার এবং সকল ফর্মালিটিতে হেল্প করার জন্য একজন মেন্টর নিয়োগ করবে।
ইন্ডিয়ায়অবস্থিতলিথুয়ানিয়াএম্বেসীরঠিকানাঃ
Lithuania Embassy Address: C-93, Anand Niketan, New Delhi, 110021, India
প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েই রয়েছে হোস্টেলের ব্যবস্থা। মনে রাখবেন ভিসা পাওয়ার পর কয়েক মাসের হোস্টেলের ফি জমা করে দিতে হবে। হোস্টেলের ফি সাধারণত মাসে ৪৫-২০০ ইউরো হয়ে থাকে।
মাসিক খরচ এবং পার্ট টাইম জব এর সুযোগ
লিথুয়ানিয়ায় খুব কম খরচেই আপনি থাকতে পারবেন। ভার্সিটির হোস্টেলে জায়গা পেলে আপনি ১৫০-৩০০ ইউরো খরচের মধ্যে সব কিছু মিটিয়ে ফেলতে পারবেন।
এই দেশে আপনি সপ্তাহে ২০ ঘন্টা কাজ করতে পারবেন। কিন্তু সামার ভ্যাকেশনে আপনি ফুল টাইম কাজ করতে পারবেন। এখানে কাজ পাওয়া একটু কঠিন- যদি এদেশের ভাষা না জানা থাকে। মনে রাখবেন, এইসব কাজ করে পড়াশুনার খরচ বহন করা প্রায় অসম্ভব।
কোর্স শেষে চাকুরী ও স্থায়ী বসবাস এর সুযোগ
লিথুয়ানিয়ায় সফল ভাবে পড়াশুনা শেষে আপনি ৬ মাসের জব সার্চ ভিসা পাবেন। এই সময়ে জব পেয়ে গেলে আপনি ২ বছরের জন্য TRP (Temporary Resident Permit) পাবেন। এবং এই ২ বছরের পর PR (Permanent Resident Permit) এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। লিথুয়ানিয়ায় ১০ বছর থাকার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়।
ℹ️ একটি তথ্য না বললেই নয়, লিথুয়ানিয়ায় সফল ভাবে কোর্স সম্পন্ন করার পর আপনি ইউরোপের যেকোন দেশে চাকুরী করতে পারবেন এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাবেন।
তাহলে পাড়ি জমাতে দেরি কেন – স্বপের দেশ লিথুয়ানিয়ায়।
যুক্তরাজ্যে পড়ার ক্ষেত্রে জনপ্রিয় একটি স্কলারশিপ হলো ব্রিটিশ চেভেনিং বা শেভেনিং স্কলারশিপ। এই স্কলারশিপের অফিসিয়াল নাম শেভেনিং মাস্টার্স স্কলারশিপ, যা যুক্তরাজ্যে মাস্টার্স ডিগ্রী প্রত্যাশীদের দেওয়া হয়ে থাকে। ১৯৮৩ সাল থেকে ফরেন এন্ড কমনওয়েলথ অফিসের অর্থায়নে যাত্রা শুরু করে শেভেনিং স্কলারশিপ প্রোগ্রাম। প্রতি বছর প্রায় ১৫০০ শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয় এই বৃত্তি। আর বিশ্বের ১৪৪টি দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারে এই স্কলারশিপ প্রোগ্রামে আর পড়াশুনা করতে পারে তাদের স্বপ্নের দেশ United Kingdom-এ। বাংলাদেশ সহ নেপাল, ভারত, রাশিয়া, পাকিস্তান, চীন, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, সাউথ কোরিয়া, ব্রাজিল ইত্যাদি দেশেরত শিক্ষার্থীরা আবেদন করে এই স্কলারশিপ প্রোগ্রামে।
স্কলারশিপ এর নাম
শেভেনিং মাস্টার্স স্কলারশিপ
যে যে বিষয়ে অধ্যয়ন করা যাবে
শেভেনিং স্কলারশিপ প্রোগ্রামের আওতায় যুক্তরাজ্যের প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কোর্সের জন্যই প্রযোজ্য। তবে এই স্কলারশিপ শুধু এক বছরের মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য দেওয়া হয়। কিন্ত, এই মাস্টার্স প্রোগ্রাম রিসার্চ বেজড হতে পারবে না- এবং পড়াশুনার শেষে আবশ্যই আপনাকে দেশে ফিরে আসতে হবে।
বাংলাদেশ সহ আরোও ১88 টি দেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ১৫০০ শিক্ষার্থী এই স্কলারশিপ পেয়ে থাকে। তবে এই স্কলারশিপ প্রোগ্রামে আমেরিকার শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারে না।
আবেদন প্রক্রিয়া
শেভেনিং স্কলারশিপে আবেদনের কিছু নিয়ম কানুন আছে- সেগুলো হলঃ
১। যুক্তরাজ্য সরকারের শেভেনিং বৃত্তির জন্য অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। প্রথমে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট কোর্সে আবেদন করতে হবে। আর তারপর আপনি আবেদন করবেন স্কলারশিপ প্রোগ্রামের জন্য।
২। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে। এজন্য আবেদনের লিঙ্ক নীচে দেওয়া হলঃ
৩। সকল ফাইল স্ক্যান করে PDF (Portable Document Format) ফরম্যাটে সাবমিট করতে হবে আর ডকুমেন্ট সাইজ ৫ মেগাবাইটের বেশী হতে পারবে না।
আর শেভেনিং স্কলারশিপে আবেদন করতে প্রয়োজন পরবেঃ
১। ইংরেজীতে লিখিত ২ টি রেফারেন্স লেটার (লেটার ফরম্যাটে)
