উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়তে চাইলে স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে বিবেচিত বিষয় গুলোর মাঝে অন্যতম হল স্পন্সরশীপ । কোন একটি নির্দিষ্ট দেশে পড়াশোনা, থাকা – খাওয়া অর্থাৎ সেখানে জীবন – ধারণের জন্য আপনার যথেষ্ট সামর্থ্য আছে কিনা সেটার প্রমাণস্বরূপ এটা লাগে। মুলত কিছু ডকুমেন্ট যা প্রমান করবে আপনি উক্ত দেশের মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ড এর জীবন-যাপন এর খরচ বহন করে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবেন। কোন কোন ক্ষেত্রে এটাকে সার্টিফিকেট অফ সলভেন্সি (সচ্ছলতার সনদ)ও বলা হয়। টাকার পরিমাণটা একেক দেশে একেক রকম হতে পারে।
স্পন্সরশীপ / সার্টিফিকেট অফ সলভেন্সি কি?
কোন বিশ্ববিদ্যালয় এ ভর্তির জন্য আপনার স্পন্সরশীপ / সার্টিফিকেট অফ সলভেন্সি দরকার হবে না। এটা দরকার হবে এম্বাসিতে ভিসা এপ্লিকেশন জমা দেওয়ার জন্য। আপনি যদি কোন স্কলারশিপ পেয়ে থাকেন তাহলেও আপনার এই স্পন্সরশীপ / সার্টিফিকেট অফ সলভেন্সি দরকার হবে না, যেহেতু স্পন্সরশীপ প্রদানকৃত সংস্থা ই আপনার সকল খরচ বহন করবে।
স্পন্সরশীপ / সার্টিফিকেট অফ সলভেন্সি কি তা আমরা এরমাঝে বুজে গেছি। আবারো বলি – যে দেশে আপনি পড়তে যেতে চাচ্ছেন সেখানে থাকাকালীন আপনার সকল খরচ (পড়াশোনা, থাকা – খাওয়া ও অন্যান্য খরচ) বহন করার যথেষ্ট সামর্থ্য আছে তা প্রমান করার জন্য যেসকল ডকুমেন্ট অথবা সাপোর্টিং ডকুমেন্ট আপনাকে এম্বাসিতে ভিসা এপ্লিকেশন এর সাথে জমা দিতে হয় ঐ সকল ডকুমেন্ট ই স্পন্সরশীপ / সার্টিফিকেট অফ সলভেন্সি নামে পরিচিত।
এই ক্ষেত্রে ব্যাংক একাউন্ট স্টেটমেন্ট একটি বহুল প্রচলিত ডকুমেন্ট যা স্পন্সরশীপ / সার্টিফিকেট অফ সলভেন্সি হিসেবে এম্বাসিতে ভিসা এপ্লিকেশন এর সাথে জমা দেওয়া হয়।অর্থাৎ কোন নির্দিষ্ট দেশের রিকয়ারমেন্ট অনুযায়ি ব্যাংক একাউন্টে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা রেখে উক্ত ব্যাংক একাউন্ট এর স্টেটমেন্ট ভিসা এপ্লিকেশন এর সাথে জমা দেওয়া।
যেহেতু ছাত্র হিসেবে আপনার নিজস্ব কোন আয়ের উৎস নাই, তাই আপনাকে ব্যাংক এ প্রদর্শিত টাকার উৎস হিসেবে কোন একজন স্পন্সর এর সহায়তা নিতে হবে।
স্পন্সর (জামিন দাতা) কি এবং কে আপনার স্পন্সর হতে পারবেন?
যেহেতু ছাত্র হিসেবে আপনার নিজস্ব কোন আয়ের উৎস নাই, তাই বিদেশে থাকাকালীন আপনার সকল খরচ এর দায় ভার যিনি নিবেন তাকে বলে স্পন্সর বা গ্যারান্টর বা জামিন দাতা।স্পন্সর আপনাকে স্পন্সরশীপ দিবে। অর্থাৎ আপনার ব্যাংক এ প্রদর্শিত টাকার উৎস হবে আপনার স্পন্সর।
আপনি যখন বাইরে পড়তে যাবেন, তখন আপনার জন্য যে টাকা ব্যয় হবে তার একটা অনুমানিক হিসাব থাকে, এবং সেই হিসাব অনুযায়ী টাকা ব্যাংকে গচ্ছিত রাখতে হবে। আপনার স্পন্সর এই টাকা ব্যাংকে গচ্ছিত রাখবেন এবং লিখিতভাবে এই দায়িত্ব-ভার গ্রহণ করবেন।
ℹ️ ভিসা পাওয়ার জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সঠিক স্পন্সরশীপ / সার্টিফিকেট অফ সলভেন্সি খুবই খুবই গুরুত্তপুর্ন একটি বিষয়।
সাধারণত স্পন্সর যে কেউ হতে পারবেন। তবে স্পন্সর আসলে কে হবেন সেটা নির্ভর করবে আপনি কোন দেশে যাচ্ছেন। অনেক দেশে আপনার মাতা-পিতা ছাড়া অন্যকেউ আপনার স্পন্সর হতে পারবেন না। আবার অনেক দেশে শুধু মাত্র ব্লাড কানেকশন সাপেক্ষে স্পন্সর হতে পারবেন। আবার অনেক দেশ সেই দেশে অবস্থিত কোন আত্মীয়কে স্পন্সর হবার সুযোগ দেয়। মোদ্দা কথা, আপনি কোন দেশে আবেদন করছেন, সেই দেশের নিয়ম অনুযায়ী আপনার স্পন্সর কে হবেন, সেটা নির্ভর করছে।
Image Source: Internet
স্পন্সর হবার জন্য আপনাকে ৫০ টাকা বা ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে আপনার NID, Passport নাম্বার উল্লেখপূর্বক একটি অঙ্গিকারনামায় স্বাক্ষর করতে হবে যে আপনি স্বেচ্ছায় আবেদনকারীর বিদেশে অধ্যয়নের জন্য টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় খরচের ভার বহন করবেন। এই অঙ্গিকারনামা আপনাকে এফিডেভিড করে আপনাকে ভিসা ও আবেদনের সাথে জমা দিতে হতে পারে। তাই তথ্য সঠিক ও যথার্থ হওয়া বাঞ্ছনীয়।
স্পন্সর এর সামর্থ্য বা যোগ্যতা ও প্রয়োজনিও ডকুমেন্টস
এই পর্যন্ত আলোচনায় এটা বোঝাই যাচ্ছে, যিনি আপনার স্পন্সর হবেন তাকে আর্থিক ভাবে বেশ সামর্থবান হতে হবে। তার আপনার জন্য বড় অংকের টাকা খরচের সামর্থ থাকতে হবে। স্পন্সর দাতার আয় এমন থাকা ভাল যেন তিনি তার পারিবারিক এবং মাসিক খরচপাতি চালানোর পরেও মাসে ১০০০ – ১১০০ ইউরো/ডলার সঞ্চয় দেখাতে পারেন।
ℹ️ স্পন্সর এর আয়ের উৎস বিশ্বাসযোগ্য ও সঠিক ভাবে উপস্থাপন করা না হলে তা এম্বাসির কাছে গ্রহন যোগ্য হবে না এবং আপনার ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক অংশেই কমে যাবে।
স্পন্সর যদি ব্যবসায়িক হয়ে থাকেন তাহলে সেক্ষেত্রে দেখাতে হবে যে, প্রতি (১) বছরের ব্যবসায়িক লেনদেনের পরেও তার স্পন্সরশীপ হবার যথেষ্ট আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে। উনার ব্যাবসায়িক ট্রেড লাইসেন্স, টিন সার্টিফিকেট, ট্যাক্স রিটার্ন পেপার অর্থাৎ ব্যাবসায়িক খাতে দেওয়া ট্যাক্স পরিশোধের রসিদ ও ব্যাবসায়িক খাতে লেনদেন করার ব্যাংক স্টেটমেন্ট (ব্যাবসায়িক ব্যাংক একাউন্টের স্টেটমেন্ট) দিতে হবে। আর যদি উনার নিজের ব্যাংক একাউন্টে বড় এমাউন্টের টাকা থাকে তাহলে সেটাও সাথে দিতে পারেন এবং ঐ একাউন্টের শেষ ৬ মাসের ব্যাংক বিবৃতি (ব্যাংক স্টেটমেন্ট) দিতে পারেন
Image Source: Internet
আবার আপনার স্পন্সর যদি চাকুরিজীবী হন, তাহলে তার চাকুরীর কন্ট্রাক্ট ডকুমেন্টস জমা দিতে হবে সাথে দিতে হবে ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
আর বিদেশে অবস্থিত কোন আত্মীয় যদি স্পন্সর হন, আর আপনি যদি স্পন্সরের বাসায় অবস্থান করতে চান, তাহলে তার বাসায় তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা উল্লেখপূর্বক আপনাকে একোমোডেট করার পর্যাপ্ত স্পেস আছে সেটা উল্লেখ করতে হবে।
ℹ️ ব্যাংক স্টেটমেন্ট ছাড়াও আপনার পৈত্তিক সম্পত্তি যেমন – জমি, বাড়ি ইত্যাদি স্পন্সরশীপ / সার্টিফিকেট অফ সলভেন্সি হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন।
স্পন্সর বাইরে যাবার জন্য আপনার খুঁটি- তাই আপনার খুঁটি শক্ত হলে ভিসা পেতে আপনার সুবিধা হবে। আর ডকুমেন্টস দেবার সময় অবশ্যই সঠিক ডকুমেন্টস দিবেন। ভিসা দেবার সময় এম্বেসী অনেক সময় বিভিন্ন এজেন্সী দিয়ে আপনার ডকুমেন্টস ক্রস চেক করায়। তাই, জাল বা Fabricated Documents দিলে আপনার যেমন ক্ষতি, তেমনি দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সুতরাং, সঠিক ভাবে আবেদন করুন, আশা করি আপনার ডকুমেন্টস অবশ্যই কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে আর আপনার স্বপ্ন পূরণে আপনি আরো একধাপ এগিয়ে যাবেন।
“Donde fueres, haz lo que vieres” – এটি একটি স্প্যানিশ প্রবাদ যাকে ইংরেজীতে বলা যেতে পারেঃ Wherever you go, do whatever you see আর সোজা বাংলায়, যেমন দেশ, তেমন বেশ আর তেমনি হওয়া উচিত কার্য-কলাপ। শুরুতেই আপনাদের স্পানিশ জ্ঞান সাগরের তীরে নিয়ে ফেললাম। অন্যভাবে, স্পানিশ ফুটবল, খাবার অথবা স্পানিশ মুভি পৃথিবীয় অন্যতম ক্লাসিক ব্যাপারের একটি যেন। এতো স্পানিশ চর্চা করছি, নিশ্চই বুঝতে পারছেন- আজ আপনাদের সাথে আলোচনায় বসবো স্পেনের উচ্চশিক্ষা নিয়ে। আর দেরী না করে শুরু করে দেই- স্পেনে উচ্চশিক্ষাঃ নিজেই করুন নইজের আবেদন।
কেন স্পেনে পড়তে যাবেন?
