Category: Educational

  • অস্ট্রিয়াতে উচ্চশিক্ষাঃ নিজেই করুন নিজের আবেদন

    অস্ট্রিয়াতে উচ্চশিক্ষাঃ নিজেই করুন নিজের আবেদন

    বিশ্ব এখন আপনার হাতের মুঠোয়। আপনি চাইলে ইন্টারনেটের এক ক্লিকে দেখছেন আপনার বিদেশী বন্ধুদের বা আত্মীয় স্বজনদের। শুধু কি তাই, আপনি চাইলেই পাড়ি জমাতে পারেন বিশ্বের যেকোন দেশে। আর যাদের ইচ্ছা বাইরের দেশের ডিগ্রী তাদের জন্য বিশ্ব আজ উন্মুক্ত। যে কোন দেশের যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারবেন। উচ্চ শিক্ষার জন্য ইউরোপ অনেকের প্রিয় ডেস্টিনেশন। আর ইউরোপের মনোরম দেশ আস্ট্রিয়া, সে তো অনেকেরই স্বপ্নের স্থান। এখন আপনাদের সামনে তুলে ধরবো আস্ট্রিয়ায় উচ্চশিক্ষা লাভের কিছু কার্যকরী গাইডলাইন।

    অস্ট্রিয়া দেশ হিসেবে যেমন

    প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আস্ট্রিয়া। ভিয়েনা রাজধানী আর ইউরো মুদ্রা বিশিষ্ট আস্ট্রিয়ার ভাষা জার্মান/ডয়েচ। ৪৭৮ বিলিয়ন ডলার (২০১৮ সালের হিসাব অনুযায়ী) জিডিপি-এর এই দেশে প্রায় ৮৯ লক্ষ জনগণ বসবাস করে এবং আস্ট্রিয়ার আয়তন ৮৩,৮৭৯ বর্গ কিলোমিটার। আর্থিক মাথাপিছু আয়ের হিসেব অনুযায়ী অস্ট্রিয়া পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী দেশগুলোর একটি। দেশটির অধিবাসীদের জীবনযাত্রার মান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার মানের দিক থেকেও অনেক উন্নত। শীতকালে এই দেশের তাপমাত্রা শূন্যের কাছাকাছি থেকে নীচে নেমে যায় (সেলসিয়াস স্কেল) আর গরম কালে তাপমাত্রা২০-২৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস থাকে।

    Hallstatt, Austria
    Image Source: pixabay.com

    যোগ্যতা যাচাই ও বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই

    অস্ট্রিয়ায় ব্যাচেলর কোর্স সাধারণত জার্মান/ডয়েচ ভাষায় করতে হয়। ব্যাচেলর কোর্স এর জন্য জার্মান/ডয়েচ B2 লেভেল সম্পন্ন করতে হবে। ল্যাংগুয়েজ কোর্স আপনি বাংলাদেশেও করতে পারেন অথবা অস্ট্রিয়াতে ও করতে পারেন।  বাংলাদেশে সম্পন্ন না করলে প্রথম একবছর অস্ট্রিয়াতে জার্মান ভাষা পড়ার পরে ব্যাচেলর কোর্স করতে হবে।

    অস্ট্রিয়ার প্রধান পড়াশুনার ভাষা জার্মান হলেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজী ভাষায় কোর্সও রয়েছে। আপনি যদি ব্যাচেলর প্রোগ্রামে যেতে চান তাহলে HSC + ১ বছর বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতে হবে। সেই সাথে ন্যূনতম ৫০% মার্ক্স অর্জন করতে হবে। যদি মাস্টার্স প্রোগ্রামে যেতে চান, তাহলে ব্যাচেলর ডিগ্রী আর পিএইচডি প্রোগ্রামে যেতে মাস্টার্স ডিগ্রী থাকতে হবে।

    অস্ট্রিয়ায় মোট ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ২১টি এপ্লাইড সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৩টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের লিস্ট নিচে দেওয়া হলঃ

    1. University of Vienna | http://www.univie.ac.at
    2. Vienna University of Technology | http://www.tuwien.ac.at
    3. Medical University of Vienna | http://www.mediuniwien.ac.at
    4. University of Graz | http://www.uni-graz.at
    5. Graz University of Technology | http://www.tugraz.at
    6. University of Innsbruck | http://www.uibk.ac.at
    7. Vienna University of Economics and Business | http://www.wu.ac.at/

    ইউরোপের পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। ১২০টির বেশি ডিগ্রি প্রোগ্রাম পড়ার সুযোগ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২২টি ব্যাচেলর প্রোগ্রাম, ২৯টি মাস্টার্স প্রোগ্রাম, ৪৯টি ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম এবং ২৪টি টিচার অ্যাক্রিডিয়েশন প্রোগ্রাম ছাড়াও ৮০টি ক্ষেত্রে ডক্টরাল প্রোগ্রাম পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।

    কোর্স খুঁজতে নিম্মোক্ত ওয়েবসাইটের সাহায্য নিতে পারেন-

    http://www.studienwahl.at/Content.Node/homepage.en.php

    TU Wien, Austria
    Image Source: Internet

    ভাষাগত যোগ্যতা

    অস্ট্রিয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারনত জার্মান ভাষায় শিক্ষাদান করা হয়। যদি আপনি জার্মান ভাষায় পড়াশুনা করতে চান, তাহলে আপনাকে জার্মান ভাষার B2 পরীক্ষায় পাশ করে আসতে হবে। আর আপনি চাইলে আস্ট্রিয়া গিয়েও এই কোর্স করতে পারবেন। সরকারী ইউনিভার্সিটিগুলোতে জার্মান ভাষা শিখতে প্রতি সেমিস্টার ৪৫০-৫০০ ইউরো এর মত লাগবে। তবে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে সেটা অনেক বেশি ( ১৫০০-২৫০০ ) ইউরো এর মত লাগবে।

    ইউনিভার্সিটিতে ভ র্তির জন্য IELTS অত্যাবশ্যকীয় নয়, তবে ভিসা আবেদনের পূর্বে অবশ্যই IELTS স্কোর ৫.৫ থাকতে হবে। মাস্টার্স কোর্স ইংরাজি ও জার্মান ভাষাতে আছে। ইংরাজিতে পড়াশোনার জন্য IELTS ৬/৬.৫ থাকতে হবে।

    ডকুমেন্টস সত্যায়ন

    সকল একাডেমিক কাগজপত্র সত্যায়িত করতে হবে যথাক্রমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অস্ট্রিয়ার এম্বেসী দ্বারা। মন্ত্রণালয় থেকে কাগজপত্র সত্যায়ত করার পর আপনি যখন এগুলো এম্বেসীতে জমা করবেন, এম্বেসী কনস্যুলেট সেগুলোকে VFS ঢাকা অফিসে পাঠাবে এবং এর ফি বাবদ ৪৩,১২০ টাকা থেকে ৪৭,০০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। এরপর সকল কাগজপত্র যাচাই বাছাই করার পর VFS সেটা পুনঃরায় এম্বেসীতে পাঠাবে এবং তারপর এম্বেসী কনস্যুলেট তা সত্যায়িত করবে।

    অস্ট্রিয়ান কনস্যুলেটর, ঢাকা, বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট ও ঠিকানা :

    Austrian Honorary Consulate in Dhaka, Bangladesh –

    Safura Tower, 5th Floor, 20 Kemal Ataturk Avenue,
    Dhaka – 1213, Bangladesh
    Phone (Local): (02) 986.1707, Internation: +880.2.986.1707
    Email: austriancon@quasemgroup.com

    ভিএফএস ঢাকা এর ঠিকানা –

    Austria Visa Application Centre

    4th Floor, Delta Life Tower, Plot 37, Road 90,
    Gulshan North, Dhaka-1212, Bangladesh.

    Submission schedule: 14:00 to 16:30 (Sunday -Thursday).
    Passport retrieval schedule: 15:00 to 16:00(Sunday – Thursday).
    Information: Sunday to Thursday 14:00 to 15:00 hours

    ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়া

    অস্ট্রিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সাধারণত দুই সেমিস্টার থাকে। প্রথমটি ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে আর পরেরটি মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকে। অস্ট্রিয়ার ভর্তি, অফার লেটার, ডকুমেন্ট এটাসটেশন, ভিসা- পুরো প্রসেস অনেক সময় সাপেক্ষ (৬ থেকে ১২ মাস)। তাই আগে ভাগেই কাজ শুরু করতে হবে।

    ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের তালিকা নীচে দেওয়া হলঃ

    ১। পূরণকৃত আবেদন ফর্ম

    ২। সকল একাডেমিক সার্টিফিকেট ও মার্কশীট এর সত্যায়িত কপি

    ৩। আইইএলটিএস (ন্যূনতম ৬.০) / জার্মান B2 সনদ

    ৪। এন আই ডি/পাসপোর্ট কপি

    ৫। মোটিভেশন লেটার/ সিভি/ রেফারেন্স লেটার

    ৬। কাজের অভিজ্ঞতা/ রিসার্স পেপার (যদি প্রয়োজন হয়)

    Students in Austria
    Image Source: Internet

    বিনা বেতনে বা স্বল্প খরচে পড়ার সুযোগ

    ইউরোপের যেসব দেশে স্বল্প খরচে পড়াশোনা করা যায় তার মধ্যে অস্ট্রিয়া অন্যতম। অস্ট্রিয়ার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাধারণত শিক্ষার্থীদের কোনো প্রকার টিউশন ফি দিতে হয় না, তবে সেমিস্টার ফি ১৯ ইউরো দিতে হবে। তবে ভর্তির সময় রেজিস্ট্রেশন ও অ্যাপ্লিকেশন ফি বাবদ কিছু টাকা দিতে হবে। কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কিছু কোর্সের ক্ষেত্রে টিউশন ফি দিতে হয়, তবে তা ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। আবেদন করার পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় – এর সাথে মেইল করে এর এডমিশন ও টিউশন ফি বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়াই ভালো।

    আর্থিক সচ্ছলতার প্রমান/ব্যাংক সলভেন্সি সনদ

    ব্যাংক সলভেন্সির জন্য আপনার একাউন্টসে ৫৮৯৭.১৬ ইউরো (শিক্ষার্থী যদি ২৪ বছরের নীচে হয়) অথবা ১০৬৭৮.০৮ (শিক্ষার্থী যদি ২৪ বছরের বেশি হয়) ইউরো। আপনার স্পন্সর মা-বাবা-স্ত্রী থেকে যেকোন আত্মীয় হতে পারে। তবে মনে রাখবেন টাকার উৎস, ট্যাক্সের ডকুমেন্ট সকল কিছু ভিসার জন্য জমা দিতে হবে। স্পন্সর যদি আস্ট্রিয়ায় বসবাস করে তবে আরো ভালো। ভিসা পাওয়ার পর আপনি চাইলে এই টাকা তুলে ফেলতে পারবেন।

    ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া

    বাংলাদেশে এম্বেসী না থাকা ভিসার জন্য আপনাকে ইন্ডিয়াতে যেতে হবে। এজন্য প্রথমেই আপনাকে এপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। যে সকল কাগজপত্র জমা দিবেন তার মূল কপির সাথে ২ সেট ফটোকপিও নিয়ে যাবেন।

    ডকুমেন্ট চেকলিস্টঃ

    ১। পূরণকৃত আবেদন ফর্ম ও সাথে সংযুক্ত পাসপোর্ট সাইজের ছবি (৩৫ মিমি x ৪৫ মিমি)

    ২। এপয়েন্টমেন্ট লেটার আর এপন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুনঃ

    https://appointment.bmeia.gv.at/?Office=new-delhi
    ৩। পাসপোর্ট

    ৪।ইউনিভার্সিটি অফার লেটার

    ৫। সিভি বা জীবন বৃত্তান্ত/ মোটিভিশন লেটার

    ৬। সকল একাডেমিক সার্টিফিকেট ও মার্কশীট এর সত্যায়িত কপি

    ৭। আইইএলটিএস বা জার্মান ভাষাগত দক্ষতার সার্টিফিকেট

    ৮। টিউশন ফি পেমেন্ট-এর কপি

    ৯। ট্রাভেল হেলথ ইনস্যুরেন্স  

    ১০। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কনসুলেট অফিস কর্তৃক সত্যায়িত)

    ১১। একোমোডেশ ন কনফার্মেশন লেটার

    ১২। বার্থ সার্টিফিকেট (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং কনসুলেট অফিস কর্তৃক সত্যায়িত)

    ১৩। জব এক্সপেরিয়েন্স সার্টিফিকেট (মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদনের জন্য)

    ১৪। স্পন্সের এফিডেভিড পেপার

    ১৫। স্পন্সর যদি ব্যবসায়ী হয়, তাহলে

    • ৬-মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট
    • ট্রেড লাইসেন্স
    • আপডেটেড TIN ও ট্যাক্স রিটার্ন পেপার

    স্পন্সর চাকুরিজীবি হলে প্রয়োজন হবে

    • আই,ডি ও স্যালারী উল্লেখপূর্বক জব সার্টিফিকেট
    • জব আই,ডি কার্দের কপি
    • ৬-মাসের স্যালারী স্টেটমেন্ট

    ১৬। স্পন্সরের একাউন্ট থেকে এপ্লিকেন্টের একাউন্টে টাকা পাঠানোর পেমেন্ট প্রুফ

    ১৭। এপ্লিক্যান্টের ব্যাংক স্টেটমেন্ট

    Visa Application - Austria
    Image Source: Internet

    অস্ট্রিয়ান এম্বাসি নিউ দিল্লি এর ঠিকানাঃ

    Austrian Embassy New Delhi

    EP-13, Chandragupta Marg Chanakyapuri New Delhi 110 021 India

    T: (+91/11) 2419 2700
    F: (+91/11) 2688 6929
    e-mail: new-delhi-ob(at)bmeia.gv.at

    Opening hours: Mo – Th 08:30 – 17:00, Fr 09:00 – 15:00

    জীবন যাত্রার ব্যয় এবং পার্ট টাইম জব

    অস্ট্রিয়ায় থাকা খাওয়া বাবদ আপনার ৪০০ থেকে ৫০০ ইউরো প্রতি মাসে খরচ হবে।

    ইউরোপের অন্যান্য দেশের মত আপনি এই দেশেও ২০ ঘন্টা পার্ট টাইম চাকুরি করতে পারবেন। তবে সামারে ফুল টাইম জব করার সুযোগ রয়েছে। এখানে বিভিন্ন রেস্তোরা, শপিংমল, হোটেলে কাজ করতে পারবেন।  তবে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রিয়া যাওয়ার  সময় সাথে ৬-৮ মাসের খরচ নিয়ে যাওয়াই উত্তম। এছাড়া জার্মান ভাষা জানা থাকলে জব পাওয়ার সম্ভবনা একটু বেশি থাকে।

    স্থায়ী বসবাসের সুযোগ

    স্থায়ীভাবে বাস করতে চাইলে নূন্যতম পাঁচ বছর বৈধভাবে একটানা বাস করার প্রমাণপত্র দেখিয়ে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির (পিআর) জন্য আবেদন করতে হবে।আর পড়াশুনা শেষে এক বছরের জব সার্চ ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

    Life in Austria
    Image Source: pixabay.com

    সুতরাং আস্ট্রিয়ায় পড়তে যেতে চাইলে আপনি এখন নিজেই করতে পারবেন নিজের আবেদন।

    তথ্যসুত্রঃ

    ১। http://freevisatips.blogspot.com/2017/09/studyinaustriafrombangladesh.html

    ২।https://worldscholarshipforum.com/bn/austria-student-visa/

    ৩।https://www.somewhereinblog.net/blog/arahman1383/30145274

    ৪। https://banglastudent.com/international/অস্ট্রিয়াতে-উচ্চ-শিক্ষার/

    ৫। https://www.mastersportal.com/articles/1736/cheap-tuition-fees-and-living-costs-for-international-students-in-austria.html

    ৬। http://www.menzedu.com/study-in-austria.html

  • অস্ট্রেলিয়ান অ্যাওয়ার্ডস স্কলারশিপ (অস্ট্রেলিয়ান ডেভলপমেন্ট স্কলারশীপ)

    অস্ট্রেলিয়ান অ্যাওয়ার্ডস স্কলারশিপ (অস্ট্রেলিয়ান ডেভলপমেন্ট স্কলারশীপ)

    অস্ট্রেলিয়ান অ্যাওয়ার্ডস স্কলারশিপ প্রোগ্রাম অস্ট্রেলিয়ার সরকার দ্বারা পরিচালিত এমন এক প্রোগ্রাম, যার মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থীরা অস্ট্রেলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতে পারেন।এটি অস্ট্রেলিয়ান ডেভলপমেন্ট স্কলারশীপ(ADS)নামেও পরিচিত।

    পারস্পাকির সহযোগিতা ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধির জন্য অস্ট্রেলিয়ান সরকার এই স্কলারশিপ প্রোগ্রাম শুরু করে। এই স্কলারশিপ সম্পূর্ণ মেধার উপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকে বিসিএস, ব্যাংক, জুডিশিয়াল, এনজিও, প্রাইভেট ও পাবলিক সেক্টরের কর্মকর্তাবৃন্দ এই স্কলারশিপে আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া, নতুন উদ্যোক্তাদের বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করা হয়েছে।

    এই স্কলারশিপ এর আওতায় অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে (TAFE) আন্ডারগ্রাজুয়েট অথবা পোস্টগ্রাজুয়েট করার সুযোগ দিয়ে থাকে। কিন্তু কোন কোন বছর বাংলাদেশ থেকে আবেদন চাওয়া হয় শুধুমাত্র মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য। হালনাগাদ তথ্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে জেনে নিতে হবে।