২। পাসপোর্ট
৩। ব্যাচেলরের ট্রান্সক্রিপ্ট
ℹ️ বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ভর্তির ‘অফার লেটার’ সংযুক্ত করতে হবে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচনের পর মৌখিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয় ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশনে।
যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে
আবেদনে সময় সব তথ্য ঠিকঠাকভাবে দিতে হবে
নেটওয়ার্কিংয়ের দক্ষতা, আগামী দিনের নেতৃত্বদানের সম্ভাবনা বৃত্তিপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে গুরুত্ব পায়।
আপনি যদি বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, সেটিও কাজে আসবে।
ইউরোপের মধ্যে অবস্থিত কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয়, এমন প্রকৃতির অন্যতম সুন্দর দেশ সুইজারল্যান্ড। এটি সেঞ্জেনভুক্ত দেশ। এ দেশের যেমন রয়েছে সুইস ব্যাংক, রয়েছে ট্রেন, চীজ, চকোলেট ও ঘড়ির বিশাল বিশাল ইন্ডাস্ট্রি, তেমনি রয়েছে আল্পস পর্বতমালা বেষ্টিত নৈসর্গিক সৌন্দর্য। অপার্থিব পরিবেশ শুধু নয়, বিজ্ঞান-গবেষণা ও অপেক্ষিকতার জনক আইনস্টাইনের নামও এ দেশের সাথে জড়িত। বিশ্ববিখ্যাত CERN Laboratories-ও এ দেশেই রয়েছে। বুঝতেই পারছেন, সুইজারল্যান্ডের মহিমা কতটা বিশাল। তাই, এ ডদেশে পড়াশুনা করার সুযোগ পেলে আপনার ক্যারিয়ারে আসবে গতি – শুধু তাই নয়, সঙ্গে মিলবে সম্মান ও অর্থ। তাই, উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য আপনার জন্য সুইজারল্যান্ড হতে পারে সবচেয়ে উত্তম স্থান।
Image Source: Internet
আপনার যোগ্যতা যাচাই
সুইজারল্যান্ডে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্ত্বশাসিত- অর্থাৎ, প্রতিটি ভার্সিটিতেই ভর্ত্তির মানদন্ড ভিন্ন ভিন্ন। তাই, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্ত্তির জন্য সঠিক ও যথার্থ তথ্য পাবেন আপনি সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবপেজে। আর যদি কোন বিভ্রান্তি কিংবা সংশয় থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের Admission Office-এ যোগাযোগ করতে হবে।
সুইস বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ব্যাচেলর্স ডিগ্রী ৩/৪ বছর মেয়াদী, মাস্টার্স প্রোগ্রাম ১.৫-২ বছর মেয়াদী এবং পিএইচডি প্রোগ্রাম ৩-৫ বছর মেয়দী হয়। আপনি যদি ব্যাচেলর ডিগ্রির জন্য কোন সুইস বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে চাইলে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় সফলতার সাথে উর্ত্তীর্ণ হতে হবে। আর ভাষাগত দক্ষতা- আপনাকে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ভাষায় পড়ানো হয়, সে ভাষায় দক্ষ হতে হবে। মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করার জন্য আপনার কমপক্ষে ১৬ বছরের শিক্ষা জীবন (Schooling) থাকতে হবে। ভাষাবিষয়ক দক্ষতা থাকতে হবে।এজন্য IELTS-এ আপনাকে 6.5 থেকে 7.00 পেতে হবে। এখানে উল্লেখ্য যে বেশ কিছু সুইস বিশ্ববিদ্যালয়ে GRE/ GMAT চাইতে পারে।
মজার বিষয় হল, সুইস বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয় ইংরেজী, ফরাসি, জার্মানি এবং ইতালিয় ভাষায়।তাই, আপনি বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে জার্মান কিংবা ইতালীয় ভাষায় দক্ষতা অর্জন করে আবেদন করতে পারেন।
তবে এক্ষেত্রে, একটু মনে করিয়ে দিতে চাই, সুইজারল্যান্ড বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল দেশ। তাই, শিক্ষার খরচও বেশি- এই খরচ বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে কমবেশি হয়ে থাকে। আপনাকে ব্যাচেলর ডিগ্রির জন্য শিক্ষার্থীকে বছরে প্রায় ৮ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা, মাস্টার্স ডিগ্রীর জন্য বছরে ১০ লাখ থেকে ১৪ লাখ টাকা গুনতে হবে।
কোর্স সার্চ ও কোর্স নির্বাচন
আর সুইস বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্সগুলো খুঁজতে এখনি ঘুরে আসুন নিচের লিংক থেকেঃ