পড়াশুনার জন্য যদি যেতে চান ইউরোপ, আর গন্তব্য যদি হয় স্পেন- তাহলে মনে রাখবেন, স্পেন আপনাকে বিশাল হৃদয় নিয়ে অভ্যর্থনা জানাবে। পড়াশুনার পরিবেশ, চর্চার জায়গা ও বিকাশ ও সার্বক সুযোগ ও মানের বিচারে এই দেশের বিশ্ববিদ্যালয় অনেক এগিয়ে আছে। শুধু কি তাই- খোদ আমেরিকা থেকেও এই দেশে পড়তে আসে অনেক শিক্ষার্থী। তাহলে, বুঝতেই পারছেন- স্পেন অনেকটাই এগিয়ে বিদ্যার্জনের পীঠস্থান হিসেবে।
Image Source: pixabay.com
পশ্চিম ইউরোপের সেঞ্জেনভুক্ত দেশ স্পেনের সাংবিধানিক নাম Reino de España, ভাষা স্প্যানিস, মুদ্রা ইউরো আর রাজধানী মাদ্রিদ- এদেশের সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র। আইবেরীয় উপদ্বীপে অবস্থিত স্পেনের আয়তন ৫,০৫,৯৯০ বর্গ কিলোমিটার যা বিশ্বর ৫১তম বৃহৎ, ও লোকসংখ্যার গণনায় এই দেশে বসবাস করে ৪৭ মিলিয়ন লোক। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের মনে, পর্তুগাল বিশ্বে ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতি। ২.৬% জিডিপি প্রবৃদ্ধির এই দেশ পৃথিবীর অন্যতম উন্নত অর্থিনীতির দেশ। তাই, এই দেশ আপনাকেও এনে দিতে পারে সাফল্য।
কোর্স সার্চ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন
স্পেনের শিক্ষার মান বিশ্বমানের- আর এজন্যই বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক শিক্ষার্থী এই দেশে পড়তে আসেন। প্রতিবছর সারাবিশ্বের হাজার হাজার শিক্ষার্থী স্পেনের মোট ৭৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে আসেন। স্পেনের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে। স্পেনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয় স্প্যানিশ ভাষায়। কিন্তু শুধু স্প্যানিশ নয়, এদেশে ইংরেজী ভাষায়ও পাঠ দান করা হয়ে থাকে। ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি সব প্রোগ্রামই ইংরেজী ভাষায় করার সুযোগ আছে। এজন্য আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ঘেটে যেনে নিতে হবে। কিন্তু যদি আপনার জানা থাকে স্প্যানিশ ভাষা তাহলে আপনার জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বার উন্মোচন আরো সহজ হবে- সুযোগের দিগন্ত হবে অনেক সুদূর প্রসারী।
নিচে আপনাকে স্পেনের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা দেওয়া হল:
Universitat de Barcelona
Universidad Complutense de Madrid
Universitat de València
Universidad de Granada
Universitat Autónoma de Barcelona
Universidad Politécnica de Madrid
Universidad de Sevilla
Universidad de La Rioja
বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং ও তালিকা আরো বিস্তারিত জানতে ব্রাউজ করে দেখুন নিচের ওয়েবসাইটঃ
স্পেনে ব্যাচেলর পড়তে গেলে আপনার ১২ বছরের শিক্ষা জীবনের অর্থাৎ HSC পাশ করে আসতে হবে, মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য ১৬ বছরের শিক্ষা জীবনের অর্থাৎ, ব্যাচেলর ডিগ্রী থাকতে হবে এবং পিএইচডি করার জন্য থাকতে হবে মাস্টার্স ডিগ্রী। এরপর আপনার দরকার হবে ভাষাগত দক্ষতার। আপনি ইংরেজী ভাষায় কোর্স করতে চাইলে আপনাকে IELTS এ ৫.৫/৬.০ – ৭.০ স্কোর পেতে হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে এই স্কোর পরিবর্তিত হয়। আর আপনি যদি স্প্যানিশ ভাষায় কোর্স নিতে চান তাহলে আপনাকে স্প্যানিশে আপনার B1/B2 বা DELE (Diploma of Spanish as a Foreign Language) Intermediate বা DELE B1/B2 থাকতে হবে। DELE সার্টিফিকেটটি ইস্যু করে Cervantes Institute, Spain.
ℹ️ উল্লেখ্য যে, স্প্যানিশ ভাষায় সরাসরি ব্যাচেলর প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীকে স্প্যানিশ ভাষায় ভর্তি পরীক্ষায় পাশ করতে হবে।
স্প্যানিশ ভাষা শিক্ষা
বাংলাদেশে স্প্যানিশ ভাষা শিক্ষার জন্য কিছু ইন্সিটিউট রয়েছে বিশেষ করে আধুনিক ভাষা ইন্সিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ স্প্যানিশ ডিপার্টমেন্টে জুনিয়র এবং সিনিয়র কোর্স নামে ১বছর করে স্প্যানিশ ভাষা শিক্ষা কোর্স চালু রয়েছে যা সাধারনত প্রতি বছরের এপ্রিল-মে মাসে ভর্তির আবেদন গ্রহন করা হয়। তাছাড়া ঢাকার আর কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে স্প্যানিশ ভাষা শিক্ষাদান করা হয় যেমন ব্রাক ইউনিভার্সিটি, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি।
এখানে স্প্যানিশ ভাষা শিক্ষা সম্পর্কিত কিছু লিংক দেওয়া হল যেখানে স্প্যানিশ ভাষা শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয় সম্বন্ধে জানা যাবে।
স্পেনে আবেদনের জন্য আপনাকে আপনার প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস প্রথমে নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তারপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়ন করিয়ে নিতে হবে। এরপর, ঢাকাস্থ স্পেনের দূতাবাস থেকে সকল ডকুমেন্টস সত্যায়ন করাতে হবে। অনলাইনে আবেদনের সময় অনেক সময় হার্ডকপিও চায়। তাই এজন্য সত্যায়িত ফটোকপি আপনাকে পাঠাতে হতে পারে। আপনার ডকুমেন্টস যেন সঠিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানায় পৌছায় এজন্য হাতে সময় নিয়ে ডকুমেন্টস পাঠানো ও আবেদনের কাজ শুরু করা উচিত।
Image Source: Internet
বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সময়সীমা ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস
ডিপ্লোমা, স্নাতক, স্নাতোকত্তর অথবা পিএইচডি সব ধরণের প্রোগ্রামে পড়ার সুযোগ আছে স্পেনে।
স্পেনে তিন ধাপে ছাত্র-ছাত্রী বিভিন্ন কোর্সে ভর্তির আবেদন গ্রহন করা হয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে।
১ম ধাপে স্নাতক কোর্সে ভর্তি নেওয়া হয় যা সাধারনত বছরের শুরুর(ফেব্রুয়ারী-জুন) দিকে ভর্তির আবেদন গ্রহন করা হয়।
২য় ধাপে স্নাতকোত্তর কোর্সে ভর্তি নেওয়া হয় যা সাধারনত বছরের মাঝখানের (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) দিকে ভর্তির আবেদন গ্রহন করা হয়।
৩য় ধাপে গবেষণামূলক/PhD কোর্সে ভর্তি নেওয়া হয় যা সাধারনত এপ্রিল-অক্টোবর পর্যন্ত ভর্তির আবেদন গ্রহন করা হয়।
স্পেনে দুই ধরণের মাস্টার্স কোর্স আছেঃ একটি অফিসিয়াল মাস্টার্স, যা স্পেনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় দ্বারা অনুমোদিত আর দ্বিতীয়টি হল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক অনুমোদিত ও অফারকৃত মাস্টার্স প্রোগ্রাম, যা তুলনামূলক ব্যয়বহুল। মাস্টার্স প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে আপনার ব্যাচেলরের মার্ক্স স্পেনের সমতুল্য স্কেলে রূপান্তর করিয়ে নিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের জন্য যেসকল প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস দরকার পরবে তার তালিকা নিচে দেওয়া হলঃ
১। সকলএকাডেমিক সার্টফিকেট এবং মার্কশীট (স্পেনের স্কেলে রূপান্তরকৃত)
২। মোটিভিশন লেটার ও রিকমেন্ডেশন লেটার
৩। CV
৪। পাসপোর্টের কপি ও ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
৫। আপ্লিকেশন ফি পরিশোধের প্রমাণ
সকল ডকুমেন্টস ঠিক ঠাক মত জমা দিতে হবে। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ে মেইল করে জেনে নিতে হবে।
আপনার ডকুমেন্টস সব কিছু ঠিক-ঠাক থাকলে, ১-২ মাসের মধ্যে আপনাকে মেইল করে জানিয়ে দেওয়া হবে। Acceptance Letter আপনার ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এরপর আবেদন কনফার্ম করার জন্য টিউশন ফি-এর পুরোটা বা আংশিক অংশ বিশ্ববিদ্যালয়রের প্রদত্ত ব্যাংক একাউন্টসে পাঠিয়ে দিতে হবে। টিউশনের ফি-এর কতটুকু অংশ জমা দিতে হবে, সেটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ভিন্ন হতে পারে। এই টিউশন ফি (আংশিক/ পূর্ণ) জমা দেওয়ার পরে, বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে Acceptance Letter -এর হার্ডকপি ও ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্র পাঠাবে।
Image Source: Internet
পড়াশোনার খরচ ( টিউশন ফি) ও স্কলারশিপ
স্পেনে পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। আপনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাইলে আপনার বার্ষিক ফি দিতে হবে ৬,০০-১,২৮০ ইউরো। আর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় হলে বার্ষিক ফি-এর পরিমাণ হবে ৫,৫০০-১৮,০০০ ইউরো পর্যন্ত।
বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স ভেদে এই টিউশন ফি-এর তারতম্য হয়ে থাকে। নন-ইউরোপীয় শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে প্রতি ক্রেডিট ৫৫-৮০ ইউরো হয়ে থাকে আর মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামে এই প্রতি ক্রেডিট ফি হয়ে থাকে ২২-৩৬ ইউরো।