    স্কলারশিপ এর নাম

    অস্ট্রেলিয়ান অ্যাওয়ার্ডস স্কলারশিপ

    যে যে বিষয়ে অধ্যয়ন করা যাবে

    এই স্কলারশিপ এর আওতায় আন্ডারগ্রাজুয়েট অথবা পোস্টগ্রাজুয়েট করার সুযোগ দেওয়া হয়।  কোন কোন বিষয়ে অধ্যয়ন করা যাবে তা জানা যাবে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে –

    https://australiaawardsbangladesh.org/how-to-apply-2020

    দেশ এবং কর্তৃপক্ষ

    অস্ট্রেলিয়ান সরকার। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ।

    বৃত্তির সুযোগ সুবিধাসমূহ

    স্কলারশিপের আওতায় আপনি যা যা পাবেনঃ

     ১। সম্পূর্ণ টিউশন ফি, খরচ,

    ২। মাসিক জীবনযাত্রা ভাতা,

    ৩। যাতায়াত এর বিমান ভাড়া

    ৪। স্বাস্থ্যবিমা

    ৫। পৌছানোর পর এস্টাবলিশ ভাতা

    ৬। আভ্যন্তরীণ যাতায়াত ভাতা

    আবেদনের যোগ্যতা

    স্কলারশিপ পাবার  জন্য আপনার থাকতে হবে নিম্নোক্ত যোগ্যতাঃ

    ১। স্কলারশীপের আবেদন করার সময় আবেদনকারীদের কমপক্ষে ১৮ বছর বয়স হতে হবে।

    ২। অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস এর ওয়েবসাইটে দেয়া তালিকাভূক্ত দেশের নাগরিক।

    ৩। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক বা নিউজিল্যান্ডের স্থায়ী বাসিন্দা হতে পারবে না।

    ৪। বর্তমানে সেনাবাহিনীতে কর্মরত হতে পারবে না।

    ৫। অস্ট্রেলিয়ায় অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদী অ্যাওয়ার্ড এর জন্য আবেদনকারী এবং এই সময়ে ২ বারের বেশী অস্ট্রেলিয়ার বাইরে না থাকা।

    ৭। নিজ দেশের কোনো একটি নির্দিষ্ট সেক্টরে সুনাম অর্জনকারী কোনো কাজ করা (কোনো একটি নির্দিষ্ট জায়গায় একটি নির্দিষ্ট সময় কাজের অভিজ্ঞতা থাকা।

    ৮। IELTS এ থাকতে হবে ৬.৫।

    Australia Awards Africa
    Image Source: Internet

    আবেদনের সময়সীমা

    আবেদনের প্রক্রিয়ার জন্য মার্চ এপ্রিলে আবেদন গ্রহণ করা হয়। বিস্তারিত ওয়েব সাইট ঘেটে দেখতে পারেন।

    https://www.dfat.gov.au/people-to-people/australia-awards/Pages/australia-awards-scholarships-opening-and-closing-dates

    যেসকল দেশের প্রার্থীদের জন্য প্রযোজ্য

    এশিয়া প্যাসিফিক, আফ্রিকা ও মিডল ইস্টের দেশের নাগরিকগণ এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশ সহ উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত। সম্পুর্ন লিস্ট –

    https://www.dfat.gov.au/people-to-people/australia-awards/Pages/participating-countries

    আবেদন প্রক্রিয়া

    প্রথমে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে হালনাগাদ বিস্তারিত ত থ্য জেনে নিন –

    https://www.dfat.gov.au/people-to-people/australia-awards/Pages/australia-awards-scholarships

    তারপর যাচাই করুন আপনি এই সুযোগ লাভের উপযুক্ত কিনা । অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর খোঁজ নিন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করুন। সর্বশেষ অনলাইনে আবেদন করতে হবে এখানে –

    https://oasis.dfat.gov.au

    আবেদন বেছে পরবর্তীতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। সবশেষে দেওয়া হবে রেজাল্ট।

    সম্পুর্ন প্রয়োজনীয় ডকুমেণ্ট লিষ্ট জানতে ভিজিট করুণঃ https://australiaawardsbangladesh.org/how-to-apply-2020/

    অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুণঃ

    https://www.dfat.gov.au/people-to-people/australia-awards/Pages/how-to-apply-for-an-australia-awards-scholarship

    তথ্যসুত্রঃ

    ১। https://youthcarnival.org/bn/অস্ট্রেলিয়া-অ্যাওয়ার্ড-2/

    ২। http://campustimes.press/article/schllarship/16766/অস্ট্রেলিয়া-অ্যাওয়ার্ড-স্কলারশিপ-নিয়ে-মাস্টার্সের-সুযোগ

    ৩। https://www.scholars4dev.com/3253/australia-awards-scholarships/

    ৪। https://www.ntvbd.com/education/41635/অস্ট্রেলিয়ায়-পড়াশোনা-কেমন-শুনুন-বৃত্তি-পাওয়া-মেধাবীর-মুখেই

    ৫। https://hoicoibangla.com/অস্ট্রেলিয়া-অ্যাওয়ার্ড-স/

  • অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষাঃ নিজেই করুণ নিজের আবেদন

    অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষাঃ নিজেই করুণ নিজের আবেদন

    বিশ্বের ছোট মহাদেশ ওসেনিয়া আর সেই মহাদেশের সবচেয়ে বড়দেশ অস্ট্রেলিয়া। আবহাওয়া, পরিবেশ, শিক্ষা ব্যবস্থা, স্থায়ী বসবাস অনেক কারণে অনেকে অস্ট্রেলিয়াকে পড়াশুনা করতে যাবার জন্য বিশেষত বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা পছন্দের তালিয়ায় সর্বাগ্রে রাখেন। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতি বছর ৬-৭ লক্ষ শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যায়। এই দেশে রয়েছে ১২ হাজারের বেশি সমুদ্র সৈকত। শান্তিপূর্ণ এই দেশ শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু নয় পড়াশুনা শেষে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্যও অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর দেশ। গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বে তৃতীয় দেশ হল অস্ট্রেলিয়া। তাই আপনাদের সুবিধার জন্য আজ আলোচনা করবো অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা নিয়ে। আসুন জেনে নিই খুঁটিনাটি সব কিছু তারপর নিজেই করুন, নিজের আবেদন।

    কেন অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাবেন?

    অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানের ৪৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান বিশ্বের শীর্ষ ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে। অর্থাৎ, এটা স্পষ্ট যে, অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম। শুধু তাই নয়, পড়াশুনা শেষে বসবাসের সুযোগ আছে। আপনি আস্ট্রেলিয়ার PR পেলে নিউজিল্যান্ডেও থাকতে পারবেন। আপনার জন্য সম্ভবনা আরো বেড়ে যাচ্ছে।

    Opera House Australia
    Image Source: pixabay.com

    কমনওয়েলথভুক্ত দেশ অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরা আর সবচেয়ে বড় শহর হল সিডনি। অস্ট্রেলিয়ায় সবচেয়ে বেশি বাঙ্গালী বসবাস করে পার্থ শহরে। অস্ট্রেলিয়া পৃথিবীর ১৪-তম বৃহৎ অর্থনীতি আর পার ক্যাপিটা ইনকামের দিক দিয়ে এই দেশ বিশ্বে দশম। এই দেশের আয়তন ৭৬ লক্ষ ৯২ হাজার বর্গকিলোমিটার- আর এই দেশে বসবাস করে ২ কোটি ৫৬ লক্ষ । মজার ব্যাপার এই জনসংখ্যার ৩০% মূলত অভিবাসী, তারা বিভিন্ন দেশ থেকে এসে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন। সমুদ্রে ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশ আর নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার অপরিসীম সম্ভবনা- এই তো অস্ট্রেলিয়া।  

    অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাবার জন্য নূন্যতম যোগ্যতা

    অস্ট্রেলিয়ায় অবেদন করতে প্রয়োজন পড়ে না GRE/ GMAT। তবে আপনার IELTS/ PTE থাকতে হবে। অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশুনা করতে আপনার পূর্ববর্তী একাডেমিক পরীক্ষায় কমপক্ষে ৬০% নম্বরের প্রয়োজন পড়বে। আপনাকে ভাষাগত দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে IELTS-এ পেতে হবে ৬.৫ বা ৭.০ স্কোর। আর PTE পরীক্ষায় অর্জন করতে হবে ৫৮ – ৬০ মার্ক্সের। এই যোগ্যতা থাকলে আপনি অস্ট্রিলিয়ার বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েই আবেদন করতে পারবেন। 

    কোর্স সার্চ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন

    ব্যবসা প্রশাসন, প্রকৌশল, নার্সিং, স্বাস্থ্য, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তিসহ সকল বিষয়েই অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন ডিপ্লোমা, স্নাতক, স্নাতোকোত্তর ও পিএইচডি করার যথেষ্ঠ সুযোগ রয়েছে। তাই কোর্স নিয়ে ভাবনার কারণ নেই। আপনি আপনার পছন্দের কোর্স এই দেশে পাবেন। শুধু তাই নয়, যে কোন কোর্সে যে কোন প্রোগ্রামে পড়তে পারবেন। আর এজন্যই দরকার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়। আপনাদের সুবিধার জন্য কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নিচে তুলে ধরা হলঃ

    ১।  Australian National University (ANU)

    ২। University of Sydney

    ৩। University of Melbourne

    ৪। University of New South Wales (UNSW)

    ৫। University of Queensland (UQ)

    ৬। Monash University

    ৭। University of Western Australia (UWA)

    ৮। University of Adelaide

    ৯। University of Technology Sydney (UTS)

    ১০। University of Wollongong[উপোরক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা QS Top Universities of 2021 অনুসারে দেওয়া হয়েছে]

    National University, Australia
    Image Source: Internet

    বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সময়সীমা ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

    অস্ট্রেলিয়ায় বছরে দুইটি সেশন পড়ানো হয়। একটি সেশন ফেব্রুয়ারি ও অন্যটি সেশন জুলাই- এ শুরু হয়।  

    ভর্তির জন্য প্রথমেই আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে এবং আবেদন ফি জমা দিতে হবে। সাধারণত আবেদন ফি জমা না দেওয়া পর্যন্ত আবেদন প্রসেস শুরু হবে না। আবার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে কোন আবেদন ফি-এর প্রয়োজন পড়ে না।

    এই দেশে আপনি ব্যাচেলর, মাস্টার্স, পিএইচডি, পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা থেকে শুরু করে সকল ধরণের প্রোগ্রামে যাবার সুযোগ আছে। আমেরিকা, কানাডার মত অস্ট্রেলিয়ায়ও মাস্টার্স কোর্স দুই ধরণেরঃ কোর্স-বেজড ও থিসিস-বেজড। কোর্স বেজড মাস্টার্স প্রোগ্রামে সাধারণত স্কলারশিপ পাওয়া যায় না। সাধারণত নিজের অর্থায়নে পড়তে হয়। তবে কোর্স-বেইজড মাস্টার্সেও আপনি পাবেন স্কলারশিপ। অন্যদিকে, থিসিস-বেজড বা রিসার্চ-বেজড মাস্টার্স প্রোগ্রামে গেলে আপনার ফান্ড বা স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ আছে। থিসিস-বেজড মাস্টার্স প্রোগ্রামে গেলে অবশ্যই প্রফেসরের সাথে যোগাযোগ করে কথা বলে নিতে হবে।

    এই প্রফেসর খোঁজা বেশ জটিল ও কষ্টসাধ্য প্রক্রিয়া। কারণ আপনাকে প্রফেসরদের খুঁজে তাদের রিসার্চ এরিয়া-ভিত্তিক নিজের পোর্ট-ফোলিও সাজিয়ে তাকে মেইল করতে হবে এবং তাকে কনভিন্স করতে হবে। প্রফেসররা সাধারণত স্কাইপি, অথবা অন্য মিডিয়ামে আপনার ইন্টারভিউ নিয়ে থাকে। এই ব্যাপারে বলে রাখি, প্রোফেসরদের মেইল করার সময় সাবধান থাকবেন। অনেকেই একই মেইল বহু প্রফেসরকে করে। এইভাবে ফান্ডিং পাওয়া বেশ কষ্ট্যসাধ্য আর গদ বাঁধা মেইল আপনার সাথে সাথে আপনার দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে। প্রফেসর যে শুধু স্কলারশিপ প্রাপ্তিতে সহায়তা করেন- তা নয়, বরং তার কাছে বরাদ্দ রিসার্চ ফান্ড থেকে আপনাকে RA (Research Assistant) পোস্ট অফার করে থাকে অথবা আপনাকে TA (Teacher’s Assistant) অফার করে। 

    অস্ট্রেলিয়ায় কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের জন্য নিচের ডকুমেন্টস গুলো প্রয়োজন হয়ঃ

    ১। সকলএকাডেমিক সার্টফিকেট এবং মার্কশীট

    ২। CV, মোটিভিশন লেটার ও রিকমেন্ডেশন লেটার [প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী]

    ৩। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র

    ৪। পাসপোর্টের কপি ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি

    ৫। রেফারেন্স লেটার- এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আপনার সম্পর্কে ভালো রিমার্ক্স থাকতে হবে।

    ৬। IELTS এবং GRE/GMAT [কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজন পড়ছে বর্তমানে]

    ৭। Statement of Purpose (SOP)

    ℹ️ প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসের তালিকা বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ভালো করে ঘেটে আপনি দেখে নিবেন, আসলে কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন পড়বে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটের পেছনে পর্যাপ্ত সময় দেওয়াটা তাই খুবই জরুরী।

    University of Melbourne, Australia
    Image Source: Internet

    পড়াশোনার খরচ ( টিউশন ফি) ও স্কলারশিপ

    অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাচেলর পড়তে খরচ হবে ১৫,০০০ থেকে ৩৩,০০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। আর যদি মাস্টার্স বা ডক্টোরাল প্রোগ্রামে পড়তে যান তাহলে খরচ হবে ২০,০০০ থেকে ৪০,০০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার।

    বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো অস্ট্রেলিয়াতেও বিভিন্ন স্কলারশিপের সুযোগ আছে। মাস্টার্স ও পিএইচডির জন্য এ সুযোগটা একটু বেশি। এই স্কলারশিপগুলো কয়েকপ্রকারের হতে পারে- ১) ফুল ফান্ডিং ও লিভিং এক্সপেন্সেস স্টাইপেন্ডসহ স্কলারশিপ ২) ফুল ফান্ডিং স্কলারশিপ ৩) পার্শিয়াল ফান্ডে স্কলারশিপ (১০% থেকে ৮০%)। যত ভালো মানের স্কলারশিপের জন্য আপনি চেষ্টা করবেন আপনার প্রোফাইল তত ভালো হওয়া উচিত এবং আপনি তত বেশি প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হবেন।

    স্কলারশিপের জন্য ব্রাউজ করতে পারেন নিম্নোক্ত ওয়েব সাইটঃ

    বাংলাদেশিরদের জন্য নির্ধারিত ওয়েবসাইটঃ 

    http://dfat.gov.au/about-us/publications/Pages/bangladesh-information-for-intake.aspx

    অফিসিয়াল ওয়েবসাইটঃ 

    http://dfat.gov.au/people-to-people/australia-awards/Pages/australia-awards-scholarships.aspx

    Students- Australia
    Image Source: Internet

    আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ

    অস্ট্রেলিয়ায় ২০১৬ সালের পহেলা জুলাই থেকে নতুন নিয়ম চালু হয়েছে। এখন একজন শিক্ষার্থীর জন্য তার স্পন্সরের এক বছরের ডেইলী এক্সপেন্স বাবদ ১৯,৮৩০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার দেখাতে হবে। আবার, যদি টিউশন ফি ৩ বছরের জন্য ৫০,০০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার হয়, তাহলে এক বছরের হিসাবে টিউশন ফি আসে ১৬,৬৬০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। তাহলে স্পন্সরের ব্যাংকে এক বছরের ডেইলী এক্সপেন্স ও টিউশন ফী- এর সমপরিমাণ অর্থ দেখাতে হবে। 

    ভিসার জন্য আবেদন

    ভিসা পেতে আপনাকে দ্বারস্থ হতে হবে ঢাকায় অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ান এম্বেসী-এর। আপনার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত অফার লেটার ও CoE (Confirmation of Enrollment) সহ প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সমেত আবেদন করতে হবে ভিসার জন্য।

    নিচে কাগজপত্রের জন্য প্রয়োজনীয় তালিকা দেওয়া হলঃ

    ১। CoE (Confirmation of Enrollment)

    ২। পাসপোর্ট ও  ফটোগ্রাফ

    ৩। CV, Statement of Purpose (SOP)  ও রেফারেন্স লেটার

    ৪।সকল মার্কশিট ও সনদ

    ৫। No Objection  Certificate [শেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে]

    ৬।  অফার লেটার / Offer Letter

    ৭। ব্যাংক সলভেন্সি পেপ্যার

    ৮। ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট

    ৯। পুলিশ ক্লিয়ারান্স

    ১১। হেলথ ইন্স্যুরেন্স ও মেডিক্যাল রিপোর্ট

    সব কিছু ঠিক ঠাক থাকলে ভিসা পেতে আপনার খুব বেশি কষ্ট করতে হবে।

    Life in Australia
    Image Source: pixabay.com

    অস্ট্রেলিয়ায় আবাসন ব্যবস্থা ও জীবন-যাপন খরচ

    আবাসন, জীবন – যাপন থেকে যাতায়াত শুরু করে সকল খরচ মেটাতে আপনার প্রতি মাসে খরচ হবে ১৫০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার কাছাকাছি।