সুইজারল্যান্ডে পড়তে গেলে আপনি বিশেষত ইন্টারন্যাশনাল ম্যানেজমেন্ট ফাইনান্স, হোটেল ম্যানেজমেন্ট, ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি কোর্সগুলো বাছাই করতে পারেন। এই কোর্সগুলোর খ্যাতি রয়েছে সুইজারল্যান্ডে। এছাড়া অন্যান্য কোর্স যেমন- ইকোনমিকস, ল’, সোস্যাল ওয়ার্ক, একাউন্টিং, ব্যাংকিং, ক্রিমিনোলজি, আর্কিটেকচার, সংস্কৃতি, ভাষাতত্ত্ব, হেলথ্ কেয়ার, ম্যাথমেটিক্স, মিডিয়া বিজনেস, থিওলজি, ফিলোসফি, জার্নালিজম, সাইকোলজি সহ বিভিন্ন বিষয়ে বিদ্যার্জনের সুযোগ আছে।
ইউনিভার্সিটি সিলেকশন
আপনাদের সুবিধার্থে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর লিংক দেওয়া হলঃ
সুইজারল্যান্ডের যে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে World Ranking-এ জায়গা করে নিয়েছে, সেগুলো হলঃ
ETH Zurich (13th),
École Polytechnique Fédérale de Lausanne (38th),
University of Zurich (90th),
University of Basel (94th),
University of Bern (113th)
এছাড়া সুইজারল্যান্ডে রয়েছে আরো অনেক বিশ্ববিদ্যালয়। আপনি তাদের মধ্যে থেকেও আপনার সুবিধামত বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দ করতে পারেন।
Image Source: Internet
ডকুমেন্টস সত্যায়ন (Documents Attestation)
স্বপ্ন যদি হয় সুইস বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন তাহলে আপনাকে প্রায় ১ বছর ধরে এর প্রস্তুতি নিতে হবে। আপনার সকল মার্কশীট, সনদ, স্কুল ও কলেগজের প্রত্যয়নপত্র সব কিছু ইংরেজী ভাষায় হতে হবে- আর এগুলো ইংরেজীতে না থাকলে নোরারী পাবলিক করে অনুবাদ করিয়ে নিতে হবে। এছাড়া প্রয়োজন পরবে ভাষা দক্ষতা প্রমাণের জন্য সনদপত্র, পাসপোর্ট সাইজের ছর্সি, পাসপোর্টের ফটোকপি ও রেফারেন্স। সুইজারল্যান্ডে ভিসার জন্য আবেদন আপনাকে সব ডকুমেন্ট অরিজিনাল দিতে হয়। তবে নিরীক্ষণের পর সেটাকে ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়া
সুইজারল্যান্ডে আবেদন শুরু করা যায় বছরে দুই বার, যথাঃ সামার সেশন (Summer Session) আর উইন্টার সেশন (Winter Session)। শীতকালীন সেশনে আবেদন অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যভাগ এবং গ্রীষ্মকালীন সেশনে আবেদন মার্চ বা এপ্রিলের মধ্যবর্তী সময় থেকে জুন বা জুলাইয়ের মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত হয়ে থাকে।
Image Source: Internet
ভর্ত্তির জন্য হাতে সময় নিয়ে আবেদন করা উচিত হবে। সাধারণত ৬-৮ মাস আগেই আবেদন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। বিজ্ঞপ্তি দেখে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আপনি সফল হলে আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিবে পরবর্তীতে কি করতে হবে।
আর আপনি যদি স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে চান তাহলে ঘুরে আসুন নিচের লিঙ্ক থেকেঃ
সুইস সরকার ফেডারেল কমিশন ফর স্কলারশিপ বাইরের দেশের বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপের সুযোগ দিয়ে থাকে। কিন্তু বেশির ভাগ স্কলারশিপ প্রধানত স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য।
ছাত্র হোস্টেল বা বাসা খোঁজা
প্রকৃতির স্বর্গরাজ্যে পৌঁছানোর পর আবাসিক ব্যবস্থা সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করতে হবে পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কাছে।এক্ষেত্রে আপনার কোন পরিচিত এদেশে থাকলে তার ঠিকান এখানে সংযুক্ত করতে হবে।
ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া ও ডকুমেন্ট চেক লিষ্ট
সুইস এম্বেসী বাংলাদেশে থাকায় আপনি অনেক সুবিধা পাবেন সুইজারল্যান্ডে আবেদন করার ব্যাপারে। আপনি যেহেয়ু ইউরোপীয়ান পাসপোর্টধারি নয়, তাই আপনাকে নিতে হবে ডি ভিসা (D- Visa). ঢাকাস্থ সুইস এম্বেসীর মাধ্যমে আপনি এই বাএদন করতে পারবেন।
Image Source: Internet
ভিসা আবেদনের জন্য নিম্নোক্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রয়োজন পড়বেঃ
১। আবেদন ফর্ম সাথে অনধিক ৬ মাসের পুরানো ছবি সংযুক্ত
২। পাসপোর্ট (পুরাতন সহ, যদি থাকে)
৩। বর্তমান পাসপোর্ট এর ফটোকপি (প্রতিটি আবেদন ফর্ম এর জন্য)
৪। সিভি ও মোটিভেশন লেটার