স্পেনের পাবলিক ও প্রাইভেট সকল বিশ্ববিদ্যালয়েই আছে বৃত্তির সুবিধা। মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটেই থাকে সকল স্কলারশিপের খবরা-খবর। নিচে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে স্কলারশিপের জন্য নিচের ওয়েব সাইট ঘুরে আসতে পারেনঃ
স্পেনে আপনি কোথায় আছেন সেটার উপর নির্ভর করবে আপনাকে আবাসন বাবদ কত খরচ করতে হবে। মাদ্রিদ বা বার্সেলোনার মত শহরে থাকতে আপনাকে ৩৫০ – ৯০০ ইউরো দিতে হতে পারে শেয়ারড ফ্ল্যাটের জন্য। কিন্তু আপনি যদি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দূরে স্যালামাঙ্কা, স্যান্টিয়াগো ডি কম্পোসটেলা ও গ্র্যানাডা শহরে থাকেন আপনি ৩০০ ইউরোতে আপনার ফ্ল্যাট পেয়ে যাবেন। শুধু তাই নয়, অন্যান্য খরচও এখানে কম। সমস্যা হবে আপনাকে রোজ বেশ খানিকটা রাস্তা কমিউট করে বিশ্ববিদ্যালয় পৌছাতে হবে।
আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলেও আবেদন করতে পারেন। দ্রুত আবেদন করলে আপনার হোস্টেলে থাকার সম্ভবনা বেড়ে যাবে। আপনি যেখানেই থাকেন না কেন, ভিসার জন্য আপনাকে সংগ্রহ করতে হবে হাউজিং কন্ট্রাক্ট ডকুমেন্টস।
Image Source: Internet
ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া ও ডকুমেন্টস চেকলিস্ট
স্পেনের ভিসা পেতে আপনার সময় লাগবে ৩ মাসের বেশি, তাই আগে ভাগেই আপনাকে আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভিসা পাওয়ার প্রথম ধাপ হবে আপনাকে ঢাকাস্থ স্পেনের দূতাবাস থেকে ভিসা প্রাপ্তির জন্য আবেদন করতে হবে। এজন্য নিচের ওয়েবসাইটে ভিজিট করে এপয়েন্টমেন্ট নিনঃ
আপনি সকল কাগজ নিয়ে সময়মত এম্বেসীতে উপস্থিত হয়ে ডকুমেন্টস সাবমিট করবেন। যদি সকল ডকুমেন্টস ঠিক থাকে, তাহলে ভিসা ফি ব্যাংকে জমা দিয়ে রশীদসহ সকল ডকুমেন্টস জমা দিতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের লিস্ট নিচে দেওয়া হলঃ
১। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো Offer Letter
২। সকল সত্যায়িত ডকুমেন্টস, মার্কশিট ও সকল সনদ
৩। পাসপোর্ট ও ফটোগ্রাফ
৪। CV, মোটিভিশন লেটার ও রিকমেন্ডেশন বা রেফারেন্স লেটার
৫। ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও আর্থিক স্বচ্ছলতার ডকুমেন্টস
৬। IELTS / DELE B1-B2 এর সনদ
৭। হাউজিং সার্টিফিকেট/ ডকুমেন্টস
১১। ফ্লাইট বুকিং টিকিট
১২।স্কলারশিপের পেপার (যদি থাকে)
Image Source: pexels.com
পার্ট টাইম জব ও জীবনযাত্রার খরচ
স্পেনে একজন বিদেশী শিক্ষার্থীর সপ্তাহে ২০ ঘন্টা কাজ করার সুযোগ থাকে। তবে, পার্ট টাইম জবের টাকায় নিজের খরচ চালানো সম্ভব হলেও টিউশ্ন ফি দেওয়া সম্ভব হবে না। স্পেনে থাকা-খাওয়া বাবদ মাসিক খরচ প্রায় ৪০০-৫০০ ইউরো, এটা নির্ভর করে শহর, ব্যক্তির লাইফ স্টাইল এর উপর।
স্পেনে স্থায়ী বসবাস এর সুযোগ
গত সেপ্টেম্বর ২০১৮ সাল থেকে স্পেনে একটি নতুন ইমিগ্রেসন আইন অনুমোদন করা হয়েছে, এই আইনের অধীনে স্পেনে উচ্চশিক্ষারত বিদেশী শিক্ষার্থীরা তাদের উচ্চশিক্ষা সমাপ্তির পর স্পেনে একটি চাকরি খোঁজার জন্য অথবা নিজস্ব ব্যবসায়িক প্রকল্প তৈরি/ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে সর্বোচ্চ ১২-মাস স্পেনে থাকার অনুমতি পাবেন।
এখানে ৫ বছর থাকার পর Temporary Resident Permit এর জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকে। তবে এজন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে যেমনঃ সফলভাবে স্পেনে কোর্স শেষ করতে হবে, স্বাস্থ্যবীমা থাকতে হবে এবং চাকুরী পাওয়ার আগ-পর্যন্ত চলার মত আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণপত্র। আর টানা ১০ বছর থাকার পর, আপনি Permanent Residence এর জন্য আবেদন করতে পারবেন।
Image Source: Internet
যাই হোক, স্বপ্নের স্পেন হোক আপনার সম্ভবনার নতুন দুয়ার। শুরু করে দিন আজই স্পেনে ভর্তির আবেদন।
বিদেশে পড়তে যাবার ইচ্ছা আমাদের অনেকেরই আছে- হোক সে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করা কোন নবীন কিশোর কিম্বা চাকুরীতে মগ্ন কোন সরকারি বা বেসরকারি অফিস কর্মকর্তা। ইচ্ছে আমাদের ষোল আনাই আছে – কিন্তু সম্ভব হয়ে ওঠে না কারণ আমরা অনেকেই এর পেছনে সময় দিতে পারি না আবার অনেকেই খেঁই হারিয়ে ফেলি। কিন্ত সবচেয়ে যে কারণটি এখানে মুখ্য তা হলা- আমাদের বিদেশে উচ্চ শিক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত না জানা আর সঠিক গাইডলাইন না থাকা।
Image Source: pexels.com
তাই আমারা আপনাদের অধরা স্বপ্নকে হাতের মুঠোয় এনে দিতে বিদেশে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য যাবতীয় তথ্য ও উপাত্তের পশরা নিয়ে এসেছি। এক এক করে তুলে ধরা হবে বিদেশে অধ্যয়নের যাবতীয় বিষয়-আশয়। আজকের আলোচনার বিষয়ঃ শুরুটা ঠিক কবে থেকে, আর কখন থেকে এবং কিভাবে করতে হবে।
যাদের ইচ্ছা গ্রাজুয়েশন
উচ্চ মাধ্যমিকে পাশ করে যারা গ্রাজুয়েশনের জন্য বিদেশে যেতে চায়, তাদের জন্য প্রথমত দরকার কোন বিষয়ে অধ্যয়ন করতে হবে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসা। যদি ভালো লাগে কম্পিউটারের সামনে বসে কোডিং করতে তাহলে উচিত হবে প্রোগ্রামিং করা, যদি ইচ্ছে হয় রোবট বানিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিতে, আর যদি থাকে ধৈর্য্য তাহলে উচিত হবে মেকানিক্যাল কিম্বা ইলেক্ট্রিক্যাল নিয়ে পড়াশুনা করা। তবে ইচ্ছাটাকে গুরুত্ব দেবার পাশাপাশি চাকুরীর বাজারেও একটু ঢু দিয়ে আসা। তারপর লেগে যেতে হবে পড়তে যাবার দেশ নির্বাচনের বিষয়ে ও যে বিষয়ে পড়তে যাবে সেই বিষয়টি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাল পড়ানো হয়, সেই বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে। সব তথ্য সংগ্রহের পর সাধ ও সাধ্যের সমন্বয়ে পাড়ি যমাতে হবে বিদেশে।
যাদের ইচ্ছা মাস্টার্স আর পোস্ট গ্রাজুয়েশন
যারা বাংলাদেশে ইতোমধ্যে গ্রাজুয়েশন করে ফেলেছে, তাদের সাবজেক্ট মোটামুটি ঠিক করা থাকে। অনেকেই নিজের বিষয়ের বাইরে গিয়ে অর্থনীতি- এমবিএ কিম্বা ফাইন্যান্স নিয়ে পড়াশুনা করে। এই সব ক্ষেত্রে নিজের ক্যারিয়ার অনুযায়ী কোন বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করলে ক্যারিয়ার আরও ঊজ্জ্বল হবে, সে বিষয়ে জানতে ও ভাবতে হবে। যারা বিদেশে পড়তে যাতে চান, তাদের উচিত হবে গ্রাজুয়েশন ৪র্থ বর্ষ থেকেই এই বিষয়ে খোঁজ- খবর নেওয়া। কোন দেশে যেতে কি কি কাগজ পত্র ও কি কি যোগ্যতার প্রয়োজন পড়বে সে বিষয়ে ধারণা নেওয়া।
কোয়ালিফিকেশন টেস্টঃ কার জন্য কোনটি প্রযোজ্য
GRE নাকি GMAT
বিদেশে পড়তে যেতে কি করব? কোন পরীক্ষা দিব এই বিষয়ে সংশয় কম বেশি সবার থাকে। সাধারণতঃ আমেরিকায় যারা পড়তে যেতে ইচ্ছুক তাদের ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের জন্য প্রয়োজন GRE, যার পূর্ণরূপ Graduate Record Examination। আর যারা ব্যবসা অথবা মানবিক বিষয়ে পড়তে ইচ্ছুক তাদের জন্য আছে GMAT, Graduate Management Admission Test. যারা উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে বিদেশে যেতে চায় অথবা বিদেশে কোন কলেজে ভর্তি হতে চায়, তারা SAT বা Scholastic Aptitude Test দেয়। ইউরোপীয়ান দেশগুলোতে আমেরিকাভিত্তিক GRE বা GMAT প্রয়োজন হয় না। তাই, স্বপ্ন যদি USA না হয় তবে GRE অথবা GMAT এর বালাই নেই। GRE/ GMAT এর মেয়াদ ৫ বছর থাকে। তবে ২/৩ বছরের বেশি সময় হলে প্রফেসররা আবার পরীক্ষায় বসার সাজেশন দেয়।
IELTS নাকি TOEFL
ইংরেজী ভাষাগত দক্ষতার প্রমাণ দেবার জন্য আমাদের বেছে নিতে হয় IELTS (International English Language Testing System) অথবা TOFEL (Test of English as Foreign Language)। এই পরীক্ষা দুইটি মোটামুটি সব দেশেই গ্রহণযোগ্য। IELTS মূলত UK ও Australia ভিত্তিক ভাষাগত দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা। তাই, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলোতে IELTS বেশি প্রাধান্য পায়। আর TOFEL মূলত আমেরিকা ভিত্তিক ভাষাগত পরীক্ষা হবার দরুন USA তে TOFEL এর গুরুত্ব বেশি। তাই নিজের নির্বাচিত গন্তব্য অনুযায়ী, যে কোন একটি পরীক্ষায় বসা উচিত। এই দুই পরীক্ষারই মেয়াদ ২ বছর। তবে এ ব্যাপারে উল্লেখ্য যে, IELTS অথবা TOEFL এর ঝুট-ঝামেলা বাদেও অনেক দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া যায়। তাই সবসময় যে এই পরীক্ষাগুলো দিতেই হবে তারও কোন ধরা বাধা নিয়ম নেই। দেশ- বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে সব কিছুই নির্ভর করে। তাই ইচ্ছা থাকলে উপায়ের অন্ত নেই।
Image Source: pexels.com
IELTS Score ছাড়া মিলবে কি সফলতা?