    পার্ট টাইম জব

    অস্ট্রেলিয়ায় সপ্তাহে ২০ ঘন্টা পার্ট টাইম চাকরির সুযোগ রয়েছে। পার্ট টাইম জব করে একজন ছাত্র তার খরচ চালাতে পারে।পার্টটাইম কাজ হিসেবে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রোগ্রামিং , টিউটরিং, মার্কিং ছাড়াও বাইরে অন্যান্য কাজ করা যায় । ছাত্র-ছাত্রীরা সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটি ও বছর শেষের লম্বা ছুটিতে (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারী) পার্টটাইম চাকুরী করে সারা বছরের পড়ালেখার খরচ যোগাড় করে । উল্লেখ্য , স্টুডেন্ট ভিসার শর্ত হিসেবে এক জন ছাত্র বা ছাত্রী সেমিস্টার চলাকালীন সময়ে সপ্তাহে ২০ ঘন্টা কাজ করতে পারে । বৃত্তি প্রাপ্তদের জন্য কোথাও ( যেমন , মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে) সপ্তাহে ১৫ ঘন্টা । তবে বছর শেষের লম্বা ছুটিতে যে যত খুশি কাজ করতে পারে ।

    স্থায়ী বস বাসের সুযোগ

    Engineering, MBA, ACCA এবং Health study ইত্যাদি বিষয়গুলোর চাহিদা অস্ট্রেলিয়ায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এধরণের কোর্সে পড়াশুনা করলে ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ায় চাকুরী ও PR পেতে সুবিধা হবে।অস্ট্রেলিয়ায় PR পাওয়া তুলনামূলক সহজ। আপনার রেজাল্ট ভালো থাকলে আপনি কোর্স শেষেই PR-এর জন্য আবেদন করতে পারবেন।

    অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশুন যেমন উন্নত তেমনি পড়াশুনা শেষে এই দেশে উন্নত ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে। তাই বিলম্ব না করে প্রস্তুতি নিন অস্ট্রেলিয়ায় অবেদনের আর করে ফেলুন নিজেই, নিজের আবেদন।

    Life in Australia
    Image Source: pixabay.com

    তথ্যসুত্রঃ

    ১। https://www.kalerkantho.com/online/miscellaneous/2020/02/10/872882

    ২। https://www.prothomalo.com/durporobash/article/1240696

    ৩। http://someofallbd.blogspot.com/2017/01/blog-post_64.html

    ৪। https://www.dailysangram.com/post/377760-উচ্চশিক্ষার-জন্য-অস্ট্রেলিয়া 

  • আইফেল এক্সেলেন্স স্কলারশিপ (ফ্রান্স )

    আইফেল এক্সেলেন্স স্কলারশিপ (ফ্রান্স )

    ফ্রান্সে পড়াশুনা করার জন্য আপনি যদি স্কলারশিপ চান, তাহলে আপনার জন্য সবচেয়ে প্রেস্টিজিয়াস স্কলারশিপ হল আইফেল এক্সেলেন্স স্কলারশিপ। এটি ফ্রান্স সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত বেশ জনপ্রিয় একটি স্কলারশিপ। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীগণ ফ্রান্সের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মাস্টার্স এবং পিএইচডি প্রোগ্রামে পড়তে আসেন এই স্কলারশিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে।

    স্কলারশিপ এর নাম

    আইফেল এক্সেলেন্স স্কলারশিপ।

    যে যে বিষয়ে অধ্যয়ন করা যাবে

    এই স্কলারশিপের আওতায় ১২ মাস থেকে ৩৬ মাস মেয়াদী মাস্টার্স প্রোগ্রাম ও ১০ মাস মেয়াদী পিএইচডি কোর্সের অর্থায়ন করা হয়ে থাকে।এই স্কলারশিপের আধীনে ইঞ্জিনিয়ারিং, ল’, ম্যানেজমেন্ট, পলিটিক্যাল সাইন্স ও ইকোনোমিক্স পড়ার সুযোগ পাওয়া যায়।   

    দেশ এবং কর্তৃপক্ষ

    মিনিষ্ট্রি অফ ফরেন এফেয়ার্স,ফ্রান্স

    বৃত্তির সুযোগ সুবিধাসমূহ

    স্কলারশিপের আওতায় আপনি যা যা পাবেনঃ

    ১। মাসিক ভাতা (মাস্টার্সে ১১০০ ইউরো ও পিএইচডি-এ ১৪০০ ইউরো)

    ২। যাতায়ত বিমান ভাড়া

    ৩। স্বাস্থ্য বীমা, আবাসিক ও অন্যান্য ভাতা

    মজার বিষয় এই স্কলারশিপে আপনাকে টিউশন ফী প্রদান করা হবে না।

    আবেদনের যোগ্যতা

    এই স্কলারশিপে আবেদন করতে আপনার থাকতে হবে নিম্নোক্ত যোগ্যতাঃ

         ১। মাস্টার্স কোর্সে ৩০ বছর আর পিএইচডি কোর্সে সর্বোচ্চ ৩৫ বছর বয়স সর্বোচ্চ হতে পারবে।

         ২। ফ্রান্সের কোন নাগরিক এই স্কলারশিপে আবেদন করতে পারবে না।

         ৩। পূর্বে কেউ স্কলারশিপ পেয়ে থাকলে আরেকবার আবেদন করতে পারবেন না। কিন্তু পূর্বে কেউ মাস্টার্সে এই স্কলারশিপ পেলে তিনি পিএইচডি-এর জন্য আবার তিনি আবেদন করতে পারবেন।

         ৪। শিক্ষার্থীকে অবশ্যই ইংরেজী অথবা ফ্রেঞ্চ ভাষায় পারদর্শী হতে হবে।

    আবেদনের সময়সীমা

    আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয় ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসের মধ্যে।হালনাগাদ ডেডলাইন জানতে ভিজিট করুন অফিসিয়াল ওয়েবসাইট –

    https://www.campusfrance.org/en/eiffel-scholarship-program-of-excellence

    French students
    Image Source: Internet

    যেসকল দেশের প্রার্থীদের জন্য প্রযোজ্য

    বাংলাদেশ সহ বিশ্বের সকল দেশের শিক্ষার্থীগণ আইফেল এক্সেলেন্স স্কলারশিপ প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করতে পারবে।

    আবেদন প্রক্রিয়া

    আইফেল এক্সেলেন্স স্কলারশিপ প্রাপ্তির জন্য আপনাকে ফ্রান্সের কিছু নমাকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিরেক্ট আবেদন করতে হবে। ডিরেক্ট আবেদনের জন্য ফর্ম পূরণ করতে হবে এবং তখনি বিশ্ববিদ্যালয়কে জানিয়ে দিতে হবে আপনি আইফেল এক্সেলেন্স স্কলারশিপ-এর জন্য আবেদন করতে চান। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপনাকে জানিয়ে দিবে আপনি স্কলারশিপ পেয়েছেন কি না? উল্লেখ্য যে, এই স্কলারশিপে শিক্ষার্থী সরাসরি আবেদন করতে পারবেন না। তাদের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা ফ্রেঞ্চ হাইয়ার এডুকেশন ইন্সটিটিউশন্সের মাধ্যমে আবেদন যেতে হবে।


    এই স্কলারশিপ প্রোগ্রামের জন্য আপনাকে জমা দিতে হবেঃ

    ১। Online আবেদন ফর্ম

    ২। সকল একাডেমিক সার্টিফিকেট ও মার্কশীট

    ৩। রিকমেন্ডেশন লেটার (২ টি) – সাইন করে সীলড অবস্থায় দিতে হবে। 

    ৪। SOP (Statement of Purpose)

    ৫। IELTS এর সনদ বা ফ্রেঞ্চ ভাষা দক্ষতার প্রমাণপত্র

    ৬। Work Experience Certificate (যদি থাকে)

    ৭। NID ও পাসপোর্টের কপি 

    আবেদন ও আরোও বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুণঃ

    https://www.campusfrance.org/en/eiffel-scholarship-program-of-excellence

    ক্যাম্পাস ফ্রান্স বিদেশে ফরাসি উচ্চশিক্ষা প্রচারের এবং ফ্রান্সে বিদেশী শিক্ষার্থীদের এবং গবেষকদের স্বাগত জানানোর কাজে নিয়োজিত একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। 

    তথ্যসুত্রঃ

    1. https://youthcarnival.org/bn/আন্তর্জাতিক-ছাত্রদের-জন-3/
    2. https://www.thedailycampus.com/scholarship/23450/বিনামূল্যে-বিদেশে-শিক্ষার-জন্য-সেরা-৮-শিক্ষাবৃত্তি
    3. https://www.educarnival.com/আইফেল-স্কলারশীপ-নিয়ে-ফ্র/
  • আমেরিকায় উচ্চশিক্ষাঃ নিজেই করুণ নিজের আবেদন

    আমেরিকায় উচ্চশিক্ষাঃ নিজেই করুণ নিজের আবেদন

    পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশ আমেরিকা। বলা যেতে পারে, সব সম্ভবের দেশ হল আমেরিকা। আর রিসার্চ, পড়াশুনা, জ্ঞানচর্চার আর এরপর ভালো সুযোগ ও বেতনের চাকুরির জন্য সবচেয়ে ভালো ডেস্টিনেশন এখন আমেরিকা। আর বিশ্বের সকল দেশের একগুচ্ছ ভালো শিক্ষার্থী প্রতি বছর জড়ো হচ্ছে এই United Stated of America-এ আর গড়ে তুলছে নিজেরদের ভবিষ্যৎ। অন্যভাবে দেখলে বলা যায়, বিশ্বে পরিশ্রমী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য আমেরিকা তৈরী করেছে অপার সুযোগ ও নিশ্চিত ভবিষ্যৎ- আর এই শক্তিশালী মেধাবীরাই গড়ে তুলেছে উন্নত আমেরিকা। বিশ্বের সব দেশের সব ভাষার শিক্ষার্থীদের আমেরিকা নিয়ে উৎসাহের কমতি নেই- আর সেই উৎসাহের ও উদ্দীপনার কথা মাথায় রেখে আজ আমরা আপনাদের তুলে ধরছি আমেরিকায় উচ্চশিক্ষার বিষয়ে।

    কেন আমেরিকায় পড়তে যাবেন?

    জ্ঞান-বিজ্ঞানের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, আগে প্রাচ্য ছিল জ্ঞানের আধার। চীন, ভারতীয় উপমহাদেশে মানুষ আসত জ্ঞান লাভের জন্য। কালের পরিক্রমায় আজ পাশ্চাত্যের আমেরিকা হয়েছে জ্ঞান ও বিজ্ঞানের আখড়া। শুধু আপনি জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা করে আনন্দিত হবেন আমেরিকায় তাই নয়- পরবর্তীতে ভালো চাকুরী প্রাপ্তির সম্ভবনা ও সুযোগ সবটাই আছে এই দেশে। সাধারণ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা বাৎসরিক ৫০-৬০ হাজার ডলার রেমুনারেশন পেয়ে থাকে। আর ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা এই দেশে আরো কিঞ্চিৎ বেশি। অনেক ক্ষেত্রে আপনার বাৎসরিক বেতন আরো বেশি হতে পারে। বুঝতেই পারছেন- এই দেশে টেকনিক্যাল বিষয়ে চাকুরীর সুযোগ অনেক অনেক বেশি ও সম্ভবনাময়।

    Statue of Liberty
    Image Source: pixabay.com

    আমেরিকা ৫০ টি স্টেটস বা অঙ্গরাজ্য নিয়ে গঠিত যার আয়তন ৯৮,৩৩,৫২০ বর্গকিলোমিটার আর জনসংখ্যা ৩২৮ মিলিয়ন। এই দেশের রাজধানী ওয়াশিংটন ডি,সি আর সবচেয়ে বড় শহর নিউ ইয়র্ক। অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধ এই দেশের জিডিপি ২২.৩ ট্রিলিয়ন। আর আবহাওয়া এই দেশের অঞ্চলভেদে পরিবর্তন করে আর এই দেশের মধ্যেই আছে ৯টি স্টান্ডার্ড টাইম জোন। তাহলে বুঝতেই পারছেন, এই দেশ কতটা বড় আর কতটা বৈচিত্র্যময়।

    আমেরিকায় পড়তে যাবার জন্য নূন্যতম যোগ্যতা

    আপনি যদি অনার্স বা ব্যাচেলর পড়তে যেতে চান, তাহলে SAT বা ACT পরীক্ষায় বসতে হবে। এরপর আপনার পছন্দের কলেজ কিম্বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফর্ম ফিলাপ করে আবেদন করতে হবে। ব্যাচেলরে বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজগুলো মূলত তাদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করে- কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে ভর্তি করে না। আর ব্যাচেলর কোর্সে প্রথম দুই বছর সব ডিসিপ্লিনে একই বিষয় পড়ানো হয়। তাই, কোন নির্দিষ্ট বিষয় না সিলেক্ট করেই আপনি প্রথম দুই বছর পার করে দিতে পারেন। পরবর্তীতে আপনি আপনার যোগ্যতা ও মেধা অনুযায়ী, আপনার কোর্স বেছে নিতে পারবেন।  আর মাস্টার্স করতে গেলে আপনাকে GRE/ GMAT স্কোর প্রয়োজন পরবে। মাস্টার্সে গেলে আপনাকে আপনার ব্যাচেলরের ডিগ্রীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে কোন বিষয় নির্বাচন করে নিতে হবে। মাস্টার্সে দুইটি ক্যাটেগরী থাকেঃ কোর্স বেজড ও থিসিস বেজড।

    আমেরিকায় পড়তে যাবার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নূন্যতম রিকোয়ারমেন্ট থাকে GRE/GMAT আর  IELTS/TOEFL। অর্থাৎ, বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার জন্য এই যোগ্যতা থাকতে হবে- মূলত এই স্কোর আপনার ভর্তি নিশ্চিত করে না। যদিও ভালো GRE/ GMAT স্কোর ভর্তির দৌড়ে আপনাকে এগিয়ে রাখবে। আমেরিকায় বিভিন্ন রেঞ্জের বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে- আপনি আপনার সুবিধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী অনেক বিশ্ববিদ্যালয় পেয়ে যাবেন।

    কোর্স সার্চ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন

    আমেরিকায় আপনি পড়তে পাড়বেন যেকোন বিষয়। বিজ্ঞানের যে কোন শাখায়, ইঞ্জিনিয়ারিং-এর যেকোন অঙ্গনে, বিজনেস স্কুলের যেকোন অলি-গলি কিম্বা মেডিকেল টেকনোলজী বা সাইন্স সব বিষয়েই পড়তে পারবেন। তবে আমেরিকায় কেমিস্ট্রি, ফিজিক্স, ম্যাথ, বায়োলোজী, বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন, আইন, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে বা মূলত গবেষণামুলক বিষয়ে পড়তে বেশি উৎসাহিত করা হয়। প্রযুক্তিবিদ্যা ও এপ্লাইড সায়েন্সর কদর এই মুলুকে একটু বেশি।

    কোন ইউনিভার্সিটি বেছে নেবেন? কেন বেছে নেবেন?এ ব্যাপারে কখন কিভাবে আগাবেন? ব্যাপারগুলো খুব কনফিউজিং বলে মনে হতে পারে। কিন্তু একটু পরিচিত হয়ে গেলে সেটা সহজ হয়ে আসবে আপনার জন্য।

    Harvard University USA
    Image Source: Internet

    কোন ইউনিভার্সিটি সেরা এটা একটা খুব সাধারন জিজ্ঞাসা। আর এই জিজ্ঞাসাকে সামনে রেখে ইউএসনিউজ প্রতিবছর একটা র‍্যাঙ্ক লিস্ট (https://www.usnews.com/best-graduate-schools) প্রকাশ করে। এই র‍্যাঙ্ক লিস্টকে মোটামুটি সবাই বেশ ভাল বলেই মেনে নেয়। এই র‌্যাঙ্কিং করার সময় ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকের কোয়ালিটি, তাদের মোট প্রকাশ করা পেপার, সেই পেপারগুলোর মান, ইউনিভার্সিটিতে ছাত্রদের দেয়া আর্থিক সাহায্য এই সবকিছুকে বিবেচনা করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটিতে পার্কিং সুবিধার মত অদরকারী বিষয়গুলোও বিবেচনা করা হয়, সেজন্য অনেকে এই র‌্যাঙ্কিং প্রথার বিরুদ্ধে মতামত দিয়ে থাকেন। এই র‍্যাঙ্ক লিস্টটা দেখতে হলে পয়সা দিতে হয়। তাই কেবল উপরের দিকের কয়েকটা ইউনিভার্সিটির নাম দেখা ছাড়া আর কিছুই করা যায় না এ দিয়ে।

    আমেরিকায় বিশ্বমানের অনেক অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আছে। এই দেশে গড়ে উঠেছে বিশ্বের নামী দামী বিশ্ববিদ্যালয়। আপনি আপনার যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে নিজের আসন জোগাড় করে নিতে পারবেন এইসব বিশ্ববিদ্যালয়ে। নিচে আমেরিকার কয়েকটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম তুলে ধরা হলঃ

    ১। Massachusetts Institute of Technology

    ২। Stanford University

    ৩। Harvard University

    ৪। California Institute of Technology

    ৫। University of Chicago

    ফান্ড বা স্কলারশিপ এর সুযোগ

    ফান্ড বা স্কলারশিপ পেতে গেলে আপনাকে থিসিস বেজড মাস্টার্স নির্বাচন করে প্রফেসর খুঁজে নিয়ে তার আন্ডারে রিসার্চ করার জন্য যেতে হবে।  আপনাকে প্রফেসরদের খুঁজে তাদের রিসার্চ এরিয়া-ভিত্তিক নিজের পোর্ট-ফোলিও সাজিয়ে তাকে মেইল করতে হবে এবং তাকে কনভিন্স করতে হবে। প্রফেসররা সাধারণত স্কাইপি, অথবা অন্য মিডিয়ামে আপনার ইন্টারভিউ নিয়ে থাকে। আমেরিকায় প্রফেসররা অনেক ক্ষমতার অধিকারী। তারা চাইলে আপনাকে ডিরেক্ট এডমিশন দিতে পারেন। প্রফেসর আপনাকে রিকমেন্ডেশন করলে, বিশ্ববিদ্যালয় অথরিটি আপনাকে ভর্তির বিষয়ে অনেক সহায়তা করে থাকে আর স্কলারশিপ পেতে আর কোন বাধা থাকে না। অনেক সময় প্রফেসর তার কাছে বরাদ্দ রিসার্চ ফান্ড থেকে আপনাকে RA (Research Assistant) পোস্ট অফার করে থাকে অথবা আপনাকে TA (Teacher’s Assistant) অফার করে কোর্স ফি দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। অন্যদিকে পিএইচডি মাত্রই রিসার্চ বেজড। তাই রিসার্চ করার মন ও মানসিকতা নিয়েই আপনাকে পিএইচডি-তে এপ্লাই করতে হবে।