৫। সকল একাডেমিক কাগজপত্র
৬। অফার লেটার (সুইস বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সত্যায়িত)
৭। ঘোষণা পত্র যে, আপনি পড়াশোনা শেষে নিজ দেশে ফিরে আসবেন।
৮। স্পন্সর কর্তৃক হলফনামা (এফিড্যাভিট)
৯। আয়ের উৎস হিসেবে ১২ মাসের ব্যাংক স্ট্যাটমেন্ট/সনদ, ইনকাম ট্যাক্স পেপার, ফিক্সড জামানত ইত্যাদি এবং যদি ব্যাংক লোন হয় তাহলে ব্যাংককে নিশ্চিত পত্র ইস্যু করতে হবে তা প্রমাণের জন্য।
১০। কমপক্ষে ১ বছরের টিউশন ফি পরিশোধের প্রমাণ কপি
১১। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা পরিক্ষায় পাশের নিশ্চিত পত্র
১২। সাম্প্রতিক IELTS পরীক্ষার সনদ
এছাড়াও অন্যান্য ডকুমেন্টস প্রয়োজন হতে পারে, যদিও তার সম্ভবনা নিতান্তই কম।
পার্ট টাইম জব ও জীবনযাত্রার ব্যয়
সুইজারল্যান্ডে পড়াশুনার পাশাপাশি আপনি সপ্তাহে ১৫ ঘন্টা কাজ করা করার সু্যোগ পাবেন। আবার শর্ত সাপেক্ষে অনেক সময় ফুল টাইম কাজ করারও অনুমতি পেতে পারেন। তবে প্রথম ৬ মাস আপনি কোন কাজই করতে পারবেন না। ৬ মাসের পরে আবেদন করে অনুমতি নিয়ে আপনি পার্ট টাইম কাজ করার সুযোগ পাবেন। সুইজারল্যান্ডে বিভিন্ন জব সাইট ঘেটে নিজের CV দিয়ে আবেদন করতে পারবেন।
সুইজারল্যান্ডে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেশী। স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে আপনাকে বাৎসরিক প্রায় ৮০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ টাকা গুনতে হবে।
Image Source: Internet
কোর্স শেষে চাকুরির সুযোগ ও স্থায়ী বসবাস (পিআর) এর সম্ভাবনা
পড়াশুনা শেষে স্থায়ী ভাবে বসবাসের সুযোগ আছে । সুইজারল্যান্ডে পড়াশুনা শেষ করে আপনি ৬ মাসের জব সার্চ ভিসা পাবেন। আর নাগরিকত্ব পেতে সুইজারল্যান্ডে আপনাকে বসবাস করতে হবে ১২ বছর। কিন্তু আশার বিষয় হচ্ছে বর্তমানে প্রচলিত নিয়মটি পরিবর্তন আসবে- এজন্য সুইজারল্যান্ডে একটি গণভোটও হয়েছে। সামনে হয়ত সহজেই মিলবে সুইজারল্যান্ডের নাগরিকত্ব।
মনোরম প্রকৃতিক শোভামণ্ডিত এই দেশে পড়তে আগ্রহী হলে আপনি আআবেদন করতে পারেন। সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য এই দেশ বিশ্বে সকলের কাছেই খুব প্রিয়।
উচ্চশিক্ষা ও কর্মক্ষেত্র হিসেবে সুইডেন একটি ভালো গন্তব্য। পুর্বে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সুইডেনে উচ্চশিক্ষা টিউশন ফি ফ্রি থাকলেও ২০১১ সাল থেকে বিদেশি (নন-ইইউ) শিক্ষার্থীদের জন্য সুইডেন সরকার টিউশন ফি আরোপ করেছে।
সুইডিশ ইন্সটিটিউট স্টাডি স্কলারশিপস বর্তমানে সুইডিশ ইন্সটিটিউট স্কলারশিপস ফর গ্লোবাল প্রফেশনালস (SISGP) নামে পরিচিত। মূলত সুইডেনে ১-২ বছর মেয়াদী মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য এই স্কলারশিপ দেয়া হয়ে থাকে। এটি একটি ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ তবে যদি প্রথম বছরে রেজাল্ট ভালো না হয়, তবে দ্বিতীয় বছরে আর বৃত্তি দেওয়া হয় না।
৬। SI Network for the Future Global Leaders (NFGL) নামক সংঘটনের ফ্রী মেম্বারশীপ।
৭। স্কলারশিপ পিরিয়ড শেষে ফ্রী মেম্বারশীপ সুবিধা মিলবে SI Alumni Network এর সাথে যুক্ত হওয়ার যা পেশাগত ক্যারিয়ারে অনেক সুবিধা প্রদান করবে।
আবেদনের যোগ্যতা
স্কলারশিপের জন্য আপনার থাকতে হবে নিম্নোক্ত যোগ্যতাঃ
১। কমপক্ষে ২ বছরের বা ৩০০০ ঘন্টা কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কর্মভিজ্ঞতা শুধু চাকুরী নয়, বরং বিভিন্ন লিডারশীপ প্রোগ্রাম থেকে শুরু করে ইন্টার্নশিপ, সোশ্যাল ওয়ার্কও এই ক্ষেত্রে বিবেচ্য হবে।
২। IELTS এ থাকতে হবে। আপনি যে বিষয়ে আবেদন করছেন সে অনুযায়ী আপনার IELTS Score প্রয়োজন পড়বে। সাধারণত IELTS score 6.0 চাওয়া হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে IELTS ছাড়াও আবেদন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে Medium of Instruction (English) সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে।
আবেদনের সময়সীমা