অনেকে জেনেই খুশি হবেন যে, IELTS Score ছাড়াও পেতে পারেন বিদেশে পড়াশুনা করার সুযোগ। না, মোটেও অসম্ভব কিছু বলছি না। বাংলাদেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনার মাধ্যম বা Medium of Instruction হল English. এখানে উল্লেখ্য হল, বাইরের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় মিদিয়াম অফ ইন্সট্রাকশনকে অনেক মূল্যায়ন করে, এমনকি এটাকে IELTS বা TOEFL এর সমতুল্য হিসেবে গ্রহণ করে। তাই, যারা ভাবছেন IELTS দিয়ে সময় নষ্ট করবেন না, বা মনে করছেন IELTS দিয়ে প্রয়োজনীয় স্কোর করতে পারবেন না- তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে “Medium of Instruction” সার্টিফিকেট সংগ্রহ করুন এবং এপ্লাই করুন। এভাবে এমনি IELTS ছাড়াই এপ্লাই করতে পারবেন। সাধারণত বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সাম কন্ট্রোলার থেকে আর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্যারের দপ্তর থেকে এই সার্টিফিকেট সংরহ করতে পারবেন। এখানে একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না, সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে এই মিডিয়াম অব ইন্সট্রাকশন সার্টিফিকেট দিয়ে কাজ হবে না, বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় আপনাকে IELTS/ TOEFL সার্টিফিকেট দিতে হবে।
কাগজপত্রের তোড়-জোড়
প্রথমত, Application প্রসেস করার শুরুতেই প্রয়োজন পড়বে CV, SOP (Statement of Purpose), Mark-Sheets, IELTS/ TOFEL Result, Bank Solvency Certificate। এই সব কাগজপত্র দিয়ে আবেদন শুরু করার পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া যাবে Confirmation of Enrollment। এই Confirmation of Enrollment এর সাথে অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট যেমন, জাতীয় পরিচয়পত্র, বিবাহের সনদ(যদি বিবাহিত হয়ে থাকেন), জন্ম সনদ, ট্যাক্স সনদ, ইত্যাদি দিয়ে Visa এর জন্য আবেদন করতে হয়। সকল ডকুমেন্ট ঠিক ঠাক থাকলে তবেই মিলবে বিদেশে উচ্চ শিক্ষা।
কোথায় সে দেশঃ কোন সে বিশ্ববিদ্যালয়?
দেশের বাইরে পড়তে যাবার জন্য প্রথমত দরকার কোন দেশে পড়তে যাবেন ও কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন সাবজেক্ট নিয়ে পড়তে যাবেন সেই বিষয়ে সম্যক ধারণা অর্জন করা। এই পথ বাৎলে দিতে এই পর্বের আলোচনাঃ কোন দেশে পড়তে যাবেন তা নিয়ে।
Image Source: pixabay.com
দেশ নির্বাচনঃ কোন দেশে পড়তে যাবেন
দেশ নির্বাচন সবসময়ই একটি জটিল প্রক্রিয়া। এক এক দেশে এক এক রকমভাবে যাচাই করা হয় প্রত্যেক ক্যান্ডিডেটকে। আবার সব দেশের আচার-আচরণ, জীবন- জীবিকা, আবহাওয়া, স্কলারশিপের সুযোগ, পড়ার পাশাপাশি অথবা পড়া শেষে কর্মে প্রবেশের সুযোগ এক রকম নয়। তাই, সব দিক খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করে তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাই সব সময় উচিত হবে কমপক্ষে এক বছর আগে থেকে প্রিপারেশন শুরু করা। এই বিষয়ে তাড়াহুড়ো ভালো হবে না। বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের তালিকায় যে সব দেশ রাখে তাদের মধ্যে রয়েছে – আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জার্মানী, ব্রিটেন, চীন, মালয়েশিয়া সহ অন্যান্য দেশ। এই দেশেগুলোর মাঝে কানাডা, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষা পরবর্তী সিটিজেনশিপ লাভের সুযোগ বেশি। এবার আস্তে আস্তে চলুন জেনে নেই – কিছু পছন্দসই দেশের সাত-সতেরো।
১। আমেরিকা
সবচেয়ে বেশী সংখ্যক বাঙ্গালী ছাত্র-ছাত্রী ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। বাঙ্গালী শিক্ষার্থী শুধু নয়, বিশ্বের সব দেশের সব চেয়ে বেশি জ্ঞানপিপাসুরা অবস্থান করছে এই দেশে আর জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় রিসার্চ করছে। আমেরিকায় রিসার্চ সেক্টরে প্রচুর বরাদ্দ থাকায় এই দেশ সবার পছন্দের এক নম্বরে থাকে। তবে আমেরিকায় বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের টানাপোড়েনে অনেক সময় অনেক রকম বিপত্তি দেখা যায়- যদিও সময়ের সাথে সব ঠিক হয়ে যায়। আমেরিকায় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এক এক রকম টাইম জোন [আমেরিকায় মোট ৫টি টাইম জোন] থাকে আর আবহাওয়ায় বেশ রকম ফের আছে। এই জন্য কোথায়- কোন অঙ্গরাজ্যে পড়তে যাচ্ছেন সেই বিষয়ে একটু খোঁজ নেওয়া বেশ জরুরী। আমেরিকাত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে GRE/ GMAT/ SAT এবং ভাষাগত দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে TOEFL-কে প্রাধাণ্য দেওয়া হয়। তবে কেউ যদি IELTS দিয়েও আবেদন করতে চান, তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় সেটা গ্রহণ করে নেয়। আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়ে গুলোয় TA (Teachers’ Assistant)/ RA (Research Assistant) এর কাজ পাওয়া যায়। এজন্য মেধাবীদের Part-time কিছু রোজগারের ব্যবস্থা হয়ে যায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে Blue Collar Job-ও করার প্রয়োজন পড়ে না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে জানতে ও আরও তথ্য নিতে Education USA (https://educationusa.state.gov/) এর ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখতে পারেন।
২। ব্রিটেন
যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার খরচ বিশ্ববিদ্যালয় ও অবস্থান ভেদে অনেক তারতম্য হয়। অর্থাৎ, লন্ডনে পড়তে যে খরচ হয়ত হবে, তার ঠিক অর্ধেক খরচে হয়তো অন্য কোন শহরের অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া যাবে। UCAS (https://www.ucas.com/) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা যায়- এছাড়া নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট দিয়েও আবেদন করা যায়। ব্রিটেনে পড়তে শুধু IELTS- এ ভালো স্কোর থাকলেই হচ্ছে। যুক্তরাজ্য আইন, ইংরেজী ভাষা ও সাহিত্য, বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় প্রশাসনের বিভিন্ন অনুষদের জন্য এখনও এই দেশকে স্বর্গ ধরা হয়। এই দেশে পড়াশুনার পাশাপাশি Part- Time চাকুরী পাওয়া যায়। তবে পড়াশুনা শেষ করে এই দেশে PR (Permanent Residency) পাওয়া অনেকটা মিশন ইম্পসিবলের গল্পের মত।
৩। অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়া ভালো IELTS স্কোরকে অনেকটা গুরুত্ব দেয়- যদিও প্রকাশ্যে বলা হয় না। তারপরও, অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাবার সময় ভালো IELTS স্কোর থাকলে খুব সুবিধা পাওয়া যায়। এই দেশের ইঞ্জিনিয়ারিং কিম্বা সাইন্সে পড়তে ৭.০ IELTS স্কোর চাওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বের তৃতীয় পড়তে-যাবার ডেস্টিনেশন ধরা হয়। এই দেশে পড়াশুনা শেষ করার পর বেশ সহজেই PR পাওয়া যায়। সাধারণত পড়াশোনা শেষ করার পর ১.৫ থেকে ২ বছর সেখানে চাকুরী করলে PR পাওয়া যায়। এদেশে পড়াশোনা চলার সময় Part- Time আর ছুটিতে Full Time Job পাওয়া যায়।
৪। কানাডা
বিদ্যার্জনের আরেক ডেস্টিনেশন হল কানাডা। শীত প্রধান এই দেশে পড়াশুনা শেষ করে Permanent Resident হয়ে যাবার সুযোগ খুব বেশি। নান্দনিক এই দেশে নাগরিক সুবিধা ও উন্নত জীবন-যাপনের কারণে শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি আগ্রহী হয় এই দেশে আসতে। কানাডা CGPA ও IELTS স্কোরকে খুব প্রাধান্য দেয়। তাই এই দেশের ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এই দু’টো দিকে একটু খেয়াল দিতে হবে।
৫। ইউরোপ
ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, যেমনঃ জার্মানী, সুইডেন, নরওয়ে জ্ঞান পিপাসুদের পছন্দের পীঠস্থান। জার্মানীতে ইংরেজী ভাষা ও জার্মান ভাষায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়। জার্মান ভাষা জানা থাকলে এ দেশে এক্সট্রা সুবিধা পাওয়া যাবে। সুইডেনে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে ভর্ত্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এরফলে আপনি আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌছে যাবেন। নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডে পড়তে আপনার এক পয়সাও ব্যয় হবে না- কারণ এই দেশে শিক্ষা ব্যবস্থা রাষ্ট্রীয় ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। আর আপনি যদি পেয়ে যান স্কলারশিপ তাহলে অন্যান্য খরচের ব্যয় নিয়েও আর চিন্তা করতে হবে না।
দেশ ও তার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে শিক্ষার মান বিভিন্ন। নিজের ইচ্ছা ও যে দেশে আপনি পড়তে যাবেন সেই দেশের বিবেচনায় আপনাকে তৈরী হতে হবে। তবেই মিলবে উচ্চ শিক্ষার সোনার হরিণ।
বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন – কেন গুরত্তপূর্ন এবং কিভাবে করবেন
দেশ নির্বাচনের পর পরের কাজ বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করা। বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের জন্য আপনি সাহায্য নিতে পারেন ওয়ার্ল্ড র্যাঙ্কিং এর। ওই দেশের কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রীদের নয়নের মণি সে বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ খবর নেওয়া দরকার। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ প্রদান করে কি না- আবার, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পর পোর্ট-ফোলিও কতটা উজ্জ্বল হবে সেই সব বিষয়ও মাথায় রেখে এগোতে হবে। আপনি নিম্নোক্ত লিংকে ক্লিক করে জেনে নিতে পারেন বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাল-হকিকতঃ https://www.topuniversities.com/university-rankings/world-university-rankings/2020
Image Source: pixabay.com
বিশ্বে নামী দামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়তে আপনাকেও নিজেকে গড়ে নিতে হবে। CGPA, GRE Score এবং IELTS/ TOEFL Score এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে CGPA কম থাকায় মুসড়ে পরে, কিন্তু আমি বলব, এখানে থেমে যাওয়ার কিছু নাই। যদি পরিশ্রম করার ইচ্ছা থাকে তবে জয় একদিন হবেই। CGPA কম থাকলে, তাকে অন্যান্য বিষয় দিয়ে পুশিয়ে নিতে হবে। আপনার কো-কারিকুলাম কার্যক্রম, ভালো অনুপ্রেরণাদায়ক SOP কিম্বা নিজেকে উপস্থাপন করার ধরণ, কর্মে অভিজ্ঞতা, Publication, Software Expertise ইত্যাদি হতে পারে আপনার অস্ত্র যদি আপনার CGPA কম থাকে। আর CGPA ভালো থাকলে আপনাকেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুঁজছে- শুধু দেরি আপনার আবেদনের। সামনে এগোতে কে আপনাকে রুখে দাঁড়াবে?