    ভাষাগত দক্ষতা

    ভাষাগত দক্ষতার জন্য আপনাকে বসতে হবে TOEFL অথবা IELTS পরীক্ষায়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রিকোয়ারমেন্ট ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই আপনি আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে চান, সেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির জন্য কি কি যোগ্যতা প্রয়োজন পরবে দেখে নিন। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ভর্তির জন্য TOEFL/ IELTS চায় না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় না চাইলেও এই পরীক্ষা দিয়ে রাখা ভালো- তাহলে ভিসা প্রাপ্তিতে সুবিধা হবে।

    Image Source: Internet

    বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সময়সীমা ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

    আমেরিকায় ভর্তির জন্য প্রথমেই আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে এবং আবেদন ফি জমা দিতে হবে। আবেদন ফি জমা না দেওয়া পর্যন্ত আবেদন প্রসেস শুরু হবে না। আমেরিকায় আপনি ব্যাচেলর, মাস্টার্স, পিএইচডি সকল ধরণের প্রোগ্রামে যাবার সুযোগ আছে।

    আমেরিকায় বছরে তিনটি সেমিস্টার থাকে, যথাঃ Spring সেমিস্টার, Summer সেমিস্টার ও Fall সেমিস্টার। Spring সেমিস্টার জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত আর Summer সেমিস্টার মে থেকে জুলাই পর্যন্ত হয়ে থাকে। মূলত Fall Semester এ International Student ভর্তি কয়া হয়ে থাকে এবং এই সময়েই বেশি স্কলারশিপ অফার করা হয়ে থাকে। Fall Semester এর ব্যাপ্তি আগস্ট থেকে ডিসেম্বর। মনে রাখবেন প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সময়সীমা আলাদা। তাই আবেদনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে দেখে নেওয়া উচিত আর কোন বিভ্রান্তি থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এডমিশন আফিসে যোগাযোগ করা উচিত।

    নিচে আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিয়া দেওয়া হলঃ

    ১। সকল একাডেমিক সার্টফিকেট এবং মার্কশীট [অবশ্যই ইংরেজীতে হতে হবে]

    ২। রিকমেন্ডেশন বা রেফারেন্স লেটার- এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আপনার সম্পর্কে ভালো কমেন্ট থাকতে হবে।

    ৩। Statement of Purpose (SOP)

    ৪। পাসপোর্টের কপি ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি

    ৫। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র

    ৬। TOEFL/IELTS এবং GRE/GMAT [For Post-Grad] বা SAT/ACT [For Under graduation]  

    ℹ️ আমেরিকার অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের জন্য রিকোমেন্ডেশন লেটার প্রয়োজন পরে- তাই আপনার সমন্ধে যিনি পজিটিভ লিখবেন সেরকম কোন স্বনামধন্য প্রফেসরের কাছ থেকে রিকোমেন্ডেশন লেটার নেওয়ার চেষ্টা করুন। রিকোমেন্ডেশন লেটার আপনার ভর্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অপর যে ডকুমেন্টসটি আপনার প্রয়োজন পরবে সেটা হল স্টেটমেন্ট অব পারপাস। তাই অত্যন্ত যত্নশীল হয়ে স্টেটমেন্ট অব পারপাস লেখার চেষ্টা করুন।এ ব্যাপারে জানতে  http://www.statementofpurpose.com/ ।

    এই সমস্ত জিনিস ছাড়াও অনেক ইউনিভার্সিটি স্পেশাল জিনিস পত্র চাইতে পারে। যেমন অনেকের আপনার ইউনিভার্সিটির নম্বরের আর্ন্তজাতিক ইক্যুইভ্যালেন্ট নম্বর চাইতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনাকে ডব্লিউ.ই.এস. (http://www.wes.org/) বলে একটি সার্ভিসের শরনাপন্ন হতে হবে। তাদের কাছে আপনার রেজালটের এক কপি পাঠালে তারা আপনার ইউনিভার্সিটির কাছ থেকে আরো এক কপি চাইবে। এই দুই কপিকে যাচাই করে ইউএস ইকুইভ্যালেন্ট নাম্বার পাঠাবে আপনার পছন্দের ইউনিভার্সিটিতে।

    বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৬ থেকে ৮ মাসের মত সময় নেয় ভর্তি বিষয়ক তাদের ফলাফল জানানোর জন্য। তাই হাতে কমপক্ষে ১ বছর সময় নিয়ে আবেদন করুন।

    সাহায্য নিতে পারেন নিম্মোক্ত ওয়েবসাইট সমুহের –

    ১। https://educationusa.state.gov/

    ২। https://www.commonapp.org/

    Students- USA
    Image Source: Internet

    পড়াশোনার খরচ ( টিউশন ফি) ও স্কলারশিপ

    আমেরিকায় ব্যাচেলর প্রোগ্রামে আপনার সব মিলিয়ে খরচ হবে ১৫ – ২০ লাখ টাকা। আর মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য প্রতি টার্মে ৩০,০০০ থেকে ৭০,০০০ টাকা খরচ হবে।

    আমেরিকায় ব্যাচেলর লেভেলে স্কলারশিপের সুযোগ ক্ষীণ। কিন্তু মাস্টার্স প্রোগ্রামে স্কলারশিপের সু্যোগ তুলনামূলক বেশি। আমেরিকায় ন্যাশনাল স্কলারশিপ প্রোগ্রামের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও স্কলারশিপ পাওয়া যায়।

    ভিসার জন্য আবেদন

    আমেরিকার এম্বেসী বাংলাদেশে আছে তাই আপনি ঢাকাস্থ আমেরিকান এম্বেসী থেকে ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আপনার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত অফার লেটার ও প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সমেত আবেদন করতে হবে ভিসার জন্য।

    নিচে কাগজপত্রের জন্য প্রয়োজনীয় তালিকা দেওয়া হলঃ

    ১। পূরণকৃত ভিসা আবেদন ফর্ম

    ২। পাসপোর্ট ও  ফটোগ্রাফ

    ৩। CV, Statement of Purpose (SOP)  ও রেফারেন্স

    ৪।সকল মার্কশিট ও সনদ, IELTS-GRE সনদ 

    ৫। No Objection  Certificate [শেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে]

    ৬।  অফার লেটার

    ৭। ব্যাংক সলভেন্সি পেপ্যার

    ৮। ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট

    ৯। পুলিশ ক্লিয়ারান্স

    ১১। হেলথ ইন্স্যুরেন্স ও মেডিক্যাল রিপোর্ট

    সব কিছু ঠিকমত রুল অনুযায়ী জমা দিতে হবে। ছোট খাট ভুলের জন্যই ভিসা রিজেক্ট হয়।

    Hollywood Sign - USA
    Image Source: pexels.com

    আমেরিকায় আবাসন ব্যবস্থা ও জীবন-যাপন খরচ

    আমেরিকায় যাবার আগেই আপনাকে করতে হবে সেইদেশে থাকার ব্যবস্থা। সাধারণত প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে নিজস্ব হোস্টেল ব্যবস্থা। কিন্তু এইসব হোস্টেল তুলনামূলক ব্যয়বহুল। তাই আপনি চাইলে যাতায়াত ব্যবস্থা, দূরত্ব ও অন্যান্য হিসেব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আসে-পাশে আপনার স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করতে পারেন। এজন্য আপনি পাবেন মোড়েল। শেয়ারড ফ্ল্যাট, পেইং গেস্ট সুবিধাসহ অনেক ব্যবস্থা।

    পার্ট টাইম জব ও স্থায়ী বসবাসের সুযোগ

    আমেরিকায় পার্ট টাইম জবের সুযোগ রয়েছে সপ্তাহে ২০ ঘন্টা। ব্যাচেলর স্টুডেন্টদের প্রথম ১ বছর জব করার সুযোগ থাকে না। ইউনিভার্সিটিতে ঘন্টা ভিত্তিক কাজ খুব সুলভ না হলেও মোটামুটি পেতে খুব সমস্যা হয় না। ব্যাচেলরের স্টুডেন্টগণ চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ করতে পারেন। এসব কাজ করলে আপনি ঘন্টায় ৬-২৫ ডলার করে আয় করতে পারবেন।  সমস্যা এখানে থাকা-খাওয়ার খরচটা উঠে আসলেও টিউশনটা আপনাকেই পরিশোধ করতে হবে।

    আমেরিকায় পড়াশুনার শেষে ১-৩ বছরের Work Permit পাবেন। এরপর বিভিন্ন শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আপনি নাগরিকত্ব পাবেন। আমেরিকায় নাগরিকত্ব পেতে আপনাকে সেখানে থাকতে হবে কমপক্ষে বছর দশেক।

    Life in USA
    Image Source: Internet

    তথ্যসুত্রঃ

    ১। https://studyabroadonline.com/resource/practical-advice/আমেরিকায়-উচ্চশিক্ষা/

    ২। https://higherstudyprep.com/blog/higer-study-in-usa-msc-or-phd/

    ৩। https://www.prothomalo.com/durporobash/article/1056017

    ৪। https://hsa.grecbd.com/thetimeline/

  • আয়ারল্যান্ডে উচ্চশিক্ষাঃ নিজেই করুণ, নিজের আবেদন

    আয়ারল্যান্ডে উচ্চশিক্ষাঃ নিজেই করুণ, নিজের আবেদন

    নিজেই করুণ নিজের আবেদনের আজকের পর্ব সাজানো হয়েছে বিশ্বের অন্যতম এক ধনী দেশকে নিয়ে, যে দেশ উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে অবস্থিত এবং ১৯২১ সালে যুক্তরাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনতা লাভ করে। আমার আশা অনেকেই বুঝতে পেরেছেন আজ  আমরা কথা বলবো আয়্যারল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা নিয়ে। তাহলে আর দেরী না করে শুরু করে দেই আজকের আলোচনা আর আপনারাও তৈরি হয়ে যান আয়্যারল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার জন্য – নিজেরাই করে ফেলুন নিজের আবেদন। 

    কেন আয়ারল্যান্ডে পড়তে যাবেন?

    ইউরোপের অন্যতম ধনী দেশ আয়ারল্যান্ড। বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী এখন পাড়ি জমাচ্ছেন আয়ারল্যান্ডে। আয়ারল্যান্ড দেশটির অফিসিয়াল নাম “রিপাবলিক অফ আয়ারল্যান্ড” আর অফিসিয়াল ভাষা আইরিশ ও ইংরেজী। এই দেশটির বৃহত্তম শহর ও রাজধানী হল ডাবলিন। ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতির উৎকর্ষে অবস্থিত এই দেশে মুদ্রা ইউরো। এই দেশ মূলত শীত প্রধান এবং এই দেশের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ২২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। আয়ারল্যান্ডের আয়তন ৭০,২৭৩ বর্গকিঃমিঃ আর  লোকসংখ্যা ৪৭,৫৭,৯৭৬ জন। এই দেশের মাথাপিছু আয় প্রায় ৬৯,০০০ মার্কিন ডলার। তবে আপনাদের জ্ঞাতার্থে বলে রাখি, আয়ারল্যান্ড সেঞ্জেনভুক্ত দেশ নয়। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে উচ্চশিক্ষার আশায় চলে আসছে আয়ারল্যান্ডে।

    এই দেশের অন্যতম অফিসিয়াল ভাষা ইংরেজী হওয়ায় অনেক কোর্স রয়েছে ইংরেজী ভাষায়। এই দেশে ব্যাচেলর ডিগ্রি সাধারণত ৩ – ৪ বছরের হয়ে থাকে, মাস্টার্স ১.৫ – ২ বছর এবং ডক্টরেট ৩-৪ বছরের হয়ে থাকে। তাই আপনার জন্যও হতে পারে এই দেশ বিদ্যাশিক্ষার অন্যন্য স্থান। 

    Study in Ireland
    Image Source: internet

    কোর্স সার্চ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন

    আয়ারল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো World Ranking এর তালিকায় উপরের দিকে অবস্থিত হওয়ায় অনেকেই এই দেশে পড়াশুন ও উচ্চ শিক্ষার জন্য আসতে চায়। এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জনপ্রিয় কিছু কোর্স –

    অ্যাকাউন্টিং, অ্যাগ্রিকালচার, অ্যানাটমি, অ্যাপ্লায়েড ম্যাথমেটিক্স, আর্কিটেকচার, ডিজাইন, আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ, অডিও ইঞ্জিনিয়ারিং, অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং, এভিয়েশন স্টাডিজ, ব্যাংকিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, বায়োকেমিস্ট্রি, বায়োলজিক্যাল অ্যান্ড ফিজিক্যাল সায়েন্স, বায়োমেডিকেল সায়েন্স, বায়োটেকনোলজি, সিরামিকস, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া, ডান্স, ড্রামা, ই-কর্মাস, ইকোনমিকস, একাউনট্যান্সি, এবরোজিনাল এন্ড ইনডিজিনাস স্টাডি, অলটারনেটিভ মেডিসিন, এনথ্রপলজি, অ্যাপায়েড ম্যাথমেটিকস, একুয়াকালচার, কেমিষ্ট্রি, এনভায়রোনমেন্টাল স্টাডিজ, বিজনেস এন্ড ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করা যায়।

    কয়েকটি জনপ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ঃ

    ১. ডাবলিন সিটি ইউনিভার্সিটি (www.dcu.ie )
    ২. ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব অ্যায়ারল্যান্ড (www.nuigalway.ie )
    ৩. ট্রিনিটি কলেজ, ডাবলিন (www.tcd.ie )
    ৪. ইউনিভার্সিটি কলেজ, ডাবলিন (www.ucd.ie )
    ৫. রকওয়েল কলেজ (www.rockwellcollege.ie )
    ৬. গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটি (www.gcd.ie )
    ৭. অ্যাথোলেন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (www.ait.ie )

    Study in Ireland
    Image Source: internet

    আয়ারল্যান্ডে পড়তে যাবার জন্য নূন্যতম যোগ্যতা

    আয়ারল্যান্ডে বছরে দুইটি সেমিস্টার পড়ানো হয়। একটি ফল সেমিস্টার অপরটি স্প্রিং সেমিস্টার। ফল সেমিস্টার চলে আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আর স্প্রিং সেমিস্টার চলে জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত।

    ব্যাচেলর প্রোগ্রামে যদি এই দেশে পড়তে চান তাহলে আপনার থাকতে হবে ১২ বছরের শিক্ষাজীবন অর্থাৎ এইচএসসি পাস হতে হবে। আর আপনাকে IELTS-এ ৫.৫ থেকে ৬.০ পয়েন্ট পেতে হবে অথবা TOEFL-এর CBT-তে ২১৩ বা IBTতে ৭৯ থেকে ৮০ পয়েন্ট হতে হবে। অন্যদিকে, আপনি যদি মাস্টার্স প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে চান তাহলে আপনার থাকতে হবে ১৬ বছরের শিক্ষাজীবন অর্থাৎ, আপনাকে শেষ করতে হবে ব্যাচেলর ডিগ্রী। এবং আপনাকে IELTS-এ ৬.০ থেকে ৬.৫ পয়েন্ট পেতে হবে অথবা TOEFL-এর CBT-তে ২১৩ থেকে ২৩৭ বা IBT-তে ৭৯ থেকে ৯৩ পয়েন্ট থাকতে হবে। আপনার GRE/GMAT প্রয়োজন হবে কি না সেটা নির্ভর করবে আপনি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেছেন তার উপর।

    আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

    সাধারণত ফল সেমিস্টারে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয় আয়ারল্যান্ডে। স্প্রিং সেমিস্টারে কোন কোন কলেজ অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ে অল্প পরিমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়। আবেদন করতে আপনাকে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ভর্তি শাখা’ বরাবর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফিসহ আবেদনপত্র পাঠাতে হবে।

    ইউনিভার্সিটিতে আবেদনের জন্য ডকুমেন্টস চেকলিস্টঃ

    ১। সকল একাডেমিক ডকুমেন্টস ও মার্কশীট

    ২। পাসপোর্ট/জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি

    ৩।  অ্যাপ্লিকেশন ফরম

    ৪। আইইএলটিএস এর সার্টিফিকেট

    ৫। এপ্লিকেশন ফি পরিশোধের প্রমাণ কপি

    University in Ireland
    Image Source: internet

    আয়ারল্যান্ডে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন ফি বিভিন্ন রকমের। সাধারণত এই ফি ৪৫ থেকে ৯০ ইউরো পর্যন্ত হয়ে থাকে। আবেদন করার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই বাছাই করে এবং যোগ্য শিক্ষার্থীদের আয়ারল্যান্ডে পড়াশুনা করার সুযোগ দিয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপনার আবেদনকে যথার্থ মনে করলে তারা সরাসরি আপনাকে Offer Letter পাঠিয়ে দিতে দেরি করবে না।