আবেদন করতে হবে দুইটি ধাপে। প্রথম ধাপে আবেদনের সময় ডিসেম্বর। প্রথম ধাপে উত্তীর্ণ হলে দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করতে হবে ফেব্রুয়ারিতে। তারপর যারা বৃত্তি পাবেন তাদের নাম প্রকাশ করা হবে এপ্রিলে (ইমেইল করা হবে)।
সারা বিশ্বের ৩৪ টি দেশের মোট ৩০০ জনকে এই স্কলারশিপে দেওয়া হয়ে থাকে। আর এই তালিকায় বাংলাদেশও আছে তাই বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও এই স্কলারশিপ প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারেন।
সুইডেনে ভর্তিপ্রক্রিয়া কেবল একটি অনলাইন এপ্লিকেশন সার্ভিসের (www.universityadmissions.se) মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাবে। এটা অত্যন্ত সহজ ও ঝামেলাবিহীন। এই সাইটে একবার অ্যাকাউন্ট করলেই যেকোনো বিষয়ে, যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করা যাবে।
একটা বিষয় ক্লিয়ার হওয়া দরকার যে – Swedish University Admission authority (www.universityadmissions.se) এবং SI Scholarship authority দুইটি আলাদা প্রতিষ্ঠান।
আগ্রহী প্রার্থিকে প্রথমেই অনলাইনে আবেদন করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য। আপনি প্রথম স্টেপে ভর্তি নিশ্চিত করবেন।ভর্তি আবেদন সম্পন্ন করার পর দ্বিতীয় স্টেপে আবেদন করতে হবে স্কলারশিপ এর জন্য।
এরপর সুইডিশ কাউন্সিল ফর হাইয়ার এডুকেশন তাদের নিরীক্ষা চালিয়ে আপনাকে ফলাফল জানিয়ে দিবে।
আপনি সর্বোচ্চ ৪টি বিষয়ে আবেদন করতে পারবেন। এবং আবেদন ফী ৯০০ সুইডিশ ক্রোনা।
স্কলারশিপ প্রোগ্রামের জন্য আপনাকে জমা দিতে হবেঃ
১। মোটিভেশন লেটার ২। একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট এবং সার্টিফিকেট। ৩। ইউরোপিয়ান ফরম্যাটে CV । যেটা বলা হয় ইউরোপাস (Europass) ; এই ফরম্যাটে সিভি তৈরির জন্য অনুসরণ করুন এই লিংক: https://europass.cedefop.europa.eu/en/documents/curriculum-vitae ৪। দুটি রেফারেন্স লেটার। অন্তত ১ টি তে আপনার কাজের বা চাকরির বিবরণ থাকতে হবে। অবশ্যই SISGP ফরমে রেফারেন্স নিতে হবে। ফরম অফিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে ৫। কাজের অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট। ৬। পাসপোর্টের স্ক্যান কপি
আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা লাভের অন্যতম পীঠস্থান হল সুইডেন। উন্নত জীবন, পড়াশুনা, এবং গবেষণার অপার সমাহার রয়েছে এই দেশটিতে। আর এসব কারণেই উচ্চ শিক্ষা পিপাসুদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে সুইডেন।
সুইডেন ইউরোপের অন্যতম অত্যাধুনিক দেশ। এ দেশের মুদ্রার নাম ক্রোনা। এ দেশে শিক্ষার হার ৯৯%। শিক্ষার্থীদের এই পছন্দের ডেস্টিনেশন নিয়ে আপনাদের সামনে তথ্য উপাত্ত সহ আমরা আলোচনা করবো সুইডেনে উচ্চশিক্ষার সকল খুটি নাটি বিষয় সম্পর্কে।
Image Source: pixabay.com
সুইডেনের একাডেমিক স্ট্রাকচার ও সেমিস্টার
সুইডেনের শিক্ষা ব্যবস্থা “National Standard of Academic Education” এর অন্তর্ভুক্ত। এখানে বিভিন্ন বিষয়ে প্রফেশনাল এডুকেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। এ দেশে অনার্স প্রোগ্রামে সুইডিশ ভাষা জানা থাকলে ভালো- তবে না জানা থাকলেও সমস্যা নেই, কারণ, এ দেশের Second Language হল ইংলিশ।
স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধিকাংশ কোর্স হল ইংরেজী মাধ্যমে অফার করা হয়। প্রায় ৬০০ এর বেশি কোর্স মাস্টার্স প্রোগ্রামে অফার করা হয় এবং সবগুলোই ইংরেজী মাধ্যমে অফার করা হয়।
সুইডেনে ব্যাচেলর প্রোগ্রাম ৩-৪ বছরের, মাস্টার্স প্রোগ্রাম ১-২ বছরের হয়ে থাকে। এদেশে ৬ মাসের ডিপ্লোমাসহ PhD, Post-Doctoral এর সুযোগ রয়েছে। আর আপনি যদি প্রশিক্ষণমূলক পড়াশুনা করতে চান তারও ব্যবস্থা রয়েছে এই দেশে। প্রশিক্ষণমূলক কোর্সসমূহ নিয়ন্ত্রণ করা হয় “National Agency for Higher Vocational Education” এর মাধ্যমে।
Image Source: Internet
আপনাদের সুবিধার জন্য কিছু নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের লিস্ট এখানে সংযুক্ত করা হলঃ
সুইডেনের বিশ্ববিদ্যালয়ে বছরে দুইটি সেমিস্টার রয়েছে- স্প্রিং সেমিস্টার ও অটাম সেমিস্টার