স্কলারশিপ না সেলফ ফান্ডিং
বিদেশে উচ্চ শিক্ষা মূলত ব্যয়বহুল। তাই, অনেকে পক্ষেই এই ব্যয় বহন করা বেশ কষ্টসাধ্য। তাই, বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীরা মূলত স্কলারশিপের খোঁজ করে থাকে। কিছু জনপ্রিয় স্কলারশিপ প্রোগ্রাম হলঃ
১। যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ স্কলারশিপ এবং শেভেনিং স্কলারশিপ ২। কানাডার হাম্বার ইন্টারন্যাশনাল এন্ট্রান্স স্কলারশিপ ২। জাপানের মনবুশো বৃত্তি ও মনবুকাগাকুশো বৃত্তি ৩। যুক্তরাষ্ট্রের ফুলব্রাইট ফরেন স্টুডেন্টস প্রোগ্রাম ৪। এমএইচটিটি স্কলারশিপ প্রোগ্রাম ৫। জার্মানির ডিএএডি ৬। অস্ট্রেলিয়ার ডেভেলপমেন্ট স্কলারশিপ
এছাড়া প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের আছে নিজস্ব ফান্ডিং ব্যবস্থা। এ বিষয়ে প্রফেসরের শরণাপন্ন হলে মিলবে সৎ পরামর্শ। আর যারা এই ব্যয়ভার বহনে সামর্থ তাদের এই ঝক্কি পোহানোর কোন দরকার নেই। সেলফ ফান্ডিং এর আওতায় আপনি যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়তে পারবেন।
আর্থিক সামর্থ্য বা সচ্ছলতার সনদ (সলভেন্সি সর্টিফিকেট)
সবই তো হলঃ দেশ বাছাই হল, বিশ্ববিদ্যালয়ও পাওয়া গেল- এবার ভিসা নিতে গেলে প্রয়োজন পড়বে আর্থিক সামর্থ্য বা সচ্ছলতার সনদ। যদি আপনি ফুল ব্রাইট স্কলারশিপ পান, তাহলে আপনাকে ভ্রমণ, স্বাস্থ্য বীমা অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগানের প্রমাণক দিতে হবে। আর যদি সেলফ ফান্ডিং বা আংশিক বৃত্তি পান, তাহলে আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচসহ যাবতীয় খরচ নির্বাহের জন্য অর্থের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে। যদি আপনি নিজে কিম্বা আপনার নিকট আত্মীয়, যেমনঃ বাবা, মা, ভাই , বোন এই ব্যয়ভার বহন করেন, তার সম্মতিপত্র ও তার আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ দিতে হবে। এ জন্য TIN (Tax Identification Number) ও Bank Solvency Certificate গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট, যার মাধ্যমে আপনি আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারেন।
ইউনিভার্সিটিতে ডকুমেন্ট পাঠানোর উপায়
বিশ্ববিদ্যালয়ে ডকুমেন্ট পাঠানোর আগে প্রথমে জানতে হবে সেখানে আদৌ ডকুমেন্ট লাগবে কি না? অনেক বিশ্ববিদ্যালয় Paperless Concept এর কারণে শুধু অনলাইন আবেদনই চায়। সেক্ষেত্রে আগ বাড়িয়ে ডকুমেন্টস পাঠাতে হবে না। আবার অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আছে সেখানে অনলাইনে আবেদনের পাশাপাশি ডকুমেন্টসগুলোর হার্ড কপিও লাগে। সেই জন্য আছে FedEX,DHL। এক্ষেত্রে আপনি চাইলে বাংলাদেশের সরকারি পোস্ট অফিসের EMS সেবাও নিতে পারেন। কম খরচে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ পৌছে দেবে আপনার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে।
দেশ, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কলারশিপ, ফান্ডিং ও আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণপত্র সবই যোগাড়-যন্ত্র করে আপনি পাড়ি জমাবেন আপনার পছন্দের গন্তব্যে। বিদেশের মাটিতে প্রতিটি শিক্ষার্থী বাংলাদেশের এক এক জন রাষ্ট্র দূত। তাই, আমাদের উচিত সবসময় দায়িত্বশীল আচরণ করা। যাই হোক, শুরু করে দিন প্রস্তুতি- সময় এখন আপনার।
পোল্যান্ড, চেক রিপাবলিক, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরী, ইউক্রেন – এই দেশগুলো ঘেরা মধ্য ইউরোপের ল্যান্ডলক দেশ স্লোভাকিয়া। এদেশের গুহা, পাহাড় ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের এর দিকে টানে। তাইতো, যারা ঘুরতে ভালোবাসেন, তাদের কাছে এই দেশ খুবই জনপ্রিয়। বর্তমানে এই দেশ উচ্চশিক্ষার জন্য বেশ নাম করেছে সারাবিশ্বে। তাই আমরা আজ স্লোভাকিয়ায় উচ্চশিক্ষার সকল খুটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।
So, GET! SET! GO!
কেন স্লোভাকিয়ায় পড়তে যাবেন?