    পড়াশোনার খরচ ( টিউশন ফি) ও স্কলারশিপ

    আয়ারল্যান্ডে ব্যাচেলর ডিগ্রির ক্ষেত্রে বছরে ১০ হাজার ৫০০ থেকে ১৫ হাজার ১৫০ ইউরো এবং মাস্টার ডিগ্রির ক্ষেত্রে সাত হাজার ৪০০ থেকে ১৫ হাজার ৭২০ ইউরো টিউশন ফি লাগে। তবে কলেজে পড়াশোনা করতে প্রায় ৩০ শতাংশ খরচ কম হয়। প্রতি মাসে ৩০০ থেকে ৫০০ ইউরো দিয়েই অনায়াসে থাকা, খাওয়া, যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ মেটাতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। 

    আয়ারল্যান্ডে ব্যাচেলর লেভেলে স্কলারশিপের সুযোগ ক্ষীণ। কিন্তু মাস্টার্স প্রোগ্রামে স্কলারশিপের সু্যোগ তুলনামূলক বেশি। আয়ারল্যান্ডে ন্যাশনাল স্কলারশিপ প্রোগ্রামের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও স্কলারশিপ পাওয়া যায়। এই দেশে প্রায় ১০০ এর মত বিভিন্ন ধরণের স্কলারশিপ অফার করা হয়ে থাকে।

    নিচের লিঙ্কে স্কলারশিপ সম্পর্কে বিস্তারিত পাবেনঃ
    http://www.educationinireland.com/en/How-Do-I-Apply-/Tuition-Costs-Scholarships/Scholarships/

    আয়ারল্যান্ডে আবাসন ব্যবস্থা ও জীবন-যাপন খরচ

    আয়ারল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে নিজস্ব আবাসন ব্যবস্থা। এই আবাসন ব্যবস্থা অনেক উন্নত। কিন্তু, বাইরের শেয়ারড এপার্টমেন্ট থেকে এই আবাসন ব্যবস্থা কিছুটা ব্যয়বহুল। তাই অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে থাকে।  জীবনযাত্রার খরচ হিসাব করতে বসলে, আয়ারল্যান্ড অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলির অনুরূপ- বেশ খানিকটা ব্যয়বহুল। তবে, আপনি যদি বড় শহরে বাস করেন, তবে আপনার খরচ বেশি হবে। অন্যদিকে,  আপনি ছোট শহরে বসবাস করেন তাহলে ব্যয় বেশ খানিকটা কমে যাবে। এই দেশে আপনাকে প্রতিমাসে জীবন ধারণের জন্য ৫০০ থেকে ৮০০ ইউরো খরচ করতে হতে পারে। আর শিক্ষার্থীদের জন্য অন্য একটি ব্যয় হলে স্বাস্থ্যবীমা।

    আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ

    আয়ারল্যান্ডে ভিসা প্রাপ্তির জন্য আপনাকে ব্যাংকে প্রায় ১০,০০০ ইউরো দেখাতে হবে। আর যদি আপনার খরচ বহন করে অন্য কোন স্পন্সর, তাহলে তাকে নোটারাইজড অংগীকারনামা দিতে হবে যে তিনি আপনার সকল খরচ বহন করবে। তার জন্য প্রয়োজন পরবে, আপনার স্পন্সরের ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।

    Students in Ireland
    Image Source: internet

    ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া ও ডকুমেন্টস চেকলিস্ট

    আয়ারল্যান্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনার ভর্তি নিশ্চিত হবার পর আপনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবেন একটি Offer Letter. এই Offer Letter পাবার পর আপনি ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু আয়ারল্যান্ডের এম্বেসী বাংলাদেশে নেই। তাই আপনাকে যোগাযোগ করতে হবে দিল্লীস্থ আয়ারল্যান্ড এম্বেসীর সাথে।

    দিল্লীস্থ আইরিশ এম্বেসীর ঠিকানা নিম্নে দেওয়া হলঃ

    230 Jor Bagh, New Delhi-110003, India

    For Visa: +91-11 462671

    আপনি ফোন করে তাদের সাথে যাবতীয় সহযোগিতা নিতে পারেন। এছাড়া আপনি অনলাইনে যোগাযোগ করতে পারেন নিচের ওয়েব লিঙ্কের মাধ্যমেঃ

    https://www.dfa.ie/irish-embassy/india/contact-us/

    এবং এই পিডিএফ ফাইলটা  ভিসার যাবতীয় তথ্যের জনঃ
    http://www.vfsglobalirelandvisa.com/india/pdf/bangladesh_271115.pdf

    ভিসা সংক্রান্ত সকল তথ্য ও ডকুমেন্টসঃ 

    http://www.inis.gov.ie/en/INIS/Pages/Study

    http://www.inis.gov.ie/en/INIS/Student%20Finances.pdf/Files/Student%20Finances.pdf

    নিচে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা দেওয়া হলঃ

    ১। পূরণকৃত ভিসা আবেদন ফর্ম

    ২। পাসপোর্ট ও  ফটোগ্রাফ

    ৩। CV, Statement of Purpose (SOP)  ও রেফারেন্স

    ৪।  সকল মার্কশিট ও সনদ, IELTS-GRE সনদ

    ৫।  No Objection  Certificate [শেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে]

    ৬।  অফার লেটার

    ৭। ব্যাংক সলভেন্সি পেপ্যার

    ৮। ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট

    ৯। পুলিশ ক্লিয়ারান্স

    ১১। হেলথ ইন্স্যুরেন্স ও মেডিক্যাল রিপোর্ট ইত্যাদি

    Life in Ireland
    Image Source: internet

    পার্ট টাইম জব ও স্থায়ী বসবাস এর সুযোগ

    আয়ারল্যান্ডে আপনি সপ্তাহে ২০ ঘন্টা জব করার সুযোগ পাবেন। আর আপনি সামারে সপ্তাহে ৪০ ঘন্টা জব করার সুযোগ পাবেন।  রেস্টুরেন্ট, দোকান, শপিং মলে কাজ করে ঘণ্টায় ৭ থেকে ১২ ইউরো পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।  আয়ারল্যান্ডে আপনি পার্ট টাইম জব করার সুযোগ পাবেন কিন্তু এই পার্ট টাইম জব করে পুরো টিউশন ফি জোগাড় করা সম্ভব হয়ে উঠবে না।

    আর ৫ বছর আয়ারল্যান্ডে বৈধভাবে বসবাস করলে আপনি আবেদন করতে পারবেন PR এর জন্য।

    আয়ারল্যান্ড ইউরোপের পশ্চিম উপকূলের অন্যতম সুন্দর দেশ। আপনি এই দেশে অনেক সুবিধা পাবেন। হয়ত আয়ারল্যান্ড আপনার জন্য উন্মোচন করবে সুন্দর ভবিষ্যতের অনেক সম্ভবনা। তাই আজই  করুন নিজের আবেদন নিজেই- আর সেরে নিন আয়ারল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা।

    Life in Ireland
    Image Source: internet

    তথ্যসুত্রঃ

    ১। https://m.dailyinqilab.com/article/2484/আয়ারল্যান্ডে-উচ্চশিক্ষা

    ২। https://worldscholarshipforum.com/bn/study-ireland-tuition-fees-cost-living-admission-visa-requirements/

    ৩। http://campus.org.bd/online/single.php?ID=1760

    ৪। https://www.bangladeshistudentscommunity.eu/archives/171

  • ইতালিতে উচ্চশিক্ষাঃ নিজেই করুন নিজের আবেদন

    ইতালিতে উচ্চশিক্ষাঃ নিজেই করুন নিজের আবেদন

    ইতালি ইউরোপের মধ্যে নামকরা এক বিদ্যা পীঠস্থান- কারণ এদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী পাড়ি জমায় তাদের জ্ঞান পিপাসা পিটাতে। আর আপনিও যদি সেই দলের পথিক হতে চান, তাহলে জেনে নিন ইতালিতে পাড়ি জমানোর সকল খুঁটি নাটি। আর আজই করে ফেলুন নিজেই নিজের আবেদন।

    Higher Study in Italy
    Image Source: pexels.com

    কোর্স নির্বাচন ও সেমিস্টার

    ইতালিতে সরকারি ও বেসরকারি ওয়াল্ড র‍্যাঙ্ক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। আর এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইংরেজী ও ইতালীয় উভয় ভাষায় কোর্স অফার করা হয়ে থাকে। যদি আপনি ইতালীয় ভাষায় পারদর্শী না হয়ে থাকেন- তাহলে অবশ্যই ইংরেজী কোর্স চয়েস করুন। এদেশে মোত ৫৮ টি সরকারি ও ১৭ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এই সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ভিজিট করে নিজের কোর্স বেছে অবশ্যই এডমিশন অফিসে মেইল করে খুঁটি নাটি বিষয় জেনে নিবেন।

    আপনার সুবিধার্থে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নিচে দেওয়া হলঃ

    ১। Sant’Anna School of Advanced Studies – Pisa (World Rank  149)

    ২। Scuola Normale Superiore di Pisa (World Rank  152)

    ৩। University of Bologna (World Rank  168)

    এখানে বছরে সাধারণত দুইটি কোর্স অফার করা হয়ে থাকে। প্রথম সেমিস্টার শুরু হয় সেপ্টেম্বর – অক্টোবর মাসে আর শেষ হয় জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে। অপরদিকে, দ্বিতীয় সেমিস্টার শুরু হয় ফেব্রুয়ারি মাসে আর শেষ হয় জুলাই মাসে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে তা পরিবর্তিত হতে পারে। এজন্য আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ঘেটে ভালো করে জেনে শুনে তারপর প্রসেস শুরু করবেন।

    ভাষাগত যোগ্যতা

    বর্তমানে ইতালীতে ভিসার জন্য IELTS এ ৬.০০ ব্যান্ডস্কোর প্রয়োজন। অন্যদিকে ইতালীয় ভাষার জন্য কমপক্ষে B2 Level Euro pass Language Passport Classification প্রয়োজন। তবে বি-২ লেভেল পাস করলে ইতালিতে গিয়ে আপনাকে ভার্সিটিতে আবার পরীক্ষায় বসতে হবে। আর যদি আপনি C2 Level Euro Pass Language Exam পাশ করেন তাহলে আপনাকে আর কোন পরীক্ষার ধার ধারতে হবে না।

    টিউশন ফি

    ইতালিতে টিউশন ফি তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী এ দেশকে উচ্চ শিক্ষার গন্তব্যস্থল হিসেবে মনে করে। এই দেশে প্রতি বছরে পড়াশুনা বাবদ ১৮০০ থেকে ৮০০০ ইউরো খরচ হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স ভেদে এই খরচ বাড়তে বা কমতে পারে। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গেলে কয়েক গুন বেশি খরচ গুণতে হবে শিক্ষার্থীদের।

    University of Bologna
    University of Bologna, Image Source: pexels.com

    স্কলারশিপ

    ইতালিতে বিভিন্ন ধরণের স্কলারশিপের সুযোগ রয়েছে। সরকারিসহ বিভিন্ন স্কলারশিপে বিভিন্ন ধরণের অনুদান দেওয়া হয়ে থাকে। বিশ্বমন্দার কথা মাথায় রেখে আমার সাজেশন থাকবে অবশ্যই স্কলারশিপের জন্য চেষ্টা করবেন। কারণ পার্ট টাইম জব করে ইতালিতে পড়াশুন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে যাচ্ছে দিন-কে-দিন।

    স্কলারশিপের তথ্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে গিয়ে স্কলারশিপ সেকশনে ক্লিক করে বিস্তারিত জেনে নিতে পারবেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন পর্ব

    ইতালিতে ব্যাচেলর প্রোগ্রামে যেতে আপনাকে নূন্যতম HSC পাশ করতে হবে এবং আবেদনের সাথে আপনাকে আপনার কলেজ থেকে অবশ্যই টেস্টিমোনিয়াল নিতে হবে। আপনাকে মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য ব্যাচেলর ডিগ্রীধারী এবং পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য মাস্টার্স ডিগ্রী সম্পন্ন করতে হবে।

    এই দেশে প্রথমেই আপনাকে আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিজের সকল তথ্য দিয়ে ইমেইলের মাধ্যমে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যোগ্য কিনা সেটা যাচাই করিয়ে নিতে হবে। তারপর এম্বেসীতে গিয়ে প্রি-এপ্লিকেশন রিকোয়েস্ট করতে হবে এবং ভর্ত্তির আবেদনপত্র সহ সকল কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

    এম্বেসী সেই আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাবে এবং পরবর্তীতে আপনাকে রেজাল্ট জানিয়ে দেওয়া হবে।

    Italian Students
    Image Source: Internet

    বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে আবেদনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিন্ন হয়ে থাকে। নিচে একটি সাধারণ ধারণা দেওয়া হলঃ

    1. Identity Documents and Passport size Photo
    2. All Academic Certificates and Marksheets
    3. CV
    4. Recommendation Letter and Motivational Letter
    5. IELTS/ TOEFL Test Score
    6. University Application Form

    ইতালিতে যেতে সকল শিক্ষার্থীদের International Organization for Migration (IOM) এর মাধ্যমে সকল কাগজপত্র ভেরিফিকাশন করাতে হবে। তবে এই বিষয়ে চিন্তার কারণ নেই- ঢাকাতেই আছে IMO এর আফিস।

    ব্যাঙ্ক সলভেন্সি

    ইতালিতে আপনাকে পড়ার খরচ চালাতে পারবেন এমন পরিমাণ টাকা ব্যাঙ্কে জমা রাখতে হবে। এক্ষেত্রে আপনাকে ৮,০০০-১২,০০০ ইউরো আপনার ব্যাঙ্কে জমা দেখাতে হবে।

    ভিসা আবেদন পর্ব

    ইতালিতে সাধারণত তিন ধরণের স্টুডেন্ট ভিসা অফার করা হয়ে থাকে। যথাঃ

    (১) স্টুডেন্ট ভিসা সাব ক্লাস ৫০০- এই ৫ থেকে ৬ বছর মেয়াদী এই ভিসার কোন স্পন্সর দরকার পড়ে না এবং  এই ভিসা পেলে আপনি ইতালিতে পার্ট টাইম জবও করতে পারবেন।

    (২) স্টুডেন্ট গার্ডিয়ান ভিসা সাবক্লাস ৫৯০ – এই ভিসায় স্টুডেন্ট আবেদন করতে পারে কিন্তু এই ভিসা পেতে ৩০,০০০-৩৫,০০০ টাকা খরচ হবে এবং আপনার একাউন্টসে যথেষ্ঠ পরিমাণ অর্থ দেখাতে হবে আথে পরিবারের কাউকে আগে থেকেই ইতালির অধিবাসী হতে হবে। আপনআর বয়স ২১ বছরের বেশি হলেই আপনি এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই ভিসায় আপনি চাইলেই পার্ট টাইম জব করতে পারবে।

    (৩) স্পেশাল ক্যাটেগরী স্টুডেন্ট ভিসা সাবক্লাস ৪৪৪- এই ভিসায় আপনি চাকুরি করা থেকে শুরু করে অন্যান্য সুবিধা যেমনঃ এই ভিসার কোন মেয়াদ থাকে না, আপনার আবেদনের খরচ প্রয়োজন পরেনা সহ ইত্যাদি থাকে। তবে এই ভিসা পেতে গেলে আপনার পরিবারের কাউকে ইতালির অধিবাসী হতে হবে।

    আপনি কোন ধরণের ভিসার জন্য আবেদন করবেন সেটা নির্বাচন করে সেই ফর্ম এম্বেসীর ওয়েব সাইট থেকে ডাউনলোড করে পূরণ করতে হবে। সাপোর্টেড ডকুমেন্টস দিয়ে এম্বেসীতে জমা দিতে হবে। আবার কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সাপোর্টেড ডকুমেন্টস স্ক্যান করে জমা দিতে হয়।

    ভিসা আবেদনের জন্য সাধারণ চেকলিস্ট হলঃ

    1. Passport with 4 copies passport size photographs
    2. Offer Letter
    3. All Certificates and Marksheets
    4. IELTS/ TOEFL Certificate
    5. Application Form
    6. Bank Solvency Paper
    7. Visa Application form

    ভিসা আবেদন ও ভর্ত্তির আবেদনের জন্য কমপক্ষে ৯০ – ১২০ দিন সময় লাগে।

    Venice City, Italy
    Venice City, Image Source: pexels.com

    জীবন-যাত্রার ব্যয়

    ইতালিতে আবাসন খাতে আপনাকে গুণতে হবে ৩০০ থেকে ১০০০ ইউরো এবং থাকা খাওয়া সব মিলিয়ে খরচ হবে ১০০০ থেকে ১৫০০ ইউরো।

    ইতালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার কোন ব্যবস্থা নেই। তবে চিন্তার কোন কারণ নেই- প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসন খোঁজার জন্য নিজস্ব আফিস থাকে। এই অফিস কম খরচে আপনার থাকার ব্যবস্থা করে দিবে।

    পার্ট টাইম জব

    ইতালীতে আপনি সপ্তাহে ২০ ঘন্টা পার্ট টাইম জব করার সুযোগ পাবেন। কিন্তু, বর্তমানে পার্ট টাইম জব পাওয়া অনেক কঠিন হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে ইতালীয় ভাষা ও পূর্ব কাজের অভিজ্ঞতা আপনাকে কাজ পেতে সাহায্য করবে।

    কোর্স শেষে স্থায়িভাবে বসবাসের সুযোগ

    ইতালিতে ফুল টাইম কাজের সনদ জমা দিয়ে স্টুডেন্ট ভিসা থেকে পি,আর ক্যাটেগরীতে ভিসা পরিবর্তন করার সুযোগ আছে। তবে এই কাজটি একটু সময় সাপেক্ষ- এই ক্ষেত্রে ১ থেকে ২ বছর সময় লাগে। পি,আর পাওয়ার পর আপনি যদি ইতালিতে নাগরিকত্ব পেতে চান তাহলে বৈধ ভাবে সেখানে ১০ বছর বসবাস করতে হবে।