(১) স্প্রিংসেমিস্টার (Spring Semester) শুরু হয় মধ্য জানুয়ারী থেকে জুন পর্যন্ত। এই সেমিস্টারে আবেদন করা শুরু হয় মে মাস থেকে।
(২) অটামসেমিস্টার (Autumn Semester) শুরু হয় পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে মধ্য জানুয়ারি পর্যন্ত আর এই সেমিস্টারের আবেদন শুরু হয় মধ্য অক্টোবর থেকে।
এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল স্প্রিং সেমিস্টারে শুধু শর্ট কোর্স (৬ মাস ) অফার করা হয়ে থাকে। তাই এই সেমিস্তারে এপ্লাই করলে সাধারণত আপনি ৬ মাসের ভিসা পাবেন। অন্য দিকে অটাম সেমিস্টারে সাধারণত অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স অফার করা হয়ে থাকে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে আপনি মাত্র ১৩ মাসের ভিসা পাবেন- যদিও কোর্স ডিউরেশন ৩/ ৪ বছর অথবা ১/২ বছরের হয়ে থাকে। তবে চিন্তার কোন কারণ নেই- আপনি চাইলে আবেদন করে সময় সীমা বাড়িয়ে নিতে পারবেন। তবে মনে রাখতে হবে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সময় সাপেক্ষ হওয়ায় আপনাকে হাতে সময় রেখে মাঠে নামতে হবে।
কোর্স বাছাই ও ভর্তি আবেদন পর্ব
সুইডেনে কেবল একটি ওয়েবসাইট দিয়ে সব বিশ্ববদ্যালয়ে আবেদন করা হয়। এর অন্য কোন উপায় নেই। আপনার সুবিধার্থে লিঙ্কটি নিচে দেওয়া হলঃ
প্রথমে এই ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার নিজের সঠিক তথ্য দিয়ে একটি একাউন্ট খুলতে হবে। তারপর বিশ্ববিদ্যালয় ও আপনার পছন্দের কোর্সটি বাছাই করতে হবে। মনে রাখবেন, একই তথ্য দিয়ে একাধিক একাউন্ট খুললে সবগুলো একাউন্ট ব্যান হয়ে যাবার সম্ভবনা থাকে। আপনি চাইলে নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব পোর্টাল ঘুরে কোর্স পছন্দ করে এই ওয়েব সাইটে সেটা সিলেক্ট করে দিতে পারবেন।
একটি সেমিস্টারে আপনি ৪ টির বেশি কোর্সে এপ্লাই করতে পারবেন না ।
Image Source: pixabay.com
ভর্তি আবেদন ফি ও কাগজপত্র পাঠানোর উপায়
প্রথমেই বলে রাখি, আবেদনের জন্য আপনাকে গুনতে হবে ৯০০ ক্রোনা। মূলত ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করতে হয়। কিন্ত আপনার যদি ক্রেডিট কার্ড নাও থাকে তবে ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমেও এই অর্থ পরিশোধ করা যাবে।
এখন আসি কি কি ডকুমেন্টস পাঠাতে হবে তার ফিরিস্তত নিয়ে। সাধারণত ব্যাচেলর এবং মাস্টার্সের মার্কশীট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সত্যায়িত করে হার্ড কপি পাঠাতে হবে। এটি আপনি সরকারি ডাক বিভাগ বা DHL এর মাধ্যমেও পাঠাতে পারবেন। আর IELTS স্কোর, মোটিভেশন লেটার (Motivation Letter), পাসপোর্টের কপি, এবং কিছু ক্ষেত্রে সিভি (CV) ইত্যাদির সফটকপি Upload করতে হবে। এই তথ্যগুলো কোর্সের ওয়েবসাইটে সঠিক ভাবে খুঁজে দেখতে হবে। ভুলে করলে একদমই চলবে না।
IELTS ছাড়া আপনি ভর্তির আবেদন করতে পারবেন যদি আপনার Medium of Instruction হয় ইংরেজী। কিন্তু, মনে রাখবেন IELTS ছাড়া আবেদন করা গেলেও সে ক্ষেত্রে আপনার ভিসা পাওয়ার সম্ভবনা কমে যাবে। তাই আমার ব্যক্তিগত মতামত, IELTS দিয়েই আবেদন করা উচিত। ব্যাচেলর প্রোগ্রামের জন্য 6.0 আর মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য 6.5 স্কোর থাকলে ভালো হয়।
সেমিষ্টার টিউশন ফি ও মাসিক বসবাসের খরচ
বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স ভেদে টিউশন ফি ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে বছরে আনুমানিক প্রায় ৮০,০০০ থেকে ১,৪০,০০০ ক্রোনা টিউশন ফি দিতে হবে যদি আপনি সুইডেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় পড়তে চান। এখানে খাওয়া থাকা বাবদ ৫০০০ – ৮০০০ ক্রোনা প্রয়োজন পড়ে প্রতি মাসে। তবে আপনি পার্ট টাইম জব করে সহজেই এই খরচ বহন করতে পারবেন।
Image Source: pixabay.com
আছে স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ
স্কলারশিপ সুইডেনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই দেশে দুই ধরণের স্কলারশিপ প্রদান করা হয়ে থাকে- প্রথমটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবং অপরটি দেওয়া হয় সুইডিশ সরকারের পক্ষ থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপটি শুধু টিউশন ফি এর উপর দেওয়া হয়। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি স্কলারশিপেরও সু্যোগ রয়েছে। এই সরকারি স্কলারশিপে টিউশিন ফি এর পাশাপাশি মাসিক ভাতাও দেওয়া হয়ে থাকে। এটি SI স্কলারশিপ নামে পরিচিত।
মনে রাখবেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত হবার পর এই স্কলারশিপের আবেদন করতে হয় এবং সাধারণত মার্চ মাস থেকে এই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়।
আর্থিক সচ্ছলতা বা ব্যাংক সলভেন্সি
আপনি যদি এক বছরের জন্য পড়তে চান, তাহলে আপনাকে ৮,১৯০ করে ১০ মাসের খরচ ব্যাংকে রাখতে হবে। আবার যদি দুই বছরের জন্য যান তাহলে আনুপাতিক হারে এই টাকার অঙ্ক বাড়তে থাকবে। মনে রাখবেন এই অর্থ আপনার নামে ব্যাংকে রাখতে হবে আর ভিসা আবেদনের ৩ মাস আগ থেকে এই টাকা আপনার একাউন্টসে থাকতে হবে। এই ব্যাপারে আরো স্বচ্ছ ধারণা পেতে সুইডিশ এম্বেসীতে যোগাযোগ করতে হবে।
ভিসার জন্য আবেদন
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্ত্তি নিশ্চিত হবার পর যদি স্কলারশিপ না পেয়ে থাকেন তবে টিউশন ফি জমা দিতে হবে। এরপর টিউশন ফি জমা দেওয়ার পর ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
আপনার সুবিধার্থে চেকলিস্ট করে দেওয়া হলঃ
১। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার
২। টিউশন ফি-এর পেমেন্ট কপি বা স্কলারশিপের ডকুমেন্ট
আপনি চাইলে পুরো পরিবার অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী- সন্তানাদিসহ সুইডেনে যেতে পারবেন। আর তাই সুইডেন শিক্ষার্থীদের কাছে এত জনপ্রিয়। এক্ষেত্রে আপনাকে ব্যাংক সলভেন্সির পরিমাণ বাড়াতে হবে।
নিচে একটা রাফ এস্টিমেট দেওয়া হলঃ
১। নিজের জন্য ব্যয়ঃ ১০ x ৮,১৯০ ক্রোনা / প্রতিবছর
২। স্পাউসের জন্য ব্যয়ঃ ১২ x ৩,৫০০ ক্রোনা / প্রতিবছর
৩। বাচ্চার জন্য ব্যয় (প্রতি জন): ১২ x ২১০০ ক্রোনা / প্রতিবছর
যোগ করার পর প্রাপ্ত অর্থ আপনার ব্যাংকে দেখাতে হবে। আশার কথা হল। স্ত্রী বা স্বামী একই সাথে জব করতে পারবেন। এরজন্য আপনার আলাদা কোন ভিসার দরকার হবে না।
ওয়ার্ক পারমিট এবং পার্ট টাইম জব
সুইডেনে পার্ট টাইম জবের কোন ধরা বাধা নিয়ম নেই। শিক্ষার্থীরা নিজের ইচ্ছা মত পার্ট টাইম জব করতে পারবে। এখানে বড় শহরগুলোতে খুব সহজেই পার্ট টাইম জব পাওয়া যায়। তবে ছোট শহরগুলতে সুযোগ একটু কম।
সুইডেনে ৩০ ক্রেডিট শেষ করার পর শিক্ষার্থীরা ফুল টাইম কাজ করতে পারবেন। কাজ পাওয়ার পর আপনি ওয়ার্ক পারমিট প্রাপ্তির জন্য আবেদন করতে হবে। ফুল টাইম জবের সময় সীমা সাধারণত ৮-১০ ঘন্টা হয়ে থাকে। সুইডিশ ভাষা জানা না থাকলে কাজ পাওয়া একটু কঠিন হয়ে যায়। তাই, আমার অনুরোধ, সুইডেনে যাবার আগে অবশ্যই সুইডিশ ভাষার কোর্স করে যাবেন।
Image Source: pixabay.com
কোর্স শেষে চাকুরীর সুযোগ ও পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির সুযোগ
পড়াশুনা শেষে আপনি ৬ মাসের জন্য জব সার্চ ভিসা এপ্লাই করতে পারবেন। ওয়ার্ক পারমিটে আবেদনের পর আপনি পেয়ে যাবেন ২ বছরের রেসিডেন্স পারমিট ও পরে আবার ২ বছর এই পারমিট বাড়িয়ে নিতে পারবেন।
এই ৪ বছর পর আপনি পার্মানেন্ট রেসিডেন্সীর জন্য আবেদন করতে পারবেন।সুতরাং, আপনার যদি গন্তব্য হয় সুইডেন তাহলে আজই নেমে পড়ুন প্রস্তুতি নিতে।
হাঙ্গেরি ইউরোপের একটি অন্যতম রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। এটি মধ্যে ইউরোপের একটি ছোট দেশ। এর প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে স্লোভাকিয়া, ইউক্রেন, রোমানিয়া, অস্ট্রিয়া। দেশটির আয়তন ৯৩,০৩০ স্কয়ার কিলোমিটার।স্কলারশিপ ও লেখাপড়ার পাশাপাশি কাজের সুবিধা থাকায়, বাংলাদেশ থেকে হাঙ্গেরিতে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