স্লোভাকিয়ার আয়তন ৪৯,০০০ বর্গ কিলোমিটার আর জনসংখ্যা প্রায় ৫.৪ মিলিয়ন। এই দেশের রাজধানী ব্রাটিসলাভা আর অফিসিয়াল ভাষা স্লোভাক। এই দেশের মুদ্রার নাম ইউরো। মটর গাড়ি অর্থাৎ আটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি-এর জন্য এই দেশ বিশ্ববাসীর কাছে বহুল পরিচিত আর এই ইন্ডাস্ট্রি এই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। আর বলাই বাহুল্য, মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য জার্মানীর পরেই স্লোভাকিয়া পছন্দের দেশ- বিশেষত যারা অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে চান তাদের জন্য।
Image Source: Pixabay.com
স্লোভাকিয়ার আবহাওয়া মূলত শীতপ্রধান। তবে গ্রীষ্মকালে এই দেশের তাপমাত্রা থাকে সর্বোচ্চ ৩৯ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মত ওঠে, আর শীতকালে মাইনাস (-) ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াসেও নামতে দেখা যায়।
কোর্স সার্চ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন
স্লোভাকিয়ার উচ্চশিক্ষার সুনাম বিশ্বব্যাপী- কারণ এই দেশে রয়েছে World Ranking এ উপরের দিকে থাকা বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়। নিচে কয়েকটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দেওয়া হলঃ
Comenius University of Bratislava
Slovak University of Technology in Bratislava
Pavol Joszef Šafárik University
University of Prešov
University of Žilina
এই দেশে আপনি সকল সাবজেক্টেই পড়াশুনা করার সুযোগ পাবেন। আর্টস, বিজনেস অথবা ইঞ্জিনিয়ারিং যে কোন বিষয়েই পড়াশুনা করার সুযোগ পাবেন। যেহেতু, এই দেশে Mechanical ও Electrical Engineering সাবজেক্টগুলোর চাহিদা বেশি- তাই আপনি এই বিষয়গুলো নিয়ে এই দেশে পড়াশুনা করলে পড়াচলাকালীন সময়ে Industry Attachment- এ ভালো সুযোগ ও অভিজ্ঞতা পাবেন। এখানে অনেক কোর্সই ইংরেজী ভাষায় অফার করা হয়। তাই স্লোভাক ভাষা না জানলেও আপনি ইংরেজী মাধ্যমে এই দেশে কোর্স নিতে পারবেন।
স্লোভাকিয়াতে পড়তে যাবার জন্য নূন্যতম যোগ্যতা
স্লোভাকিয়ায় পড়াশুনার জন্য আপনাকে IELTS বা TOEFL এর প্রয়োজন জয় না। তবে IELTS বা TOEFL থাকলে আপনি বারতি সুযোগ পাবেন। আর স্কলারশিপের দৌড়েও এগিয়ে থাকবেন। এদেশে আপনাকে ব্যাচেলর প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে অর্জন করতে হবে HSC আর মাস্টার্স প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে আপনার থাকতে হবে ব্যাচেলর আর পিএইচডি প্রোগ্রামে অংশ নিতে আপনার থাকতে হবে মাস্টার্স ডিগ্রী।
Image Source: Internet
ডকুমেন্টস সত্যায়ন
স্লোভাকিয়ার জন্য ডকুমেন্টস সত্যায়ন একটি জটিল প্রক্রিয়া।
(১) প্রথমে আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অথবা শিক্ষা বোর্ড থেকে আপনার ডকুমেন্টস সত্যায়ন করিয়ে নিতে হবে।
(২) তারপর যেতে হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ডকুমেন্টস সত্যায়নের জন্য।
(৩) এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডকুমেন্টস সত্যায়ন করতে হবে।
(৪) পরবর্তীতে আপনাকে যোগাযোগ করতে হবে, ঢাকাস্থ স্লোভাকিয়ার কনস্যুলেট অফিসে আর করিয়ে নিতে হবে ডকুমেন্টস সত্যায়ন। আপনি দিল্লিস্থ স্লোভাকিয়া এম্বেসী থেকেও ডকুমেন্টস সত্যায়ন করিয়ে নিতে পারবেন। ডকুমেন্টস সত্যায়নের সময় অবশ্যই আপনার অরিজিন্যাল ডকুমেন্টস কাছে রাখতে হবে। আর প্রতি পেজ সত্যায়ন করাতে আপনাকে দিতে হবে ২০ ইউরো করে।
অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয় সত্যায়ন ছাড়াই ডকুমেন্টস একসেপ্ট করে। তাই আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেইল করে জেনে নিন- আপনার ডকুমেন্টস সত্যায়ন লাগবে কিনা আর লাগলেও কোন ধাপ থেকে আপনার ডকুমেন্টস সত্যায়ন প্রয়োজন পরবে।
ভর্তি আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
স্লোভাকিয়ায় সাধারণত Autumn সেশনে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হয়ে থাকে। মার্চ থেকে এপ্লিকেশন নেওয়া শুরু হয়- আর শেষ হয় জুন মাসে। আর এই সেশনের ক্লাস শুরু হয় সেপ্টেম্বর বা মার্চ মাসে।
Image Source: internet
প্রথমেই আপনাকে নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে হবে। অনেক সময় ডাকযোগে ডকুমেন্টস পাঠাতে হতে পারে। তাই ভালো করে পড়ে ও দেখে নিন, প্রয়োজনে ই-মেইল করে সিউর হয়ে নিন আবেদনের জন্য কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন পড়বে আর কিভাবে সেই ডকুমেন্টস দিতে হবে। আবেদনের কিছু সাধারণ ডকুমেন্টসের তালিকা দেওয়া হল, কিন্তু মনে রাখবেন এই তালিকা বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারেঃ
১। সত্যায়িত সকল একাডেমিক সার্টফিকেট এবং মার্কশীট
২। পাসপোর্টের কপি ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি
৩। IELTS এর সনদ (বাধ্যতামূলক নয়)
৪। CV
৫। মোটিভিশন লেটার ও রিকমেন্ডেশন লেটার
টিউশন ফি
স্লোভাকিয়ায় পড়াশুনার খরচ মূলত ৫০০-১,০০০ ইউরো/ প্রতি বছর। অনেক স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং এর জন্য ৩,৫০০- ৪,০০০ ইউরো/ প্রতি বছর আর মেডিকেলের জন্য ৯,০০০-১২,০০০ ইউরো/ প্রতি বছর দিতে হতে পারে।
আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ
স্লোভাকিয়ার ভিসা প্রাপ্তির জন্য আপনাকে ব্যাংকে সেদেশে এক বছর চলার মত পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান দেখাতে হবে। আর যদি আপনার খরচ বহন করে অন্য কোন স্পন্সর, তাহলে তাকে নোটারাইজড অংগীকারনামা ও ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিতে হবে।
ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া ও ডকুমেন্টস চেকলিস্ট
বাংলাদেশে স্লোভাকিয়ার এম্বেসী নেই, কিন্তু কনস্যুলেট রয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশে এম্বেসী নাই, তাই আপনাকে যেতে হবে ভারতের দিল্লিস্থ স্লোভাকিয়ার এম্বেসীতে। এজন্য আপনাকে আগে থেকেই নিতে হবে এপয়েন্টমেন্ট। ভিসা ফি দিতে হবে ৬০ ইউরো।
টেম্পোরারী রেসিডেন্স পারমিট ভিসার জন্য আবেদন করতে ভিজিট করুন –
২। পাসপোর্ট [কমপক্ষে ৩ মাস মেয়াদ ও ২ টি ফাকা পেজ থাকতে হবে]
৩।ফটোগ্রাফ (৪.৫ সেঃমিঃ x ৩.৫সেঃমিঃ) – দুইটি
৪। মেডিক্যাল ইনস্যুরেন্স ও পুলিশ ক্লিয়ারান্স সার্টিফিকেট [অনধিক ৩ মাসের পুরাতন]
৫। ফ্লাইট রিজার্ভেসনের ডকুমেন্টস
৬। ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও আর্থিক স্বচ্ছলতার ডকুমেন্টস
৭। জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেট [ইংরেজীতে হতে হবে]
৮। IELTS এর সনদ (যদি থাকে)
৯। CV, মোটিভিশন লেটার ও রিকমেন্ডেশন বা রেফারেন্স লেটার
১০। সকল সত্যায়িত মার্কশিট ও সকল সনদ
১১।স্কলারশিপের পেপার (যদি থাকে)
ভিসা পাওয়ার জন্য আপনাকে বসতে হবে ইন্টারভিউ এ। আর ভিসা পেতে সময় লাগবে সাধারণত ১৫ কার্যদিবস। কিন্তু মাঝে মাঝে এই সময় ৪-৬ সপ্তাহ পর্যন্ত হয়ে যায়।
ভারতের দিল্লিস্থ স্লোভাকিয়ার এম্বেসীর ঠিকানাঃ
50-M, Niti Marg, Chanakyapuri, New Delhi, India Tel.: +91 1126889071, +91 1126885340, +91 1126111075 Fax: +91 1126877941 | Email: emb.delhi@mzv.sk
স্লোভাকিয়ায় আবাসন ব্যবস্থা
প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েই রয়েছে হোস্টেলের ব্যবস্থা। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে আবাসন ব্যবস্থা করতে পারেন, তাহলে অনেক কম খরচেই থাকার খরচ মেটাতে পারবেন। আবাসনের জন্য তাই আগে থেকেই আবেদন করা বুদ্ধিমানের কাজ। স্লোভাকিয়ায় থাকা- খাওয়া বাবদ আপনার মাসিক খরচ হবে ৩৫০-৪০০ ইউরো।
Image Source: interent
পার্ট টাইম জব এর সুযোগ ও স্থায়ী বসবাস
স্লোভাকিয়ায় আপনি সপ্তাহে ২০ ঘন্টা কাজ করার সুযোগ পাবেন। এই দেশে পার্ট টাইম জব পাওয়াটা অনেকটাই কঠিন। যদি স্লোভাকিয়া ভাষা জানা থাকে তাহলে, আপনি জব পেলেও পেতে পারেন- কিন্তু জবের পরিমাণ তুলনামূলক কম। মূলত স্থানীয় জনগণ এই জবগুলো বেশি পেয়ে থাকে।
আপনি স্লোভাকিয়ায় টানা ৫ বছর থাকেন তাহলে খাতা-কলমের হিসাবে PR এর পাওয়ার কথা। কিন্তু, বাস্তবে দেখা যায়, টানা ৮-১০ বছর থাকার পরই PR দেওয়া হয়।
স্লোভাকিয়ায় PR পাওয়া আসলেই কঠিন কিন্তু কম খরচে ও বিনা IELTS এ ইউরোপে পড়তে চাইলে স্লোভাকিয়া হয়ে পারে উত্তম ডেস্টিনেশন।
মধ্য ইউরোপের অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি যেখানে জন্ম নিয়েছিলেন কিংবদন্তি নেতা মার্শাল টিটো সেই দেশের নাম স্লোভেনিয়া। আর এই দেশই আজ আমাদের কেন্দ্রবিন্দু। উচ্চশিক্ষার জন্য যারা ইউরোপের স্বপ্ন দেখছেন- এই লেখাটি আসলে তাদেরই জন্য। তাহলে আর দেরি কেন? শুরু করি আজকের পর্ব।
কেন স্লোভেনিয়ায় পড়তে যাবেন?
পাহাড়-নদী-হ্রদ বেষ্টিত স্লোভেনিয়ায় প্রতি বছর হাজার হাজার লোকের ঢল নামে এর অনাবিল সৌন্দর্য্য উপভোগের জন্য। এই দেশের আয়তন ৭,৮৮৭.৪ বর্গ মাইল এবং রাজধানী লুবলিয়ানা। এই শহর কার্যত স্লোভেনিয়ার সকল প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু- যদিও আয়তনের বিচারে শহরটি বেশ ছোট। এই দেশের মুদ্রার নাম ইউরো এবং ভাষা স্লোভিন- আর দ্বিতীয় ভাষা ইংরেজী। এখানে সকলেই প্রায় ইংরেজী ভাষায় কথা বলতে পারে। এ দেশের মোট জনসংখ্যা ২০,৮১,৯৪৫ জন। এই দেশের মোট জিডিপি ৫৪ বিলিয়ান মার্কিন ডলার আর কমপক্ষে গড়ে ৮৮৬ ইউরো এই দেশে বেতন দেওয়া হয়।
Image Source: pixabay.com
সামগ্রিক বিচারে এই দেশ হতেই পারে আপনাদের পছন্দের ডেস্টিনেশন।
কোর্স সার্চ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন
স্লোভেনিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো World Ranking এর তালিকায় উপরের দিকে অবস্থিত হওয়ায় অনেকেই এই দেশে পড়াশুন ও উচ্চ শিক্ষার জন্য আসতে চায়। তাই নিঃসন্দেহে এই দেশে পড়তে আসার জন্য মনস্থির করতে পারেন।
কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নিচে দেওয়া হলঃ
University of Ljubljana
University of Maribor
University of Nova Gorica
University of Novo Mesto
University of Primorska
এই দেশে আপনি সকল সাবজেক্টেই পড়াশুনা করার সুযোগ পাবেন। আর্টস, বিজনেস অথবা ইঞ্জিনিয়ারিং যে কোন বিষয়েই পড়াশুনা করার সুযোগ পাবেন। এখানে কোর্সসমূহ স্লোভেনিয়া আর ইংরেজী ভাষায় অফার করা হয়। বিভিন্ন কোর্স বিভিন্ন ভাষায় হওয়ায় আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ঘুরে দেখে নিন আপনার কাঙ্ক্ষিত কোর্স কোন ভাষায় অফার করা হয়েছে?