    Life in Italy
    Image Source: pixabay.com

    এই ছিল ইতালিতে পড়াশুনার যাবতীয়। আশা করি ইতালিতে পড়তে গিয়ে আপনিও নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে পারবেন। আমাদের পক্ষ থেকে শুভ কামনা রইলো।

    তথ্যসুত্রঃ

    ১। https://www.thedailycampus.com/study-abroad/17048/ইতালির-স্টুডেন্ট-ভিসার-আবেদন-করবেন-যেভাবে

    ২। https://worldscholarshipforum.com/bn/study-italy-low-tuition-fees-universities-apply-admission/

    ৩। https://www.mastersportal.com/articles/1615/how-to-apply-to-an-international-university-in-italy-in-2020.html

    ৪। http://www.amiopari.com/12608/

    ৫। http://studyinitalyfrombangladesh3.blogspot.com/2018/11/blog-post_26.html

    ৬। http://studyinitalyfrombangladesh3.blogspot.com/2018/11/blog-post_51.html

    ৭। http://studyinitalyfrombangladesh3.blogspot.com/2018/11/blog-post_85.html

    ৮। http://someofallbd.blogspot.com/2017/01/blog-post_52.html

    ৯। https://www.odhikar.news/education/15209

  • ইরাসমুস মুন্ডুস স্কলারশিপ – ইউরোপ

    ইরাসমুস মুন্ডুস স্কলারশিপ – ইউরোপ

    ১৯৮৭ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের তত্ত্ববধানে শুরু হয় ইরাসমুস মুন্ডুস স্কলারশিপ। এই স্কলারশিপে কমপক্ষে ২ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হবে। এখানে প্রায় ১২০-এর অধিক সাবজেক্ট বা কোর্স রয়েছে। এই প্রোগ্রাম কাজের অভিজ্ঞতা, গবেষণাপত্র, কো-কারিকুলাম এক্টিভিটি থেকে শুরু করে সকল বিষয়েই গুরুত্ব দেওয়া হয়। মনে রাখবেন, এই প্রোগ্রামে আপনি সর্বোচ্চ ৩টি বিষয়ে পড়াশুনা করতে পারবেন। তিন’শর বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের ২৮৫ টি প্রোগ্রামে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী ও ১৫০০ জনের মতো পিএইচডি শিক্ষার্থী প্রতি বছর ইরাসমুস মুন্ডুস স্কলারশিপের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।

    স্কলারশিপ এর নাম

    ইরাসমুস মুন্ডুস স্কলারশিপ

    যে যে বিষয়ে অধ্যয়ন করা যাবে

    এই স্কলারশিপে আপনি মাস্টার্স প্রোগ্রামে রয়েছে ১১৬টি কোর্স আর পিএইচডি-এ রয়েছে ১২৯টি কোর্স। এগ্রিকালচার, ভ্যাটেনারী, ইঞ্জিনিয়ারিং, মানুফাকচার ও কনস্ট্রাকশন, হেলথ ওলেথ ফেয়ার, হিউমানিটি, আর্টস, সাইন্স, মাথেমাটিক্স, কম্পিউটিং, সোস্যাল সাইন্স, বিজনেস, ল’- এই সকল স্টাডি ফিল্ডে আপনি পড়াশুনা করতে পারবেন।

    ইরাসমুস মুন্ডুস মাস্টার্স কোর্সসমূহ : https://eacea.ec.europa.eu/erasmus-plus/emjmd-catalogue_en এবং
    ইরাসমুস মুন্ডুস পিএইচডি: https://ec.europa.eu/research/mariecurieactions/

    (২০১৪ সালের পর থেকে ইরাসমুস মুন্ডুস পিএইচডিসমূহ Marie Skłodowska-Curie Actions এর অধীনে প্রদান করা হচ্ছে)

    দেশ এবং কর্তৃপক্ষ

    ইউরপীয় ইউনিয়ন

    বৃত্তির সুযোগ সুবিধাসমূহ

    স্কলারশিপের আওতায় আপনি যা যা পাবেনঃ

     ১। টিউশন ফি

    ২। মাসিক জীবনযাত্রার ব্যয়

    ৩। যাতায়ত এর বিমান ভাড়া

    ৪। স্বাস্থ্য বীমা

    আবেদনের যোগ্যতা

    স্কলারশিপের জন্য আপনার থাকতে হবে নিম্নোক্ত যোগ্যতাঃ

         ১। সাবজেক্ট অনুযায়ী যোগ্যতা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই আপনি যে বিষয়ে পড়তে চাচ্ছেন সে বিষয়ে পড়তে কি কি যোগ্যতা লাগে, সেটা খেয়াল করতে হবে।

         ২। IELTS এ থাকতে হবে। আপনি যে বিষয়ে আবেদন করছেন সে অনুযায়ী আপনার IELTS Score প্রয়োজন পড়বে। সাধারণত IELTS score 6.0 চাওয়া হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে IELTS ছাড়াও আবেদন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে Medium of Instruction (English) সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে।

         ৩। একাডেমিক ভালো ফলাফল থাকতে হবে। গবেষণাপত্র থাকলে সুবিধা হবে।

    Erasmusmundus - Students
    Image Source: Internet

    আবেদনের সময়সীমা

    আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু হয় আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাসে। প্রত্যেক কোর্সের জন্য সময় সীমা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। আবেদনের হালনাগাদ সময় সীমা জানতে –

    https://eacea.ec.europa.eu/erasmus-plus/library/scholarships-catalogue_en

    যেসকল দেশের প্রার্থীদের জন্য প্রযোজ্য

    ইউরোপীয় ও নন-ইউরোপীয় সবাই এই কোর্সে আবেদন করতে পারবে।

    আবেদন প্রক্রিয়া

    ইরাসমাস মুন্ডাস-এর ওয়েব সাইট থেকে কোর্স বেছে সেই কোর্সে আবেদন করতে হবে। সেই সময় আপনি স্কলারশিপের জন্যও ফর্ম পূরণ করবেন। এরপর কর্তৃপক্ষ আপনার আবেদন দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে। আবেদন করার জন্য কোনো প্রকার ফি দিতে হয় না।

    স্কলারশিপ প্রোগ্রামের জন্য আপনাকে জমা দিতে হবেঃ

    ১। Online আবেদন ফর্ম

    ২। সকল একাডেমিক সার্টিফিকেট ও মার্কশীট

    ৩। রিকমেন্ডেশন লেটার    

    ৪। Motivation Letter and Euro pass Format CV  (http://europass.cedefop.europa.eu/ – এই লিংক থেকে Europass ফরম্যাট সম্পর্কিত বিস্তারিত জানা যাবে।)

    ৫। IELTS এর সনদ

    ৬। Work Experience Certificate

    ৭। NID ও পাসপোর্টের কপি 

    আবেদন করতে ভিজিট করুণঃ

    https://ec.europa.eu/programmes/erasmus-plus/opportunities/individuals/students/erasmus-mundus-joint-master-degrees_en

    তথ্যসুত্রঃ

    ১। https://www.scholars4dev.com/2979/erasmus-mundus-scholarships-for-developing-countries/

    ২। https://www.kholabakso.com/latestupdate

    ৩। https://www.campuslive24.com/scholarship-foreign/8742/ইউরোপে-উচ্চশিক্ষা-ইরাসমুস-মুন্ডুস-স্কলারশিপ-পাবেন-যেভাবে

    ৪। https://www.agribarta.com/details.php?news=87

  • ইংল্যান্ডে উচ্চশিক্ষাঃ নিজেই করুণ নিজের আবেদন

    ইংল্যান্ডে উচ্চশিক্ষাঃ নিজেই করুণ নিজের আবেদন

    বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় শিক্ষা অর্জনের ডেস্টিনেশন হল ইংল্যান্ড, যাকে সাংবিধানিক ভাষায় বলা হয় United Kingdom of Great Britain and Northern Ireland. সভ্যতা, জ্ঞান-বিজ্ঞানে এই দেশের ইতিহাস বহু সমৃদ্ধ- বহু প্রাচীন। জ্ঞানের অন্যতম পীঠ হল এই দেশ। তাই তাবদ দুনিয়ার জ্ঞান পিপাসুরা ভিড় জমায় এই দেশে এসে। আর শিক্ষার্থীদের চাহিদার দিকে তাকিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তাদের বিভিন্ন রকম প্রতরণার ফাঁদে ফেলছে। অনেকে আবার না বুঝে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে নাম-সর্বস্ব বিশ্ববিদ্যালয়ে। যখন তাদের ভুল তারা বুঝতে পারে, ততদিনে অনেক দেরি হয়ে যায়। তাই আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরতে যাচ্ছি, ইংল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য আপনার যা যা প্রয়োজন হবে তার বিস্তারিত বিবরণ। তাই, যদি স্বপ্ন হয় ইংল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা তাহলে আর দেরি না করে আর্টিকেলটা পড়ে দেখুন, বন্ধুদের মাঝে ছড়িয়ে দিন আর নিজেই করুন নিজের আবেদন।

    কেন ইংল্যান্ডে পড়তে যাবেন?

    ইংল্যান্ড বিশ্বজুড়ে পড়াশুনা করার জন্য অন্যতম স্থান। প্রতি বছর এই পূন্যভূমিতে বিদ্যার্জনের জন্য পাড়ি দেয় প্রায় ৫,০০,০০০ জ্ঞানপিপাসু। এখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অফার করা হয় ৫০,০০০ এর বেশি কোর্স আর আছে ২৫ এর বেশি সাবজেক্ট এরিয়া। আর বিশ্বে চাকুরীদাতা থেকে শুরু করে সকল নামী-দামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংল্যান্ডের ডিগ্রীর কদরও কম নয়। তাই বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ও নিজেকে বৈশ্বিক পরিমন্ডলে তুলে ধরার জন্য আপনার গন্তব্যও হতে পারে ইংল্যান্ড।

    Study in England
    Image Source: pexels.com

    ইংল্যান্ডে পড়তে যাবার জন্য নূন্যতম যোগ্যতা

    ইংল্যান্ডে ৩-৪ বছরের ব্যাচেলর কোর্সে ভর্তি হতে প্রয়োজন পড়বে ১২ বছরের শিক্ষা জীবনের আর সাথে প্রয়োজন পড়বে IELTS স্কোর কমপক্ষে ৬.০ -৬.৫। আর মাস্টার্স প্রোগ্রামে পড়তে যেতে প্রয়োজন পড়বে ১৬ বছরের শিক্ষা জীবন ও সাথে IELTS স্কোর ৬.৫ – ৭.০। এদেশে পড়াশুনা করতে আপনাকে আপনার একাডেমিক কোর্সে ৫০-৫৫ শতাংশের বেশি মার্ক্স অর্জন করে আসতে হবে।

    কোর্স সার্চ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন

    ইংল্যান্ডে নানা ধরণের কোর্স অফার করা হয়। আর আপনি ডিপ্লোমা, কারিগরী কোর্স, ব্যাচেলর, মাস্টার্স, পোস্ট গ্রাডুয়েট ডিপ্লোমা, পিএইচডি- সব ধরণের কোর্সের জন্য আসতে পারেন ইংল্যান্ডে। আপনি আপনার ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করে বেছে নিবেন আপনার জন্য বেস্ট কোর্স। সাধারণত ইংল্যান্ডে Business School, Hospitality, Tourism and Hotel Management, Pure Science and Engineering, Education Science, Law ও Health & Medicine – এই সব স্কুলের কোর্সগুলো খুবই জনপ্রিয়। MBA, MSC, BBA, ACCOUNTING, MARKETING, HRM, ENGINEERING, LAW, IT, SOCIAL SCIENCE, PUBLIC HEALTH, PHARMACY, DIPLOMA সহ আরও নানা ধরনের বিষয়ে পড়াশুনা করতে পারবেন ।আপনি এই ইন্ডান্স্ট্রিতে অনেক জবও পাবেন। তাই, ভেবে দেখুন ও সময় নিয়ে ঠান্ডা মাথায় নিজের পছন্দের কোর্স বেছে নিন।

    ℹ️ ইংল্যান্ডে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী ছাত্রছাত্রীকে প্রথমে ব্রিটিশ কাউন্সিলে যোগাযোগ করতে হয়।ইংল্যান্ডে পড়াশোনার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ কাউন্সিল একটি তথ্য সম্ভার হিসেবে কাজ করে। ব্রিটিশ কাউন্সিল শিক্ষার্থীদের ইংল্যান্ডের কোর্সগুলো ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে থাকে।

    ইংল্যান্ডে বিশ্ববিদ্যালয়েরও অন্ত নেই। তবে যে বিশ্ববিদ্যালয়েই যান-না-কেন, সে বিশ্ববিদ্যালয় সমন্ধে আগে একটু অন-লাইন রিসার্চ করে নিতে ভুলবেন না। কারণ, অনেকেই ভুলে করে এমন অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রেশন করে ফেলেন, যাদের কোর্স অফার করার লিগাল অথরিটি নেই। World Ranking-এ আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান দেখে নিন। আপনাদের সুবিধার্থে নিচে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দেওয়া হল, খুঁজে দেখুন আর পছন্দ করে দেখুন আপনার জন্য প্রযোজ্য কোর্স কোনটি হবেঃ

    1. University of Oxford
    2. University of Cambridge
    3. Imperial College London
    4. UCL
    5. London School of Economics and Political Science
    6. University of Edinburgh
    7. King’s College London
    8. University of Manchester
    9. University of Warwick
    10. University of Bristol
    University in England
    Image Source: pexels.com

    বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সময়সীমা ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

    ইংল্যান্ডে বছরে দুইটি সেশন আছেঃ

    ১। অটাম সেশন ও

    ২। স্প্রিং সেশন

    অটাম সেশন শুরু হয় সাধারণত সেপ্টেম্বর – জানুয়ারি মাসে আর স্প্রিং সেশন শুরু হয় জানুয়ারি – জুন মাসে। ইংল্যান্ডে বিভিন্ন ধরণের ও বিভিন্ন ক্যাটাগরীর বিশ্ববিদ্যালয় আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট খুঁজে দেখলে আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় তথ্য পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে পাবেন ভর্তির আবেদন পত্র, সেখান থেকে ডাউনলোড করে নিয়ে করতে পারবেন আবেদন। আবার অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আবার দেয় অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ। আপনি যে কোন তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারবেন এডমিশন অফিসের সাথে- তারা আপনাকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করবে। ইংল্যান্ডে ভর্তির আবেদন বেশ সময় সাপেক্ষ ব্যাপার- প্রায় ৭-৮ মাস সময় লেগে যায়, সব কিছু প্রসেস করতে। তাই হাতে প্রায় ১ বছর সময় নিয়ে আবেদন করতে হবে।

    নিচে ইংল্যান্ডে আবেদনের জন্য মূল ডকুমেন্টসগুলোর তালিকা দেওয়া হলঃ

    ১। একাডেমিক সার্টফিকেট এবং মার্কশীট- অবশ্যই ইংরেজীতে ও নোটারাইজ করে দিতে হবে।

    ২। IELTS এর সনদ

    ৩। CV, মোটিভিশন লেটার ও রিকমেন্ডেশন লেটার

    ৪। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ছাড়পত্র

    ৫। পাসপোর্টের কপি

    পড়াশোনার খরচ ( টিউশন ফি) ও স্কলারশিপ

    বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সভেদে ইংল্যান্ডে পড়াশুনার ব্যয় অনেক কম-বেশি হয়। এই দেশে পড়াশুনার ব্যয় ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেকটাই বেশি মূলত ফাউন্ডেশন কোর্স বা প্রিলিমিনারি কোর্সে পড়তে প্রতি বছর খরচ হয় ৪,০০০-১২,০০০ পাউন্ড। কলা বিষয়ে পড়তে প্রতি বছর খরচ হবে অনুমানিক ৭,০০০ – ৯,০০০ পাউন্ড। আবার, বিজ্ঞান বিষয়ে পড়তে আপনার প্রয়োজন পড়বে ৭,০০০ – ১২,০০০ পাউন্ড। মেডিক্যাল বিষয়ে পড়তে সব জায়গায় খরচ একটু বেশিই হয়। সাধারণত মেডিক্যাল সাইন্সে আপনার খরচ ১০,০০০ – ২১,০০০ পাউন্ড। ইংল্যান্ডে বিজনেস স্কুল বেশ জনপ্রিয়। এখানে বিজনেস স্কুলে পড়তে প্রতি বছর ৪,০০০ পাউন্ড থেকে ৩০,০০০ পাউন্ড খরচ হবে।

    Students in England
    Image Source: pixabay.com

    ইংল্যান্ডে পড়াশুনার খরচ বেশি হলেও এখানে অনেক ধরণের স্কলারশিপেরও সুযোগ আছে। সরকারি স্কলারশিপের পাশাপাশি রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন স্কলারশিপ প্রোগ্রাম। আপনি বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েব সাইটেই পাবেন বিভিন্ন স্কলারশিপের খবরা-খবর।  

    আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ

    ইংল্যান্ডে পড়তে আপনাকে টিউশন ফি ও লিভিং কস্ট বাবদ ব্যাংকে ১০,০০০ – ১৫,০০০ পাউন্ড দেখাতে হবে। এই পরিমাণ অর্থ আপনাকে কমপক্ষে ১ মাস আপনার একাউন্টসে আছে এমন দেখাতে হবে। তবে চিন্তা নেই- ভিসা পাওয়ার পর এই টাকা আপনি তুলে ফেলতে পারবেন। জার্মানীর মত ব্লক একাউন্টসে টাকা রাখতে হবে না আপনাকে।

    ভিসার জন্য আবেদন

    ইংল্যান্ডে ভিসার কাজ শেষ করতে ৩ থেকে ৩.৫ মাস সময় লাগে। তাই সময় নিয়ে আবেদন করতে হবে।