হাঙ্গেরি সরকার ২০১৩ সাল থেকে ‘স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গেরিকাম স্কলারশিপ’ দিয়ে আসছে। স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গেরিকামের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, গত বছর(২০১৯) থেকে বাংলাদেশে চালু হয়েছে এই স্কলারশিপ। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে প্রায় পাঁচ হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী এই স্কলারশিপের আওতায় আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, গ্র্যাজুয়েট, ওয়ান টায়ার মাস্টার্স ও ডক্টরাল নিয়ে হাঙ্গেরিতে পড়ছেন। বাংলাদেশ থেকে আন্ডারগ্র্যজুয়েট ও মাস্টার্স পর্যায়ে এই স্কলারশিপ দেওয়া হয়।
স্কলারশিপ এর নাম
“ স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গেরিকাম স্কলারশিপ ”
যে যে বিষয়ে অধ্যয়ন করা যাবে
এই স্কলারশিপ এর আওতায় আবেদন করতে পারবেন ব্যাচেলর, মাস্টার’স এবং পিএইচডি প্রোগ্রামে।
পড়তে পারবেন সকল বিষয় যেমনঃ মেডিসিন, ফার্মেসী, ডেন্টিস্ট্রি, আর্কিটেকচার, আইন, ভেটেরিনারি সার্জারি, ফরেস্ট্রি ইঞ্জিন্যারিং ইত্যাদি। সকল বিষয় এর লিষ্ট জানতে ভিজিট করুন অফিসিয়াল ওয়েবসাইট – https://stipendiumhungaricum.hu/
দেশ এবং কর্তৃপক্ষ
হাঙ্গেরি। মিনিস্ট্রি অফ ফরেন অ্যাফেয়ার্স এন্ড ট্রেড অফ হাঙ্গেরি।
বৃত্তির সুযোগ সুবিধাসমূহ
স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গেরিকাম স্কলারশিপের আওতায় যা যা পাবেন-
১। টিউশন ফি সম্পূর্ণ ফ্রি।
২।ব্যাচেলর ও মাস্টার্স প্রোগ্রামে ১২০ ইউরো ।আর, পিএইচডি প্রোগ্রামে প্রথম ৪ সেমিস্টার ৩৯০ ইউরো ও পরবর্তী চার সেমিস্টার ৫০০ ইউরো ।
৩। ক্যাম্পাসের ডরমিটিরিতে বিনা ভাতায় থাকার ব্যবস্থা। উল্লেখ্য, ডরমিটরিতে না থাকতে চাইলে মাসে বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ১২ হাজার টাকা করে দেয়া হবে বাড়ি ভাড়া ভাতা বাবদ।
৪। মেডিকেল ইনস্যুরেন্স (স্বাস্থ্যবিমা) – প্রতি বছর সর্বোচ্চ ২৭৫ ইউরো।
হাঙ্গেরিতে আপনি সপ্তাহে ২০ ঘন্টা কাজ করতে পারবেন। যা দিয়ে খুব সহজেই নিজের বারতি খরচ কভার করতে পারবেন। গড়ে একজন বিদেশি শিক্ষার্থী ঘন্টায় ৮০০ HUF এবং সর্বোচ্চ ২০০০ HUF (rare) আয় করতে পারে। বড় শহর গুলোতে জব পাওয়া একটু সহজ।
আবেদনের যোগ্যতা
১। বাংলাদেশী নাগরিক হতে হবে। ২। অবশ্যই ১৮ বছর বয়স হতে হবে। বয়স ১৮ বছরের নিচে হলে আবেদন করতে পারবেন না। ৩। ন্যূনতম উচ্চমাধ্যমিক পাস। ৪। আইইএলটিএস স্কোর ন্যূনতম ব্যান্ড স্কোর ৫ থাকতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে আইইএলটিএসের প্রয়োজন হয় না। ৫। আবেদনকৃত প্রোগ্রামের Entry Qualification পূরণ করতে হবে।
আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, গ্র্যাজুয়েট ও ডক্টরাল—তিনটির যেকোনো একটিতে আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। একাধিক আবেদন করলে আবেদনপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।
আবেদনের সময়সীমা
আবেদনের সময় প্রতি বছর জানুয়ারি এর মধ্যে। তবে হালনাগাদ ডেডলাইন জানতে নজর রাখতে হবে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এ – https://stipendiumhungaricum.hu/
যেসকল দেশের প্রার্থীদের জন্য প্রযোজ্য
বিশ্বের অনেক দেশ সহ বাংলাদেশের জন্য এই স্কলারশিপ ওপেন আছে।
Image Source: Internet
আবেদন প্রক্রিয়া
প্রথমে, Stipendium Hungaricum Website এ সর্বোচ্চ ২ টি প্রোগ্রামে আবেদন করতে হবে। শুধু মাস্টার্স অথবা শুধু পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করা যাবে।
তারপর, বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে অনলাইন আবেদনের পাশাপাশি যাবতীয় শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, মার্কশিট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটসহ অন্যান্য কাগজপত্রের হার্ডকপিও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে।
১। Semmelweis University ২। Eötvös Loránd University ৩। University of Pécs ৪। University of Debrecen
স্কলারশিপটি অন্য অনেক স্কলারশিপের মতো প্রতিযোগিতা পূর্ণ নয়। তাই মোটামুটি রেজাল্ট, আইইএলটিএস স্কোর ভালো থাকলে চেষ্টা করে দেখতে পারেন। লেখাপড়া শেষে অন্য সব ইউরোপীয় দেশের মতো হাঙ্গেরি ও আপনাকে জব খোঁজার ভিসা দিবে।যদি সেই সময়ের মধ্যে জব ম্যানেজ করতে পারেন তবে থেকে যেতে পারবেন।