স্লোভেনিয়াতে পড়তে যাবার জন্য নূন্যতম যোগ্যতা
স্লোভেনিয়ায় পড়াশুনার জন্য আপনার জন্য প্রয়োজন পড়বে ইংরেজী ভাষাগত যোগ্যতা। পড়তে যেতে আপনাকে অর্জন করতে হবে B2 গ্রেডের বা IELTS এ ৬.০ অর্জনের প্রমাণপত্র। আর স্বাভাবিকভাবে আপনাকে ব্যাচেলর প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে অর্জন করতে হবে HSC আর মাস্টার্স প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে আপনার থাকতে হবে ব্যাচেলর আর পিএইচডি প্রোগ্রামে অংশ নিতে আপনার থাকতে হবে মাস্টার্স ডিগ্রী।
ভর্তি আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
স্লোভেনিয়ায় Autumn সেশনে বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হয়ে থাকে। অক্টোবার মাস থেকে ক্লাস শুরু হয় এই সেশনের এবং ফেব্রুয়ারী থেকে এপ্লিকেশন নেওয়া শুরু হয়- আর শেষ হয় জুন মাসে। অন্যদিকে Winter সেশনে কম সংখ্যক ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট নেওয়া হয়। এদেশে আবেদন করতে হয় একটি কমন ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে, যার লিংক নিচে দেওয়া হলঃ
এরপর, এপ্লিকেশন ফর্ম পূরণ করতে হবে আর দিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চয়েস লিস্ট। এরপর, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আপনাকে মেইল করে আপনাকে একটি ডকুমেন্ট দেওয়া হবে, এই ডকুমেন্ট নিজ হস্তে স্বাক্ষর করে অন্যান্য সত্যায়িত ডকুমেন্টসের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে হবে।
Image Source: Internet
নিচে প্রায়শঃ আবশ্য ডকুমেন্টসের তালিকা দেওয়া হলঃ
১। যথাযথভাবে সত্যায়িত সকল একাডেমিক সার্টফিকেট এবং মার্কশীট
২। সহস্তে স্বাক্ষরিত আবেদনপত্র
৩। IELTS এর সনদ
৪। CV,
৫। মোটিভিশন লেটার ও রিকমেন্ডেশন লেটার
এরপর আপনার আবেদন গৃহীত হলে আপনাকে Letter of Acceptance দেওয়া হবে। যদি এটিতে উল্লেখ থাকে, ভিসা আবেদনের পূর্বে আপনাকে টিউশন ফি দিতে হবে তাহলে আগে টিউশন ফি দিয়েই আপনাকে আবেদন করতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হয়ে থাকে, তারা ভিসা প্রাপ্তির পর টিউশন দিতে বলে। তাই আপনার জন্য কোনটি হচ্ছে, সেটা Letter of Acceptance পড়ে ভালো করে বুঝে নিতে হবে।
ডকুমেন্টস সত্যায়ন
স্লোভেনিয়ার জন্য ডকুমেন্টস সত্যায়ন একটি জটিল প্রক্রিয়া।
(১) প্রথমে আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আপনার ডকুমেন্টস সত্যায়ন করিয়ে নিতে হবে।
(২) তারপর যেতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ডকুমেন্টস সত্যায়নের জন্য।
(৩) এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডকুমেন্টস সত্যায়ন করতে হবে।
(৪) এবার এই ডকুমেন্টস অস্ট্রিয়াতে অবস্থিত বাংলাদেশের এম্বেসী থেকে সত্যায়ন করাতে হবে- এজন্য ফি দিতে হবে প্রতি পেজ ১০ ইউরো। মনে রাখবেন, অরিজিনাল কাগজ ছাড়া তারা ডকুমেন্টস সত্যায়ন করে না। তাই অস্ট্রিয়াতে অবস্থিত আপনার কোন বন্ধু বা আত্মীয়-স্বজনকে অথরাইজ করে দিতে হবে এবং তিনি আপনার অরিজিন্যাল ডকুমেন্টস দেখিয়ে সত্যায়িত করিয়ে আনবেন।
(৫) এরপর সত্যায়ন করাতে হবে মিনিস্ট্রি অব ফরেন এফেয়ার্স অব স্লোভেনিয়া থেকে। এখানে প্রতি পেজ সত্যায়ন করাতে ক্ষরচ হবে ৩ ইউরো। এরা কোন কুরিয়ার কপি গ্রহণ করে না। তাই আপনাকে আবার দ্বারস্থ হতে হবে প্রবাসী বন্ধু বা আত্মীয় স্বজনের। আপনি চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়েরও সহযোগিতা নিতে পারেন। কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই জন্য আপনার কাছ থেকে চার্জ নিবে।
এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, ভিয়েনায় অবস্থিত বাংলাদেশ এম্বেসী যদি ডকুমেন্টস সত্যায়ন না করে তাহলে মিনিস্ট্রি অব ফরেন এফেয়ার্স অব স্লোভেনিয়া এই ডকুমেন্টস সত্যায়ন করবে না। আর বিশ্ববিদ্যালয়ও আপনার ডকুমেন্টস গ্রহণ করবে না।
Image Source: Internet
টিউশন ফি
স্লোভেনিয়ায় আপনাকে পড়াশুনার জন্য আপনাকে দিতে হবে ২,৫০০-৪০০০ ইউরো। আবার আপনার বিশ্ববিদ্যালয় যদি স্বনামধন্য ও প্রথিতযশা হয়ে থাকে তাহলে টিউশন ফি হতে পারে ৮,০০০ ইউরো পর্যন্ত।
স্লোভেনিয়ায় আবাসন ব্যবস্থা
প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েই রয়েছে হোস্টেলের ব্যবস্থা। আবাসনের জন্য আগে থেকেই আবেদন করা বুদ্ধিমানের কাজ। স্লোভেনিয়ায় থাকা- খাওয়া বাবদ আপনার মাসিক খরচ হবে ৩০০-৩৫০ ইউরো।
আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ
স্লোভেনিয়ায় ভিসা প্রাপ্তির জন্য আপনাকে ব্যাংকে সেদেশে এক বছর চলার মত পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান দেখাতে হবে। সাধারণত এই দেশে একজনের জন্য বার্ষিক প্রায় ৬০০০-৭০০০ ইউরো দেখাতে হবে। আর যদি আপনার খরচ বহন করে অন্য কোন স্পন্সর, তাহলে তাকে নোটারাইজড অংগীকারনামা দিতে হবে যে তিনি আপনার সকল খরচ বহন করবেন। তার জন্য প্রয়োজন পরবে, আপনার স্পন্সরের ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া ও ডকুমেন্টস চেকলিস্ট
বাংলাদেশে স্লোভেনিয়ার এম্বেসী না থাকায় আপনাকে যেতে হবে ভারতের দিল্লিস্থ স্লোভেনিয়ার এম্বেসীতে। এজন্য আপনাকে আগে থেকেই নিতে হবে এপয়েন্টমেন্ট। ভিসা ফি দিতে হবে ৮০ ইউরো। এখানে আপনাকে টেম্পোরারী রেসিডেন্স পারমিট ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
ই-মেইলের মাধ্যমেও আপনি স্লোভেনিয়ার দূতাবাসে ভিসার জন্য অ্যাপোয়েনমেন্ট পেতে পারেন। দিল্লিতে অবস্থিত স্লোভেনিয়ার দূতাবাসের ওয়েবসাইট (http://www.newdelhi.embassy.si)।
Image Source: Internet
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের লিস্ট নিচে দেওয়া হলঃ
১। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো Offer Letter
২। স্লোভেনিয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো Observation Letter, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ফর্মালিটি শেষ হবার পর পাঠানো হয়ে থাকে
৩। পাসপোর্ট [কমপক্ষে ৩ মাস মেয়াদ ও ২ টি ফাকা পেজ থাকতে হবে]
৪। ফটোগ্রাফ (৪.৫ সেঃমিঃ x ৩.৫সেঃমিঃ) – দুইটি
৫। মেডিক্যাল ইনস্যুরেন্স ও পুলিশ ক্লিয়ারান্স সার্টিফিকেট [অনধিক ৩ মাসের পুরাতন]
৬। ফ্লাইট রিজার্ভেসনের ডকুমেন্টস
৭। ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও আর্থিক স্বচ্ছলতার ডকুমেন্টস
৮। জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেট [ইংরেজীতে হতে হবে]
৯। IELTS এর সনদ
১০। CV, মোটিভিশন লেটার ও রিকমেন্ডেশন বা রেফারেন্স লেটার
১১। সকল সত্যায়িত ডকুমেন্টস, মার্কশিট ও সকল সনদ
১২।স্কলারশিপের পেপার (যদি থাকে)
ভিসা পাওয়ার জন্য আপনাকে বসতে হবে ইন্টারভ্যিউ-এ। আর ভিসা পেতে সময় লাগবে ৪-৬ সপ্তাহ।
অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, নিউজিল্যান্ডে যে রকম নিয়ম আছে যে স্টুডেন্ট অবস্থায় একজন ব্যক্তি এক সপ্তাহে বৈধভাবে বিশ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে পারবেন না, স্লোভেনিয়ার আইনে এ রকম সুনির্দিষ্ট করে এখনো কিছু উল্লেখ নেই। তাই এখানে চাইলে একজন শিক্ষার্থী ফুলটাইম কাজ করতে পারেন। MJob Service আর E-studentski Servis নামক দুইটি সংস্থা শিক্ষার্থীদের জব খোঁজার ব্যাপারে সহায়তা প্রদান করে থাকে।
মাসিক খরচ নির্ভর করে আপনার জীবন যাপনের উপর। সাধারনত স্লোভেনিয়ায় আপনি ৩০০-৩৫০ ইউরো দিয়ে ১মাস চলতে পারবেন।
Image Source: Internet
স্থায়ী বসবাস এর সুযোগ
আপনি যদি ফুল টাইম কাজের অভিজ্ঞতা ও টানা ৫ বছর এই দেশে থাকেন তাহলে আপনি পেয়ে যাবেন PR -এ আবেদন করার সুযোগ। আর যদি আপনি শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন, টানা ১০ বছর থাকতে হবে।
অর্থাৎ শিক্ষার্থী অবস্থায় পার্মানেন্ট রেসিডেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দুই বছরকে এক বছর হিসেবে বিবেচনা হয়। উদাহরণস্বরূপ: কেউ যদি তিন বছরের ব্যাচেলর কোর্স সম্পন্ন করেন স্লোভেনিয়া থেকে, তাহলে এ তিন বছরকে অর্ধেক অর্থাৎ দেড় বছর এবং সেই সঙ্গে আরও সাড়ে তিন বছর ফুলটাইম কাজ করার অভিজ্ঞটা দেখাতে পারলেই তিনি স্লোভেনিয়ার পার্মানেন্ট রেসিডেন্স পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
বিদ্যা অর্জনের জন্য সুদূর চীনে যাবার বিধান আছে। সেই বিচারে হাঙ্গেরী কি খুব দূর? আপনারা যারা বিদেশে পড়তে যেতে চান, তাদের জন্য আজ নতুন এক ডেস্টিনেশন নিয়ে হাজির হয়েছি। আজ তুলে ধরব হাঙ্গেরীতে উচ্চ শিক্ষার যাবতীয় বিষয় আশয়। তাই, সিট বেল্ট বেঁধে ফেলুন- আমাদের ফ্লাইট এখনি ঊড়াল দেবে হাঙ্গেরীর উদ্দেশ্যে।
Image Source: pexels.com
কেন হাঙ্গেরী পড়তে যাবেন?