    ইংল্যান্ডে স্টুডেন্ট ভিসা নামে কোনো ভিসা দেওয়া হয় না। মূলত, স্টাডি পারমিট দেওয়া হয়, যেটাকে স্টুডেন্ট ভিসা বলা হয়। এই স্টাডি পারমিট দিয়ে আপনি ইংল্যান্ডে বসবাস করতে পারবেন না। ইংল্যান্ডে ভ্রমণ ও বসবাসের জন্য আপনাকে টেম্পোরারি রেসিডেন্ট ভিসা অথবা ইলেকট্রনিক ট্র্যাভেল অথোরাইজেশন (ইটিএ) নামক ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।

    Visa Application - England
    Image Source: Internet

    এবার জেনে নিন ভিসা আবেদনর জন্য কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন পড়বেঃ  

    ১। পাসপোর্ট ও  ফটোগ্রাফ

    ২। CV, মোটিভেশন ও রেফারেন্স

    ৩। সকল মার্কশিট ও সনদ

    ৪। No Objection  Certificate [শেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে]

    ৫।  বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার ও টিউশন ফি প্রদানের রশিদ

    ৬। ব্যাংক সলভেন্সি পেপার

    ৭। পুলিশ ক্লিয়ারান্স ও হেলথ ইন্স্যুরেন্স ডকুমেন্টস

    ৮।IELTS এর কপি 

    ৯। মেডিকেল চেক আপ রিপোর্ট

    ইংল্যান্ডে থাকাকালীন আপনার খরচ চালানোর জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক যোগান রয়েছে তার প্রমাণপত্র হিসেবে যুক্ত করুন

    ১. ইংল্যান্ডের ব্যাংকে আপনার নিজের নামের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট।

    ২. ব্যাংক স্টেটমেন্ট।

    ৩. ব্যাংক ড্রাফট।

    ৪. এক বছরের থাকা ও পড়ার খরচ পরিশোধ হয়েছে, তার প্রমাণপত্র।

    ৫. যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আপনার ফান্ডিং দিবে, সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদানকৃত চিঠি।

    ৬. আপনি যদি কোন স্কলারশিপ পেয়ে থাকেন, তবে তার প্রমানপত্র।

    ইংল্যান্ডে পার্ট টাইম জব ও জীবনযাত্রার ব্যয়

    ইংল্যান্ডে আপনি সপ্তাহে ২০ ঘন্টা কাজ করার সুযোগ পাবেন আর ছুটিতে আপনি ফুল টাইম কাজ করার সুযোগ পাবেন। আবার আপনার সাথে আপনার স্পাউস থাকলে তিনিও কাজ করার সুযোগ পাবেন। বর্তমানে ইউকে গভারন্মেন্ট স্টুডেন্টদেরকে ক্যাম্পাসের বাইরে কাজ করার অনুমতি দিচ্ছে ।

    ইংল্যান্ডে আপনি কোথায় বসবাস করছেন তার উপর নির্ভর করবে আপনার দৈনন্দিন খরচ ও আবাসিক ব্যবস্থার জন্য কত খরচ হবে। আপনি চাইলে আবাসিক ব্যবস্থা ও জীবন ধারণের খরচ ৪০০ – ৫০০ পাউন্ডের মধ্যে মেটাতে পারবেন।আপনি কি মানের লাইফ লিড করতে চান তার উপর এটা ডিপেন্ড করে ।

    Road in London
    Image Source: pexels.com

    ইংল্যান্ডে স্থায়ী বসবাস এর সুযোগ

    আর আপনি বৈধভাবে ৮ থেকে ১০ বছর থাকার পর PR এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করে রাখি ইংল্যান্ড ২০২১ সাল থেকে তাদের PR সংক্রান্ত নীতিমালায় বেশ কিছু আমূল পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। যদি ২০২১ সালে ইংল্যান্ডের কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন শিক্ষার্থী পড়াশুন শেষ করেন, তাহলে তিনি ২ বছর মেয়াদী Post Study Work (PSW) ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবে। আর আপনি যদি কমপ্লিট করেন পিএইচডি, তাহলে আপনি ৩ বছর মেয়াদী PSW ভিসা। যদি দুর্ভাগ্যবশত এই ভিসার এই সময়ে যদি আপনি কোন জব ম্যানেজ করতে না পারেন, তাহলে আপনি আবার কোন কোর্সে পড়া শুরু করতে পারেন এবং ডবল ডিগ্রী অর্জন করতে পারেন। পরবর্তীতে আবার আপনি PSW ভিসায় আবেদন করতে পারবেন। এই সময়ের মধ্যে আপনি চাইলে, আপনার বেটার-হাফ (স্বামী/ স্ত্রী)- কে ইংল্যান্ডে নিয়ে আসতে পারেন আর আগেই তো বলেই, আপনার স্পাউস এলে তিনি ফুল-টাইম জব করার সুযোগ পাবেন।

    ইংল্যান্ড অপার সম্ভবনার দেশ। এই দেশে আপনি আপনার নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে পারবেন। কিন্তু, ইংল্যান্ডে যেমন সম্ভবনা তৈরী হয়েছে, তেমনি প্রতারক চক্রও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তাই যাচাই বাছাই করে আবেদন করুন আর গড়ে তুলুন নিজের ভবিষ্যৎ।

    City of London
    Image Source: pixabay.com

    তথ্যসুত্রঃ

    ১। http://freevisatips.blogspot.com/2017/11/Study-In-UK-From-Bangladesh.html

    ২। https://www.odhikar.news/education/foreignstudy/49956

    ৩। http://studyinenglandfrombangladesh.blogspot.com/2018/11/blog-post_2.html

    ৪। https://travelnews.com.bd/hihger-education-in-london/

  • এস্তোনিয়াতে উচ্চশিক্ষাঃ নিজেই করুণ নিজের আবেদন

    এস্তোনিয়াতে উচ্চশিক্ষাঃ নিজেই করুণ নিজের আবেদন

    Skype এর নাম শুনিনি এমন মানুষ খুব কমই আছে। অনলাইন অডিও- ভিডিও কলের প্রথম পর্যায়ের দিসারী স্কাইপি ছিল এস্তোনিয়া ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। সেই এস্তোনিয়া নিয়ে আজ  আপনাদের সামনে আমরা হাজির হয়েছি। ইউরোপে পাড়ি জমানো স্বপ্ন হলে আপনি এস্তোনিয়াকেও রাখতে পারবেন নিজের পছন্দের তালিকায়। শুধু কি তাই? অসাধারণ সমুদ্র আর অনাবিল প্রাকৃতিক পরিবেশের দেশ এস্তোনিয়া বিদ্যার্জনের জন্য যেন এক স্বপ্নরাজ্য। আজ আপনাদের এস্তোনিয়ায় পড়াশুনা ও ক্যারিয়ারের যাবতীয় বিষয়গুলো তুলে ধরব।

    কেন এস্তোনিয়াতে পড়তে যাবেন?

    বাল্টিক সাগরের তীরবর্তী এস্তোনিয়ার উত্তরদিকে ফিনল্যান্ড ,দক্ষিণে রয়েছে লাতভিয়া, পূর্বে রাশিয়া, এবং পশ্চিমে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। এই দেশের সরকারি নাম এস্তোনিয়া প্রজাতন্ত্র, রাজধানী তাল্লিন, মুদ্রা ইউরো ও ভাষা এস্তোনিয়ান। প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছবির মত সুন্দর এই দেশ যার পরতে পরতে সাজানো আছে নানা গীর্জা, টাউন হল, ওল্ড টাউন, জাদুঘরসহ প্রাচীন অনেক ঐতিহ্য। সেনজেনভুক্ত এ দেশটির আয়তন ৪৫,৩৩৯ বর্গ কিঃমিঃ আর বসবাস প্রায় ১৪ লক্ষ লোকের। ডিজিটাল পদ্ধতির জন্য বিখ্যাত এই দেশকে বলা হয় বিশ্বের প্রথম “e- Country”। প্রাচীন ও আধুনিকতার এস্তোনিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থা খুব উন্নত।

    Study in Estonia
    Image Source: pixabay.com

    এই দেশের বছরে তিন মাস মেয়াদী চারটা ঋতু দেখা যায়। এই দেশে গরমে তাপমাত্রা থাকে ১৮-২০ ডিগ্রী সেলসিয়াস আর শীতকালে থাকে -৩.৫ থেকে -৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এ দেশের মাথাপিছু জিডিপি ২৯,৩১২ মার্কিন ডলার।

    ℹ️ ইংরেজি ভাষা ব্যাপকভাবে প্রচলিত হওয়ায় ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় এদেশে ভাষাগত বিরম্বনা কিছুটা কম পোহাতে হয়।

    এস্তোনিয়ায় পড়তে যাবার নূন্যতম যোগ্যতা

    এস্তোনিয়ায় বছরে একটা সেমিস্টারই পড়ানো হয় এবং এই সেমিস্টার চলে ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত। তাই এই সময়কে মাথায় রেখে আবেদন করতে হবে।এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এস্তোনিয়ান ও ইংরেজি উভয় মাধ্যমে পড়ানো হয়। এখানে ১০০টির বেশি ইংরেজি কোর্স রয়েছে।

    সাধারণত এস্তোনিয়ায় পড়তে আপনার একাডেমিক পরীক্ষায় ৫১% নম্বর অর্জন করতে হবে আর IELTS- এ থাকতে হবে 5.5 -6.5 স্কোর। এই যোগ্যতা বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। তাই আপনাকে অনুসরণ করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট আর সে বিশ্ববিদ্যালয়ের এডমিশন অফিস। এই ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, তাল্লিন বিশ্ববিদ্যালয় ও তাল্লিন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র ব্যাচেলরে আবেদনের জন্য প্রয়োজন পড়বে ৬০% নম্বরের। কিন্তু অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এরকম কোন নিয়ম নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সার্বিক তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে।

    কোর্স সার্চ ও কোর্স নির্বাচন

    এস্তোনিয়ায় আপনি পড়তে পারবেন সব বিষয়েই। তবে আপনাকে আপনার প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী নিজের কোর্স নির্বাচন করতে হবে। বর্তমান সময়ে দেখা যাচ্ছে, প্রযুক্তি বিদ্যার দিকে বিশ্বের মানুষের অনেক ঝোঁক আর চাকুরীর বাজারেও বেশ চাহিদা। সেই একই প্রেক্ষাপটে এস্তোনিয়ায়ও বর্তমানে প্রযুক্তিবিদ্যা বিষয়ক প্রোগ্রামগুলোর চাহিদা বেশি। আপনি চাইলে এই দেশে ব্যাচেলর, মাস্টার্স, পিএইচডি, এমনকি বিভিন্ন শর্ট কোর্স করতে পারবেন। এস্তোনিয়ায় মোট ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার গ্রহণের সুযোগ রয়েছে, যার মধ্যে ৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ১টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, ৮টি স্টেইট প্রফেশনাল হাইয়ার এডুকেশনাল ইন্সটিটিউশন, ৫টি প্রাইভেট প্রফেশনাল হায়ার এডুকেশনাল ইন্সটিটিউশন।

    এস্তোনিয়াতে অধ্যয়নের জন্য উপযুক্ত কোর্স খুঁজতে নিম্মোক্ত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এর সাহায্য নিতে পারেন: www.estonia.dreamapply.com

    কোর্স সম্পর্কে আপনার অতিরিক্ত প্রশ্ন থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করুন।

    এস্তোনিয়ার কিছু বিশ্ববিদ্যালয় হলঃ

    University in Estonia
    Image Source: Internet

    যে সব বিষয় পড়ানো হয়,

    ব্যাচেলর প্রোগ্রামঃ

    কোর্সগুলোর মধ্যে রয়েছে ভেটেনেরানি মেডিসিন, মিউজিক, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ক্রিয়েটিভটি এন্ড বিজনেস ইনোভেশন, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন,সফটওয়্যার ডেভেলাপমেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং, সাইবার সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ারিং, গেম ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট, সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি, অডিও ভিজ্যুয়াল মিডিয়া, ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন, সোশ্যাল সায়েন্স, পলিটিক্স, ল, মেডিসিন ইত্যাদি।

    মাস্টার্স প্রোগ্রামঃ

    কোর্সগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যানিমেশন, ডিজাইন, ক্রাফট,বিজনেস ম্যানেজমেন্ট, ইকোনমিক্স, কালচারাল ম্যানেজমেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং, ফিলোসফি ইত্যাদি।

    পিএচডি প্রোগ্রামঃ

    ডক্টরাল কোর্সের মধ্যে রয়েছে কেমিস্ট্রি, ডেমোগ্রাফি, ইকোলজি, হেলথ, হিস্টোরি,ইকোনমিক্সসহ আরো নানা বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে এস্তোনিয়ায়।

    বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময়সীমা

    এস্তোনিয়ায় ইউরোপিয়ান এবং নন-ইউরোপিয়ান ছাত্র/ছাত্রী দের জন্য ভর্তির সময়সীমা ভীন্ন।

    বিস্তারিত হালনাগাদ  সময়সীমা জানতে নিম্মোক্ত ওয়েবসাইটেইর সাহায্য নিতে পারেন: www.studyinestonia.ee/deadlines

    ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

    একেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া একেক রকম। তবে কম বেশি প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে কাছাকাছি নিয়মেই আন্তর্জাতিক ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করানো হয়ে থাকে।

    নিম্নলিখিত ওয়েবসাইটে অনলাইন ভর্তি সিস্টেমের মাধ্যমে আপনার আবেদন জমা দিতে হবে: www.estonia.dreamapply.com

    এবং নিম্মোক্ত ওয়েবসাইট এ বর্নিত নির্দেশ অনুযায়ী ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

    http://www.studyinestonia.ee/en/how-apply

    কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়/প্রোগ্রাম এর ক্ষেত্রে আপনার একাডেমিক দক্ষতা ও ইংরেজি দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য স্কাইপ ইন্টারভিউ নিতে পারে। স্কাইপ ইন্টারভিউ দেওয়ার ০৩ সপ্তাহের মধ্যে আপনার ই-মেইলে ভর্তির ফলাফল জানানো হবে।

    এস্তোনিয়ায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন কাগজপত্র চাওয়া হয়। আবেদনের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হলঃ

    ১। একাডেমিক সার্টফিকেট এবং মার্কশীট

    ২। IELTS এর সনদ

    ৩। মোটিভিশন লেটার ও রিকমেন্ডেশন লেটার

    ৪। ইউরোপাস ফরম্যাটে CV

    ৫। পাসপোর্টের কপি ও ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি

    ৬। আপ্লিকেশন ফি পরিশোধের রশিদ

    ৭। জব এক্সপেরিয়েন্স সার্টফিকেট (যদি থাকে)

    Students in Estonia
    Image Source: Internet

    কিভাবে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাবেনঃ

    ডকুমেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর পদ্ধতি অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হতে হবে । যদি আপনি নিজে প্রেরক হয়ে পাঠাতে চান তাহলে অবশ্যই নোটারাইজ কপি পাঠাতে হবে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ নির্দেশনা থাকে এইরূপ যে, “আপনার সর্বশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আপনার পক্ষ থেকে ( প্রেরক হয়ে ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব খামে সকল ডকুমেন্ট(নোটারাইজ করার দরকার নেই) পোস্ট বা কুরিয়ারে ইস্তোনিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের এড্রেসে পাঠাতে হবে” তখন ব্যাক্তিগত নিজের নাম ব্যাবহার করে ডকুমেন্ট পাঠালে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

    পড়াশোনার খরচ ( টিউশন ফি)

    এস্তোনিয়ায় পড়াশুনার খরচ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের তুলনায় অনেকটা কম। এদেশে পড়াশুনা করতে আপনার প্রতি বছরে টিউশন ফি প্রয়োজন হবে ১,৭০০-৭,৫০০ ইউরো পর্যন্ত। মেডিকেল বিষয়ে পড়তে বাৎসরিক ১০,০০০ ইউরো পর্যন্ত খরচ হতে পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স ভেদে এই টিউশন ফি কম ও বেশি হতে পারে।

    এস্তোনিয়ায় কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু কোর্সে ফ্রি’তে পড়ারও সুযোগ রয়েছে। যদি কোনো শিক্ষার্থীর আর্থিকভাবে অসচ্ছল থাকে বা কোনো শিক্ষার্থীর একাডেমিক পারফরমেন্স ভালো থাকে অথবা এস্তোনিয়ান ভাষার কোনো কোর্সে উচ্চশিক্ষা গ্রহন করেন তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফ্রিতে পড়াশোনা করার সুযোগ দেওয়া হয়।

    এ দেশে পিএইচডি প্রোগ্রামে কোন টিউশন ফি নেই।

    স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ

    এস্তোনিয়ায় বিভিন্ন ধরণের স্কলারশিপ রয়েছে। সরকারি অথবা বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক স্কলারশিপ রয়েছে অনেক। একটু কষ্ট করলেই মিলে যাবে স্কলারশিপ। আর সেই স্কলারশিপ খুঁজে পেতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুনঃ

    http://haridus.archimedes.ee/en/scholarships

    http://www.studyinestonia.ee/en/scholarships

    ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া ও ডকুমেন্টস চেকলিস্ট

    এস্তোনিয়ায় আবেদন করার জন্য আপনাকে ভারতে অবস্থিত এম্বেসীতে যেতে হবে। এরজন্য প্রথমেই আপনাকে নিচের লিঙ্ক-এ আবেদন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।
    https://eelviisataotlus.vm.ee/