অস্ট্রিয়া, স্লোভাকিয়া, রোমানিয়া, ইউক্রেন, সার্বিয়া, রমানিয়া, স্লোভেনিয়া এই দেশগুলোর ঠিক মাঝে অবস্থিত দেশ হাঙ্গেরী। এই দেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত আর সেঞ্জেন চুক্তির আওতায় আছে। তাই, হাঙ্গেরীতে পাড়ি জমাতে পারলে আপনি বিনা বিপত্তিতে ঘুরে আসতে পারবেন ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোতে।
দানিয়ুব নদীর তীরে অবস্থিত বুদাপেস্ট, হাঙ্গেরীর রাজধানী ও পৃথিবীর অন্যতম বাসযোগ্য ও উন্নত শহর। এই দেশে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয় ইংরেজী ও হাঙ্গেরী ভাষায়। এই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রিসার্চের জন্য বিখ্যাত- শুধু তাই নয়, শিক্ষা কার্যক্রমে বাস্তবিকধর্মী করতে অনেক প্রশিক্ষণ ও ফ্যাক্টরী এটাচমেন্ট থাকে। এছাড়া হাঙ্গেরীতে পড়াশুনার খরচও ইউরোপের অন্যান্য দেশের থেকে কম।
এই দেশে প্রায় ৯৩,০৩০ বর্গকিলোমিটার আয়তনে বসবাস করে প্রায় ১ কোটি লোকের বসবাস। এই দেশের অফিসিয়াল ভাষা হাঙ্গেরিয়ান এবং মুদ্রার নাম ফরিন্ট (HUF).
হাঙ্গেরীর কিছু বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় হলঃ
১। Budapest University of Technology and Economics
২। Eötvös Loránd University Budapest
৩। University of Szeged
হাঙ্গেরীতে পড়তে যাবার জন্য নূন্যতম যোগ্যতা
হাঙ্গেরীতে ব্যাচেলর পড়তে গেলে আপনাকে HSC অথবা ডিপ্লোমা পাশ করে আসতে হবে। অনেক কোর্সে ভর্তির জন্য আপনাকে এন্ট্রান্স এক্সাম দিতে হতে পারে। অথবা প্রিপেরোটরী কোর্সে ভর্তি হতে হবে। ব্যাচেলর কোর্স গুলোর অধিকাংশই হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় করানো হয়। তবে অল্প সংখ্যক ইংরেজী কোর্সও আছে। আর মাস্টার্সে ভর্তি হতে ব্যাচেলর আর পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্ত হতে প্রয়োজন পড়বে মাস্টার্স ডিগ্রীর।
হাঙ্গেরীতে ব্যাচেলর প্রোগ্রামে ভর্তি হতে IELTS স্কোর প্রয়োজন পরবে ৫.০ থেকে ৬.০ আর TOEFL স্কোর পড়বে ৬০ থেকে ৮০। মাস্টার্স আর পিএইচডি প্রোগ্রামে IELTS স্কোর প্রয়োজন পরবে ৫.৫ থেকে ৬.৫ আর TOEFL স্কোর প্রয়োজন পরবে ৭০ থেকে ৯০।
Image Source: Internet
বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স ভেদে যোগ্যতার তারতম্য হয়। তাই আবেদনের সময় আপনার বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স অনুযায়ী যোগ্যতাগুলো ভালো করে খুঁটিয়ে দেখে নেবেন।
কোর্স সার্চ ও কোর্স নির্বাচন
হাঙ্গেরীতে অনেক কোর্স ও অনেক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তাই, আপনাকে নিজের পছন্দের কোর্স খুঁজে পেতে আশা করি খুব একটা কষ্ট হবে না। হাঙ্গেরীতে কোর্স খুঁজতে নিচের লিঙ্কটিতে ঘরে দেখতে পারেনঃ
এই দেশে সাধারণত বছরে ২ টি সেশনে আবেদন কয়ার সুযোগ আছে। প্রথমটি হল ১ এপ্রিল থেকে ১ জুলাই এবং দ্বিতীয়টি হল ১ অক্টোবর থেকে ১ ডিসেম্বর। তবে কোর্সের সময় অনেক সময় পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদনের সময় জানতে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে ঘুরে আসুন।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আপনার আবেদনের জন্য কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন তা নির্ভর করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর। তাই আপনার উচিত হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট ঘেটে সব কিছু জেনে নেওয়া। সাধাণত নিম্নোক্ত ডকুমেন্টস আপনার আবেদনের সময় চাওয়া হয়ঃ
১। পূরণকৃত আবেদন ফর্ম
২। সকল একাডেমিক সার্টিফিকেট ও মার্কশীট এর সত্যায়িত কপি
৩। আইইএলটিএস (ন্যূনতম ৬.০) / জার্মান B2 সনদ
৪। এন আই ডি/পাসপোর্ট কপি
৫। মোটিভেশন লেটার/ সিভি/ রেফারেন্স লেটার
৬। কাজের অভিজ্ঞতা/ রিসার্স পেপার (যদি প্রয়োজন হয়)
অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনলাইন পরীক্ষা নিয়ে থাকে। তাই এই ব্যাপারে অবশ্যই ভালো করে খোঁজ নিতে হবে। প্রয়োজনে বিশেবিদ্যালয়ের Admission Office-এ যোগাযোগ করা যেতে পারে। অন লাইন পরীক্ষা নেবার পর বিশ্ববিদ্যালয় আপনার ফলাফল জানাবেন। বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে কন্ডিশনাল অফার লেটার দিতে পারে। সেক্ষেত্রে শর্ত পূরণ ও নির্দিষ্ট ব্যাংক একাউন্টসে টিউশন ফি প্রদান করলেই অফার লেটার দিয়ে থাকে।
Image Source: Internet
টিউশন ফি
হাঙ্গেরীতে পড়াশুনা করতে প্রতি বছর ২৫০০ ইউরো থেকে ১০,০০০ ইউরো প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু আসলে কত অর্থের প্রয়োজন হবে, সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকেই জেনে নিতে হবে।
ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া ও ডকুমেন্টস চেকলিস্ট
হাঙ্গেরীর এম্বেসী বাংলাদেশে নেই। তাই আপনাকে যেতে হবে ইন্ডিয়ার নয়া দিল্লীতে। ভিসার জন্য আবেদন করতে আপনাকে প্রদান করতে হবে ৫০ ইউরো আর সময় লাগবে ৪ থেকে ৫ সপ্তাহ।
আপনার ভিসা আবেদনের জন্য প্রয়োজন পড়বেঃ
১। পাসপোর্ট (কমপক্ষে ১ বছর ভ্যালিডিটি থাকতে হবে) সাথে ফটোগ্রাফ
২। সকল একাডেমিক সার্টিফিকেট ও মার্কশীট এর সত্যায়িত কপি
হাঙ্গেরীতে আবাসন খাতে আপনাকে জায়গা ও শহর ভেদে ১৯০ থেকে ২৩০ ইউরো খরচ হবে। আপনি চাইলে এই শহরে ৫৫০ থেকে ৮৫০ ইউরোর মধ্যে যাবতীয় ব্যয় বির্বাহ করতে পারবেন।
পার্ট টাইম জব
হাঙ্গেরীতে বিদেশী শিক্ষার্থী হিসেবে আপনি সপ্তাহে ২৪ ঘন্টা পার্ট টাইম কাজ করার সুযোগ পাবেন। আপনি যদি হাঙ্গেরী ভাষা জানেন তাহলে পার্ট টাইম কাজ পেতে সুবিধা হবে।
পড়ালেখা শেষে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ
হাঙ্গেরীতে আপনি খুব সহজেই স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবেন। আপনি যদি আইনসিদ্ধ ভাবে হাঙ্গেরীতে ৩ বছর থাকেন তাহলে আপনি National Permanent Residence Permit (NPRP) বা (Állandó tartózkodási kártya) পেয়ে যাবেন। শুধু তাই নয়, যদি হাঙ্গেরীর নাগরিকত্ব পেয়ে যান তাহলে সেই ডকুমেন্টস দিয়ে আপনি ফ্রান্স, পর্তুগাল, ইতালি গিয়ে আইনী প্রক্রিয়ায় বসবাস করার সুযোগ পাবেন।