    ভিসার জন্য আপনাকে জমা দিতে হবে নিম্নোক্ত কাগজপত্রঃ

    ১। পাসপোর্ট ও রিসেন্ট ছবি

    ২। মার্কশিট ও সকল সনদ

    ৩। IELTS স্কোরের কপি

    ৪। এডমিশন লেটার

    ৫। ভিসা আবেদন ফর্ম ও টেম্পোরারী রেসিডেন্স আবেদন ফর্ম

    যোগাযোগের জন্য দিল্লী অফিসের ঠিকানা দেওয়া হলঃ

    C15, Malcha Marg, Chanakyapuri
    New Delhi, 110 021, India

    Website: http://www.newdelhi.vm.ee

    Tel +91 11 4948 8650 । Tel (+372) 613 4850 (calls from Estonia)
    Fax +91 11 4948 8651 । Email: Embassy.New-Delhi@mfa.ee
    Visa queries: consul.delhi@mfa.ee[ছুটি ব্যতীত সাধারণত সোমবার, বুধবার ও শুক্রবার ১০ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত ভিসা আবেদন গ্রহণ করা হয়]

    Old Town in Estonia
    Image Source: pixabay.com

    আবাসন ব্যাবস্থা, মাসিক খরচ এবং পার্ট টাইম জব এর সুযোগ

    এস্তোনিয়ায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হোস্টেল সুবিধা আছে। আপনি ১০০ ইউরোর মধ্যে থাকার জন্য হোস্টেল পেয়ে যাবেন। আর যদি আপনি থাকতে চান একক কোন ফ্লাটে, তাহলে আপনার দিতে হবে ১৮০ থেকে ৪৫০ ইউরো। আর অন্য দিকে আপনি ৩০০ থেকে ৫০০ ইউরোর মধ্যে আপনার দৈনন্দিন খরচ মেটাতে পারবেন।

    ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থী হিসেবে আপনি সপ্তাহে ২০ ঘন্টা চাকুরী করার সুযোগ পাবেন। যদি জানা থাকে এস্তোনিয়ান ভাষা তাহলে আপনার জব পেতে সুবিধা হবে। তাই, এই দেশে যাবার আগে এই দেশের ভাষা জেনে নেওয়াটা হবে বুদ্ধিমানের কাজ।  

    কোর্স শেষে চাকুরী ও স্থায়ী বসবাস এর সুযোগ

    কোর্সে শেষে এস্তোনিয়ায় আপনি ৬ মাসের জব সার্চ ভিসা পাবেন। এই সময়ে আপনি জব পেয়ে গেলে আপনি আবেদন করে ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে কাজ করতে পারবেন। আর এই দেশে আপনি একটানা ৯ বছর থাকলে আপনি নাগরিকত্ব পাবার জন্য আপ্লিকেবল হবেন।তবে এর জন্য আপানকে ইস্তোনিয়ান ভাষা, পার্মানেন্ট জব সহ আর কিছু রিকুয়ারমেন্ট পূরণ করতে হবে। 

    এস্তোনিয়া হতে পারে আপনার জন্য সবচেয়ে বেস্ট ডেস্টিনেশন। তাই, আবেদন করুন এস্তোনিয়ায়।

    Life in Estonia
    Image Source: pixabay.com

    তথ্যসুত্রঃ

    ১। https://www.bangladeshistudentscommunity.eu/archives/161

    ২। http://youthcarnival.co/কেন-উচ্চশিক্ষার-জন্য-এস্

    ৩। https://worldscholarshipforum.com/bn/7-reasons-to-study-in-estonia-and-their-free-tuition-universities/

  • ওয়েস্টমিনিস্টার ফুল ইন্টারন্যাশনাল স্কলারশিপ (যুক্তরাজ্য)

    ওয়েস্টমিনিস্টার ফুল ইন্টারন্যাশনাল স্কলারশিপ (যুক্তরাজ্য)

    ওয়েস্টমিনিস্টার বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত অন্যতম একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়।এই বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়নশীল দেশ ও মধ্যম আয়ের দেশের মেধাবী নাগরিকদের জন্য স্কলারশিপ প্রদান করে থাকে। এই স্কলারশিপের মধ্যে শিক্ষার্থীগণ ফুল, হাফ বা পারশিয়াল স্কলারশিপের ব্যবস্থা রিয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে আপনি শুধু একটি মাত্র স্কলারশিপেই আবেদন করতে পারবেন। এই স্কলারশিপে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বাধ্যতামূলকভাবে কয়েক ঘন্টা ভলেন্টিয়ারিং করতে হয়। প্রথম বছর স্কলারশিপ পাওয়ার পর যদি আপনি ভালো ফলাফল না করেন, তাহলে এই স্কলারশিপ বাতিল করে দেওয়া হবে।

    স্কলারশিপ এর নাম

    ওয়েস্টমিনিস্টার ফুল ইন্টারন্যাশনাল স্কলারশিপ।

    যে যে বিষয়ে অধ্যয়ন করা যাবে

    আপনি এই স্কলারশিপের আওতায় ব্যাচেলর বা মাস্টার্স করতে পারবেন। আর কোর্স পছন্দ করতে হবে আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট – https://www.westminster.ac.uk

    দেশ এবং কর্তৃপক্ষ

    যুক্তরাজ্য। ইউনিভার্সিটি অফ ওয়েস্ট মিনিস্টার।

    বৃত্তির সুযোগ সুবিধাসমূহ

    স্কলারশিপের আওতায় আপনি যা যা পাবেনঃ

    ১। টিউশন ফি

    ২। মাসিক জীবনযাত্রার ব্যায়

    ৩। আবাসন  ভাতা

    ৪। যাতায়ত বিমান ভাড়া

    ৪। স্বাস্থ্য বীমা

    আবেদনের যোগ্যতা

    ১। ব্যাচেলর কোর্স করতে আপনার পেতে হবে ৪.৫ সিজিপিএ আর মাস্টার্স করতে আপনার সিজিপএ লাগবে ৩.০। আর আপনি যদি ফুল স্কলারশিপ পেতে চান তাহলে আপনাকে পেতে হবে ৩.৭৫ সিজিপিএ।

    ২। ব্যাচেলর কোর্স এর জন্য IELTS এ থাকতে হবে 6.0 আর মাস্টার্স কোর্সে থাকতে হবে 6.5। আপনি যে বিষয়ে আবেদন করছেন সে অনুযায়ী আপনার IELTS Score প্রয়োজন পড়বে।

    আপনাকে এই স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য আর্থিক ভাবে অসচ্ছল হতে হবে।

    westminster full international scholarship
    Image Source: Internet

    আবেদনের সময়সীমা

    ওয়েস্টমিনিস্টার ফুল ইন্টারন্যাশনাল স্কলারশিপ শুরু হয় এপ্রিল মে মাসে। তবে বিস্তারিত জানতে আবশ্যই চোখ রাখতে হবে ওয়েব সাইট এ – https://www.westminster.ac.uk

    যেসকল দেশের প্রার্থীদের জন্য প্রযোজ্য

    বিশ্বে যেকোন উন্নয়নশীল দেশ অথবা মধ্যম আয়ের দেশের নাগরিক এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবে। এই তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে।

    আবেদন প্রক্রিয়া

    আগ্রহী প্রার্থিকে প্রথমেই অনলাইনে আবেদন করতে হবে আপনার পছন্দের প্রোগ্রামের জন্য। এরপর আপনি কন্ডিশন্যাল এডমিশন পাওয়ার পর আবেদন করবেন স্কলারশিপের জন্য। পরবর্তীতে আপনার পোর্ট ফোলিও দেখে আপনাকে স্কলারশিপ প্রদান করা হবে।

    এই ক্ষেত্রে মাস্টার্সে আবেদন করতে কোন ফী দিতে হয় না তবে ব্যাচেলরে আবেদন করতে ১৩ মার্কিন ডলার খরচ করতে হবে।

    আবেদন করতে আন্ডারগ্র্যাজুয়েটের জন্য –https://www.ucas.com/ এবং গ্র্যাজুয়েটের জন্য – https://pgapp.ukpass.ac.uk/ukpasspgapp/login.jsp?institution=W50&course=018455&source=http://d8.westminster.ac.uk

     গিয়ে একাউন্ট খুলে আবেদন করতে হবে।   

    স্কলারশিপ প্রোগ্রামের জন্য আপনাকে জমা দিতে হবেঃ

    ১। Offer Letter

    ২। সকল একাডেমিক সার্টিফিকেট ও মার্কশীট

    ৩। রিকমেন্ডেশন লেটার –আবেদনের জন্য ও স্কলারশিপের জন্য আলাদা রিকোমেন্ডেশন লেটার ব্যবহার করতে হবে।    

    ৪। Motivation Letter and CV

    ৫। IELTS এর সনদ

    ৬। Work Experience Certificate

    ৭। পাসপোর্টের কপি 

    সকল ডকুমেন্টস ডাক যোগে ওয়েস্ট মিনিস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিতে হবে।

    Scholarships Office
    University of Westminster
    Cavendish House
    101 New Cavendish Street
    London W1W 6XH
    United Kingdom

    আরোও বিস্তারিত তথ্যের জন্য ভিজিট করুণঃ

    https://www.westminster.ac.uk/study/fees-and-funding/scholarships

    তথ্যসুত্রঃ

    1. https://www.kholabakso.com/latestupdate/westminster_2018
    2. https://aseanop.com/westminster-undergraduate-full-international-scholarship/
    3. https://opportunitiescorners.info/university-of-westminster-international-scholarship/
    4. https://www.youthop.com/scholarships/westminster-undergraduate-full-international-scholarship-2019-in-uk
    5. https://scholarshiproar.com/westminster-international-postgraduate-full-scholarship/
  • কমনওয়েলথ স্কলারশীপ – যুক্তরাজ্য

    কমনওয়েলথ স্কলারশীপ – যুক্তরাজ্য

    বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক স্কলারশীপগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য সরকার প্রদত্ত কমনওয়েলথ স্কলারশীপ অন্যতম। কমনওলেথ স্কলারশিপ দেওয়া হয় কমনওলেথ ভিত্তিক অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের। এই স্কলারশিপের যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৩ সাল থেকে আর এই প্রোগ্রামের অর্থায়ন করে Department of International Development। প্রায় ৩৫০০০ জন এখন পর্যন্ত কমনওয়েলথ স্কলারশিপ ও ফেলোশিপ পেয়েছেন। প্রতি বছর প্রায় ১৫০০ শিক্ষার্থীকে এই বৃত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে। বাংলাদশ কমনওলেথের আওতায় হওয়ায় বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা এই স্কলারশিপ প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারে। এই বৃত্তি উদ্যোমী ও প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগের জন্য প্রদান করা হয়ে থাকে।

    স্কলারশিপ এর নাম

    কমনওয়েলথ স্কলারশীপ

    যে যে বিষয়ে অধ্যয়ন করা যাবে

    বিবেচিত বিষয় সমুহ সম্পর্কে জানতে নিম্মোক্ত ওয়েবসাইট স মুহের সাহায্য নিতে পারেন –

    www.cscuk.dfid.gov.uk (কমনওয়েলথ বৃত্তি–সংক্রান্ত বেশির ভাগ তথ্য পাওয়া যাবে এই অফিশিয়াল ওয়েবপেজে)

    www.ugc.gov.bd । www.britishcouncil.org.bd

    একজন আবেদনকারীকে মাস্টার্স অথবা পিএইচডি যেকোনো একটি প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

    দেশ এবং কর্তৃপক্ষ

    কমনওয়েলথ কমিশন সচিবালয়, লন্ডনের মাধ্যমে আর্থিক অনুদান দেয় যুক্তরাজ্য সরকারের ‘আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগ বা ডিএফআইডি’

    বৃত্তির সুযোগ সুবিধাসমূহ

    কমনওয়েলথ বৃত্তির আর্থিক সুবিধা

    ১. স্নাতকোত্তর বা পিএইচডির সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহন করবে কমনওয়লেথ কমিশন

    ২. যুক্তরাজ্যে যাওয়া–আসার বিমানের টিকিট।

    ৩. লন্ডন অথবা লন্ডনের বাইরে বসবাসের মাসিক ভাতা

    ৪. মাসিক ভাতার বাইরেও এককালীন টাকা পাওয়া যায়

    ৫. ‘স্টাডি ট্রাভেল গ্র্যান্ট’

    ৬ ‘থিসিস গ্র্যান্ট’

    ৭. এ ছাড়া কমনওয়েলথ কমিশন কর্তৃক আয়োজিত যেকোনো প্রশিক্ষণ, স্বল্পমেয়াদি কোর্স, ওয়েলকাম ইভেন্ট ও আঞ্চলিক সম্মেলন যোগদানের জন্য ট্রেনের টিকিট, থাকা ও খাওয়ার সুব্যবস্থা করা হয়।

    আর এ খরচ বহন করা হয় পুরো কোর্স সময়কালে।

    আবেদনের যোগ্যতা

    কমনওলেথ স্কলারশিপে আবেদনের জন্য আপনার নিম্নোক্ত যোগ্যতা থাকতে হবেঃ

    ১। কমনওলেথ দেশের নাগরিক অথবা শরণার্থী হতে হবে

    ২। UK-এ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সের আবেদন করতে হবে আর আবেদনের জন্য প্রয়োজইনীয় সকল যোগ্যতা থাকতে হবে

    ৩। দ্বিতীয় মাস্টার্স করতে চাইলে, কেন দ্বিতীয় মাস্টার্স করতে চাচ্ছেন তার কারণ দর্শাতে হবে

    ৪। আবেদনকারীর কমপক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণির (২:১) স্নাতক বা স্নাতকোত্তর থাকতে হবে, যা সিজিপিএ ৩.০–এর সমতুল্য। তবে সিজিপিএ যত বেশি হবে, বৃত্তি পাওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি।

    ৫। যাঁরা আগে বিদেশে থেকে স্নাতকোত্তর করেছেন, তাঁরা স্নাতকোত্তরের জন্য বিবেচিত হবেন না। তবে অন্য কোনো বৃত্তির অধীনে স্নাতকোত্তর করে থাকলে পিএইচডিতে আবেদন করতে পারবেন।

    ৬। দেশীয় কোনো প্রতিষ্ঠানে পিএইচডির জন্য নিবন্ধন করলে বৃত্তির জন্য বিবেচিত হবেন না।

    ৭।  কমনওয়েলথভুক্ত বা নিজ দেশের বাইরে অবস্থানকালে কেউ আবেদন করলে গ্রহণযোগ্য হবেন না।

    ৮। যুক্তরাজ্যে কেউ শিক্ষারত অবস্থায় এই স্কলারশিপের জন্য বিবেচিত হবেন না।

    আবেদনের সময়সীমা

    আবেদনের হালনাগাদ সময়সীমা জানতে নিম্মোক্ত ওয়েবসাইট এর সাহায্য নিতে পারেন-

    www.cscuk.dfid.gov.uk (কমনওয়েলথ বৃত্তি–সংক্রান্ত বেশির ভাগ তথ্য পাওয়া যাবে এই অফিশিয়াল ওয়েবপেজে)

    www.ugc.gov.bd | www.britishcouncil.org.bd

    যেসকল দেশের প্রার্থীদের জন্য প্রযোজ্য

    কমনওয়েলথভুক্ত ৫৩টি দেশের তরুণ শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের জন্য দেওয়া হয় ৮০০টি বৃত্তি (স্নাতকোত্তর, পিএইচডি ও স্প্লিট–সাইট স্টাডি)

    Commonwealth Scholarship - UK
    Image Source: Internet

    আবেদন প্রক্রিয়া

    কমনওয়েলথ স্কলারশীপের নির্বাচন প্রক্রিয়াও দীর্ঘমেয়াদী যা কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। ১ বছরেরও বেশি সময় লাগে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে।

    কমনওলেথ স্কলারশিপের আবেদন শুরু হয় প্রতি বছর নভেম্বর মাস থেকে। এপ্লিকেশন প্রথম দিকে করাই ভালো। পরে এপ্লিকেশনের প্রেশার বাড়লে সার্ভার অনেক সময় স্লো হয়ে যায়। তাই হাতে সময় নিয়ে আবেদন করতে হবে। আবেদন করতে ব্রাউজ করুনঃ

    http://cscuk.dfid.gov.uk/apply/masters-scholarships/

    প্রতিটি দেশের জন্য পৃথক মনোনীত প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত আছে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটি হলো আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। প্রতিবছর ইউজিসি কমনওয়েলথ স্কলারশিপের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দরখাস্ত আহ্বান করে। www.ugc.gov.bd

    আবেদনের নিয়মাবলীঃ

    ১। যুক্তরাজ্যের যেসকল বিশ্ববিদ্যালয় কমনওয়েলথের এই স্কলারশিপের সাথে চুক্তিবদ্ধ, সেসকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে সিএসসি অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেম ব্যবহার করে আবেদন করতে হবে।

    ২। সকল ফাইল স্ক্যান করে PDF ফরম্যাটে সাবমিট করতে হবে আর ডকুমেন্ট সাইজ ৫ মেগাবাইটের বেশী হতে পারবে না।

    আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রঃ

    ১। পাসপোর্ট/ নাগরিকত্ব সনদ

    ২। একাডেমিক সকল সার্টিফিকেট ও মার্কশিট

    ৩। রেফারেন্স লেটার- পরবর্তীতে যিনি রেফারেন্স দিয়েছেন, তাকে মেইল করা হবে।

    তথ্যসুত্রঃ

    ১। https://www.prothomalo.com/education/article/1616731/কমনওয়েলথ-বৃত্তি-পেতে-হলে

    ২। http://www.educationbangla.com/কমনওয়েলথ-স্কলারশীপ-যোগ্যতা-প্রক্রিয়া-আবেদনের-নিয়ম/16793

    ৩। https://youthcarnival.org/bn/the-commonwealth-is-offering-a-scholarship-for-masters/

    ৪। https://bangla.youthop.com/scholarships/commonwealth-masters-scholarships-2019